একটা সংবাদ আগে শেয়ার করে নেই। সংবাদটি এই রকম - - -
চলচ্চিত্রকে বাঁচাতে হলে ভার্সেটাইল প্রতিভার লোক লাগবে: এফডিসির নয়া এমডি
বিনোদন ডেস্ক :
চুক্তির ভিত্তিতে নিয়োজিত এফডিসির বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক ম. হামিদ জানান এফডিসি গত বছর প্রায় তিন কোটি টাকা লোকসান দিয়েছে। বিভিন্ন জটিলতা ও কিছু ভুল সিদ্ধান্তের কারণে এফডিসি এই লোকসান গুণেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ভেজাল মাল সরবরাহ করার কারণে দিশারী ও ফেইথ ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করে রাখা হয়েছে এফডিসিতে। এই প্রতিষ্ঠান এফডিসির ডিজিটাল কমপ্লেক্সের জন্য প্রায় আড়াই কোটি টাকার যন্ত্রপাতি সরবরাহ করেছে। এর মধ্যে ৫০ লাখ টাকার মাল খারাপ পড়েছে বলে জানা গেছে। টেন্ডারের চুক্তির শর্ত মাফিক প্রতিষ্ঠানটি খারাপ যন্ত্রপাতিগুলো পুনর্বহাল করে দিতে বাধ্য। কিন্তু এফডিসি কর্তৃপ ৫০ লাখ টাকার যন্ত্রপাতির জন্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটিকে কালো তালিকাভুক্ত করে গত প্রায় এক বছরেরও অধিক সময় ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কমপ্লেক্সটিকে অকেজো করে ফেলে রাখা হয়েছে। বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক এই কমপ্লেক্সটিকে যত শিগগির সম্ভব কর্মোপযোগী করে তোলার উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি বলেন, এই কমপ্লেক্সটির কার্যক্রম চালু থাকলে সরকারের প্রতি বছর দুই থেকে আড়াই কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা বেঁচে যাবে।
ম. হামিদ আন্তরিকভাবেই চেষ্টা করছেন কিভাবে চলচ্চিত্রের পাদপীঠ হিসেবে পরিচিত এই প্রতিষ্ঠানটিকে কিভাবে বাঁচিয়ে রাখা যায়। তিনি তার সাধ্য মতো সম্ভাব্য সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাবেন বলে জানান। তিনি বলেন, ফিল্ম ইনসটিট্যুট প্রতিষ্ঠার কাজটা একেবারেই জরুরী হয়ে পড়েছে। তিনি এ বিষয়ে দ্রুতই কাজ করে যেতে চান। এছাড়া তিনি লোক দেখানোর জন্য নয়, সত্যিকার অর্থেই ফিল্ম সিটির কাজও সম্পন্ন করতে চান।
ম. হামিদ এফডিসিতে যোগদানের পর বিভিন্ন সিনেমা হলে গেছেন। সিনেমা হলের পরিবেশ দেখেছেন। তিনি দর্শকের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি মনে করেন সাংবাদিকদের উচিত এখন দর্শক নিয়ে কাজ করা। দর্শকের চাওয়া-পাওয়া সুনির্দিষ্টভাবে সনাক্ত করা গেলে দর্শক পছন্দের ছবি নির্মাণ করা সম্ভব হবে না। তবে তিনি দর্শকের সঙ্গে কথা বলে অনুভব করেছেন, ছবির গল্পে পরিবর্তন আনতে হবে। দর্শক পছন্দের ছবি বানাতে হবে। এজন্য প্রয়োজন ‘ভার্সেটাইল’ প্রতিভা। একজন নির্মাতাকে সাহিত্য থেকে শুরু করে পারফর্মিং আর্টের সব দিক সম্পর্কে জ্ঞান থাকতে হবে। তিনি অনেকটা সমালোচকের মতো করেই বললেন, চিত্রনাট্যকাররা চিত্রনাট্য লেখেন ঠিকই। তাদের লেখা দেখে মনে হয় সাহিত্যের সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ নেই। একই সঙ্গে তিনি সিনেমা হল সংস্কারের ব্যাপারে মনোযোগ দেয়ার উপরও গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া শুধু সুন্দর ছবি হলেইতো চলবে না, ছবিটি উপভোগ করার জন্য সিনেমা হলের সুন্দর পরিবেশও চাই। তাই এফডিসির আধুনিকায়নের ব্যাপারে তিনি সক্রিয় হতে চান বলে উল্লেখ করেন। ইতোমধ্যে কিছু কাজে তিনি হাতও দিয়েছেন বলে জানান।
আমার কথা :
এফডিসির বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক ম. হামিদ খুবই গুণী মানুষ। তিনি অনুভব করেছেন, ‘ভার্সেটাইল’ প্রতিভা ছাড়া বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে পুনর্জীবন দেয়া সম্ভব না। কথাটা সত্যি।
চলচ্চিত্র নির্মাণ করার জন্য বহুমুখী প্রতিভাব অধিকারী না হলে হয় না। সাহিত্য, সঙ্গীত, চিত্রকলা, অভিনয়, নৃত্য, কারিগরি জ্ঞান, অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা - ইত্যাদি বোঝার মতো বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী পরিচালক হলেই তখন ব্যবসা সফল ও শিল্পমানসম্মত চলচ্চিত্র তৈরি করা সম্ভব।
কিন্তু বাস্তব অবস্থা পুরো উল্টো। বাংলাদেশের এই সময়ের সবচেয়ে মেধাবী পরিচালকরা এফডিসিতে নানা কারণে উপেক্ষিত। তাদেরকে এফডিসিতে ফিরিয়ে আনা দরকার।
নতুন প্রতিভা তৈরির জন্য প্রশিক্ষণের কোন বিকল্প নাই। তার জন্য দরকার ফিল্ম ইনস্টিটিউট। এটা জরুরী ভিত্তিতে করতে হবে।
প্রতি বছর নতুন মুখের সন্ধানে কার্যক্রম চালিয়ে অভিনেতা, অভিনেত্রী, চিত্রনাট্যকার, পরিচালক হিসেবে নতুনদের সুযোগ করে দেয়া দরকার। তবে কাজে নামার আগে তাদের ফিল্ম ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষণ গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা দরকার। প্রশিক্ষণ ও মেধার গুণে তারা নতুন নতুন ধরনের চলচ্চিত্র উপহার দিতে পারবেন।
নতুন নতুন প্রতিভাকে খুঁজে বের করা ও তাদের কাজে লাগানোর মাধ্যমেই বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে পুনর্জীবন দেয়া সম্ভব। আশা করি, নয়া এমডি সেটাই করবেন।
ভারতীয় চলচ্চিত্রের আমদানি বন্ধ করা হোক

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



