অনেক দিন থেকে মাথায় ঘুরছে আইডিয়াটা। আমার লেখা সিনোপসিসগুলো এক এক করে ব্লগে পোস্ট করব। কিন্তু নানা দ্বিধা দ্বন্দ্বের কারণে শেষ পর্যন্ত পোস্ট করা হয় নি। প্রায় ৭০টা গল্পের সিনোপসিস থেকে কোনটা দিয়ে শুরু করব, সেটা ভেবে পাচ্ছিলাম না।
নিচের এই গল্পটি বা সিনোপসিসটি ব্যবহার করে একটা এক ঘণ্টার নাটক বানানোর পরিকল্পনা বা কথাবার্তা চলছে।
আমি জানি, ব্লগারদের অনেকে খুবই বুদ্ধিমান। তারা একটা সিনোপসিস পড়েই বলে দিতে পারবেন এই গল্পটি নাটক হিসেবে ভালো হবে কি না। সেই ভরসায় অবশেষে আমার লেখা এই সিনোপসিসটি আপনাদের রেটিং পাওয়ার জন্য পোস্ট করলাম। ১০ এর মধ্যে কত পাবে এই সিনোপসিস ?
নাটক -০৬ : কৃষ্ণ গহ্বর
রচনা : শাহজাহান শামীম
বৈশিষ্ট্য :
লোকেশন : শহর
গল্প : মানবিক ত্যাগের গল্প
প্রকৃতি : ট্রাজেডি
মূল চরিত্রসংখ্যা : ৪ জন
ব্যাপ্তি : ৪৪ মিনিট
প্রেমিজ বা মোরাল লেশন : মানুষের জন্য আত্মত্যাগের মাধ্যমেই মানুষ অমর হয়ে বেঁচে থাকতে পারে।
গল্প সংক্ষেপ :
একজন মৃত্যুশয্যায় শায়িত শাশুড়ি কোন এক দুর্যোগপূর্ণ রাতে তার পুত্রবধূর কাছে বলছে তার জীবনে লুকায়িত এক পাপের কাহিনী -
ফ্ল্যাশ ব্যাক :
বর্তমান মৃত্যুশয্যায় শায়িত শাশুড়ি তখন তরুণী। তার দুটি ছেলে সন্তান। স্বামী ব্যাংকার। শহরে একটুকরো জমিতে একটি ছিমছাম পৈত্রিকসূত্রে পাওয়া বাড়ি তার স্বামীর। স্বামী ও দু সন্তান নিয়ে স্বচ্ছল সুখী সংসার তার।
তার শ্বশুর বেঁচে নেই। শাশুড়ি আছে। সেই শাশুড়ি একদিন হঠাৎ স্ট্রোক করে। তাকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। ধরা পড়ে তার কিডনির জটিলতা, রক্তশুন্যতা ইত্যাদি। আর ডায়াবেটিক তো আগে থেকেই ছিল।
হাসপাতালে রেখে তার শাশুড়ির ব্যয়বহুল চিকিৎসা চলতে থাকে। মাসের পর মাস তাকে বাসা আর হাসপাতালে নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করতে হয়। তার স্বামীর জমানো সব টাকা শেষ হয়ে যায় চিকিৎসায়। বাধ্য হয়ে ঋণ করতে হয়। তবু চিকিৎসা খরচ সামলাতে পারে না তার স্বামী। অবশেষে বাধ্য হয়ে বাড়িটা বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়।
স্বামীর এমন সিদ্ধান্তে বিপন্ন বোধ করে স্ত্রী। দুটি ছেলে সন্তান ও তার ভবিষ্যতের কথা ভেবে অস্থির হয়ে যায় সে। অবশেষে এমনি এক দুর্যোগপূর্ণ রাতে চরম একটি সিদ্ধান্ত নেয়। স্বামী, দুটি ছেলে সন্তান ও তার ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এমনি মৃত্যুশয্যায় শায়িত তার শাশুড়িকে অতিরিক্ত ইনসুলিন প্রয়োগ করে মেরে ফেলে সে।
ফ্ল্যাশ ব্যাক শেষ।
শাশুড়ি তার পুত্রবধূর কাছে তার পাপের কাহিনী বলা শেষ করে। সে আরও জানায়, সম্ভবত তার পাপের কারণেই তার দুটি ছেলের মধ্যে বড় ছেলেটি পানিতে ডুবে মারা গেছে। তার স্বামীও সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে। অনেক কষ্টে তার ছোট ছেলেটিকে সে শিক্ষিত করে তুলেছে।
এখন সে মৃত্যুশয্যায়। তার একই রকম রোগ হয়েছে। তার ছেলেও তার স্বামীর মতো টাকা খরচ করতে করতে ফতুর হয়ে যাচ্ছে।
পরদিন সকাল। মৃত্যুশয্যায় শায়িত মহিলাটি মারা গেছে। কিভাবে মারা গেছে তা স্পষ্ট নয়।
এবার দয়া করে বলুন, এই গল্পটি নাটক বানালে কেমন হবে ?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



