তৎকালীন নদীয়া জেলার কুষ্টিয়া মহকুমার (বর্তমানে কুষ্টিয়া জেলার খোকসা
উপজেলা) এই চাঁদট গ্রামের একটি নিম্ন মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারে, বৈশাখের কোন এক বৃহস্পতিবার ভূমিষ্ঠ হন অশ্রু। ভালো নাম সহিদা খাতুন। পঞ্জিকার হিসেবে সাল ১৩৪০ বঙ্গাব্দ (আ.১৯৩৩ খ্রিষ্টাব্দ)। তার বাবা তেজারত আলী মণ্ডল (১৯০৬-১৯৬১) এবং মা রহিমা খাতুন (?-১৯৩৮)। অশ্রুর জন্মের পূর্বে ভুল চিকিৎসায় একুশ দিনের মাথায় তার দুই ভাই-বোন মারা যায়। তাদের নাম ছিল নজরুল এবং ফাতেমা। মাত্র একুশ দিনের মাথায় দুই সন্তানকে হারিয়ে অশ্রুর মা রহিমা খাতুন মানসিক ভাবে ভীষণ ভেঙ্গে পড়েন। তিনি প্রায় পাগলিনী হয়ে যান। এই অবস্থায় তার ভাই (অশ্রুর মামা) আব্দুর জব্বার-যিনি কলকাতা মেডিকেল স্কুল থেকে পাস করা ডাক্তার ছিলেন-তাকে কলকাতা নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ করে তোলেন। এর কিছুদিন পরে অশ্রু জন্মগ্রহণ করেন। অনেক অশ্রুপাতের পরে তার জন্ম বলে নাম রাখা হয় অশ্রু।
অশ্রুর বয়ানেই জানা যায়, তার পূর্বপুরুষগন ছিলেন কৃষক। তার কথার সূত্র ধরে বৃটিশ আমলের জমিজমা সংক্রান্ত নথিপত্র থেকে জানা যায় তার দাদার বাবার নাম পুরসেদ মণ্ডল। প্রবীণ ব্যক্তিদের কথা শুনে অনুমান করা যায় পুরসেদ মণ্ডল কিংবা তার কোন পূর্বপুরুষ বর্তমান ঝিনাইদহ জেলার কোন এক অঞ্চল থেকে চাঁদট গ্রামে এসে এই বংশের পত্তন করেন। পুরসেদ মণ্ডলের দুই ছেলে-বছিরউদ্দিন মণ্ডল এবং এনায়েতুল্লা মণ্ডল। তারাও কৃষক ছিলেন। বছিরউদ্দিন মণ্ডলের ছিল তিন ছেলে মেয়ে- শরীয়তউল্লাহ মণ্ডল, তেজারত আলী মণ্ডল এবং তপি নেছা। এই তেজারত আলী মণ্ডলের তৃতীয় সন্তান সহিদা খাতুন ওরফে অশ্রু। এই কৃষক পরিবারের ইতিহাসের মেড়ঘুরে যায় তেজারত আলী মণ্ডলের হাত ধরে। কারণ, তিনি কৃষি কাজ না করে লেখাপড়া শেখেন। ১৯২৪ সালে খোকসা থানরই হরিনারায়ণপুর স্কুল থেকে তিনি প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিকুলেশন (এসএসসি) পাস করেন।... (ক্রমশ)
(ছবি- অশ্রু। ফটোগ্রাফার-ওয়াহেদ আশরাফ রনি। তোলার সময়-১২ সেপ্টেম্বর ২০০৮/শুক্রবার)
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৪:২৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


