( রোমান্টিক আবহে
ডায়েরী পাতা ১
প্রেমে পড়ে গেলাম? প্রথম প্রথম ভেবেছিলাম অলস মস্তিষ্কের ভাবনা। কিন্তু কি তাই? দিনার চোখ দুটো এত কেন টানে, কথা বলার ভঙ্গি,চলন সবগুলো যেন বড় ভাল লাগে। মিষ্টি কণ্ঠে যখন বলে “এই আদনান একটু হেল্প করবা?” মনে হয় সব কিছু বিসর্জন দিয়ে ছুটে যায়। ধ্যাত এই পর্যন্ত মনে হয় আমার দৌড়, মুখ ফুটে কি বলতে পারব?
কি করে বুঝাব আজকাল যা করি সব যেন তোমাকে ঘিরে,সফলতা গুলো যেন উৎসর্গ করতে চায় তোমাকে, ব্যর্থতা গুলো যে শেয়ার করতে ইচ্ছা করে তোমার সাথে,জানি তুমি সিরিয়াস মেয়ে কিন্তু কোনদিন কি সাড়া দিবা আমার ডাকে? ঘুড়ি হয়ে উড়ে বেড়াবে আমার আকাশে?
ডায়েরী পাতা ২
জানিনা ডায়েরিতে কেন লিখছি এইসব,কেউতো পড়বে নাহ,মনের কথাটাও ৩ বছর ধরে বলতে পারলাম নাহ। কেন দিনা তুমি না ভাল ছেলে খুঁজতে বলেছে তোমার বাবা কে,স্বার্থপরের মত বলতে ইচ্ছা করছে আমি তো ভাল ছেলে ছিলাম। জানি আমি বলতে পারিনি তোমাকে মনের কথা কিন্তু তুমি না বুদ্ধিমতী ছিলে,একবার কি বুঝনি আমার চোখের ভাষা। কিছুও কি খুঁজে পাওনি আমার কথা গুলোর মাঝে? নাহ কি বুঝেও না বুঝার ভান করে ছিলে। চলে যাচ্ছি দিনা,বলতে না পারার ব্যথা নিয়ে আমার দেশটাতে আর থাকতে পারছি নাহ,চলে যাচ্ছি কানাডাতে,তোমার স্মৃতির উপর পাথর চাপা দিয়ে!!
৩০ বছর পর
আধুনিক এক হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছে আদনান সাহেব,সেদিন কার সেই আদনান। সফল ব্যবস্যায়ী জীবনের শেষ প্রান্তে এসে একটা স্ট্রোক। একটু সুস্থ হয়ে উঠেছেন,একদিন চমকে উঠলেন পাশের বেডের দিকে তাকিয়ে,পাশের বেডের রোগী স্ত্রীর কে দেখে,একমনে সেবা করছে স্বামীর। হ্যা মেয়েটি দিনা! ভাবলেন সেদিন কার সেই দিনা আর আজকের এই মহিলার মধ্যে কত যেন পার্থক্য। নাহ মনের নদীতে অনেক চর পরে গেছে,অতীতের মত টান নেই,নেই কোন আকর্ষণ। হেসে ফেললেন পুরনো সেই কথা মনে পরে। হাসার শব্দ শুনে ছুটে আসল ছোট ছেলে উঠতি ইঞ্জিনিয়ার মামুন,“বাবা কি হয়েছে?” দিনাও মনে হয় একটু তাকাল, চিনতে না পারার কথা । তবে আদনান সাহেব ছোট ছেলে কে বললেন,একটু জোরে,“কিছু নাহ রে,বেঁচে থাকার ইচ্ছাটা যেন প্রবল হয়ে উঠল”!
পূর্বে প্রকাশিত ঘুড়ি তুমি কার আকাশে ওড়ো, তার আকাশ কি আমার চেয়ে বড় ? পেজে
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জানুয়ারি, ২০১২ দুপুর ২:১১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

