একটি অফিসের একজন মালিক আছেন। তিনি একজন ম্যানেজার নিয়োগ দিয়েছেন। ম্যানেজার কাজে ফাকি দেয়, চুরি করে, দুর্নীতি করে। আর সব জায়গায় বলে বেড়ায়, আগের ম্যানেজার প্রতিষ্ঠানটাকে ডুবিয়ে গিয়েছিল, তিনি ভাসিয়ে রেখেছেন। সুযোগ পেলেই সব জায়গায় নিজের নাম জাহির করার চেষ্টা করে ম্যানেজার।
ম্যানেজারের অপকর্মে অতিষ্ঠ অফিসের কর্মচারীরা। তারা মালিকের কাছে গিয়ে অভিযোগ করে। মালিক বলে, লোক পাই না। কাকে দায়িত্ব দেব ?
কর্মচারীরা বলে, সৎ ও যোগ্য লোককে নিয়োগ দেন।
মালিক বলে, কোথায় পাব সৎ ও যোগ্য লোক ?
মালিক গা করে না। প্রতিষ্ঠানটা দুর্নীতির কারণে ক্রমাগত লোকসানী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয় আর ম্যানেজারে বিত্ত বৈভব বাড়ে। ম্যানেজার তার টাকায় অফিসের মধ্যে জুটিয়ে নেয় চাটুকারের দল। এই চাটার দলেরা ম্যানেজারের গুণকীর্তন করে। তাদের গুণকীর্তনে সেই অফিসে টেকা দায়।
অবশেষে ম্যানেজারের বিরুদ্ধে কর্মচারীরা আন্দোলন শুরু করে। অচল হয়ে যায় পুরো অফিস। টনক নড়ে মালিকের। কর্মচারীদের দাবির মুখে সে ম্যানেজার বদলাতে বাধ্য হয়। কিন্তু এবার নিয়োগ দেয় এমন একজন লোককে যাকে ৫ বছর আগে দুর্নীতি, অযোগ্যতা ও স্বজনপ্রীতির দায়ে তিনি চাকুরিচু্যত করেছিলেন।
মালিকের সেই অফিসটা আর দাঁড়াতে পারে না। সব সময়ই লোকসানী প্রতিষ্ঠান হিসেবে থেকে যায়। কিন্তু তিনি ম্যানেজার বদলান না। বলেন, কোথায় পাব সৎ ও যোগ্য লোক ? অফিসটা ডোবার জন্য আসলে কে দায়ী ? মালিক নাকি ম্যানেজার ? নিঃসন্দেহে মালিক। মালিক যদি একজন সৎ ও যোগ্য ম্যানেজার খোঁজ করে বের করতেন, তবে তার অফিসটা ডুবত না।
এই ভয়াবহ অফিসটি আমাদের বাংলাদেশ। মালিক আমরা জনগণ। বাংলাদেশের সংবিধানে পরিষ্কার ভাষায় বলা আছে আমরা জনগণ এই দেশের মালিক। আর ম্যানেজার কে সেটা বলে দেয়ার খুব দরকার আছে কি ?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

