somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এই মন দিয়েছি তোমাকে ;)

২৮ শে অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ১২:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কয়েক দিন থেকে একটা বাংলা সিনেমার পোস্টার দেখছি। সিনেমার নাম - মন দিয়েছি তোমাকে।
এই পোস্টার দেখেই অনেক আগের একটা ঘটনার কথা মনে পড়ে গেল। আমি তখন ছাত্র। জগন্নাথ কলেজে ইংরেজি বিভাগে পড়ি। হাতখরচের জন্য কিছু টিউশনি করি। আমার এক বন্ধু পরামর্শ দিল, এইভাবে টিউশনী না করে একটা ব্যাচ খুলে ফেল। তার পরামর্শ অনুযায়ী সামান্য কিছু পোস্টারিং করলাম। প্রথম মাসেই একটা ব্যাচ দাঁড়িয়ে গেল। সকালে একটা নির্দিষ্ট সময়ে ছাত্র পড়াই আর বিকেলে জগন্নাথে ক্লাশ করি। ভালই চলছে জীবন।
আমার এক এডভোকেট বন্ধু আছে। সে আইন বিষয়ে কোচিং সেন্টার চালায়। আমাকে প্রস্তাব দিল, আয়, দুই বন্ধু মিলে একটা কোচিং সেন্টার খুলি। তুই ইংরেজি পড়াবি আর আমি ল পড়াব। ফ্লাটের ভাড়া শেয়ার করব।
ওর পরামর্শে ২ বন্ধু মিলে একটা একতলা বাড়ির ফ্লাট ভাড়া নিলাম। আমাদের সাথে আরও কম্পিউটার ও কারিগরী প্রশিক্ষকও যুক্ত হল। মোটামুটি ৩ জন মিলে কোচিং চালাই।
কারিগরী প্রশিক্ষকের এক পরিচিত লোক সাহিত্য চর্চা করেন। সাহিত্য চর্চা বলতে তিনি কিছু উপন্যাস লিখেছেন এবং তার মধ্যে ২/১ টা প্রকাশিত হয়েছে। ভদ্রলোক আগে আদমজী পাট কলে চাকুরি করতেন। আমার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার আগেই তিনি অবসর নিয়েছেন তার চাকুরি থেকে। তার ছেলে মেয়েরা প্রতিষ্ঠিত এবং দেশের বাইরে থাকে। ফলে ভদ্রলোকের আর্থিক অবস্থা ভালো।
তিনি মাঝে মাঝে আমাদের কোচিং সেন্টারে আসতেন। গল্প-গুজব করতেন। একদিন তিনি তার একটা উপন্যাস নিয়ে এলেন। উপন্যাসটির নাম - এই মন দিয়েছি তোমাকে। সস্তা ধরনের রোমান্টিক উপন্যাস। যেহেতু আমি সাহিত্যের ছাত্র এবং অল্প স্বল্প সাংবাদিকতা ও সাহিত্য চর্চা করি, তাই তার খুব আগ্রহ আমি যেন তার বইটি পড়ে মন্তব্য করি।
বইটা নিলাম, পড়লাম, খুব সস্তা লেখা এবং কাহিনী ভালো নয়। খুব লদকা-লদকি ব্যাপার আছে। তবুও বয়স্ক মানুষ বলে তেমন কিছু বললাম না। ভালোই লেগেছে বলে এড়িয়ে গেলাম। ওই ভালোই লেগেই বলাই কাল হল।
কিন্তু আমার এডভোকেট বন্ধু বইটার নাম দেখেই লেখক সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করতে শুরু করল। বুড়ো বয়সে তিনি কিভাবে এবং কেন এই রগরগে কাহিনী লেখেন সেটা নিয়ে নানা তত্ত্ব জাহির করল।
কয়েক দিন পরে লেখক ভদ্রলোক এক গাদা বই নিয়ে হাজির। সবই - এই মন দিয়েছি তোমাকে। তার অনুরোধ আমি যেন এই বইগুলো আমার কোচিং সেন্টারের ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে বিলিয়ে দেই। যেহেতু উনি সৌজন্য সংখ্যা দিচ্ছেন, তাই আপত্তি করলাম না।
পরের দিন পড়ানো শেষে ছাত্র ছাত্রীদের জানালাম পুরো ঘটনা। এক ফাজিল ছাত্রী জিজ্ঞেস করে বসল, বইয়ের নাম কি ?
বইয়ের নাম বলতে গিয়ে আমি থতমত খেয়ে গেলাম। এই মন দিয়েছি তোমাকে - এই কথাটা আমি ছাত্রীটিকে কিভাবে বলি ? যাই হোক, বললাম, নামটা মনে নেই।
পরের দিন বই নিয়ে হাজির হলাম ওদের ক্লাশে। ক্লাশ শেষে ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে বই বিলিয়ে পাশের রুমে গিয়ে বসলাম। শুনলাম, আমার ফাজিল ছাত্রীটি তার বান্ধবীকে বলছে, ‍এই জন্যই তো কই, স্যারে বইয়ের নাম কয় না ক্যান ?
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ১২:৪৬
১২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুকুলে নয় শেখ হাসিনা (আপা) প্রতিকুল পরিস্থিতিতেই বেশি অকুতোভয়।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৪




একদিকে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন তিনি দেশে ফিরছেন, আরেকদিকে তিনি প্রায় নিশ্চিন্ন করে দেয়া আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন করে ফেলেছেন! এবং সেই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের অগণতান্ত্রিক, ভয়ঙ্কর এবং অবৈধ রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×