প্রতি বছর একুশ আসে যায়, কিন্তু আমাদের তাতে কতটা পরিবর্তন হয়, নাকি হয় না তা বোঝা বেশ মুশকিল। কেননা একুশের প্রথম প্রহর থেকে দিন ব্যাপী সভা সেমিনার সিম্পোজিয়ামে দেশ বেশ সরগরম থাকে। আমাদের এ করতে হবে... সে করতে হবে...
কিন্তু ফেব্রুয়ারি মাসের একুশ তারিখ পার হয়ে গেলে আবার যা-তাই আমাদের সামনে বছর ব্যাপী চলতে থাকে। কেননা এখনো এ দেশের দৃশ্যমান বিল বোর্ডগুলো কিংবা সাইনবোর্ড গুলোই আমরা বাংলায় লেখার মানসিকতা অর্জন করতে পারি নি। অথচ এই দিনটির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এখন পৃথিবীব্যাপী মানুষ তাদের মাতৃভাষার প্রতি একাত্ম হয়। সেই শ্রদ্ধাবোধের শুরু যে দেশ থেকে যে দেশের মানুষের বীরত্বগাথাকে অনুপ্রেরণা হিসেবে নিয়ে, সেই দেশের মানুষ মাতৃভাষার প্রতি কতটা সুবিচার করতে পারছে তা ভেবে দেখা দরকার।...
সভার আর সেমিনারের বাইরে বাস্তবজীবনে এর প্রয়োগ অনিবার্য করে তুলতে হবে। প্রসঙ্গত এখানে বলা দরকার যে, এ দেশে পঞ্চাশোর্ধ্ব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলেও এখনো আমাদের সরকার সেগুলোর অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে পৃথক কোনো সাবজেক্ট পড়ানোর ব্যবস্থা করতে পারে নি। তাহলে আমরা কিভাবে আমাদের ভাষাকে শ্রদ্ধা করি তা বোধহয় বলার অপেক্ষা রাখে না।... এসব বিষয় নিয়ে এখন থেকে সচেতন হওয়া দরকার। নাইলে অমর একুশেকে স্মরণ করে বিশ্বব্যাপী মানুষ তাদের মাতৃভাষার প্রতি যে শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে তার শেকড় এক নড়বড়ে হয়ে যাবে; আমাদের উপরি স্তরের মাতৃভাষার প্রীতি সম্বন্ধে তারা অবগত হলে আমাদের ধিক্কার দেবে...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


