রামগরূঢ়ের ছানা....
২৬ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ৩:০৫
এইখানে আসবার পরে হাস্যকর কান্ড কম ঘটে নাই, হাসতে হাসতে পেট ব্যথা হয়ে যাবার মতো ঠিক না, কিন্তু স্মৃতি রোমন্থনে মুচকি হাসি অনায়াসে যোগান দেবে এরা..
আবার আসছি:
হাদ্রিয়ান আর জঁ ফ্রঁসোয়া নামের দুই সামার স্টুডেন্ট(ফ্রান্সের) এর সাথে আমাদের বেশ ভাব হয়েছে, ওদের সাথে এক উইকএন্ডে ঘুরতেও গিয়েছি। প্রতিদিন হাই -হ্যালো.. আর আসা-যাওয়ার সময় বাই-সি ইউ এইসবও হয়। তো ওইদিন আমি অফিস থেকে রাত করে বেরুবো, মইন আর ফাহদ বেরিয়ে যাচ্ছিলো পাঁচটা নাগাদ। আমি ওদের সাথে অফিস থেকে বের হচ্ছি ডিনার কিনবো বলে... হাদ্রিয়ান আমাদেরকে বাই বললো, গুডনাইট জানালো, তো আমি জবাবে বললাম, "দে আর গোয়িং টু দ্য হোটেল, কিন্তু আমি আবার অফিসে ফেরত আসছি।" মইন আর ফাহদ দেখি আমার কথা শুনে হেসে গড়িয়ে পড়ছে, আমি ভাবতেছি, এই দুই মামু'র মনে হয় মাথা পুরা গেছে...হুদাই হাসে কেন? সেকেন্ড দুই বাদে আমি নিজেও যোগ দিলাম.. কারণ ততোক্ষণে বুঝতে পেরেছি যে হাদ্রিয়ানকে আমি আসলেই বাংলায় বলেছি যে, "কিন্তু আমি আবার অফিসে ফেরত আসছি।"
হায় হায়:
এইখানে এসে প্রথম প্রথম বিভিন্ন দোকানপাটে যাই, কিংবা রাস্তাঘাটে মানুষজন দেখি খালি হায় হায় মাতম করে... দুইদিন বাদেই বুঝলাম এইটা ওদের স্বাগতম বাণী। তো কালকে রাতে আমাদের দুই পাগলা মামু এই শব্দ নিয়া ব্যাপক আমোদিত.. তাদের ঘরের দুই জানালা.. রাস্তায় কোন মানুষ দেখলেই এক জানালা'র কাছে গিয়া "হায় হায়" বলে ব্যাপক চিৎকার দিয়া অন্য জানালা দিয়া ভালোমানুষের মতো মুখ করে রাখে। কি আমোদ পাইছে তারা এই কামে কে জানে... রাস্তার লোকজন ভাবছে মনে হয় তারা একদিন আগে থেকেই উইকএন্ড পালন উপলক্ষ্যে পানশালে গেছলো। আমি ভাবতাছি নরওয়েজিয়ানরা আমাগো দেশে গিয়া হায় হায় শুইনা দাঁত বের কইরা হাসি দিলে হায় হায় কারী কি করবার পারে B-
গ্রিটিংস ফ্রম বাংগি:
আমরা যেই হোটেলটাতে থাকি সেইখানে হিলজা নামে এক লাটভিয়ান মেয়ে কাজ করে , মেয়েটা একটু পাগলী কিসিমের, তাই কালকে রাতে ডিনারের টাইমে মেয়েটা যখন সাইকেল নিয়ে বেরুবার সময় ব্রুম ব্রুম আওয়াজ করছিলো ফাহদ ওকে পাগলী বললো বাংলায় আর বুঝিয়েও দিলো কি বলেছে, মেয়েটা রেগে না গিয়ে খুশি হয়ে গেলো আর ফাগলী, বাগলী, আগলি, নানারকম বলে শেষমেষ পাগলি বলা শিখলো।
সকালবেলা ব্রেকফাস্টের লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, রুটিতে কি জানি মাখাচ্ছিলাম... হঠাৎ শুনি কেউ একজন বলছে, "হাই আনিকা, গ্রিটিংস ফ্রম বাংগি"। তাকায়ে দেখি হিলজা!! বাংগি বলতে কি বুঝাইছে বুঝলাম না, সেকেন্ডের চিন্তায় মাথায় খেললো.. ওহহো! বেচারা আসলে পাগলি বলতে চাইছে!!!! হাসতে হাসতে আবার তারে পাগলি বলানোর কসরত করানো হইলো।![]()
চাবি কই গেলো:
আমি হোটেলে ফিরে রান্নাবান্না সারতেছি, ফাহদ আর মইন্যা গেলো হার্ডরক ক্যাফের সামনে বাইক দেখতে... রান্না-বান্না সাইরা দুইটারে দিলাম ফোন, কয় আসতাছি... আধাঘন্টা... আমি ভাবলাম এট্টু ঝিমাই উপরে গিয়া.. খাবার-দাবার টেবিলে থুইয়া উপরে নিজের রুমে আইসা ঝিমানি দিলাম একটা, মিনিট বিশেক পরে মইনের ফোন, তাড়াতাড়ি কইরা নিচে নামলাম, খাইলাম, দাইলাম মনের সুখে, এর মধ্যখান দিয়েই হিলজারে পাগলা বলা শিখানো হইছে, হোটেলে কাজ করে এমন সবাই চলে গেছে ইতোমধ্যে। হঠাত আবিষ্কার করলাম আমার রুমের চাবি নাই সাথে, কি করা যায় এখন! সম্ভবত ঘরে রেখেই লক করে ফেলেছি বাইরে থেকে... ফাহদ খুঁজেপেতে কোথ্থেকে জানি একগাট্টি চাবি নিয়ে এলো, কোনটাই লাগেনা... লাগবার কথা ও না.. ক্লান্তিতে মারা যাচ্ছি প্রায়, কি করবো না করবো বুঝতে না পেরে মইন ঠিক করলো সে স্পাইডার ম্যানের মতো দেয়াল বেয়ে উঠে জানালা দিয়ে ঢুকে চাবিটা বের করে নিয়ে আসবে। উঠতে যাবে এমন সময় মনে হলো.. পুলিশ আংকেলরা দেখলে তো চোর ভেবে গারদে পুরবে সোজা.... আর তাছাড়া পড়ে গেলে শেষে! আমার মানা শুনে ওরাও হোটেলের রিসেপশনের ভেতরে চলে এলো... মইন ওর ঘরের চাবি বের করতে যাবে... আর তখন ওর পকেট থেকেই বেরুলো আমার হারিয়া যাওয়া চাবি.. আসলে খাওয়ার টেবিলে পাশে বসেছিলাম আর চাবি মনে হয় আমি টেবিলের উপরেই রাখছিলাম... জিনিসপাতি গোছানোর সময়ে নিজের মনে কইরা মইন্যা আমার চাবিটাও পকেটে পুরছে। ![]()
জটিল বলেছেন:
হা হা
পীরসাহেব বলেছেন:
হুমমম
মৈথুনানন্দ বলেছেন:
আজাইরা হন্টন আর এটায় আবার তোমার নেটেভ স্টায়লটা ফিরে এসেছে...একটা আমেজি ক্যাসুয়্যাল আড্ডার ঢঙে উপস্থাপনা...এই জন্যে সেদিন মিন্সড বলছিলাম এর য়্যাব্সেন্সে। লেখক বলেছেন: হুমম... মাঝে মাঝে একটু ঢংঢাং পাল্টাই আর কি... ![]()



















