somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জীবন কথা১৪: প্রথম ইলেক্ট্রিক এক্সপেরিয়েন্স (ছোট বেলায়)

২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১৩ দুপুর ১২:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছোট বেলায় ইলেক্ট্রিক বিষয়ের প্রতি ছিলো আমার প্রচন্ড আগ্রহ। তখন আমার বয়স ৮/৯ । এত মধ্যেই আমি শিখে ফেলেছি কিভাবে একটি হোল্ডার ও একটি টু-পিন প্লাক দিয়ে লাইট জ্বালানো যা। কিন্তু এই বয়সে তো আমার কারেন্ট ধরা মানা।:((

আমাদের টিভির এন্টেনার তার, তিন-চার বছর রোদ বৃষ্টিতে একেবারে ঝুলি ঝুলি হয়ে গেছে। লাগানো হলো নতুন তার। পুরাতন তার টিকে আমি সযতনে রেখে দিলাম। তারপর মিল করলাম একটি পুরাতন হোল্ডার ও একটি টু-পিন। ( আমাদের বাড়ি বেশির ভাগ ইলেক্ট্রিক কাজ করতো আমার ছোট কাকা। কাকা যখনই ইলেক্ট্রিকের কাজ করতো আমি তার এসিসটেন্ট হিসাবে তার সাথে সাথে থাকতাম। তাই যত পুরাতন ইলেক্ট্রিক যন্ত্রাংশ আমার কাছে জমা হতো)

পুরাতন এন্টেনার তার টি আট দশটা জয়েন্ট দিয়ে হোল্ডার ও টু-পিনের সাথে কানেকশন দিলাম। তারের জয়েন্টের স্থানে ইনসোলেশন ট্যাপ না থাকার কারনে ইনসুলেট করতে পারলাম না। মনে করলাম সাবধানে শুধু পিনে মাথায় ধরে কানেক্ট করবো, সমস্যা হবে না।

এখন শুধু সুযোগ খুঁজতে ছিলাম। একদিন বাসার সবাই পাশের বাড়িতে বেড়াতে যায়। ঘরে শুধু বুলি খালা, পেয়েগেলাম সুযোগ। কারেন্টের প্লাগটি ছিলো বাচ্চাদের হাতের নাগালের বাহিরে, একটু উচুতে। প্রথমে মই দিয়ে বাহিরের লাইট টা খুলে এনে আমার সার্কিটের হোল্ডারের সাথে লাগালাম। তার পর সিন্ধুকের উপরে উঠে সাবধানে টু-পিন টাকে লাগালাম এসি কারেন্টের প্লাগের সাথে।

কিন্তু কপাল খারাপ । আমার সঞ্চালন লাইনের আট দশটা জয়েন্টের কোথায় যেনো শর্ট সার্কিট ছিলো। ফাত করে একটি শব্দ হয়ে একটি স্পার্ক করলো। খালা বিছানায় শোয়ে ছিলেন শব্দ শোনো তিনি তাকিয়ে দেখেন আমি কারেন্টের প্লাগের কাছে। বললেন তুই কারেন্ট ধরেছিস! তোর মা আসুক......

আমি এমনিতেই ভয় পেয়েছিলাম, তার উপর এক্সপেরিয়েন্সটা সাকসেস হলে না হয় মাকে বুঝাতে পারতাম "তোমার ছেলে বড় হয়ে গেছে, তাকে কারেন্ট ধরতে দেওয়া উচিত" এখনতো আমাকে আর কারেন্টের কাছেই আসতে দেবে না:((

তাড়াতাড়ি আমার যন্ত্রপাতি সব সরিয়ে সবকিছু গুছিয়ে রাখলাম। মা'র কাছে বিচার দেবার পর বললাম "খালা না বুঝে উল্টা পাল্টা বলছে, আমি শুধু লাইটের সুইচ দিতে গিয়েছিলাম";)

(আল্লাহর রহমতে সেদিন কোনো বিপদ হয় নাই। কারন আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম খালি পায়ে লোহার সিন্ধুকের উপরে)


জীবন কথার বকি লিখাগুলো এই বিভাগে
৯টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হঠাৎ কেন মিরপুরে হকার উচ্ছেদ আর অটোরিকশা চালকদের স্ট্রাইক? নেপথ্যে কোন রাজনীতি?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৪২

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মি. মিল্টন সম্প্রতি অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে মিরপুরের বিভিন্ন ফুটপাত ও রাস্তা দখলকারী হকারদের উচ্ছেদ করে এলাকা দখলমুক্ত করেছেন। এই অভিযান চালাতে গিয়ে তাঁকে চরম বাধার... ...বাকিটুকু পড়ুন

সন্ত্রাসী অধ্যাপক ড.ইউনূস!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৬


গত সোমবার নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দর থেকে হুইলচেয়ারে বের হওয়ার সময় অধ্যাপক ইউনূসকে হেনস্তা করার ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে৷ এতে দেখা যায়, অধ্যাপক ইউনূসের দিকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৫ ফুলদল

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:২৭

প্রকৃতি যখন যন্ত্রণার ভারে নুয়ে পড়ে, সূর্য ক্লান্ত অভিমানে আড়াল করে তার দীপ্ত মুখ। তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড। শীতের নিঃশব্দ আগ্রাসনে নিস্তব্ধ চারপাশ। জীবনের স্পন্দন নেই।... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘Why you come here?’ সুবিধামতো পরিচয়ের প্রবাসী

লিখেছেন মুনতাসির, ১৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:১৬

কারো সঙ্গে রাজনৈতিক মতভেদ থাকতেই পারে। প্রতিবাদ করার অধিকারও আছে। কিন্তু প্রতিবাদের ভাষা দিয়েই বোঝা যায় প্রতিবাদকারী কে। “Why you come here?” বা “I fuck your country system” কোনো রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রপ্রেমী ও রবীন্দ্রবিরোধী - কারা ভালো লেখে-মন্তব্য করে ব্লগে

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ১৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫


আখতারুজ্জামান আজাদ নামে এক লেখকের একটা লেখা দৃষ্টিগোচর হলো কাল। লেখাটা দিয়েই আমার পোস্ট শুরু করব।

স্বল্প-বাংলা-জানা এক জাপানি ভদ্রলোক কোলকাতার এক দাদাকে জিজ্ঞেস করলেন— ‘এই যে আপনারা নামের শেষে দা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×