সিনেমা দেখার একটা বাতিক আছে আমার। ইন্টারনেটের ব্রডব্যান্ড লাইন থাকলেও সেটার যে ডাউনলোড স্পিড তাতে করে ডাউনলোড করে সিনেমা দেখার আশা করা বৃথা। একটা সিনেমা ডাউনলোড করতে আমার এক সপ্তাহ লাগে। বাধ্য হয়ে ডাউনলোড করার চিন্তা বাদ দিয়েছি।
সুতরাং একটাই পথ খোলা আমার জন্য। সেটা হল ডিভিডি কেনা। প্রচুর ডিভিডি কিনি। অবধারিতভাবে বেশির ভাগ সিনেমাই হলিউডের। সামান্য কিছু হিন্দি মুভি এবং আরো সামান্য কিছু বাংলা সিনেমা।
নান্দনিকের ডিভিডি কালেকশনগুলোর আমি ভক্ত। ৬টি করে সিনেমা থাকে একটা ডিভিডিতে। দাম ৭০ টাকা। রাইফেল স্কোয়ারে নান্দনিকের শো রুম থেকে ৭০ টাকা করে কিনি। কিন্তু একই ডিভিডি নারায়ণগঞ্জের একটি দোকানে পাই মাত্র ৬০টাকায়। কিভাবে সেটা সম্ভব এখনও বুঝি না।
নান্দনিকের ডিভিডির কোয়ালিটি এত ভালো যে অন্য কোন ডিভিডি দেখে মজা পাই না। তারপরও মাঝে মাঝে ভালো কোন সিনেমা পেয়ে নান্দনিকের বাইরেও কিনে ফেলি। রাইফেল স্কোয়ারের নানা দোকান থেকে নানা দেশী ডিভিডি আমি কিনেছি। বিখ্যাত বিখ্যাত কিছু সিনেমাও কিনেছি। কিন্তু তখনই আশংকা করতে থাকি - ডিভিডিটা চলবে তো ?
আমার অনেক অনেক ডিভিডি কখনই চালাতে পারি নি। নারায়ণগ্ঞ্জ কিনলে সেগুলো বদলে নিতে পারি। কিন্তু ঢাকা থেকে কিনলে বিপদে পড়ে যাই। বদলে নেয়ার কোন সুযোগ পাই না।
বিশেষত সবচেয়ে সমস্যা করে বাংলাদেশী কোন নাটক বা সিনেমার সিডি বা ডিভিডি হলে। রাইফেল স্কোয়ারের একটি দোকানে প্রচুর বাংলাদেশী সিনেমার ডিভিডি পাওয়া যায়। সব ডিভিডিই অরিজিনাল। দাম ১০০ টাকা প্রতিটি। মানে একটি সিনেমা ১০০ টাকা। ফলে নান্দনিকের একটি ডিভিডিতে একটি সিনেমা ১০টাকা করে পড়লে এই সিনেমা ১০ গুণ বেশি দাম দিয়ে ১০০ টাকাতেই কিনতে হচ্ছে।
অন্য দিকে বিদেশী ১টি সিনেমা যেই ডিভিডিতে থাকে, সেটার দাম ৮০টাকা।
তার মানে হল, বাংলাদেশী সিনেমার ডিভিডির দাম সবচেয়ে বেশি। দাম কেন এত বেশি সেটা জানতে চাইলে দোকানীরা বলে, এটা অরিজিনাল আর ওগুলো তো পাইরেটেড। তাদের এই কথার স্বপক্ষে তারা কোন প্রমাণও দেখাতে পারে না।
যাগগে, বাংলাদেশী সিনেমা বলেই এত দাম দিয়ে কিনে নিয়ে আসি। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই এই সিনেমাগুলো চলে না। নতুন ডিভিডি চকচক করছে কিন্তু চলে না। আমার অনেকগুলো বাংলা সিনেমার ডিভিডি পড়ে আছে। দেখতে পারি নাই। নগদ পয়সা দিয়ে কিনে এই রকম ঝামেলার জন্য খুব বিরক্ত এখন।
আমাদের বাংলাদেশের মানুষের কোন নীতি নাই। তারা কখনই সৎভাবে ব্যবসা করে না। যার জন্য বাংলাদেশে কোন ব্যবসাই দীর্ঘদিন টিকে থাকে না।
অনেক ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশী কোন ডিভিডি এখন আর কিনি না। অনর্থক টাকা নষ্ট আর কত ভালো লাগে ?
যারা এই ডিভিডিগুলোর ব্যবসা করেন, তারা তো কম টাকায় জিনিসটা বেচেন না। তাহলে কেন তারা এই রকম নিম্নমানের ডিভিডি ব্যবহার করছেন ? এই দেশের মানুষের খাই খাই স্বভাব আর গেল না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


