আমাদের বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা। যেখানে মা বলা শেখার আগে শিখতে হয় এ,বি,সি,ডি...।কোন একটা স্কুলের সামনে দাঁড়ালেই বুঝতে পারবেন।তবে একটা কনফিউশন থাকবে।সেটা হল স্কুলে ছেলে-মেয়েরা পড়ে নাকি তাদের মায়েরা পড়ে...সকাল থেকে লাইন ধরে স্কুলের সামনে দাড়িয়ে থাকে।
আপনি জানেন কি,বাংলাদেশে কয় ঋতু? ৬ টি?? হয় নাই। বাংলাদেশে ঋতু ২ টি।একটি ভর্তির ঋতু,আরেকটি পরিক্ষার ঋতু। পরিক্ষার ঋতুতে ধরুন রেজাল্ট ভাল হল না ছেলের।অতঃপর একটাই সিদ্ধান্ত,ছেলের জন্য এক্সট্রা টিচার/টিউটর রাখ।পাশের আপার ছেলের চেয়ে নাম্বার বেশি পেতে হবে।নাহয় মানসম্মান থাকে?কার থেকে কার ছেলে বেশি ভাল নাম্বার পায় সেটা নিয়েই এক তুলকালাম কাণ্ড।কম নাম্বার পেলে শুরু হয়ে যায় এক্সট্রা পড়ালেখা। ফার্স্ট হতেই হবে। আরে একটা ক্লাসে কয় জন ফার্স্ট হয়?একজনই তো।তাহলে বাকিগুলা কি খারাপ স্টুডেন্ট?আমি ভাল স্টুডেন্ট,কিন্তু আরেকজন যদি আমার চেয়ে ভাল হয় তাহলে আমার করার কি আছে?আর স্কুল গুলোতেও আরেক নিয়ম চালু করছে।ভর্তি পরিক্ষা দিয়ে টেকার পর আবার লটারি হবে।সেই লটারিতে যাদের নাম আসবে তারাই পাবে কাঙ্ক্ষিত স্কুলে পড়ার সুযোগ। ধরুন ১০০ জন ভর্তি পরিক্ষায় টেকার পর লটারিতে ২৫ জন সিলেক্ট হল।তাহলে বাকিদের মানসিক অবস্থা কি হবে?এত অল্প বয়েসে তারা ভাগ্যের কাছে পরাজিত।
যাক এ কথা বলে শেষ করা যাবে না। বাদ ই দিলাম।
আমাদের এক কাজিনের ছেলে।সারাদিন দুরন্তপনায় কেটে যায় তার।যতটুকু তাকে দেখেছি,অসম্ভব প্রতিভাবান।কিন্তু
সঠিক গাইডলাইনের অভাবে রেজাল্ট খারাপ করে।তার মা তাকে ৪-৫ ঘণ্টা পরার টেবিলে বসিয়ে রাখার ব্যর্থ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে ২-৩ বছর ধরে।পঞ্চম শ্রেণীর একটা ছেলের এত পড়ালেখার কি দরকার?আমি মনে করি দিনে এক থেকে দেড় ঘণ্টার পড়ালেখা তাদের জন্য যথেষ্ট।কিন্তু ৪-৫ ঘণ্টা পড়ানোর চেষ্টার ফলে কি হয়,মন দিয়ে ১০ মিনিট ও পড়েনা।তাহলে লাভটা কি হল?
কিছুদিন আগে ব্লগে একজনের একটা পোস্টে পড়েছিলাম সে তার ছাত্রকে পড়া দিয়ে জেত,কিন্তু অপ্রের দিন ছাত্র পড়া পারত না। অনেক রকম শাস্তি সে ট্রাই করেছিল।একবার সে কি করল ওই ছাত্রকে পড়া না পারার কারনে বুক ডন দেয়া শুরু করল।দু-চার দিন পর সে দেখল বুকডনে কাজ হয় না।ছাত্রের বড়/ছোট ভাই বলে “স্যার আপনি যাবার পর সে পড়া না পড়ে বুকডন প্র্যাকটিস করে!!!!!” দেখুন অবস্থা...
বাংলাদেশ সরকারের আরেক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে একটু বলতে চাই।সেটা হল পঞ্চম শ্রেণীতে পাবলিক পরিক্ষা নেয়া।তবে আমি এটা বলতে পারব না এটা কতটুকু উপকারে আসবে,কিন্তু এটা বলতে পারি এটার দ্বারা কি ক্ষতি হতে যাচ্ছে।একটা শিশু পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ে।কতই বা তার বয়স হতে পারে??৯ বছর?১০ বছর?৯-১০ বছরের একটা শিশু এই পরিক্ষার মানে কি বুঝবে??কি হবে এই পরিক্ষায় ভাল করলে?সেটা কি সে জানে?তাহলে কেন তাকে এত বড় চাপের মুখে ঠেলে দেয়া হচ্ছে।আর ধরুন কোন কারনে তার পরীক্ষাটা ভাল হল না।তাহলে তার মানসিক অবস্থার কি হবে?এত অল্প বয়সেই সে আশাহত হয়ে যাবে।তার এও মনে হতে পারে তাকে দিয়ে কিছু হবে না।তাহলে কি লাভ এটা নিয়ে?এর উপর এক্সট্রা করে বাসায় শিক্ষক, স্কুলে স্পেশাল কোচিং, আর কোচিং সেন্টারের ব্যাবসা তো আজীবন কাঁঠালের আঠার মত আছেই।
অষ্টম শ্রেণীর সমাপনি পরিক্ষা নিয়ে আমার কোন আপত্তি নেই।এটা অত্যন্ত সুন্দর ও যুগোপযুগী সিদ্ধান্ত।
এবার একটু শিক্ষার বাইরে তাদের কথা বলি।একটা আমাদের গ্রামের একটা ছেলে।বয়স এই ধরুন ৮-৯ বছর।ভালই সাতার পারে।কিন্তু মায়ের কড়া নিষেধ পুকুরে নামা যাবে না।কিন্তু সে করে কি।পুকুরে গোসল করে ২ ঘণ্টা পর ঘরে ফিরে আসে,যাতে মা বুঝতে না পারে সে পুকুরে নেমেছে!!!!
পরিশেষে একটা কথাই বলতে চাই,বাংলাদেশের শিশুদের বর্তমান অবস্থা সেই তোতা পাখির মত।যাকে বই গিলিয়ে দেয়া হয়।এবং শেষ পরিনতি হয় পাখিটির মৃত্যু...দোয়া করি যেন মানুষের বাচ্চাগুলোর যেন পাখিটির মত অবস্থা না হয়...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


