বড় বড় লেকচার শুনি। অনেক বড় মাপের মানুষ তারা। তারা নারী নির্যাতন বন্ধ করতে চান। নারী নিগ্রহের জন্য তারা পুরুষদের তুলোধুনো করেন। তাদের বড় বড় ছবি পরের দিনের পত্রিকায় বড় করে ছাপায়। আমরা তাদের প্রগতির প্রতীক বলে শ্রদ্ধা করি।
কিন্তু নারীরা যখন নারীর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে, শিশুর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে, তখন তাদের কোন শব্দ আমরা পাই না। না কোন সংগঠন, না কোন মিডিয়া, না রাষ্ট্র - কোন পক্ষই এই সব নির্যাতিত মানুষের পক্ষে দাঁড়ায় না।
ওরা গৃহকর্মী। অভাবের তাড়নায় মানুষের গৃহকর্মে সহায়তা করার পেশা বেছে নেয়। কেউ কেউ এত ছোট বয়সে এই পেশায় আসে, যে বয়সে আসলে তাদের কোন কাজ করার কথা না। কিন্তু অভাব তাদের গিলে খেতে চায় বলেই তারা বাধ্য হয়ে বাল্যকালেই পেটেভাতে কারো বাড়িতে কাজে লেগে পড়ে।
এ সব গৃহকর্মীর কোন কর্মঘণ্টা নেই। তাদের বেতন স্কেল নেই। তাদের মানুষ হিসেবে কোন সম্মান নেই।
তারা যতক্ষণ জেগে থাকে ততক্ষণ কাজ করে। এমনকি তাদেরকে ঘুম থেকে জাগিয়েও কাজ করনো হয়। তারা কাজের বাইরে থাকে না কোন সময়। তারপরও তাদের জন্য আছে খুন্তির ছ্যাঁকা, সিগারেটের ছ্যাঁকা, মারপিট এবং কখনও কখনও যৌন নির্যাতন ।
নির্যাতন সহ্য না করতে পেরে তারা আজকাল ৮ তলা থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
এই সব জঘন্য নির্যাতনের বিরুদ্ধে মামলা হয়, মাঝে মাঝে গৃহকর্ত্রী ও অন্যান্য আসামীদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর আর কিছু জানি না আমরা। এই নিরীহ অসহায় গৃহকর্মীদের রক্ষা করার দায়িত্ব কার ?
আজকের দৈনিক আমাদের সময়ে প্রকাশিত একটি সংবাদ
গৃহকর্ত্রীর নির্যাতন সইতে না পেরে টুইন টাওয়ার থেকে লাফিয়ে পড়ল কিশোরী রেখা
হালিম মোহাম্মদ:
গৃহকর্ত্রীর নির্যাতন সইতে না পেরে গতকাল সকালে রাজধানীর শান্তিনগরে টুইন টাওয়ার থেকে লাফিয়ে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছে গৃহপরিচারিকা রেখা বেগম (১২)। তার শরীরে মারপিটের জখম ও নীলা ফোলা দাগ রয়েছে। তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
টুইন টাওয়ারের বাসিন্দা ব্যবসায়ী সেলিম জাহাঙ্গীর জানান, সকাল সাড়ে ১০টায় গৃহপরিচারিকা রেখা টুইন টাওয়ারের অষ্টম তলার রনি ও জনিদের ফ্ল্যাটের বারান্দা দিয়ে লাফ দিয়ে নিচে পড়ে যায়। সৌভগ্যবশত চতুর্থ তলার রেলিংয়ে রেখা আটকে ঝুলে থাকে। টুইন টাওয়ারের কেয়ারটেকার মঞ্জুর হোসেন লোকজন নিয়ে তাকে সেখান থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় নামিয়ে আনেন।
চিকিৎসাধীন রেখা জানায়, তার বড়বোন রুবী ২০ দিন আগে জনিদের বাসায় তাকে কাজে দেয়। কিন্তু জনির মা কাজের অজুহাতে তাকে প্রতিদিনই মারধর করছিল। গতকাল সকালে নাস্তা বানানোর সময় রুটি পুড়ে গেলে জনির মাসহ ৩জন মিলে তাকে লাঠি এবং খুর্চন দিয়ে পেটাতে থাকে। মারপিটে অতিষ্ঠ হয়ে সে বারান্দার রেলিংয়ের ওপর দিয়ে লাফিয়ে পড়ে।
রেখার বাবার নাম আইয়ুব আলী। রংপুরের মুন্সিপাড়ায় তাদের বাড়ি। এ ঘটনায় গৃহকর্ত্রীকে পুলিশ আটক করেছে। পল্টন থানার ওসি মজিবুর রহমান জানান, এ ব্যাপারে থানায় কোনো মামলা হয়নি।
খবরের লিংক
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১০:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



