(একটি অপরিপক্ব হাতের লেখা এই ছোট গল্প,খারাপ লাগবে পড়তে,তাও শেয়ার করছি)
নাহিদ,২৫ বছর বয়সী হাসিখুশি যুবক। পেশায় ইঞ্জিনিয়ার। ম্যাল্টিন্যাশনাল কোম্পানীতে মাঝারী বেতনের চাকরি করে, পিতা মাতার একমাত্র সন্তান। নাহিদ ছোট বেলা থেকে নানা ক্রিয়েটিভ কাজের সাথে জড়িত ছিল।
ফেসবুকে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকটি মেয়ের সাথে পরিচয় থাকলেও তেমন কথা ভাবে সম্পর্ক ছিল না কার সাথে।ঘনিষ্ঠ ভাবে কোন মেয়ের সাথেও কোনদিন মেশেনি। প্রেম শব্দতো তার অভিধানেও নাই।
ভাল চাকরি হোক আর পিতা মাতার একমাত্র সন্তানই হোক বাবা মা দুজনেই চাইল নাহিদের বিয়ে দিতে। প্রথমে সকলের চাপাচাপি কার সাথে কোন রিলেশন আছে নাকি, থাকলে বল কিন্তু লাজুক নাহিদের শেষ জবাব আমি পিতামাতার পছন্দেই বিয়েটা করব। নাহিদের মা মিসেস গুলনাহার তো মহাখুশি, চারিদিকে ছেলের পাত্রী খুজার জন্য লাগিয়ে দিল সবাইকে। নাহিদ ও এই ব্যাপারে ভাবা ছেড়ে দিল।
বেশ কিছু দিন পর সকালে নাস্তার টেবিলে মিসেস গুলনাহার জানালেন যে মেয়ে পাওয়া গেছে,মেয়ে আর্টস এ গ্র্যাজুয়েট,দেখতে শুনতে মোটামুটি ভাল, নাহিদের বাবা মা দেখে এসেছে,নাহিদ রাজি থাকলে তাঁরা কাজী কে ডাকবে। অফিসে যাওয়ার আগে নাহিদ মেয়েটির ছবি দেখল। মেয়ে সামান্য ফর্সা কিন্তু চোখ দুটো অসম্ভব সুন্দর। ছবি তে কি পেল বুঝা গেল না কিন্তু নাহিদের মেয়েটিকে বেশ পছন্দ হয়ে গেল। অফিসে কাজের ফাকে দু তিনবার মেয়েটির ছবি ভেসে উঠল নাহিদের মনে। নাহিদ সেই দিন বাসায় এসে মেয়ে কে জানাল সে মেয়ের সাথে একদিন দেখা করে কথা বার্তা বলতে চায়। মেয়েটির নাম মিতা।
শুক্রবারে মেয়েটির বাসায় দেখা করতে গেল নাহিদ। কিছুক্ষন একা কথা হল মিতার সাথে, কথাবার্তার বেশির ভাগই মিতার প্রশ্ন, নাহিদের উত্তর। যাই হোক বাসায় এসে নাহিদ জানাল সে রাজী। এখন নাহিদের দিন কাটে মিতার কথা ভেবেই। নাহিদের বাবা মা গিয়ে মিতার হাতে আংটি পরিয়ে বিয়ের দিন ঠিক করল।
বিয়ের দিন যতয় ঘনিয়ে আসল নাহিদের মধ্যে উত্তেজনা ততই বাড়তে থাকল। কার্ড ছাপানোর পর নাহিদ মনের খুশিতে কার্ড বিলানো শুরু করল। অফিস, কার্ড বিতরন আর রাতে মিতার সাথে কথা এই হল নাহিদের দিনকাল।
বন্ধুদের মাঝে কার্ড দেওয়ার পর একদিন নাহিদের মনে হল মারুফের কথা। মারুফ নাহিদের কলেজমেট, প্রচন্ড বড়লোকের সন্তান মারুফ। দেখতেও খুব সুন্দর।কিন্তু মনের মধ্যে বিশাল প্যাচ। যাই হোক অনিচ্ছাকৃত ভাবেই মারুফের সাথে নাহিদ হাল্কা সম্পর্ক রাখত। মারুফ কে দাওয়াত দেওয়ার কোন ইচ্ছা না থকলেও নাহিদ দেখল মিতাদের এলাকার এক প্রান্তে মারুফদের প্রাসাদ। তাই ভাবল নাহিদ মারুফ কে দাওয়াত দিয়ে আসি। মারুফের বাসায় নাহিদের প্রথম প্রবেশ। নাহিদ ঘরে ঢুকে দেখে মারুফ বসে আছে সোফায় পা তুলে। মারুফ নাহিদ কে ডেকে আরে নাহিদ মিয়া আস আস, এই প্রথম তো আমার গরীব খানায় আসলা বলে অট্ট হাসি। যাই হোক নাহিদ বলল মারুফ সামনে শনিবার আমার বিয়ে তাই তোমাকে ইনভাইট করতে আসলাম। আরে তাই নাকি বলে উঠল মারুফ,তা মেয়ে কে? লাজুক ভাবে নাহিদ বলল মেয়ে তোমাদের এলাকায় থাকে মিতা নাম। মারুফ বলে উঠল থাম থাম ওদের বাসা কি পুকুরের পাশে। নাহিদ একটু অবাক হয়ে বলল তুমি চিন তাকে? মারুফ বলল দেখ নাহিদ তুমি বন্ধু বলেই বলছি মেয়েটার সাথা মার রিলেশন ছিল কিছুদিন, ভালয় নাচিয়েছিলাম, অবশ্য বড় কিছু করা হয় নি তবে এইরকম মেয়ে কয়জনের ফাঁদে পড়েছে কে জানে,দেখ বিয়ে করার পর দেখবা কাজ আগেই সেরে রেখেছে বলে অশ্লীল হাসিতে ফেটে পড়ল মারুফ। কিছু না বলে বের হয়ে আসল নাহিদ। বের হয়ে ঠান্ডা মাথায় ফোন করল মিতা কে। হাসি মুখে মিতা ফোন ধরল, মিতাইয় বলে উঠল কি ব্যাপার বিয়ের আগে এত ফোন কেন? নাহিদের প্রশ্ন মিতা মারুফ নামে কার সাথে তোমার কি কোন সম্পর্ক ছিল? মিতা চুপ হয়ে গেল,কিছুক্ষন পর বলল আস্তে করে হ্যা কিন্তু নাহিদ শুন? মোবাইল কেটে দিল নাহিদ।
আকাশের দিকে পাগলের মত এক দৃষ্টিতে চেয়ে রইল সে......

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


