somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

 যে রহস্যের শেষ নেই ( আর্ক অব দ্য কোভেন্যান্ট)

১১ ই অক্টোবর, ২০১০ বিকাল ৫:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চাঁদে নাকি বসত গড়বে মানুষ। মঙ্গল গ্রহে চলছে জরিপ। পৃথিবী জয় করে মানুষ এখন হাতের মুঠোয় পুরতে চাইছে বিশ্বজগত্। কিন্তু এখনো এমন কিছু রহস্য আছে, যেগুলো যুগ যুগ ধরেই অমীমাংসিত। আবার কোনোটার মীমাংসা হয়ে গেলেও কিছু লোক সমাধান মানতে নারাজ। সেই সব রহস্য নিয়ে আমাদের এই বিভাগ।

ইন্ডিয়ানা জোনসের রেইডার অব দ্য লস্ট আর্ক ছবিটার কথা মনে আছে? ছবির গল্পের শুরু ১৯৩৬ সালে। ‘ট্রেজার হান্টার’ ইন্ডিয়ানা জোনস পেরুভিয়ান জঙ্গলে জটিল ধাঁধার এক মন্দির থেকে উদ্ধার করেন একটা সোনার মূর্তি। যদিও সেটি দস্যুদের হাতে পড়ে ফিরে আসে আমেরিকায়। জোনস জানতে পারেন, হিটলারের নািস বাহিনী খোঁজ করছে ‘আর্ক অব দ্য কোভেন্যান্ট’-এর। জিনিসটা একটা সিন্দুক, যা ঈশ্বরের নির্দেশে ধর্মযাজক জ্যাকবের বারো বংশধর নির্মাণ করেছিল। আর সেই সিন্দুকে তারা সযত্নে রেখে দিয়েছিল ঈশ্বরপ্রদত্ত ১০টি অনুশাসনের বাণী।
বলা হয়, যাঁর কাছে এ মহামূল্যবান ও পরম পবিত্র সিন্দুকটি থাকবে, তিনি মালিক হবেন পৃথিবীর সব শক্তির। সেই সিন্দুক নিয়েই জোনস আর নািস বাহিনীর মধ্যে চলে নানা অভিযান, যুদ্ধ আর হানাহানি। কিন্তু আসলে কোথায় সেই আর্ক অব দ্য কোভেন্যান্ট?
এ রহস্যের আসলেই শেষ নেই। বাইবেলে বলা হয়েছে, সিন্দুকটি আসলেই বানানো হয়েছে ঈশ্বরের নির্দেশে। অ্যাকাসিয়া নামের মিসরের একটি পবিত্র গাছের কাঠ দিয়ে নির্মিত সিন্দুকটি পরে সোনা দিয়ে মুড়ে দেওয়া হয়েছে। সিন্দুকটি লম্বায় ১.১৫ মিটার, প্রস্থে ০.৭ মিটার আর উচ্চতায় ০.৭ মিটার। সিন্দুকটি বহন করে নেওয়ার জন্য আছে দুটি হাতল। নির্মাণের পর থেকে বহু বছর ইহুদিরা এটি তাদের কাছে সযত্নে রেখেছিল। যখন ইহুদিরা ‘ল্যান্ড অব ক্যাননে’ এসে পৌঁছায়, তখন তাদের পথ দেখিয়েছে এ সিন্দুক। এই সিন্দুকের জন্যই জর্দান নদী দুই ভাগ হয়ে রাস্তা করে দিয়েছিল তাদের। রাজা ডেভিড ও তাঁর ছেলে সলোমন জেরুজালেমে স্থানান্তর করে সিন্দুকটিকে একটি মন্দিরে রেখে দেন। বহু বছর পর ব্যাবিলনের সম্রাট নেবুচাঁদনেজার ধ্বংস করে ফেলেন মন্দিরটি। তারপর যে কী হলো তা নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। অনেকে বলেন, ব্যাবিলন সভ্যতাই সিন্দুকটি তার কাছে রেখে দিয়েছে। অনেকে আবার বলেন, সলোমন নিজেই সিন্দুকটির এমন ভবিষ্যত্ আন্দাজ করতে পেরে ‘ডেড সি’র কাছে একটি গুহায় সযত্নে রেখে দিয়েছিলেন। ইথিওপিয়ান খ্রিষ্টানরা দাবি করে, সিন্দুকটি আসলে ইথিওপিয়ার অ্যাজিউমে সংরক্ষিত আছে।
প্রত্নতাত্ত্বিক লিন রিটমেয়ার গবেষণা করে বলেন, সিন্দুকটি রক্ষিত আছে টেম্পল মাউন্টে। এ কথা ঠিক যে নির্মাণের বহু বছর সিন্দুকটি জেরুজালেমে থাকলেও হঠাত্ করেই হারিয়ে যায়। এ শতাব্দীতে এসে নাকি সিন্দুকটির খোঁজও মিলেছে। যদিও এ নিয়ে কেউই কোনো কথা বলতে চায় না। তাই রহস্যগুলো আরও যেন জটিল হতে থাকে।
অতীতের কথা ফেলে এখনকার কথা বলি। কোথায় আছে তবে সেই ‘আর্ক অব দ্য কোভেন্যান্ট’? এ নিয়েও দাবির শেষ নেই। প্রথম দাবিটি জেরুজালেমের ‘টেম্পল মাউন্টের’। আরেকটি দাবি ইথিওপিয়ান অর্থোডক্স চার্চের। তাদের ‘চার্চ অব আওয়ার লেডি মেরি অব জিউন’-এ সংরক্ষিত আছে আর্ক অব দ্য কোভেন্যান্ট। দক্ষিণ আফ্রিকা আর জিম্বাবুয়ের লেম্বা সম্প্রদায়ের দাবি যে তাদের পূর্বপুরুষেরাই সিন্দুকটি বহন করে নিয়ে এসেছে। ২০০৮ সালে ‘চ্যানেল ফোর’ এ নিয়ে একটি তথ্যচিত্রও প্রচার করে। ফ্রান্স ও আয়ারল্যান্ডেরও এ নিয়ে দাবি কম নয়। আজও প্রত্নতাত্ত্বিক ধর্মীয় যাজকদের আর্ক অব দ্য কোভেন্যান্ট নিয়ে অনুসন্ধানের শেষ নেই। বলা হয়, প্রতিবছর শুধু একবার প্রধান ধর্মযাজক পবিত্র প্রাণীর রক্ত হাতে মেখে দেখতে পারবেন সিন্দুকটি। ভ্রষ্টচারী বা কোনো পাপী কোনোভাবেই স্পর্শ করতে পারে না সিন্দুকটি। এমনকি সিন্দুকটি দেখারও অনুমতি নেই। ইতিহাসে আছে, যখনই সে চেষ্টা করেছে, সে-ই ঈশ্বরের কাছ থেকে পেয়েছে কঠিন শাস্তি। তবু বৈজ্ঞানিক মনের মানুষজাতির গবেষণার শেষ নেই। রহস্য অবশ্য রহস্যই থেকে যায়। মানুষ যতই এগিয়ে যায়, ততই আরও জটিল হতে থাকে—কোথায় আছে সেই ঈশ্বরের সিন্দুকটি?

আরো অনেক তথ্যের জন্য ক্লিক করুন
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×