গত রাতের ভূমিকম্পের রেশ এখনও কাটে নি। আমার জীবনে এত তীব্রভাবে ভূমিকম্প টের পাই নাই। সম্ভবত অনেকেই তাদের জীবনের সেরা অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
ভূমিকম্পের সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হল অন্য সব প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো এই ক্ষেত্রে কোন ভবিষ্যদ্বাণী করার সুযোগ নাই বা কোন প্রক্রিয়া আবিষ্কার হয় নি। কেবল ভূমিকম্প ঘটে যাওয়ার পর সেটা মাপার একটা প্রক্রিয়া মানুষের হাতে আছে। আর উচু ইমারত নির্মাণের ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম কানুন মেনে চললে ক্ষয়ক্ষতি অনেক কমে যায়। কিন্তু আমাদের মতো দুর্নীতি ও অনিয়মের দেশে কেউ এসব মানে না।
যাক গে, ভূমিকম্পের আতংকে কাল রাতে ভালো ঘুম হয় নি। কেমন ভাসা ভাসা স্বপ্ন দেখেছি। শেষ রাতের দিকে একটা আজব স্বপ্ন দেখলাম।
দেখলাম, সবার মোবাইল ফোনে একটা এলার্ট বেজে উঠেছে। একটা এস.এম.এস এসেছে। লেখা - ভূমিকম্প, সাবধান। আর ১০ মিনিট পরে ভূমিকম্প আঘাত হানতে যাচ্ছে। প্রস্তুত হোন।
আমরা সবাই এই এস.এম.এস পেয়ে ঘরে ছেড়ে বেরিয়ে পড়লাম। গিয়ে দাঁড়ালাম একটা খোলা মাঠে। ঠিক ১০ মিনিট পর ভূমিকম্প হল। আমাদের কিছু হল না।
দেখলাম, আমার পাশে দাঁড়িয়ে আছে আমার বন্ধু খোকন। জিজ্ঞেস করলাম, মোবাইল ফোনে এই রকম ম্যাসেজ এল কিভাবে । ও জানাল, এইটা একটা নতুন প্রযুক্তি। একটা সেন্সর লাগানো আছে মাটির গভীরে। সেটার সাথে মোবাইল কোম্পানীর সার্ভারের যোগাযোগ আছে। ফলে ভূমিকম্প শুরু হওয়ার ১০ মিনিট আগে সতর্কবার্তা পাওয়া যায় এবং এই সতর্কবার্তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সবার মোবাইলে ম্যাসেজ পাঠিয়ে দেয়।
ঘুম ভেঙ্গে গেল। জানি না, এই রকম কোন প্রযুক্তি মানুষের হাতে আছে কি না। কিন্তু এই স্বপ্নে পাওয়া প্রযুক্তি এক দিন নিশ্চয়ই মানুষের হাতে আসবে। তখন ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি হলেও বেঁচে যাবে লক্ষ প্রাণ।
ঈদের দিনে এই স্বপ্নে পাওয়া প্রযুক্তি জানিয়ে সবাইকে ঈদ মোবারক।
ঈদ মোবারক ।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ দুপুর ২:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


