somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আদিবাসী প্রসঙ্গে চলমান বিতর্ক ও সংকট : বাংলাদেশ প্রেক্ষিত (দুই)

২২ শে আগস্ট, ২০১১ রাত ১১:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রথম অংশের পর

আদিবাসীদের ব্যাপারে সুশীল সমাজের বক্তব্য
পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘসময় দায়িত্ব পালনকারী সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মুহাম্মদ ইব্রাহিম বীর প্রতীক বলেছেন, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ‘আদিবাসী’ স্বীকৃতি দাবি ও জতিসংঘের চলমান কর্মকাণ্ডের তাত্পর্য বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য ভয়ঙ্কর। ইকোসকের পক্ষ থেকে এমন কতগুলো সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের ওপর চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে যেগুলো মেনে নিলে বাংলাদেশের জন্য কল্পনারও অতীত বড় বিপদ আসবে।
অধ্যাপক সেলিম আল দীন তারঁ একাধিক গবেষণায় এবং সৃজনশীল লেখায় বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীকে লঘু নৃ- গোষ্ঠী হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ড. ফেরদৌস আহমদ কোরেশী বলেছেন, ‘পার্বত্য চট্রগ্রাম সমস্যার মূলে রয়েছে তিনটি বিষয়। ক. বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের নিশ্চয়তা বিধান, খ. সেখানকার পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ন্যায্য অধিকার ও প্রত্যাশার সন্তোষজনক নিষ্পত্তি এবং গ. বাংলাদেশের সার্বভৌম এলাকার সর্বত্র দেশের সব মানুষের অবাধ চলাচল, বসবাস ও কর্মসংস্থানের সুযোগ অবারিত রাখা। এ তিনটি বিষয়ের কোনটিকে বাদ দিয়ে বা পাশ কাটিয়ে কোন কার্যকর সমাধান পাওয়া যাবে না। সব পক্ষকেই সে কথা মনে রাখতে হবে। এবং তা মনে রেখেই সমস্যাটির সমাধান খুঁজতে হবে।
ড. মিজানুর রহমান বলেন, আদিবাসীদের নিয়ে বিতর্ক অর্থহীন। জাতিসংঘ সনদে আদিবাসীদের স্বীকৃতির কথা বলা আছে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, আদিবাসী প্রশ্নে সরকারকে তার অবস্থান থেকে সরে আসতে হবে। আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে। আদিবাসীদের নিয়ে অযথা বিতর্ক সৃষ্টি করে দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে বিপন্ন করা হচ্ছে। তাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও অস্তিত্ব রক্ষা করা জরুরি।
বিডিআরের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) ফজলুর রহমান মন্তব্য করেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান পাহাড়িরা আদিবাসী নন, কারণ তারা ১৬০০ খ্রিস্টাব্দে অন্য জায়গা থেকে এসে এখানে তার ভাষায় সেটেলার হয়েছেন।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আদিবাসী প্রসঙ্গ
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের আদিবাসীবিষয়ক স্থায়ী ফোরামের (ইউএনএফপিআইআই) ১০ম অধিবেশনে বাংলাদেশের ১২ জন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়েছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এবং চাকমা রাজা দেবাশীষ রায়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শত শত আদিবাসী প্রতিধিনিরা এই অধিবেশনে যোগ দিয়েছিলেন। এই বৃহৎ আদিবাসী মিলন মেলাতে জাতিসংঘের বাংলাদেশ মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি ইকবাল আহমেদ বলেছেন, ‘বাংলাদেশে কোন আদিবাসী নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘জাতিসংঘের মূল্যবান সময় নষ্ট না করে প্রকৃত আদিবাসীদের জন্য কাজ করা উচিত।’
বিশ্বের সমগ্র আদিবাসীদের জীবন মনোন্নয়ন তথা রাজনৈতিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৫৭ সালের ৫ জুন আন্তর্জাতিক সংস্থা জেনেভাতে এক বৈঠকে মিলিত হয়। উক্ত কনভেশনে গৃহীত কতিপয় অনুচ্ছেদ নিম্নে তুলে ধরা হল।
অনুচ্ছেদ – ১
(ক) উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর সদস্য সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা জাতীয় জনসমষ্ঠির অন্যান্য অংশের চেয়ে কম অগ্রসর এবং সাদের মর্যাদা সম্পূর্ণ কিংবা আংশিক ভাবে তাদের নিজর্স্ব কিংবা রীতি-নীতি অথবা বিশেষ আইন বা প্রতিদান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
(খ) স্বাধীন দেশ সমূহের উপজাতীয় কিংবা আধা – উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর সদস্য বৃন্দের এই বাদ্য কিয় কিংবা উপনিবেশ স্থানের কালে উক্ত আধিবাসী কিংবা যে ভৌগলিক ভূখন্ডে দেশটি অবস্থিত তার আধিবাসীদের উত্তরাধিকার হওয়ার প্রেক্ষিত স্বদেশ হাত বলে পরিগণিত এবং যারা তাদের আইনসংগত মর্যাদা নির্বিশেষে নিজেদের জাতীয় আচার ও কৃষ্টির পরিবর্তে ঐ সময়কার সামাজিক অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক আচার ব্যবহারের সাথে সামঞ্জস্য পূর্ণ জীবন যাপন করে।
২। এই কনভেনশনে “আধা উপ-জাতি” বলতে ঐ গোষ্ঠী ও ব্যক্তিদের বুঝাবে যারা (যদিও তারা তাদের বৈশিষ্ট্য হারানোর প্রক্রিয়ায় রয়েছে) এখনও জনসমষ্টির সাথে একিভূত হয়নি।
৩। এই অনুচ্ছেদের প্যারা গ্রাফ ১ ও ২ তে বর্ণিত স্বদেশীয় এবং অন্যান্য উপজাতীয় কিংবা আধা-উপজাতীয় জনগোষ্ঠী সমূহকে এরপর থেকে সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠী বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
অনুচ্ছেদ- ১৩
এই অনুচ্ছেদে ১ ও ২ উপ- অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে যে,
১। সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর প্রথাগতভাবে বিধিবদ্ধ জমির মালিকানা হস্তান্তর এবং ব্যবহার পদ্ধতি দেশের আইন ও বিধির আওতায় যতদুর সম্ভব, তাদের প্রয়োজন মিটিয়ে এবং তাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন ব্যাহত না করে মেনে চলা।
২। সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর সদস্য নয় এমন ব্যক্তিদেরকে এসব প্রথাগত সুযোগ গ্রহণে অথবা সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর সদস্যদের আইন সম্পর্কিত আওতার কারণে জমির মালিকানা লাভ কিংবা ব্যবহার করা থেকেও নিবৃত্ত করতে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

আদিবাসী প্রসঙ্গে বিতর্ক

‘আদিবাসী’ শব্দটির প্রকৃত অর্থ ‘ভূমিপুত্র’ (Son of the Soil) বাঙালিরাই বাংলাদেশের প্রকৃত আদিবাসী। ইতিহাসের এ অমোঘ সত্যকে অস্বীকার করার কোন সুযোগ নেই। কারণ বাংলাদেশের ভৌগোলিক পরিসীমায় বসবাসকারী বাঙালী জনগোষ্ঠীই যারা প্রোটো-অস্ট্রোলয়েড (Proto-Austroloid) নামের আদি জনগোষ্ঠীর অংশ এবং বাংলা ভূ-খন্ডের একমাত্র আদিবাসী হবার দাবিদার। স্মরণাতীত কাল থেকে বাঙালিদের পূর্বপুরুষেরাই এ ব-দ্বীপে বসবাস করে আসছে। ইতিহাসের বিভিন্ন প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলেই এটা সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়। চার হাজার বছরেরও আগে এ দেশে বসবাস শুরু করে বাঙালিরা, যার নিদর্শন খুঁজে পাওয়া গেছে উয়ারী বটেশ্বরে। তা ছাড়া আইএলও কনভেনশন-১৬৯-এ উল্লেখ রয়েছে, পাহাড়িরা নয়, বাঙালিরাই এ দেশের আদিবাসী।
বাংলাদেশে 'আদিবাসী' আছে কি নেই এই বিতর্কের সূচনা আমলাতন্ত্র থেকে। 'বাংলাদেশে বাঙালি ছাড়া অন্য কোন আদিবাসী আছে' এটা স্বীকার করেনা সরকার। যদিও রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন শুমারি দলিল এটা স্বীকার করে যে, এই দেশে ঋষি, কানপুরি, তেলেগু, রাজবংশী, কৈবর্ত ইত্যাদি সম্প্রদায় রয়েছে। এরা মূলধারার বাঙালি মুসলমানদের মতো নয়। পেশাগত কারণে, ভাষাগত বৈশিষ্ট্যে কিংবা শারীরিক বা বংশগত বিবেচনায় এসব মানুষ মূল জনগোষ্ঠী থেকে পৃথক। কিন্তু পার্বত্য চট্রগ্রামের ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর জনগণ ‘রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী ও অর্থনৈতিক অভিবাসী’ সেটা সুস্পষ্ট| আন্তর্জাতিক আইন ও ঐতিহাসিক দলিল ছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি সইয়ের সময় তিন পার্বত্য জেলার অধিবাসীদের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। এই শব্দটি মেনেই ওই চুক্তি সই হয়।
বাংলাদেশে আদিবাসী আছে কিনা এটা এখনও বিতর্কিত, অমীমাংসিত। তাই এই প্রশ্নের উত্তর সহজভাবে দেয়াটা মুশকিল। প্রাক-ঔপনিবেশিক আমলে বর্তমান পার্বত্য চট্টগ্রাম তথা তৎকালীন চাকমা রাজ্য বাংলারই কোনো অংশ ছিল না। সে সময় বর্তমান চট্টগ্রামের অধিকাংশ অঞ্চলসহ পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল ছিল একটি স্বাধীন সামন্ত রাজ্য। ১৫৫০ খ্রিস্টাব্দে Joa de Barros নামের এক পর্তুগিজ মানচিত্রকরের আঁকা একটি মানচিত্র থেকে তৎকালীন ‘চাকোমাস’ বা চাকমা রাজ্যের সুস্পষ্ট অবস্থান সম্পর্কে প্রমাণ মেলে। এ মানচিত্রে চাকমা রাজ্যের সীমানা সুস্পষ্টভাবে দেখানো হয়েছে, উত্তরে ফেনী নদী, দক্ষিণে নার্মে বা নাফ নদী, পূর্বে লুসাই হিলস এবং পশ্চিমে সমুদ্র।
১৭৬৩ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানি দ্বারা নিযুক্ত চট্টগ্রাম কাউন্সিলের প্রথম প্রধান কর্মকর্তা Henry Verelst সরকারিভাবে ঘোষণার মাধ্যমে স্বীকার করেন যে চাকমা রাজা শেরমুস্ত খাঁর আমলে চাকমা রাজ্যের সীমানা ছিল ফেনী থেকে সাঙ্গু নদী এবং নিজামপুর রোড থেকে কুকি রাজ্য পর্যন্ত। মোগল ও নবাবি আমলে বর্তমান পার্বত্য চট্টগ্রামসহ রাঙ্গুনিয়া, রাউজান ও ফটিকছড়িসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চল কার্পাস বা কাপাস বা তুলা মহল হিসেবে পরিচিত ছিল। পার্শ্ববর্তী চট্টগ্রাম জেলার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পার্বত্য এলাকার বাসীন্দা জুম্মদের পণ্য বিনিময় ও ব্যবসা-বাণিজ্য করার সুবিধা প্রদানের বিনিময়ে চাকমা রাজারা সুনির্দিষ্ট পরিমাণ কার্পাস বা তুলা চট্টগ্রামের মোগল রাজপ্রতিনিধিকে প্রদান করতেন। এ ‘কার্পাস শুল্ক’ কোনো করদ রাজ্যের মতো কর ছিল না। ভারত বিভক্তির সময় বাঙালিদের জনসংখ্যা ছিল মাত্র ১.৫ শতাংশ, যারা মূলত চাকরি ও ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে সেখানে সাময়িকভাবে বসবাস করত। এসব তথ্যই প্রমাণ করে যে পার্বত্য চট্টগ্রামে জুম্ম জনগোষ্ঠীর তুলনায় বাঙালিদের বসতি অতি সাম্প্রতিককালের।’
তাই কোনভাবেই কোন তত্ত্ব অথবা তথ্যের উপর ভিত্তি করে এ ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীগুলোকে বাংলাদেশের এমনকি পার্বত্য চট্রগ্রামের ‘আদিবাসী’ বলা যায় না। তাছাড়া এসব জনগোষ্ঠী ১৬শতক থেকে ১৯শতকের সুলতানী ও মোগল শাসনামলে মিয়ানমার, চীন, কম্বোডিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বাঙলা-মুলুকে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। এবহিরাগত জনগোষ্ঠীগুলো তাই কোন অবস্থায় আদিবাসী নয়; তারা বাঙলাদেশের অভিবাসী ‘ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী’।
উয়ারী বটেশ্বরের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন অনুযায়ী বাঙলাদেশের জনগণের চার হাজার বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি রয়েছে। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তি তাদের উপনিবেশ আমেরিকা বা অস্ট্রেলিয়ার মতো বাঙলাদেশে উপনিবেশিক বসতিস্থাপন করেনি। অথবা বাঙলাদেশের ভূমিপুত্র বাঙালীদেরকে তারা বাঙলা-মুলুক থেকে উচ্ছেদ করেনি। এমনকী বাঙালীর সমৃদ্ধ সংস্কৃতিকে তারা ধ্বংস করতে কিংবা তাকে তেমন প্রভাবিত করতে পারেনি। আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার জনগোষ্ঠীগুলোর মতো বাঙালীর মুখের ভাষাকেও তারা কেড়ে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই প্রকৃত সত্য হলো, চার হাজার বছরেরও অধিককাল ধরে বাঙালীরাই বাঙলা-মুলুকের স্থায়ী অধিবাসী। তাই বাঙালীরাই বাঙলাদেশের আদিবাসী এবs বাsলাদেশের আদিবাসীরাই বাঙালী।
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষেরা যে এ দেশে আদিবাসী নন এ বিষয়টি প্রমাণ করার জন্য: ১. সমাজতাত্ত্বিক, ২. ঐতিহাসিক, ৩. ভাষাতাত্ত্বিক ও ৪. আন্তর্জাতিক ঘোষণার আলোকে আলোচনা করব।
১. সমাজতাত্ত্বিকভাবে সাধারণত আদিবাসী বলতে আমরা তাদেরই বুঝি যারা প্রাগৈতিহাসিককাল থেকে সে অঞ্চলের আদি বাসিন্দা বা ভূমিজ সন্তান। যারা কোনো ভূখন্ড বা জনপদের সৃষ্টিলগ্ন থেকেই সে স্থানের বাসিন্দা। যারা আদিম সংস্কৃতির ধারক ও বাহক এবং আদিম সংস্কৃতির কোনো কিছুই ত্যাগ করেনি (আদিম সংস্কৃতির বৈশিষ্ট্য হলো, শিকার ও সংগ্রহভিত্তিক অর্থনীতি, প্রাকৃতিক শ্রমবিভাগ, লিখিত ভাষা ও বর্ণমালা না থাকা এবং ইঙ্গিতে কথা বলা, অবাধ যৌনাচার ও গোষ্ঠী বিবাহ, লজ্জার চেতনা না থাকা, কাঠামোবদ্ধ পরিবার না থাকা, নিজস্ব সরকার ও বিচার ব্যবস্থা, প্রকৃতিপূজা ইত্যাদি), সভ্যতার আলোকবর্তিকা যাদের দোরগোড়ায় পৌঁছায়নি, যারা অনগ্রসর ও পশ্চাদপদ।
আনেক উপজাতিরা তাদের নিজস্ব সংস্কৃতির অনেক কিছুই হারিয়ে ফেলেছে। অনেক জনগোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্যগুলোর সামান্য অংশ পর্যন্ত অবশিষ্ট নেই। খ্রিস্টান মিশনারিদের অবাধ ও নিরন্তর ধর্মান্তকরণ প্রক্রিয়ার কারণে অনেক উপজাতি শতভাগ খ্রিস্টান হয়েছে। যেহেতু ধর্মীয় বিশ্বাস ও মূল্যবোধের আলোকে একজন মানুষের সংস্কৃতি গড়ে ওঠে বা নির্ধারিত হয়, সেহেতু খ্রিস্টান উপজাতিরা চিরায়ত সংস্কৃতির অনেক কিছুই শতভাগ ত্যাগ করেছেন। রাজশাহীর পাহাড়ি উপজাতির লোকেরা নিজস্ব ভাষায় কথা বলতে পারেন না, জানেন না। খ্রিস্টান মিশন বাদ্যযন্ত্র ও হাড়িয়া পানকে হারাম ঘোষণা করেছে। শুধু নাচ আর গান মানেই কিন্তু সংস্কৃতি নয়। সভ্যতার আলোকবর্তিকায় উদ্ভাসিত হয়ে এবং সরকারের অব্যাহত প্রচেষ্টায় প্রায় সব ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ বাংলাদেশের সরকারি- বেসরকারি চাকরির সব ক্ষেত্রে অবাধে ও স্বাচ্ছন্দ্যে বিচরণ করছেন। অনেকেই সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি করছেন।
২. ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত বৃহৎ পার্বত্য জেলার ক্ষুদ্র ১১ টি নৃ-গোষ্ঠী মঙ্গোলয়েড নরগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। ঐতিহাসিক দলিল-দস্তাবেজ, উপজাতীয় লেখকদের নিজস্ব গ্রন্থ পর্যালোচনায় প্রমাণিত যে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরাসহ সব নৃ-গোষ্ঠী আরাকান, ত্রিপুরা, মিজোরাম ইত্যাদি অঞ্চল থেকে বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহে এ দেশে এসেছেন। চাকমারা বিজয়গিরি নামক একজন যুবরাজের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে আরাকান ও চট্টগ্রামের একটি অংশ দখল করেন। এ দেশের চাকমারা মনে করেন, তারা বিজয়গিরির সেই আরাকান বিজয়ী সৈন্যদের বংশধর। ১৭১৫ সালে চাকমা রাজা জলিল খাঁন বা জালাল খাঁন (১৭১৫-১৭২৪) সর্বপ্রথম চট্টগ্রামে মোগল কর্তৃপক্ষের সাথে ১১ মণ কার্পাস তুলা উপহার দিয়ে যোগাযোগ স্থাপন করেন। ১৭৩৭ সালে সেরগুস্ত খাঁন (১৭৩৭-৫৮) আরাকানের পক্ষ ত্যাগ করে মোগলদের বশ্যতা স্বীকার করেন এবং দেওয়ান পদ লাভ করেন। মারমারা ১৭৫৬ সালে আরাকানে আশ্রয় লাভ করেন। ১৭৭৪ সালে রামু, ঈদগড়, মাতামুহুরী এবং সর্বপ্রথম ১৮০৪ সালে বান্দরবান শহরে বসতি স্থাপন করেন। ১৭৮৪ সালে বর্মী রাজা বোদপায়ার সেনাবাহিনী স্বাধীন আরাকান রাজ্য দখল করলে হাজার হাজার শরণার্থী কক্সবাজার, পার্বত্য চট্টগ্রাম, পটুয়াখালী পালিয়ে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস করা শুরু করেন। এ দেশে দ্বিতীয় বৃহৎ উপজাতি সাঁওতালসহ অন্যান্য গোষ্ঠী এ দেশে এসেছেন সাঁওতাল বিদ্রোহের পর। অনেকে এসেছেন ব্রিটিশ আমলে মৌসুমি শ্রমিক হিসেবে। বর্তমানে এরা সবাই এ দেশের স্থায়ী নাগরিক বা বাংলাদেশী।
৩. ভাষাতাত্ত্বিক পর্যালোচনায় জানা যায়, বাংলা ভাষার প্রধান উপকরণ হলো যথাক্রমে ক. দেশজ অর্থাৎ আদিম অনার্য, যা কি-না আর্য-পূর্ব (অষ্ট্রিক,কোল,মুন্ডা,দ্রাবিড়,তিব্বত,ব্রাক্ষ্মণ উপকরণ) খ) বহিরাগত আর্য উপকরণ এবং গ. বিদেশী উপকরণ। এই ত্রিবিধ উপকরণের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে বাংলা ভাষার মূল কাঠামো। এ পর্যন্ত প্রাপ্ত বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন বিশ্লেষণ করে সাধারণভাবে স্বীকৃত মত হলো, এই ভাষা হাজার বছরের প্রাচীন।
পক্ষান্তরে উত্তরাঞ্চলের সব ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী যেমন সাঁওতাল, উঁরাও, মুণ্ডা, মাহালি, পাহাড়ি, মাহাতো, পাহান, রাজবংশী, কোঁচ, কৈবর্ত ইত্যাদি জাতিগোষ্ঠীর মানুষের ভাষা মূলত কথ্য ভাষা, লিখিত ভাষা নয়। অর্থাৎ এরা বর্ণহীন পরিবারের সদস্য। অধিকাংশ ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মুখের ভাষাকে লিপিবদ্ধ করে লিখিত রূপ দেবার মতো কোনো অক্ষরই উদ্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর নেই।
চাকমারা আরাকানি-বাংলা ভাষার সংমিশ্রণে কথা বলে, এ কারণে ভাষাবিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছেন চাগমা-বাংলা। মারমারা বর্মী এবং ত্রিপুরারা বোডো সম্প্রদায়ের ভাষার বর্ণ গ্রহণ করলেও অন্যান্য সাতটি জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব কোনো বর্ণ নেই। সাঁওতালরা অষ্ট্রিক ভাষার অন্তর্গত অষ্ট্রো-এশিয়াটিক উপ-শাখার মুণ্ডারী ভাষায় কথা বলে। সাঁওতাল ছাড়াও অষ্ট্রিক ভাষা পরিবারের মুণ্ডারী ভাষায় মুণ্ডা, হো, কোল, বিরজা, বিরহোড়, কুরকু, কারমালী, ভূমিজ প্রভৃতি উপজাতীয় মানুষেরা কথা বলে।
সাঁওতালী ভাষায় বাংলাভাষা পরিবারের বহু শব্দের সংমিশ্রণ ঘটেছে। ক্ষেত্রবিশেষে বাংলা ভাষায় স্থান করে নেওয়া বিদেশী শব্দ যেমন ইংরেজি, আরবি, ফার্সি, উর্দু, ওলন্দাজ, পর্তুগিজ ইত্যাদি শব্দ সাঁওতালি ভাষায় স্থান করে নিয়েছে। অনেকক্ষেত্রে সাঁওতালরা সামান্য পরিবর্তন করে বা উচ্চারণ বৈশিষ্ট্যের কারণে বিকৃতভাবে উচ্চারণ করে বাংলা ভাষার অনেক শব্দ ব্যবহার করে। ক্ষুদ্র জাতিসত্তার জনগোষ্ঠীসমূহ জাতি হিসেবে চূড়ান্ত বিকাশের জন্য অক্ষর আবিষ্কার বা ব্যবহার করতে শেখেনি। এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো, এরা যাযাবর বৈশিষ্ট্যের মানুষ। এক জায়গায় স্থায়ীভাবে বসবাস না করার কারণে এদের ভাষা পূর্ণাঙ্গরূপে বিকশিত হয়নি বা পরিপূর্ণতা পায়নি। জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে তারা যে অঞ্চলে স্থায়ীভাবে বসবাস করা শুরু করেছে, বাস্তব প্রয়োজনে তারা সে অঞ্চলের মানুষের প্রধান বুলি ও ভাষার শব্দসম্ভার থেকে প্রয়োজনীয় শব্দ গ্রহণ করে নিজস্ব ভাষায় ব্যবহার করেছে। যেমন আরবি শব্দ অক্ত, ফারসি শব্দ বাবা, বাজার, আরসি, আর্জি ইত্যাদি গ্রহণ করেছে।
সাঁওতালরা এ দেশের ভূমিজ সন্তান নয়, এর অন্যতম প্রমাণ হলো এ দেশে প্রাচীনকাল থেকে ব্যবহৃত খাঁটি অনার্য শব্দ সাঁওতাল ভাষায় নেই। এ দেশের খাঁটি বাংলা দেশী শব্দ অর্থই হলো অনার্য শব্দ। বাংলা ভাষায় অষ্ট্রিক শব্দের পাশাপাশি অনেক দ্রাবিড় শব্দ যেমন বগুড়া, শিলিগুড়ি অর্থাৎ ড়া, গুড়ি যুক্ত নাম দ্রাবিড় ভাষাগত। বাংলার বিভিন্ন ধরনের দেশীয় পাখি কাক, দোয়েল, পানকৌড়ি, শালিক ইত্যাদি এবং বহু প্রাণী যেমন কাঠবিড়ালী, ইঁদুর, খাটাশ ইত্যাদি অনেক শব্দ অনার্য বা এদেশী শব্দ। উপজাতিদের ব্যবহার্য শব্দের সাথে এসব নামবাচক শব্দের ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে।
বাংলা ভাষার সঙ্গে সাঁওতাল ভাষার পারস্পরিক নির্ভরশীলতা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বাংলাভাষায় বহুল ব্যবহৃত অনেক শব্দের ব্যবহার সাঁওতালি ভাষায় নেই। অসংখ্য শব্দের মধ্যে বোঝার জন্য বিভিন্ন গঠনরীতির কিছু শব্দ তুলে ধরা হলো। যেমন: কর-কর, খন-খন, গন-গন, মচ-মচ, ভাত-টাত, জাত-পাত, আবোল-তাবোল, চোট-পাট ইত্যাদি বহুল প্রচলিত শব্দ সাঁওতালরা ব্যবহার করে না। সাঁওতালরা মানবশরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বাঙালি নাম গ্রহণ করেনি। কিন্তু এ দেশের ফলমূল, দেশী মাছ, পাখির নাম হবহু গ্রহণ করেছে। পশুদের মধ্যে সচরাচর দৃশ্যমান পশুর নাম আলাদা কিন্তু বিদেশী পশুর (উট-জেব্রা) বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত বিদেশী নাম গ্রহণ করেছে। খাদ্য-খানা ইত্যাদির নাম উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে আলাদা, তবে এ দেশীয় সবজি যেমন-পটল, ছোলা, বরবটি, ঝাল, পান, মূলা ইত্যাদি নাম সাঁওতালরা হুবহু গ্রহণ করেছে। পাগার, পান ও বরোজ প্রত্যয়টি শুধু উত্তর বাংলা বা পুন্ড্রুবর্ধনের সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত। সাঁওতালী ভাষায় পান ও বরোজ শব্দটি নেই। অর্থাৎ সাঁওতালরা যখন উত্তরাঞ্চলে আগমন করেছে, তখনই শব্দ দুটি গ্রহণ করেছে।
এছাড়া রক্ত বা আত্মীয় সম্পর্কীয় সম্বোধন রীতি, সাতদিনের নাম, সংখ্যা ও গণনা রীতি দু সম্প্রদায়ের আলাদা। পক্ষান্তরে বাংলা মাসের অধিকাংশ নাম সাঁওতালরা হুবহু বা সামান্য বিকৃত উচ্চারণে (ভাদর, আশিন) ব্যবহার করছে। বহুমাত্রিক শব্দ বিশ্লে¬ষণে বর্তমান লেখকের একান্ত ব্যক্তিগত ধারণা এই যে, এ দেশের আদিবাসী অনার্য জনগোষ্ঠীর উত্তরপুরুষ হিসেবে বাঙালিরা তাদের মুখের ভাষা অনার্য ভাষা পরিবর্তন করেনি, ক্ষেত্রবিশেষে কিছু বিদেশী শব্দ গ্রহণ করেছে বটে কিন্তু সাঁওতালি শব্দ গ্রহণ করেছে এমন প্রমাণ পাওয়া যায় না। বরং সাঁওতালরাই যখন তাদের আদি বাসস্থান সাঁওতাল পরগনা ত্যাগ করে এ দেশে আসে, তখন জীবনযাত্রার প্রয়োজনে বাধ্য হয়ে এ দেশের বুলি, প্রচলিত ফল, পশু, মাছ, পাখি ইত্যাদি বিষয়সংশ্লি¬ষ্ট নাম গ্রহণ করেছে। বাংলা মাসের নাম, সংখ্যা, স্থানীয় ফল-মূল ইত্যাদির নাম বাংলাদেশ, আসাম, উড়িষ্যা, বিহার ইত্যাদি অঞ্চলে এক নয়। এ পর্যালোচনা থেকেও প্রমাণিত হয় যে, সাঁওতালসহ অন্যান্য উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর মানুষ এ দেশে আগত, তারা বাংলাদেশের ভূমিজ সন্তান নয়। এ কারণে উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর আদিবাসী বলে দাবি করাও যুক্তিসঙ্গত নয়।
৪. আন্তর্জাতিক ঘোষণা : ইউনেস্কো ১৯৬৪ সালে মস্কোতে জাতিসমস্যার জীবতাত্ত্বিক সমস্যাবলি সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে সিদ্ধান্ত হয় যে, বর্তমান বিশ্বের সব মানুষ ‘হোমো স্যাপিয়েন্স’ নামক একটিমাত্র প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত এবং একই মূল থেকে উদ্ভূত। তবু বিভিন্ন মানবগোষ্ঠীর নিজেদের মধ্যে বংশ-পরম্পরাগত গুণ থাকায় অন্য গোষ্ঠী থেকে পৃথক। এই এক একটি গোষ্ঠীকে রেস বা জাতি বলে। অর্থাৎ মানুষের একটি বিরাট দলের লোকজনদের মধ্যে যখন পূর্বপুরুষ থেকে পাওয়া কতকগুলো সাধারণ দৈহিক বৈশিষ্ট্য দেখা যায় তখন সেই দলকে জাতি বলা হয়। সে অর্থে বাংলাদেশের সব নৃ-গোষ্ঠীই এক একটি জাতি, ক্ষুদ্র জাতি। এরা ক্ষুদ্র জাতি। এর কারণ অনেক গোষ্ঠী খুবই ক্ষুদ্র, যেমন চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিনধ জাতিগোষ্ঠীর পরিবার সংখ্যা মাত্র ২২ এবং জনসংখ্যা শতাধিক।
বাংলাদেশ ও ভারতের উপজাতীয় লেখক, অন্য জাতিগোষ্ঠীর সর্বজন গ্রহণযোগ্য বুদ্ধিজীবী এবং ব্রিটিশ প্রশাসক ও মিশনারিদের লিখিত বিভিন্ন ক্লাসিক্যাল গ্রন্থসূত্রে প্রমাণিত হয় যে, এ দেশে ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী তথা উপজাতি জনগোষ্ঠীর আগমন হয়েছে নিকট অতীতে। কিন্তু প্রাচীন ভারতের গ্রন্থ সূত্রে (ঐতরেয়, ঋগবেদে) প্রমাণিত এ দেশ এবং দেশজ জাতিগোষ্ঠী হিসেবে বাঙালির অস্তিত্ব হাজার-লক্ষ বছরের প্রাচীন। ’৪৭-পূর্ব অখ- ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় আদিবাসী বলে পরিচিত এই জনগোষ্ঠীই ‘আর্য পূর্ব ভারতের আদিম বাসিন্দা’|
কাজেই বুঝা যায়, আদিবাসীরা নিজ নিজ দেশের মূল বাসিন্দা এবং জনপদ সৃষ্টির প্রথম থেকেই স্থানীয় মাটির সাথে তাদের নৃতাত্ত্বিক সম্পর্ক সুগ্রথিত। এ অর্থে এ দেশের বাঙালিরাই (হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ) এ দেশের মূল বাসিন্দা। হিন্দু জাতিভেদ প্রথার নিম্নস্তরে অবস্থিত দলিত সম্প্রদায়ের মানুষরা প্রকৃত আদিবাসী। অনার্য জনগোষ্ঠী এবং প্রকৃত উপাসক জনগোষ্ঠীর উত্তরপুরুষ হিসেবে বাংলাদেশের শতকরা সত্তর ভাগ মানুষ ধর্মান্তরিত মুসলিম। এরাই এ দেশের আদি-বাসিন্দা।


আদিবাসী প্রসঙ্গটি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ
আদিবাসী হিসাবে স্বীকৃতি দেয়া হলে জাতিসংঘ কনভেনশন ১৬৯-এর আর্টিকেল ১৪ মোতাবেক পার্বত্য চট্টগ্রামের পুরো ভূমির মালিকানা চলে যাবে পাহাড়ি জনগণের কাছে। বাংলাদেশ সরকারের কোনো মালিকানা বা উপজাতীয় নয় এমন কোনো ব্যক্তির কোনো জমির মালিকানা স্বীকৃত হবে না। আজ থেকে দশ বা পনের বছর পর ভূমির মালিক যদি বাংলাদেশের সঙ্গে থাকতে না চায়, তখন সরকার কি করবে? আর্টিকেল ১৫ মোতাবেক পার্বত্য চট্টগ্রামের মাটির তলের যাবতীয় খনিজ সম্পদের ওপর মালিকানায় পাহাড়ি জনগণের অগ্রাধিকার থাকবে। আর্টিকেল ৩২ মোতাবেক বাংলাদেশ সরকারকেই ব্যবস্থা করে দিতে হবে, যেন বাংলাদেশের পাহাড়ি জনগোষ্ঠী সীমান্তের অপর পাড়ের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সঙ্গে খোলামেলাভাবে মেলামেশা করতে পারে। বাংলাদেশের সীমান্তের অপর পাড়ের ভারতীয় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীরাও অনেক প্রকারের ভারত সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত। তাহলে কি ভালো এবং মন্দ উভয় প্রকারের কর্মকাণ্ডে যৌথ উদ্যোগকে পৃষ্ঠপোষকতা করা হবে না?
শব্দ ও ব্যাকরণগত আলোচনায় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর এক অংশ এবং বাংলাদেশের সুশীল সমাজের কিছু সদস্য ও এনজিওরা আদিবাসী নিয়ে ব্যবচ্ছেদ করলেও, আইএলও কনভেনশন ১৬৯-এর জটিলতার কথা কোথাও তেমন করে আলোচনা হচ্ছে না। কিন্তু আদিবাসী হিসেবে কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে স্বীকৃতি দেওয়াটা শুধু একটি শব্দগত স্বীকৃতির বিষয় নয়, এর সুদূরপ্রসারী ও দীর্ঘমেয়াদি প্রতিক্রিয়া আছে। রাষ্ট্রের মধ্যে কোনো একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে আদিবাসী হিসেবে স্বতন্ত্র স্বীকৃতি দেওয়া হলে, আইএলও কনভেনশন ১৬৯ মানার নৈতিক দায়িত্ব এসে বর্তাবে বাংলাদেশের ওপর। যৌক্তিক কারণেই বাংলাদেশসহ অনেক দেশ এই কনভেনশনে স্বাক্ষর করেনি এখনো। কনভেনশন ১৬৯-এর কয়েকটি ধারা দেখলেই স্বাক্ষর না করার কারণ স্পষ্ট হবে।
ধারা-৪ এ বলা হয়েছে, Indigenous peoples, in exercising their right to self-determination, have the right to autonomy or self-government in matters relating to their internal and local affairs, as well as ways and means for financing their autonomous functions.অর্থাৎ সুস্পষ্টভাবেই আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলটিকে এক ধরনের স্বায়ত্তশাসনের অধীনে নিয়ে আসতে হবে।
কনভেনশনের ১৫.১ ধারাটিতে বলা হচ্ছে,1. The rights of the peoples concerned to the natural resources pertaining to their lands shall be specially safeguarded. These rights include the right of these peoples to participate in the use, management and conservation of these resources. অর্থাৎ আদিবাসীরা বাস করে এমন কোনো এলাকায় কোনো খনিজ সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেলে সেগুলোর ওপর আদিবাসী জনগোষ্ঠীর আলাদা অধিকার জন্মাবে।
৩২ ধারায় বলা হচ্ছে, Governments shall take appropriate measures, including by means of international agreements, to facilitate contacts and co-operation between indigenous and tribal peoples across borders, including activities in the economic, social, cultural, spiritual and environmental fields.অর্থাৎ আশপাশের দেশগুলোর মধ্যের একই জনগোষ্ঠীগুলোর লোকজনের অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, আধ্যাত্মিক ও পরিবেশগত যোগাযোগ ও সহযোগিতা নিশ্চিত করতে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে এবং প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক চুক্তি করতে হবে।
পাহাড়ি জনগনকে আদিবাসি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয় তাহলে তিন ধরনের জটিলতা দেখা দিবে। এক.পার্বত্য এলাকার সমস্ত জমির মালিকানা উপজাতি বা পাহাড়ি জনগনের হয়ে যাবে।বাংলাদেশ সরকার বা বাঙ্গালী জনগনের সেখানে কোনভাবেই জমির মালিকানা লাভের সুযোগ থাকবেনা।
দুই.পাহাড়ী এলাকার জনগনের অনুমতি ছাড়া পার্বত্য এলাকায় কোন ধরনের সামরিক কার্যক্রম এবং সামরিক উন্নয়ণ করা যাবে না।
তিন.পার্বত্য এলাকার ভিতর আবিষ্কৃত যে কোন খনিজ সম্পদের মালিকানার ক্ষেত্রে পাহাড়ী জনগন বা উপজাতিদের অগ্রাধিকার থাকবে।
অন্য আরো যে কোন জটিলতা ব্যতিরেকে এই তিনটি সমস্যাই পার্বত্য এলাকাকে বাংলাদেশের বাইরে আর একটি পৃথক রাজনৈতিক ভূখন্ড হিসেবে আত্মপ্রকাশের পথ সুগম করে দেয়ার জন্য যথেষ্ট হবে।

আমার পর্বেক্ষণ ও প্রস্তাবনা:
এক।
নৃবিজ্ঞান বা সমাজবিজ্ঞানে উপজাতি বা আদিবাসী বলে আলাদা কোনো শব্দ বা প্রত্যয় নাই। বরং রেস বা নরগোষ্ঠী বা নৃ-গোষ্ঠী স্বীকৃত প্রত্যয়। কিছুক্ষেত্রে indigenous শব্দটিরও ব্যাবহার দেখা যায় ।
দুই.
পার্বত্য চট্রগ্রাম কমিশনে ব্রিটিশ পরামর্শক লড এরিক এ্যাভেবুরির কর্ম তৎপরতা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সুগভীর চক্রান্ত হতে পার্। এরিক পূর্ব তিমুরকেও যে কায়দায় ইন্দোনেশিয়া থেকে পৃথক করতে সক্ষম হয়েছেন, সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের একদশমাংশ পার্বত্য চট্রগ্রামকে নিয়ে আরেকটি খ্রিষ্টানপ্রধান রাষ্ট্রের জন্ম দেয়ার স্বপ্ন দেখেও থাকতে পারেন।
তিন.
এখনজনসংহতি সমিতির পক্ষে সন্তু লারমা পার্বত্য চট্রগ্রাম চুক্তিতে সই করে নিজেদেরকে উপজাতি হিসেবে স্বীকার করে নিয়েছে| সন্তু লারমা ও তার জনসংহতি সমিতি নিজেদেরকে ‘আদিবাসী’ হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ে পার্বত্য চট্রগ্রামকে উত্তপ্ত করে তুলছে। প্রকৃত উদ্দেশ্যটা অস্পষ্ট।
চার.
বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠীকে আদিবাসী হিসেবে চিহ্নিত করা যথাযথ না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বা নিউজিল্যান্ডে যে অর্থে রেড ইন্ডিয়ান বা মারইরা আদিবাসী এবং বর্তমান আমেরিকান বা নিউজিল্যান্ডবাসীরা অভিবাসী। বাংলাদেশে ব্যাপারটা তেমন নয়।
পাচঁ.
তিন দশক আগে বার্মার তৎকালীন স্বৈরাচারী সামরিক একনায়কের সীমাহীন অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন স্থানে মানবেতর জীবনযাপনকারী রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক বিবেচনায় এ দেশের আদিবাসী বলে স্বীকৃতি দেওয়া যায় না কারণ তারা এ দেশে শরণার্থীমাত্র। তারা যদি এ দেশের নাগরিক বা আদিবাসী না হন তবে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষেরাও এককভাবে বাংলাদেশের আদিবাসী নন। কারণ রোহিঙ্গারা যেমন বাধ্য হয়ে এ দেশে এসেছেন বিংশ শতাব্দীতে, তেমনি চট্টগ্রাম বিভাগের সব ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ঠিক একই অঞ্চল আরাকান থেকে এবং বাধ্য হয়ে এ অঞ্চলে এসেছেন ষোড়শ ও সপ্তদশ শতকে।
ছয়.
সাম্প্রতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলেই এটি বোঝা যায় যে পাহাড়ে বাঙালিদের ইতিহাসের তুলনায় চাকমা এবং অন্যান্য নৃতাত্তি্বক জনগোষ্ঠীর ইতিহাস অনেক বেশি প্রাচীন। সে ক্ষেত্রে পাহাড়ে এসব পাহাড়িই আদিবাসী, এ বিষয়ে হয়তো বিতর্ক তোলার অবকাশ খুব কম।
সাত.
আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলোচনায় আদিবাসী বলতে বোঝায় কোনো রাষ্ট্রের প্রথম জনগোষ্ঠীর কথা। এখন যদি সংবিধান ও রাষ্ট্র পাহাড়ি ও সমতলের কিছু অবাঙালি নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীকে আদিবাসী হিসেবে স্বীকার করে নেয়, তাহলে রাষ্ট্রের ইতিহাস অনাবশ্যক জটিলতার মুখে পড়বে। আর যদি আঞ্চলিক আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হয়, তাহলে এ রকম আরো নতুন নতুন আদিবাসীর দাবি তৈরি হবে।
আট.
যদি বাংলাদেশী বাঙ্গালী হতে পারে তবে আমাদের দেশে চাকমা, মগ, মারমা, জনগোষ্টীরা বাংলাদেশী চাকমা; বাংলাদেশী মারমা; বাংলাদেশী মগ; বাংলাদেশী গারো হতে পারেন|

আমার প্রস্তাবনা হচ্ছে,
বাংলাদেশ একটি বহুজাতিক ও বহুভাষিক রাষ্ট্র। নৃতাত্ত্বিক ও ভাষাতাত্ত্বিক জাতীয়তায় বাংলাদেশী জনগণ ভিন্ন ভিন্ন জাতি হিসেব আত্মপরিচয় বহন করতে পারে, কিন্তু ভৌগোলিক জাতীয়তায় তারা বাংলাদেশী। সরকার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসকারী সংখ্যালঘু জাতিগুলোকে তাদের নিজ নিজ পরিচয়ে পরিচিত হওয়ার সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে পারে।
শেষকথা:
বাংলাদেশে বাঙ্গালীরা সুদীর্ঘ কাল ধরেই বসবাস করে আসছে। বাঙালিসহ অন্যরাও স্ব স্ব গৌরবময় পরিচয়ে বাংলাদেশী। এ দেশের বৈচিত্র্যময় ও সমৃদ্ধ সংস্কৃতির অংশীদার হয়েছেন তারা। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, বঙ্গ ও বাঙালির ইতিহাস কয়েক হাজার বছরের এবং তাদের উৎপত্তি ও বিকাশ এ দেশের মাটিকে কেন্দ্র করেই। প্রাচীন বাংলার রাজধানী পুন্ড্রুবর্ধনপুর, পাহাড়পুর, জগদ্দল বিহারসহ অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গ, রাঢ়, বরেন্দ্র, গৌড় ইত্যাদি অঞ্চলে বসবাসরত প্রাচীন জনগোষ্ঠীকে এ দেশে আগত আর্যরা ‘অনার্য বা নিষাদ’ ইত্যাদি নামে অভিহিত করেছে। এ দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠী তাদের কাছে ছিল হীন ও অন্ত্যজ, হিন্দুধর্মীয় বিধান অনুযায়ী জাতি-বর্ণ প্রথায় এরা ছিল অস্পৃশ্য। প্রাচীনকালের পরিব্রাজকদের কাছে এরাই ‘পাখির মতো কিচির-মিচির ভাষায় কথা বলা’ জনগোষ্ঠী। এরাই এ দেশের মূল বাসিন্দা বা আদিবাসী। আদিবাসী নিয়ে বিতর্ক নয় আমরা চাই আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সুষ্ঠু সমাধান এবং যৌক্তিক পদৰেপ।

তথ্যসূত্র:
Click This Link
Click This Link
Click This Link
http://www.amarbornomala.com/details8120.html
http://www.amarblog.com/somoy10/posts/132258
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
৩০ শে জুন, ২০১১ দৈনিক প্রথম আলোতে ‘আদিবাসী প্রশ্নে সরকার দোদুল্যমান অবস্থায়’ শীর্ষক সংবাদ
ড. মোঃ আজিজুল হক,ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি এবং আদিবাসী বিতর্ক, ২৮ জুলাই ২০১১,বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
মাহাবুবুর রহমান এর নেয়া মে. জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহম্মদ ইব্রাহিম এর সাক্ষাতকার,২৮ মে বিডিনিউজ টুয়েনটিফোর ডটকম
সাংবাদিক আতাউস সামাদ এর লেখা, সমকাল, ০৪/০৩/১০

তথ্যনির্দেশ:
বিস্তারিত দেখুন,
1.W W Hunter’s Statistical Survey of India-1876
2.ইত্তেফাক ৩.৮.২০১০
3.প্রথম আলো ৪.৩.২০১১
4.প্রথম আলো ২.৩.২০১১
5.প্রথম আলো ৩১.৩.২০১১
6. দৈনিক সকালের খবর-এ প্রকাশিত একটি রিপোর্ট,১১.৮.২০১১
7. ড. ফেরদৌস আহমদ কোরেশী, পার্বত্য চট্রগ্রাম, খ্রিস্টান মিশনারি ও বৌদ্ধধর্মের ভবিষ্যৎ-৩, দৈনিক যুগান্তর, ১৯/০৭/২০১১
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×