উনারা রাস্তার মহারাজা। মহারাজারা একটু লুল-ফুল কাহিনী জমাইবেন না, সেটা কি হয় ?
উনারা এক জায়গায় উনাদের পঙ্খিরাজ নিয়া দাঁড়াইয়া থাকবেন। সাধারণত তাদের পঙ্খিরাজের দাঁড়ানোর জায়গা কোন মহিলা কলেজ বা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে হয়। কোন ভদ্রলোক তাদের - যাইবেন নাকি - জিগাইলে উনাদের মেজাজ মোবারক চড়িয়া যায়। উনারা ঝামটি মারিয়া বলেন, যামু না। তারপর ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফুলবানুর অপেক্ষায় পঙ্খিরাজ নিয়া পড়ে থাকেন মহিলা কলেজ বা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে। একটা ফুলবানু তার পঙ্খিরাজে চড়লে তার লুল বাহিয়া পড়ে। তার পঙ্খিরাজ আকাশ বাইয়া যায়। ভাঙ্গা রাস্তাকে তখন মহাকাশের ছায়াপথ মনে হয়। পঙ্খিরাজ তখন রকেটের গতি পায়। তাদের গতি ফুল (পূর্ণ ও পরিপূর্ণ) হয়া যায়। বিদু্্যৎবেগে চলিয়া যায় পঙ্খিরাজ তার গন্তব্যে। ফুলবানু হুড ধরে বসে থাকে আতঙ্ক নিয়ে। বার বার বলে, আস্তে যান।
কিন্তু ফুলবানুর মিষ্টি কণ্ঠ শুনে তার গতি আরও বেড়ে যায়। রাস্তার রাজা বলে কথা। ফুলবানুদের তার ক্ষেমতা দেখানো দরকার না ?
অন্যদিকে আমার মতো আধবুড়ো মানুষ যখন গিয়া বলি, যাইবা নাকি ? তারা আর কোন দ্বিধা না করে সরাসরি না করে দেয়। তারপর পঙ্খিরাজ উড়াইয়া চইলা যায় কোন ফুলবানুর খোঁজে।
যদি কোন কুক্ষণে আমরা নর জাতিরা তাদের পঙ্খিরাজে চাপি, তার পঙ্খিরাজ আর চলে না। তার বল-বেয়ারিং জং ধইরা যায়। পায়ের গতি শ্লথ হয়া যায়। যদি বলি, ভাইয়া, আর একটু তাড়াতাড়ি যান না।
উনারা ঝামটি মেরে উত্তর দেন , ইঞ্জিল লাগায়া যামু নাকি ?
আমাদের জরুরী মুহূর্তে তাদের এই শ্লথ গতির যন্ত্রণা সহ্য করতে হয় দাঁতে দাঁত চেপে। বার বার তাগাদা দিয়া তাদের পঙ্খিরাজের গতি বাড়াইতে হয়। আর উনারা বার বারই গতি কমায়া দেয়। আমরা যে আর ফুলবানু না ।
আবার আমরা নর জাতিরা যখন স্ত্রী-রত্ন লইয়া পঙ্খিরাজে চাপি, তখন ফুলবানুর সুবিধা ভোগ করি। তার পঙ্খিরাজে তখন ইঞ্জিল লাইগ্যা যায়। বার বার বইল্যা তাদের বিদু্যৎগতি থামাইতে হয়। নইলে পঙ্খিরাজ আবার যাইব ট্রাকের নিচে, আর আমরা যাইমু উপরে।
রাস্তার মহারাজাদের লুল-ফুল কাহিনীর মাঝখানে পইড়া আমরা নর জাতিরা বড়ই অসহায়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

