ঢাকা শহরের সবগুলো নিষ্কাশন খাল এবং বুড়িগঙ্গা নদীর তীর দখল হয়ে গেছে বহু আগেই। যারা দখল করেছেন তারা কেউ সরাসরি রাজনীতি করে অথবা কেউ কেউ ঘুরিয়ে প্যাচিয়ে রাজনীতির সাথে জড়িত। এই সব দখলবাজের জন্য রাজনীতি মানে হল, সব সময় সরকারী দলে থাকা। ৫ বছর পর পর সরকার বদলায় আর এরাও সরকারী দলে যোগ দেয়।
গত পরশু রাতের বর্ষণের পর গতকাল আমরা প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর পর্যন্ত পানিতে নাকানি চুবানি খেতে দেখেছি। দখলবাজির জন্যই এই জনদুর্ভোগ তা প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই জানেন এবং জানেন বাংলাদেশের সকল প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ। কিন্তু লাভ কী ?
আমাদের রাষ্ট্রব্যবস্থাটাই বিকৃত হয়ে গেছে। যার জন্য গুটিকয় ধান্দাবাজ দিনের পর দিন দখল করে বসে থাকলে তাদের হটানোর ক্ষমতা কারোই নাই। যারা হটানোর দায়িত্বে আছেন, তারা নিয়মিত মাসোহারা বা থোক বরাদ্দ পেয়ে নাকে তেল দিয়ে ঘুমিয়েছেন। মাঝে মাঝে সরকার প্রধান হুংকার দিলে তাদের ঘুম ভাংগে এবং লোক দেখানো দায়সারা উচ্ছেদ অভিযান চালান তারা। ৬ মাসের মধ্যে দখল পূর্বের অবস্থায় ফিরে যায় এবং ব্যাপারটা ভুলে যায় সবাই। এই সুযোগে আরও কিছু টুপাইস কামিয়ে নেয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
আরেকটা কথা, সিটি কর্পোরেশন, রাজউক ও ওয়াসা নামের ৩টি প্রতিষ্ঠানের ৩ রকমের সিদ্ধান্তের ও সমন্বয়হীনতার কুফল ভোগ করছে নগরবাসী। রাজউক ও ওয়াসাকে সিটি কর্পোরেশনের আওতাভুক্ত করে পুরো ব্যাপারটা সিটি কর্পোরেশনের হাতে ছেড়ে দিলে সবচেয়ে ভাল হবে। কেননা, সিটি কর্পোরেশনের প্রধান একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। রাজউক ও ওয়াসা ঢাকা শহরে যে কাজগুলো করে, অন্য শহরগুলোতে সেই কাজ পৌরসভার একটি বিভাগ করে থাকে। সুতরাং ওই দুটি বিভাগ সিটি কর্পোরেশনের অধীনে আনা সম্ভব। অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট বলে প্রবাদটি তো আর মিথ্যে নয়।
ঢাকা শহরের মতো বাংলাদেশের সব শহরেই এই সমস্যা। সব শহরেই সরকারী খাল, নদী-নালা দখল করে বসে আছেন রাজনীতির সাথে জড়িত ধান্দাবাজরা। প্রত্যেকটি শহরের প্রাকৃতিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে একদিন সারা দেশই একটা বড় ডাস্টবিন ও নর্দমায় পরিণত হবে।
দখলের দৌরাত্ম্য দেখে ভয় লাগে। মনে হয়, একদিন হয়তো আমার কবরটাও দখল করে নেবে ওরা।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জুলাই, ২০০৯ দুপুর ১:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



