এইমাত্র আমি কানাডার জনপ্রিয় বাংলা সাপ্তাহিক বেঙ্গলি টাইমস এ সংবাদটি পড়লাম। মুখ খুলেছে বঙ্গন্ধুর খুনী নূর চৌধুরী। আপনাদের সাথে শেয়ার করছি। বুঝবেন এই নূর চৌধুরী যে কত ধূর্ত। অনেক বড় লেখা তাই পুরোটা পোস্ট দিতে পারছি না। যারা পুরাটা পড়তে চান তাদের জন্যে লিংক দিয়ে দিলাম।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হত্যা মামলার দন্ডপ্রাপ্ত আসামী, খুনী মেজর (অব.) নূর চৌধুরী বলেছেন, আমি হত্যাকারি নই। আমি নির্দোষ । হত্যাকান্ডের সময় আমি স্পটে উপস্থিত ছিলাম না। কানাডিয়ান সরকারের কাছে আমি সাহায্য চাই। তিনি আরও বললেন, শেখ মুজিব যেভাবে স্বৈরাচারি কায়দায় দেশ পরিচালনা করেছেন তার মেয়ে শেখ হাসিনা একইভাবে দেশ পরিচালনা করছেন। তাই বাংলাদেশে এখন আর ন্যায় বিচার আশা করা যায় না।গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮.৪৫ মিনিটে সিবিসি রেডিওর দ্য কারেন্ট বিভাগের প্রধানকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে নূর চৌধুরী এসব বলেন। এইসময় তার আইনজীবি বারবারা জ্যাকম্যানও উপস্থিত ছিলেন। সিবিসি রেডিও সূত্রে দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকমকে জানানো হয়েছে, আরও এক সপ্তাহ আগে সিবিসির টরন্টো স্টুডিওতে সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করা হলেও নানা কারণে সেটা প্রচার হতে দেরি হয়। আর পলাতক জীবনে নূর চৌধুরী এই প্রথম মিডিয়ার মুখোমুখি হলেন। গত মাসের মাঝামাঝিতে স্থানীয় দৈনিক টরন্টো স্টারের রিপোর্টার অমিয় দেমসে ও অমনি টিভির মিটু ঘোসলা নূর চৌধুরীর টরন্টোর এ্যাপার্টমেন্টে হাজির হয়েছিলেন। কিন্তু মুখ খোলেননি তিনি। সিবিসি রেডিওতে প্রচারিত সাক্ষাৎকারের নির্বাচিত অংশ তুলে দেয়া হলো-
সিবিসি : আপনি বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে হত্যা এবং তার পুরো পরিবারকে তছনছ করে দেয়ার কারণে একজন দাগি আসামী। আপনি কানাডায় খুব অনায়াসে বসবাস করছেন এবং কানাডা সরকারের সাহায্য চেয়েছেন। আপনি কেন কানাডিয়ান সরকারের সাহায্য আশা করছেন?
নূর : হ্যাঁ, আমি কানাডিয়ান সরকারের কাছে সাহায্য চেয়েছি। কারণ আমি নির্দোষ। আমি শেখ মুজিবর রহমানকে হত্যা করিনি। আর সেজন্য আমি আজ এখানে। আমাকে আসামী করা হয়েছে। কিন্তু আমি নির্দোষ। তাই আমি কানাডা সরকারের সাহায্য চেয়েছি।
সিবিসি : আপনি আরো ১১ জনের সঙ্গে এ হত্যা মামলায় আদালত কতৃক দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। যারা সাক্ষী দিয়েছেন তারা বলেছেন, হত্যার সময় আপনি শুধু সেখানে ছিলেনই না বরং আপনিই গুলিটি করেছেন, যে গুলিতে প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিব নিহত হয়েছেন।
নূর : না, এটা সত্যি নয়। আমি সেখানে ছিলাম না। আমি অন্য কোথাও ছিলাম। অনেকেই এটি জানে। কিন্তু তারা সামনে আসতে ভয় পাচ্ছে। তারা মুখ খুলছে না।
সিবিসি : তাহলে কেনো আপনার দিকে আঙুল তোলা হচ্ছে?
উত্তরঃ কারণ আমি এ হত্যা মানে ক্যু কে সমর্থন করেছিলাম। পরে আমি জেনারেল ওসমানি ও প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কতৃক সম্মানিত হয়েছিলাম। আর আমার ইউনিট সেসময় বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাতে ছিল।
সিবিসি : আপনি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট এর দিন সকালে যখন প্রেসিডেন্টকে হত্যা করা হলো তখন আপনি কোথায় ছিলেন?
নূর : আমিতো বলেছি, আমি সেখানে ছিলাম না। আমার কিছু আত্নীয়ের সঙ্গে অন্য কোথাও ছিলাম, অন্য কিছু করছিলাম।
সিবিসি : আপনি কি করছিলেন?
নূর : তাদের নিরাপত্তার কথা ভেবে আমি আপনাকে অনুরোধ করছি এ বিষয়টি নিয়ে আমার সঙ্গে আলোচনা না করার জন্য। আমি আত্নীয়দের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছিলাম, আমি তাদের সঙ্গে একটা কাজ করছিলাম।
সিবিসি : আপনার ডিপোর্টেশন রিমুভাল ফাইলে আমি দেখলাম, আপনি বলেছেন ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট আপনি টি-শার্ট বানাচ্ছিলেন। আসলেই ?
নূর : এটি সত্যি।
সিবিসি : বিষয়টি লুকানোর কি কারণ?
নূর : আসলে, এ ব্যাপারটিতে বিস্তারিত অনেক কিছু বের হয়ে আসে। আমি চাইনি এটা প্রকাশ হোক। যখন আমি রিফিউজি বোর্ডের কাছে রাজনৈতিক আশ্রয় ছেয়েছি তখন আমি চেয়েছি আমার এবং আমার সাক্ষীদের জীবনের নিরাপত্তার কারণে এটি একেবারেই গোপন থাকবে।
সিবিসি : আপনি আরো বলেছেন শেখ মুজিবের মৃত্যুর পর একটা শোভাযাত্রা বের হয়েছিলো সেটার জন্যেই আপনি টি শার্ট বানিয়েছিলেন। তাই কী?
নূর : এটি সত্যি।
সিবিসি : মিস্টার নূর ! বিষয়টি ফানি নয় কী! ভোর ৫টায় আপনি ট-শার্ট বানাচ্ছিলেন, ঠিক যখন হত্যাকান্ডটি ঘটেছিল?
নূর : না না কাজটা শুরু হয়েছিল সন্ধ্যায় এবং ভোররাত পর্যন্ত চলেছিল।
সিবিসি : তাহলে, আপনি বলছেন যে, আপনি সে সময় টি-শার্ট বানাচ্ছিলেন?
নূর : জী, এটি সত্যি।
সিবিসি : আদালত কতৃক আপনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। যেটি ছিল সঠিক এবং আনবায়সড- এ্যামেনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এমনই বলেছে।
নূর : তারা হয়ত সেটা মনে করে, কিন্তু আমি আসলে জানিনা তারা মামলাটির কত গভীরে গিয়েছিল। আমি যতটুকু জেনেছি, স্বাক্ষী এবং যারা দোষী সাব্যস্ত হয়েছে তাদের কথার ভিত্তিতে এটি হয়েছে, এবং তাদের উপর অনেক অত্যাচার চালানো হয়েছিল। আমি জানি যে, এই বিচারে প্রচুর রাজনৈতিক প্রভাব এবং উৎসাহ ছিল, যেটা লজ্জাজনক।
সিবিসি : আপনি যদি মনে করেছিলেন সেটি সঠিক হয়নি তাহলে আপনি কেন সেটার মুখোমুখি হননি।
নূর : আমি বাংলাদেশের বিচার পদ্ধতিকে বিশ্বাস করিনা। বাংলাদেশে রায় কেনাবেচা হয়।
সিবিসি : ১৯৭৫ সালে আপনার বয়স ছিল ২৪, এটি সত্যি? এবং মিলিটারী ছেড়ে দেন?
নূর : হ্যাঁ। সত্যি। আমি সিভিলিয়ান ছিলাম এবং ব্যবসা করতাম।
সিবিসি : কিসের ব্যবসা করতেন?
নূর : আমি আমদানি-রপ্তানির ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলাম।
সিবিসি : ১৯৭৫ সালে ক্যু হবার পর পরই তখনকার নতুন প্রেসিডেন্ট আপনাকে এবং অন্য আরো যারা এই হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল সবাইকে ডিপ্লোম্যাট পোষ্টিং দেন।
নূর : না, ঠিক হত্যার পর পরই নয়, এটি সম্পূর্ণ ভুল কথা। হত্যাকান্ডের অনেক পরে।
সিবিসি : কখন? কোন বছর?
নূর : এটি ১৯৭৫ অথবা ১৯৭৬ সালের শেষের দিকে।
সিবিসি : ক্যু হয়েছে ১৯৭৫ সালে, তার মানে এটি পরের বছর?
নূর : হ্যাঁ। পরের বছর।
সিবিসি : কোথায় ছিল ডিপ্লোম্যাট পোষ্টিং এবং কি পদে ছিল?
নূর : আমি ইরানের এম্বাসিতে সেকেন্ড সেক্রেটারী হিসেবে যাই।
সিবিসি : আপনার বয়স ছিল ২৫, আপনি মিলিটারীতে ছিলেন, পরে ব্যবসা করতেন এবং আপনাকে সেকেন্ড সেক্রেটারী হিসেবে পাঠানো হয়? কিভাবে?
নূর : এটি খুবই স্বাভাবিক। বাংলাদেশ এম্বাসীর বেশীর ভাগ সেক্রেটারী ছিল ঐ বয়সেরই।
সিবিসি : বলা হয়েছে যে, হত্যাকান্ডের পর নতুন যে নেতা ক্ষমতায় গিয়েছিল, তিনি আপনাকে বিচার থেকে রক্ষা করার পুরস্কার হিসেবে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন, এ বাপারে আপনি কি বলবেন?
নূর : আমি নিশ্চিত জানি যে এটি আমার জন্য কোনো পুরস্কার ছিলনা। কারণ অনেক লোক যাদের বয়স আমার চেয়ে কম, তাদেরকে আমার চেয়েও উঁচু পদে পাঠানো হয়েছে। আমি অবসর নেয়ার আগে মিলিটারিতে যে পদে ছিলাম এবং সেখান থেকেই সিভিলিয়ান হই।
সিবিসি : পদটি কি ছিল?
নূর : মেজর।
সিবিসি : হত্যাকান্ডের পরেই নতুন নেতা খন্দকার মুস্তাক আহমেদ একটি আইন পাস করেছিল যার মাধ্যমে আপনাকে এবং অন্যদের ইন্ডেমনিটি দিয়েছেলেন। সেখানে এটিও বলা হয়েছিল যে, আপনি হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত এবং আপনার নিরাপত্তা দরকার। আপনাকে ইন্ডেমনিটি দেয়া হয়েছিল কেন?
নূর : দেখুন ! প্রেসিডেন্টই এর উত্তর দিতে পারবে। আসলে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরবর্তী সকল কর্মকান্ডকেই ইন্ডেমনিটির আওতায় নিয়ে আসা হয়।
সিবিসি : আপনাকে কেন ইন্ডেমনিটি দেয়া হয়েছিল?
নূর : আমি ইন্ডেমনিটি পাইনি। আইনটিতে বলা হয়েছে যে, নতুন সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত ঐ দিনের সকল কর্মকান্ডই ইন্ডেমনিটির আওতায় পড়বে।
সিবিসি : কোন কর্মকান্ডগুলো অন্তর্ভুক্ত ছিলো?
নূর : ঐ যে...যারা ঐদিনের ক্যু তে অংশ নিয়েছিলেন। আমিতো হত্যাকান্ডের সাথে সরাসরি জড়িতই ছিলাম না।
সিবিসি : আপনি একজন ডিপ্লোম্যাট ছিলেন। আপনি কানাডায় কেন এসেছেন?
নূর : আসলে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসেন এবং তিনি আমাকে দেশে ফিরতে আদেশ দেন। আমি মনে করেছি,আমার অন্য কোথাও যাওয়া উচিত। পরিস্থিতি কি হয় সেটা দেখে তারপর সিদ্ধান্ত নেবার কথা ভেবেছিলাম।
সিবিসি : এর অর্থ কি? যাকে হত্যা করা হয়েছে তাঁর মেয়ে ক্ষমতায়, সেতো তার পিতৃ হত্যার বিচার করবেই। আর আপনি জানতেন যে আপনি একজন হত্যাকারী হিসেবে দোষী সাব্যস্ত হবেন?
নূর : না এটা ঠিক নয়।
সিবিসি : এবং আপনি দেশে না গিয়ে কানাডায় চলে আসেন।
নূর : জী, আমি কানাডায় ভিজিটর হিসাবে চলে আসি পরিস্থিতি দেখার জন্য।
সিবিসি : আপনি কবে রেফিউজি স্ট্যাটাস চেয়েছিলেন?
নূর : ১ বছর পর। কারণ আমি অপেক্ষা করেছিলাম। এবং এরমধ্যে আমি দেখেছি যে, কোন কারণ ছাড়াই তারা বাংলাদেশের লোকদেরকে গ্রেফতার করা শুরু করেছে, যাদেরকে তারা দোষী মনে করেছে। পাশাপাশি তারা আইন পরিবর্তন করেছে এবং তাদের উপর দোষ আরোপ করা হয়েছে, যেভাবে তারা করতে চেয়েছে।
সিবিসি : ব্যাপারটা শুনে মনে হচ্ছে, আপনি তখন জানতেন যে আপনি দোষী কোন কিছুর জন্য এবং একটি জায়গা খুঁজেছেন যাবার জন্য , এবং আপনি এখানে চলে আসেন। আপনি কি সন্দেহ করেছিলেন যে, তারা আইন পরিবর্তন করেছে এবং আপানাকে দোষী করা হবে?
নূর : আমি সন্দেহ করিনি। কিন্তু আমি সবসময়ই চিন্তা করেছি যে শেখ হাসিনা জানতেন এবং সে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ তৈরী করবে।
সিবিসি : সেতো চাইবেই পিতার হত্যারিদের আইন ও বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে। এটাইতো স্বাভাবিক। তাই নয় কী?
নূর : আমি এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত ছিলাম না । কিন্তু আমাকে দোষী সাব্যস্ত করছে।
সিবিসি : শেখ হাসিনা আগামী মাসে কানাডায় আসছেন। সেতো নিশ্চয়ই আপনাকে ফেরত নেবার চেষ্টা করবে। আপনি কী বলবেন?
নূর : আমি বলব যে, আমি নির্দোষ। আমি কোন হত্যাকারী নই। আমি আইনগতভাবে কানাডায় বসবাসের অধিকার রাখি । তারা আমার বিরুদ্ধে যে দোষ আরোপ করেছেন সে ব্যাপারে আমার কিছু করার নেই। এটা সম্পুর্ণভাবে একটি ভ্রান্ত ধারণা। আমি কানাডার কাছ থেকে বিচার এবং নিরাপত্তা চেয়েছি। আমি ন্যায় বিচার প্রত্যাশী। শেখ মুজিব যেভাবে স্বৈরাচারি কায়দায় দেশ পরিচালনা করেছেন তার মেয়ে শেখ হাসিনা একইভাবে দেশ পরিচালনা করছেন। তাই বাংলাদেশে এখন আর ন্যায় বিচার আশা করা যায় না।
সিবিসি : আমি এ আলোচনায় আপনার উকিল বারবারা জ্যাকম্যানের কাছে জানতে চাই, যিনি আজ আমাদের সঙ্গে টরন্টো স্টুডিওতে আছেন। নূর চৌধুরীর স্টাটাস এখন কোন অবস্থায় আছে?
জ্যাক : সে ইমিগ্র্যান্ট হবার জন্য দরখাস্ত করেছিলেন তার প্রাক্তন কাউন্সিলর এর উপদেশ অনুযায়ী। কিন্তু তাতে কোন কাজ হয়নি। এবং ভিজিটর ভিসা রিনিউ হয়নি, সেজন্য সে রেফুউজি ক্লেইম করেছে, কারণ সে ফিরে যেতে ভয় পাচ্ছিল। আমি বোঝাতে চাচ্ছি যে ৫জনকে ফাঁসী দেয়া হয়েছিল তাতে তাকেও ফাসিঁ দেয়া হতো।
সিবিসি : তাদেরকে ফাসিঁ দেয়া হয়েছিল গত বছর জানুয়ারীতে। তাদের ফাঁসি দেয়ার আগেই সে আবেদন করেছিল। আমার মনে হয় তাদের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল।
জ্যাক : অবশ্যই। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ হয়েছিল। সেই যুদ্ধে নূর চৌধুরী ছিলেন একজন হিরো। ৪ বছর পর শেখ রহমান একনায়কতান্ত্রিক দল গঠন করেছিল। সে বিরোধী দলের লোকজনের উপর অত্যাচার করেছিল। এবং সেটা ছিল একটি ইতিহাস। সেই সময় যারা সরকারের বিরুদ্ধাচারণ করেছিল তাদের উপর অত্যাচার চালানো হয়েছিল। আমি দেখছি যে শেখ রহমানের বিরুদ্ধে যে ক্যু হয়েছিল তার সঙ্গে ....ইজিপ্টের মোবারক... লিবিয়ার গাদ্দাফীর ক্ষমতা হারানোর বিষয়টিতে কোন পার্থক্য নাই।
সিবিসি : কিন্তু তাদের কাউকেই হত্যা করা হয়নি।
জ্যাক : আমি সেটা জানি। মিলিটারির মাধ্যমে ক্যু হয়েছিল, যারা একটি গণতান্ত্রিক সরকার গঠন করতে চেয়েছিল।
সিবিসি : তারা প্রেসিডেন্টের বাড়িতে আক্রমণ করেছিল এবং পরিবারের সকল সদস্যকে হত্যা করেছিল। এমনকি ১০ বছরের ছেলে যে কিনা সোফার পিছনে লুকিয়ে ছিল, তাকেও নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
জ্যাক : আমি বুঝতে পারছি এটার কোন অর্থ হয়না একটা বাচ্চাকে মেরে ফেলার। মিস্টার চৌধুরী সবসমই ঘোষণা দিয়েছেন যে, তিনি নির্দোষ। প্রশ্ন হলো যে, সে কি ঠিক বিচার পাবে। আমি জানি তুমি আন্তর্জাতিক এ্যামেনেষ্টির উপর ফোকাস করবে।
কানাডা থেকে যারা মিস্টার নূর চৌধুরীর ব্যাপারে সাক্ষ্য প্রমাণ দিয়েছেন তারা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক। কারণ তারা মনে করে, নূর চৌধুরীকে ফেরত পাঠাতে সাক্ষী না দিলে তাদের উপরও টর্চার করা করা হবে। এটা সঠিক বিচার নয়। সে এখানে থাকতে আগ্রহী। কারণ বাংলাদেশে গেলে তাকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হবে।
সিবিসি : তারতো ডিপোর্টেশন অর্ডার হয়েছে। এটা কি সত্য? কবে থেকে সেটা?
জ্যাক: এটা ২০০০ সাল থেকে।
সিবিসি : কিন্তু এখনও সে এখানে?
জ্যাক : সে এখনও এখানে কারণ সে ২০০৯ সালের মার্চ মাসে প্রি-রিমুভ্যাল রিস্ক এসেসমেন্ট এর জন্য দরখাস্ত করেছে। আমরা সরকারের কাছে লিখে আসছি যে ঐ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সিদ্ধান্তের জন্য।
সিবিসি : প্রি-রিমুভ্যাল রিস্ক এসেসমেন্ট, এটার অর্থ কি?
জ্যাক : ‘ নিজের দেশে ফিরে গেলে যদি কারও ফাঁসী হবার ঝুঁকি থাকে’ -এটা হচ্ছে এমন একটি আবেদনপত্র যার মাধ্যমে এ ধরনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেয়া হয়। এটাই হলো মূল কথা। কারণ কানাডার সুপ্রিম কোর্টের আইন হচ্ছে কানাডা ফাঁসিকে সমর্থন করেনা।
সিবিসি : মিস্টার চৌধুরী কী এখানে এভাবে থাকতে পারবেন?
জ্যাক : এখনও কোন সিদ্ধান্ত হয়নি যে সে কানাডায় থাকতে পারবে। অন্যদিকে, কানাডার সুপ্রিম কোর্টের আইন হচ্ছে ব্যাতিক্রম কোন ঘটনা হলে যেমন কেউ যদি আগের থেকে মৃত্যদন্ডপ্রাপ্ত হয় এবং যুদ্ধাপরাধী হয়, এবং তার বিচারটি যদি সঠিক হয় তাহলে তারা ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে। কিন্তু এই সরকারের ব্যপারে তারা হয়ত অন্য কিছু সিদ্ধান্ত নিবে, আমি আসলে জানিনা।
সিবিসি : আপনি বলছেন যে, মিস্টার চৌধুরী নির্দোষ?
জ্যাক : মিস্টার চৌধুরী মিলিটারি ক্যুতে তার অংশগ্রহণ অস্বীকার করেছেন। আমি জানি যে, বাংলাদেশের সরকার তাকে ফেরত চাচ্ছেন। কারণ তিনি ক্যু এর কাজে সব অস্ত্র সরবরাহ করেছেন।
সিবিসি : তাহলে আপনি বলছেন যে সে নির্দোষ।
জ্যাক : হ্যাঁ। মিস্টার চৌধুরী আমাকে বলেছেন যে, সে নির্দোষ।
আরও বিস্তারিত সাক্ষাৎকারটি এখানে ক্লিক করে পড়তে পারেন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

