somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বর্তমান শিশু শিক্ষা ব্যবস্থা ও কিছু কথা

০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা। যেখানে মা বলা শেখার আগে শিখতে হয় এ,বি,সি,ডি...।কোন একটা স্কুলের সামনে দাঁড়ালেই বুঝতে পারবেন।তবে একটা কনফিউশন থাকবে।সেটা হল স্কুলে ছেলে-মেয়েরা পড়ে নাকি তাদের মায়েরা পড়ে...সকাল থেকে লাইন ধরে স্কুলের সামনে দাড়িয়ে থাকে।
আপনি জানেন কি,বাংলাদেশে কয় ঋতু? ৬ টি?? হয় নাই। বাংলাদেশে ঋতু ২ টি।একটি ভর্তির ঋতু,আরেকটি পরিক্ষার ঋতু। পরিক্ষার ঋতুতে ধরুন রেজাল্ট ভাল হল না ছেলের।অতঃপর একটাই সিদ্ধান্ত,ছেলের জন্য এক্সট্রা টিচার/টিউটর রাখ।পাশের আপার ছেলের চেয়ে নাম্বার বেশি পেতে হবে।নাহয় মানসম্মান থাকে?কার থেকে কার ছেলে বেশি ভাল নাম্বার পায় সেটা নিয়েই এক তুলকালাম কাণ্ড।কম নাম্বার পেলে শুরু হয়ে যায় এক্সট্রা পড়ালেখা। ফার্স্ট হতেই হবে। আরে একটা ক্লাসে কয় জন ফার্স্ট হয়?একজনই তো।তাহলে বাকিগুলা কি খারাপ স্টুডেন্ট?আমি ভাল স্টুডেন্ট,কিন্তু আরেকজন যদি আমার চেয়ে ভাল হয় তাহলে আমার করার কি আছে?আর স্কুল গুলোতেও আরেক নিয়ম চালু করছে।ভর্তি পরিক্ষা দিয়ে টেকার পর আবার লটারি হবে।সেই লটারিতে যাদের নাম আসবে তারাই পাবে কাঙ্ক্ষিত স্কুলে পড়ার সুযোগ। ধরুন ১০০ জন ভর্তি পরিক্ষায় টেকার পর লটারিতে ২৫ জন সিলেক্ট হল।তাহলে বাকিদের মানসিক অবস্থা কি হবে?এত অল্প বয়েসে তারা ভাগ্যের কাছে পরাজিত।
যাক এ কথা বলে শেষ করা যাবে না। বাদ ই দিলাম।

আমাদের এক কাজিনের ছেলে।সারাদিন দুরন্তপনায় কেটে যায় তার।যতটুকু তাকে দেখেছি,অসম্ভব প্রতিভাবান।কিন্তু
সঠিক গাইডলাইনের অভাবে রেজাল্ট খারাপ করে।তার মা তাকে ৪-৫ ঘণ্টা পরার টেবিলে বসিয়ে রাখার ব্যর্থ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে ২-৩ বছর ধরে।পঞ্চম শ্রেণীর একটা ছেলের এত পড়ালেখার কি দরকার?আমি মনে করি দিনে এক থেকে দেড় ঘণ্টার পড়ালেখা তাদের জন্য যথেষ্ট।কিন্তু ৪-৫ ঘণ্টা পড়ানোর চেষ্টার ফলে কি হয়,মন দিয়ে ১০ মিনিট ও পড়েনা।তাহলে লাভটা কি হল?

কিছুদিন আগে ব্লগে একজনের একটা পোস্টে পড়েছিলাম সে তার ছাত্রকে পড়া দিয়ে জেত,কিন্তু অপ্রের দিন ছাত্র পড়া পারত না। অনেক রকম শাস্তি সে ট্রাই করেছিল।একবার সে কি করল ওই ছাত্রকে পড়া না পারার কারনে বুক ডন দেয়া শুরু করল।দু-চার দিন পর সে দেখল বুকডনে কাজ হয় না।ছাত্রের বড়/ছোট ভাই বলে “স্যার আপনি যাবার পর সে পড়া না পড়ে বুকডন প্র্যাকটিস করে!!!!!” দেখুন অবস্থা...

বাংলাদেশ সরকারের আরেক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে একটু বলতে চাই।সেটা হল পঞ্চম শ্রেণীতে পাবলিক পরিক্ষা নেয়া।তবে আমি এটা বলতে পারব না এটা কতটুকু উপকারে আসবে,কিন্তু এটা বলতে পারি এটার দ্বারা কি ক্ষতি হতে যাচ্ছে।একটা শিশু পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ে।কতই বা তার বয়স হতে পারে??৯ বছর?১০ বছর?৯-১০ বছরের একটা শিশু এই পরিক্ষার মানে কি বুঝবে??কি হবে এই পরিক্ষায় ভাল করলে?সেটা কি সে জানে?তাহলে কেন তাকে এত বড় চাপের মুখে ঠেলে দেয়া হচ্ছে।আর ধরুন কোন কারনে তার পরীক্ষাটা ভাল হল না।তাহলে তার মানসিক অবস্থার কি হবে?এত অল্প বয়সেই সে আশাহত হয়ে যাবে।তার এও মনে হতে পারে তাকে দিয়ে কিছু হবে না।তাহলে কি লাভ এটা নিয়ে?এর উপর এক্সট্রা করে বাসায় শিক্ষক, স্কুলে স্পেশাল কোচিং, আর কোচিং সেন্টারের ব্যাবসা তো আজীবন কাঁঠালের আঠার মত আছেই।
অষ্টম শ্রেণীর সমাপনি পরিক্ষা নিয়ে আমার কোন আপত্তি নেই।এটা অত্যন্ত সুন্দর ও যুগোপযুগী সিদ্ধান্ত।

এবার একটু শিক্ষার বাইরে তাদের কথা বলি।একটা আমাদের গ্রামের একটা ছেলে।বয়স এই ধরুন ৮-৯ বছর।ভালই সাতার পারে।কিন্তু মায়ের কড়া নিষেধ পুকুরে নামা যাবে না।কিন্তু সে করে কি।পুকুরে গোসল করে ২ ঘণ্টা পর ঘরে ফিরে আসে,যাতে মা বুঝতে না পারে সে পুকুরে নেমেছে!!!!


পরিশেষে একটা কথাই বলতে চাই,বাংলাদেশের শিশুদের বর্তমান অবস্থা সেই তোতা পাখির মত।যাকে বই গিলিয়ে দেয়া হয়।এবং শেষ পরিনতি হয় পাখিটির মৃত্যু...দোয়া করি যেন মানুষের বাচ্চাগুলোর যেন পাখিটির মত অবস্থা না হয়...
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×