somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমাদের আধুনিকতা বনাম পশ্চিমী আধুনিকতা-০৩

০৫ ই আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ১:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইংরেজরা যখন ভারতে ইস্কুল প্রতিষ্ঠা করতে শুরু করে তখনই মোটামুটি আমাদের আধুনিকতার বাতাবরন শুরু হয়ে যায়। আগেই বলেছি, এখানকার এলিট শ্রেণী-রাজা, জমিদার, ভূস্বামী এরা-রাজশক্তির জীবন চর্চার একটা ব্যাপক অংশ গ্রহণ করে এবং চর্চা করতে শুরু করে। এর একটা প্রভাব সাধারণ মানুষের উপরও পড়তে শুরু করে।

কাল হয়ে দাঁড়ায় এইসব নব্য ধনীদের প্রভাব। তারা চাকুরী করে তখন বাবুউপাধীতে ভূষিত হয়েছে। তাই তাদের মধ্যে একটা আলাদা চেকনাই এসেছে। এর প্রবাহ লক্ষ করা যায় আঠারো উনিশ শতকের ভারতীয় সমাজে। (উৎসাহী পাঠক দেখতে পারেন-ভারতীয় মধ্যযুগের ইতিহাস বিষয়ক বইগুলো)।

ধীরে ধীরে শিক্ষিতের হার বাড়তে থাকে। এবং তারা ছড়িয়ে পড়তে থাকে সমাজের নানন স্তরে। ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত এই শ্রেণীর একটা অংশের আচরণে, জীবনের যাপান প্রক্রিয়ায় সাহেবীআনা লক্ষ করা যায়। এবং সামাজিক স্টাটাস মেইন্টেন করার জন্য এটা তারা ছাড়েও না। বরং আকড়ে ধরে আরও গভীর ভাবে।

ইংরেজরা এই সময়টাতে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে, রাজনৈতিক ভাবে আমাদের যা শিখিয়েছে সেটাকেই আমরা প্রায় বিনা প্রশ্নে মেনে নিয়েছি। শিক্ষিতদের একটা অংশ ওই সময় বিলেত থেকে ফিরে এসেছে। সেখানে দীর্ঘদিন থাকার ফলে একটা নতুন ধরণের অভ্যাস তারা বয়ে এনেছে। এই অভ্যাসটার মধ্যে অন্যতম ছিল মদ্যপান, ব্যাভিচার, পোষাকের নতুনত্ব এবং নিউক্লিয়ার পরিবারের ধারনা। অথচ একটা যৌথ পরিবারেই সে বড় হয়েছে। নতুন গড়ে ওঠা অভ্যাসগুলি জীবন থেকে ঝেরে ফেলা ছিল তাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। সুতরাং সেগুলির একটা ভারতীয় সংস্করণ চালু হয়ে যায় অচিরেই। এবং পরবর্তী প্রজন্মের একটা অংশও এটাতে আকৃষ্ট হয়ে যায়। এই বিষয়টা খুব বেশি শুরু হয় উনিশ শতক থেকে।

উনিশ শতকের বুদ্ধিজীবীরা এটার তেমন কোন প্রতিকার করতে পারেন নি। অথচ এই সময়েরই একটা অংশে স্বদেশী আন্দোলন হয় সারা ভারত জুরে। (ক্রমশ)
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৩:৩১
৫টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য লাস্ট সাপার

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৩৩



কক্সবাজার ডিবি কার্যালয়ের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বিশেষ কক্ষ। টেবিলজুড়ে সাজানো নামী রেস্তোরাঁ থেকে আনা রূপচাঁদা ফ্রাই আর কোরাল মাছের দো পেঁয়াজা। টেবিলের একপাশে বসা এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

উন্মাদ; নেতা না জনগন

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৫৩



১। জনগন উন্মাদ, নাকি নেতা-পাতি নেতারা !!?? যেহেতেু জনগনই ভোট দিয়ে (বাংলাদেশ ছাড়া) নেতা নির্বাচন করে; বলা যায় জনগনের উন্মাদনা-ই নেতা-পাতি নেতাদের উন্মাদনা আরও বাড়িয়ে দেয় !!... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দে রে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


আব্বাসউদ্দীন আহমদের কণ্ঠে ভাওয়াইয়ার সেই কালজয়ী সুরটা আজকাল ঘনঘন খুব মনে পড়ছে-

... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকারের যে কোন বড় সিধান্ত গুলো কেমন হওয়া উচিত!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭

সরকারের যে কোন বড় সিধান্ত গুলো কেমন হওয়া উচিত! বহুবার বলেছি, যারা আমার সাথে আছেন তারা নিশ্চয় দেখেছেন। সরকার যে কোন সিধান্ত দেবার আগে তার হাতে গবেষণা পত্র (কোন শিক্ষক... ...বাকিটুকু পড়ুন

সময়

লিখেছেন শাহেদ শাহরিয়ার জয়, ১২ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৩৩

আহ সময়,
তুমি শেখাও,আমি শিখি না।
তুমি পড়াও,আমি পড়ি না,
তুমি দেখাও, আমি দেখি না।
বলেছিলে- একদিন বুঝবো,
সবকিছু হারিয়ে খুঁজবো!


তুমি ভুল!

চেয়ে দেখো-
আমি আজো বুঝি না,
আজো হা-হুতাশ নিয়ে কিছু খুঁজি না!

বি:দ্র: অনেকদিন পর!কেউ আছে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×