somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার গার্মেন্টস জীবন ৩

১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৩ সকাল ৮:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দ্বিতীয় পর্বের পর ,
দ্বিতীয় পর্ব এখানে
আমি যখন গন্তব্যে পৌঁছলাম তখন বিকাল ৩:৩০-৪:০০ টা । গার্মেন্টস এলাকায় এসময় সাধারণত দোকান পাঠ খোলা থাকে না । একটি বন্দ দোকানের সামনে রিক্সা থেকে বেডিং-পত্র নামালাম । একটি অচেনা জায়গা , কোনো পরিচিত কেউ নেই , কোথায় থাকবো আগে থেকেই ঠিক না করেই স্থায়ী ভাবে চলে এসেছি- কিভাবে পেরেছি এখনও ভাবলে আমার অবাক লাগে !
যাই হোক ! থাকার একটি ব্যবস্থা করতে হবে । আসে পাশে তাকালাম, একটি ভাঙ্গা হোটেলে সামনে একটি লোক বসা আছে । গিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম “ভাই এখানে জামালপুরের কেউ থাকে” (মনে মনে ভাবলাম দেশী কাউকে পলে হয়তো একটা গতি হবে ) লোকটি আমার দিকে তাকিয়ে মনে হয় অনেক কিছু বুঝে ফেললেন । বললেন ঐ দোকান গুলির পিছনে মতাব্বরের মেস আছে , সেখানে খুঁজ নিয়ে দেখন ।
আল্লাহ নাম নিয়ে ভিতরে গিয়ে একটা রুমে জিজ্ঞাসা করলাম , বললো ঐ রুমে একজন থাকে । কিন্তু কপাল খারাপ গিয়ে দেখি তিনি ডিউটিতে । তার রুমমেট আমাকে আন্তরিকতার সাথে জিজ্ঞাসা করলো বাড়ি কোথায়, কার কাছে এসেছি ? আমি বললাম আমার বাড়ি জামালপুর , এপেক্স এ আমার নতুন চাকরি হয়েছে , আজই এসেছি , থাকার একটা ব্যবস্থা করার জন্য জামালপুরের কাউকে খুঁজতেছি । তিনি জিজ্ঞাসা করলেন কোন সেকশনে চাকরি হয়েছে ? বললাম ক্যাড সেকশন ! ক্যাড সেকশনের নাম শুনে তার আগ্রহ ও আমার প্রতি তার সমিহ মনে হয় বেড়ে গেলো ।
বললেন আমরা এই রুমে তিনজন থাকি, সবাই ইউটিলিটি ডিপার্টমেন্টে চাকরি করি, কারো না কারো নাইট থাকেই । আপনি ইচ্ছা করলে এখানে থাকতে পারবেন । তারেক ভাই ( আমার দেশী) রাত ১০ টায় আসবে । বললাম তাহলে তো ভালোই হয় । তিনি বললেন আপনার বেডিং নিয়ে আসেন । বেডিং নিয়ে আসলাম , বিছানোর দরকার হলো না তাদের টা ছিলই । কাপড় ছেড়ে ফ্রেস হয়ে বিছানায় বসলাম । তিনি বললেন রাতে কি আমাদের সাথে খাবেন তাহলে মিল দিয়ে দেই । আমি বললাম তাহলে তো খুবাই ভালো হয় । থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে দেখে মনে মনে আলহামদুলিল্লাহ বলে বিছানার উপরে বসে আমার ডাইরীটা বের করলাম আর কাল অপিসের প্রথম দিনে কি হতে পারে কল্পনা করতে লামলাম..

রাত ১০ টার দিকে তারেক ভাই আসলো । ক্যাডে আমর চাকরি হয়েছে আগেই শুনেছেন আমার সাথে পরিচয় হয়ে বললেন কার মাধ্যমে ক্যাডে ঢুকলাম ? আমি বললাম কাদরি স্যার এর মাধ্যমে । কাদরি স্যার এর নাম বলার সাথে সাথে দেখলাম তাদের সমিহ আরো বেড়ে গেলো । বললেন আপনি কাদরি স্যার এর লোক , কোন সমস্য নাই আপনি খুব তাড়াতাড়িই ডরমেটরিতে সিট পেয়ে যাবেন । তিনি বললেন এপেক্সে জামালপুরের অনেকেই আছে , সেলিম ভাই নামে একাউন্ট এ একজন অফিসার এর কথা বললেন।
পরের দিন ১৪ সেপ্টেম্ব্বর ২০০২ সালের শনিবার । সকাল বেলা গোসল করে খাবার খেয়ে আমার নীল শার্টটা পড়ে চললাম জীবনের প্রথম কর্মক্ষেত্রে ।
কাদরি স্যার আসলে দেখা করে গেলাম ক্যাড রুমে । আবার সেই সুন্দর এয়ার ফ্রেশনার এর গন্ধ , ছোট ছিম-ছাম এসি রুম , কার্পেট বিছানো , জানালায় সেড লাগানো – তখন আমার কাছে সপ্ন মনে হতো ! রুমে ঢুকে দেখি বস-মাহমুদ স্যার বসে আছে । সালাম দিলাম , ইকবাল স্যার বললেন একেই কাদরি ভাই দিয়েছেন ।

স্যার আমার নাম , গ্রাম , লেখাপড়া , ভাই-বোন ইত্যাদি জিজ্ঞাসা করে আই-কিউ টেস্ট নিলেন। টেস্ট এ মনে হলো খুব ভালো করতে পারলাম না । স্যার বললেন এখন তো তুমি ক্যাডের কোন কাজ জান না তাই কাজ দেখতে থাকো , পাশে স্যাম্পল সেকশন আছে সেখানে কিছু শিখতে থাকো , আস্তে আস্তে তোমাকে কাজ শেখাবো । আমি ক্যাডে ও মাঝে মাঝে স্যাম্পলে ঘুরে কাজ দেখতে লাগলাম কিন্তু আমার আগ্রহ থাকতো কম্পিউটারে বসে কাজ করা ।
এক সপ্তাহের মধ্যেই আমি মার্কার খুঁজে প্রিন্ট দেওয়া শিখে ফেললাম । দ্বিতীয় সপ্তাহে আমি ডিজিটাইজিং করা শিখে ফেললাম । যেহেতু ব্যাচেলর ছিলাম তাই অপিসে সর্ব চ্চ সময় দিতাম এবং সব শুক্রবারই ডিউটি করতাম কোনো প্রকার ওভার টাইম বা এলাউন্স ছাড়া ।

চলবে.....

৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন-উচাটন

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ১৩ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:৫০


তিড়িং বিড়িং ফাল পাড়ি,
যাচ্ছে রে মন কার বাড়ি?
পুড়ছে তেলে কার হাঁড়ি,
আমি কি তার ধার ধারি!

পানে চুনে পুড়ল মুখ,
ধুকছে পরান টাপুর-টুপ;
তাই বলে কি থাকব চুপ?
উথাল সাগর দিলাম ডুব।

আর পারি না... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভয়ংকর সেই খবরের পর… সন্তানের হাতটা শক্ত করে ধরুন

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৩ ই মে, ২০২৬ সকাল ১০:৪৫

আজ সকালে খবরটি পড়ে আমার মনটা একদম ভেঙে গেল। ভাবতেই ভয় লাগছে—আমাদের সন্তানদের আমরা আসলে কতটা অরক্ষিত পরিবেশে বড় করছি! ছোট্ট একটি নিষ্পাপ শিশু, যে পৃথিবীটাকে ঠিকমতো চিনতেই শেখেনি, তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিন্দু খতরে মেঁ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৩ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


শুধুমাত্র মুসলিম বিদ্বেষী বক্তব্য দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে শুভেন্দু। তার বক্তব্যের মূলপ্রতিপাদ্য হলো হিন্দু খতরে মেঁ! আশ্চর্যের বিষয় হলো সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুরা নাকি মুসলিমদের দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছে, কিছুদিন পরেই নাকি পশ্চিমবঙ্গ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সময় খুব দ্রুতই ফুরিয়ে যাচ্ছে।

লিখেছেন শ্রাবণ আহমেদ, ১৩ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৩০

দিনগুলো কেমন যেন দ্রুতই ফুরিয়ে যাচ্ছে!
দেখতে দেখতে মাস শেষ হয়ে যাচ্ছে,
এইতো সেদিন থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন করলাম,
আর এদিকে দেখি চার মাস শেষ হয়ে পাঁচ মাস চলছে। অথচ আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সূর্য পশ্চিম দিকে উঠে:)

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৩ ই মে, ২০২৬ রাত ১১:২০


আমাদের দেশে রাজনীতিতে নেতা যাই বলে তার কর্মীরা সেটাকে সঠিক মনে করে। সেটা নিয়ে দ্বিমত করে না। এখন ধরুন নেতা মুখ ফসকে বলে ফেলেছে “সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উঠে।” তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×