আপনি সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী শক্তি দ্বারা কোন প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দান ও তার উন্নয়নে গতিশীলতা সঞ্চার করতে চাইলে আপনার থাকতে হবে, ক্ষমতা , সাফল্য লাভের তীব্র আকাংক্ষা , স্বাধীনতা, স্বীকৃতি, বদান্যতা , ঝুকি গ্রহনের মনোভাব , দুরদৃষ্টি ও সৃজনশীলতা , অধ্যবসায় , চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার সাহস , জানার ইচ্ছা , গ্রহণযোগ্য উদ্ভাবনী শক্তি , আত্ববিশ্বাস , ইচ্ছাশক্তি ,কাজ করার দৃঢ়তা , প্রতিশ্রুতি । এছাড়া নেতৃত্ব , পৈত্রিক গুনাবলীর প্রতিফলন, সামাজিক কার্যকলাপে উদ্যোগ গ্রহন, বংশ মর্যাদা ও পারিবারিক মর্যাদা গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগত যে সাধারণ বৈশিষ্ট্য গুলো না থাকলেই নয়: বয়স , শিক্ষা , আকর্ষনীয় ব্যক্তিত্ব , কৌশল ও সততা , সরলতা , তৎপরতা , মুনাফার প্রতি আকর্ষণ , ত্যাগী মনোভাব।
শিক্ষা প্রশিক্ষণ ও সুযোগ সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে উদ্যোক্তা সৃষ্টি করা যায়। উদ্যেক্তার প্রধান গুনসমূহ হল: আত্ববিশ্বাসী , স্বাধীনচেতা , উদ্যোমী , সাহসী , অধ্যবসায়ী , সংবেদনশীল , সৃজনশীল ,উদ্ভাবনী ক্ষমতা সম্পন্ন , কঠোর পরিশ্রমী , ঝুকি গ্রহনের ক্ষমতা , নেতৃত্ব দানের যোগ্যতা ,পুজি সংগ্রহের ক্ষমতা, ব্যাবস্থাপনার কৌশল সম্পর্কে সফল উদ্যোক্তা গভীর জ্ঞান রাখেন, চ্যালেঞ্জমূলক কাজ করতে বিশেষ আনন্দ পান, নিজের ভূল অকপটে স্বীকার করেন ও ভূল থেকে শিক্ষা গ্রহন করেন।
উদ্যোগের ক্ষেত্রগুলোকে মূলত ৩ ভাগে ভাগ করতে পারি।
১. ক্রয় -বিক্রয়: এ ধরণের উদ্যোক্তা উৎপাদিত পণ্য কিনে এনে ক্রেতার কাছে বিক্রি করে। এক্ষেত্রে পণ্যের গুণ বা রুপ পরিবর্তন করা হয় না। স্টেশনারী শপ,বিভিন্ন কম্পানীর ডিলার এ ধরণের উদ্যোক্তা।
২. সেবামূলক: যে উদ্যোগে পণ্য বা সেবার গুণ পরিবর্তন করে বা সেবা প্রদানের মাধ্যমে উপার্জন করে সেটা হল সেবামূলক উদ্যোগ। হোটেল , রেস্টুরেন্ট, পরিবহন ,ট্রাভেল এজেন্সি,প্রাইভেট মেডিকেল বা ক্লিনিক এ ধরণের উদ্যোগ।
৩. উৎপাদনমূলক:এ ধরণের উদ্যোগে কাঁচামালকে উৎপাদন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রূপ পরিবর্তন করে উৎপাদিত পণ্য হিসাবে বিক্রি করা হয়।
প্রতিটি ব্যবসায় প্রতিষ্টানের আকার ছোট মাঝারি ও বৃহদাকার হতে পারে। আকার ও প্রকৃতি ভেদে ব্যবসায় সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যাবলীর বিসতিৃতি ও প্রকৃতি বিভিন্ন হতে পারে। মনে রাখতে হবে, নিজস্ব চিন্তা,জ্ঞান, বুদ্ধিমত্তা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে নিজের জন্য এবং অপরের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা আনন্দের তবে চ্যালেঞ্জিং।
প্রকল্প গ্রহন পণ্য বা সেবা প্রদানের উদ্দেশ্যে মূলধন বিনিয়োগের প্রস্তাবই একটি প্রকল্প। প্রকল্প সংক্রান্ত ধারনা উন্নয়নের ক্ষেত্রে কতগুলো নিয়ম অনুসরণ করা যেতে পারে। এগুলো নিম্নে উল্লেখ করা হল:
১.নিজের আগ্রহ রয়েছে এমন বিষয়ে ধারণা করা।
২.কোন একটি জিনিসের অভাব অনুভব করলে।
৩.অপরের উৎপন্ন দ্রব্য বা সেবার অসুবিধা পর্যবেক্ষণ করা।
৪.সাধারণ জিনিসের বিশেষ ব্যাবহার খুজে বের করা।
৫.বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরনের চিন্তা।
প্রকল্প ধারণার উৎস:
১. উৎপাদন ও ব্যাবসায় তথ্য।
২. দাম তথ্য
৩. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি তথ্য
৪. জরিপ
৫. ব্যাংক
৬. বানিজ্য সংস্থা
পণ্য নির্বাচন: বাজার জরিপের মাধ্যমে একজন উদ্যোক্তা সঠিক পণ্য নির্বাচন করতে পারে। বাজার জরিপ বলতে বুঝায় গ্রাহকের উপর একটি সমীক্ষা চালিয়ে পণ্যের চাহিদা ও তা বানিজ্যিক ভিত্তিতে তৈরির সম্ভাব্যতা যাচাই। যেগুলো নিম্নরুপ:
১. বাজারের আকার কি ?
২. চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে যোগানের উৎস সমূহ কি কি? কোথা থেকে তা উৎপাদিত হচ্ছে?
৩. কিভাবে পণ্য ক্রেতাদের কাছে পৌছে।
৪. ভবিষ্যতে চাহিদা বাড়বে কিনা।
৫. কাচামাল যোগানের বর্তমান উৎস কী ? কাচামালের সরবরাহ কতটুকু স্থিতিশীল ?
৬. বর্তমান মূল্যে কাচামালের সরবরাহ অব্যাহত থাকবে কিনা ?
৭. বাজার চাহিদার কত অংশ আলোচ্য প্রকল্পের মাধ্যমে সরবরাহ করা হবে।
প্রকল্প নির্বাচন:
প্রকল্প নির্বাচনের ক্ষেত্রে ২টি বিষয়ের প্রতি লক্ষ করতে হয় তা হল:
ক.সামষ্টিক নির্বাচন খ. ব্যাষ্টিক নির্বাচন
ক. সামষ্টিক নির্বাচন:
১.জনসংখ্যা বিষয়ক ধারনা :
(প্রবৃদ্ধি, জন্ম,মৃ্ত্যু,বিবাহের হার, জীবন ধারা,)
২.অর্থনৈতিক পরিবেশ:
(ভোক্তার আয়, খরচ করার প্রবনতা, জীবন নির্বাহের খরচ)
৩.প্রাকৃতিক পরিবেশ:
উদ্যোগ গ্রহণে প্রকৃতিক পরিবেশ একটি বিরাট ভূমিকা পালন করে । কারণ প্রয়োজনীয় কাঁচামাল বা প্রাথমিক উপকরণ সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক পরিবেশের উপর নির্ভর করতে হয়।
৪.রাজনৈতিক পরিবেশ:
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ,প্রধাণ রাজনৈতিক দলগুলোর দর্শণ, রাজনীতিবিদদের আচরণ প্রভৃতি উদ্যোগের ফলাফলকে প্রভাবিত করে থাকে।
৫.সাংস্কৃতিক পরিবেশ:
শিক্ষার হার, কারিগরি শিক্ষার সুষ্ঠু ব্যবস্থা, সামাজিক মূল্যবোধ, ধমর্ীয় অনুুভূতি প্রভৃতিও বিবেচ্য বিষয়।
৬.আইনগত পরিবেশ:
ব্যবসায়- বানিজ্য বা যে কোন উদ্যোগী কারবার রাষ্ট্রের সুনির্দিষ্ট আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। আইনগত কাঠামো,আইনের যথার্থ প্রয়োগ , আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি , আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতা প্রভৃতি এক্ষেত্রে প্রভাবক হিসেবে কাজ করে।
খ.ব্যাষ্টিক নির্বাচন:
১.কারিগরি দিক : প্রকল্পের কারিগরি দিক যাচাই করা হয় প্রযুক্তিগত ও যান্ত্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে । এ ধরণের কাজের মধ্যে রয়েছে উৎপাদন প্রক্রিয়া ,প্রযুক্তি নির্ধারণ, যন্ত্রপাতি নির্বাচন ,প্রয়োজনীয় কাঁচামালের প্রাপ্যতা, দক্ষ শ্রমিকের সহজলভ্যতা , প্রকল্প বাস্তবায়নে সহজসাধ্যতা প্রভৃতি পরীক্ষা করা।
২ .বাজার জাতকরণের দিক: উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা না থাকলে কোন প্রকল্পই সফল হয়না। বাজার জরিপ পরিচালনার মাধ্যমে কোন পণ্যের চাহিদা আছে কিনা ,বাজারে প্রতিযোগীদের সংখ্যা,আলোচ্য পণ্য বা সেবা বিতরণের সুযোগ সুবিধা প্রভৃতি যাচাই করা হয়।
৩. বানিজ্যিক দিক: প্রকল্প বাছাইয়ের কেষ, আর্থিক দিক )
সহায়তা ( ধরণ ও উৎস সমূহ)
ধরণসমূহ:
১.উদ্দীপনামূলক সহায়তা
২.সমর্থন মূলক সহায়তা: (মূলধণ সংস্থান , অবকাঠামোগত সহায়তা, মেশিনারী নির্বাচন ও সংগ্রহে সহায়তা, কাঁচামাল সরবরাহ, কর অবকাশ ,ভর্তুকি প্রদান,ব্যবস্থাপনার পরামর্শ, পণ্য বাজার জাতকরণে সহায়তা)
৩.সংরক্ষণমূলক সহায়তা
সহায়তার উৎস
সরকারি সহায়তা: ক. শিল্পনীতি
খ.শিল্প স্থাপনে সরকারি উৎসাহ
গ.রাজস্ব সুবিধা (কর অবকাশ, বর্ধিত হারে অবচয় ধার্যের সুযোগ, বিনিয়োগ ভাতা, লোকসান স্থানান্তর, করমুক্ত এলাকা, দৈত কর রেয়াত )
ঘ.শিল্পের সংস্থান
ঙ. শিল্পায়নে সাহায্যকারী প্রতিষ্ঠাণসমূহ
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পসঙস্থা
বাংলাদেশ শিল্পব্যাংক
বাংলাদেশ শিল্প ঋণসংস্থা
ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ
বানিজ্যিক ব্যাংক
আমদানি - রপ্তানি নিয়ন্ত্রক
বাংলাদেশ হস্তচালিত তাঁতশিল্প দ্রব্য রপ্তানি কর্পোরেশন
বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সাহায্য সংসথা
বাংলাদেশ মান নিয়ন্ত্রণ ও পরীক্ষা ইনস্টিটিউট
বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ
বেসরকারি সহায়তা:
১.ব্যক্তিগত ব্যবস্থাপনায় ঋণ ২.বেসরকারি সাহায্য সংস্থা: গ্রামীণ ব্যাংক, ব্র্যাক
সমাজ গতিশীল হওয়ার কারণে মানুষের বিশ্বাস ,মূল্যবোধ, রুচি ও চাহিদার পরিবর্তনের সাথে সামঞ্জস্যশীল ব্যবস্থা ও অবকাঠামো গড়তে হবে। আর এটা করতে পারলেই উন্নয়নের আওতায় আসা সম্ভব। উদ্যোগ ও উন্নয়ন অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত । উদ্যোগ গ্রহণ ব্যতীত উন্নয়নের ধারনা অর্থহীন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


