আমি এখানে অফিশিয়াল একটা ট্যুরে এসেছি বিধায় নিজের মতো সময় করে ঘুরতে পারছিনা। ক্যামেরা নিয়ে ঘুরছি কিন্তু স্বাধীন ভাবে ছবি তুলতে পারছিনা। ১৩তম এশিয়া এ্যাড ফেস্টিবল২০০৯-এ বাংলাদেশ থেকে এবার বেশি লোকজন আসেনি। এসেছে ১২ জনের মতো। আমরা অ্যাডকম থেকে এসেছি ৪জন। ১৯ থেকে ২১ টানা এই তিনদিনের ফেস্টিবল-এ বৃহত্তম এশিয়ার যতো সব সৃজনশীল বিজ্ঞাপন ও বিজ্ঞাপন সংশ্লিষ্ট কাজগুলোকে মূল্যায়ন করা হয় এবং তরুণ ক্রিয়েটিভগুলোকে পুরস্কৃত করা হয়।
সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত স্থানীয় রয়াল ক্লিফ রিসর্ট (পিচ এক্সিবিশান ও কনভেনশান হল) -এ চলে নানান আয়োজন। দুনিয়ার বড় বড় সব বিজ্ঞাপনী মাথাগণ এখানে নানান খুটি নাটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে।তিন দিনের এই সেশনের আজ শেষ দিন। আজ একটু রিল্যাক্সড বিধায়, চট করে ব্লগার বন্ধুদের টানে সা হোতে একটু ঢু মারলাম।
গতকাল গিয়েছিলাম নাইটলাইফের জন্য বিশ্বখ্যাত পাতায়্যার "ওয়াকিং স্ট্রিট"-এ। হাজার হাজার পর্যটক এ স্ট্রিট টাকে ঘিরে রেখেছে। আমার মূল আগ্রহ ছিল, পাতায়্যা বিচে ৩দিনের " ইন্টারন্যাশনাল মিউজিক ফেস্টিবল ২০০৯"-এ অ্যাটেন্ড করা । হংকং, জাপান, ফিলিপিনস, থাইল্যান্ড, মালয়শিয়াসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের জনপ্রিয় শিল্পীরা অংশগ্রহণ করেছে এই "ইন্টারন্যাশনাল মিউজিক ফেস্টিবল ২০০৯" এ। স্থানীয় "ভি" চ্যানেল অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করেছে। গানে গানে বিভিন্ন দেশের পর্যটক ও এশীয় তরুণ-তরুণীদের উচ্ছ্বাসে ভেসে যাচ্ছিল পাতায়্যা বিচ। আমি ওদের ভাষার কিছু বুঝিনা কিন্তু সুরের তালে তালে, শিল্পীর জমকালো পারফরমেন্স দারুণ এনজয় করছিলাম।
গল্প আপাতত বেশি বড় করছিনা। গতকালের একটা ঘটনা দিয়ে ইতি টানবো। হাঁটতে হাঁটতে ক্ষুধায় যখন আমি এবং আমার বন্ধু / কলিগ রাসেল কাতর, দুজনেই ঢুকে গেলাম ম্যাকডোনাল্ডস-এ। সেখানে পরিচয় হলো একজন তরুণ ইন্ডিয়ান বিজ্ঞপনকর্মীর সাথে। আমরা কথা বলছি , এমন সময় একজন লোক আমাকে বলছে " আই হেট আমেরিকা, ডু ইউ?"। আমি কিছু বুঝলাম না! সে জানতে চাইলো আমি আমেরিকায় থাকি কিনা, আমি বললাম, না! তখন ঐ নর্থ আমেরিকান লোকটি একনাগারে আমেরিকার চৌদ্দগোষ্ঠি উদ্ধার করলো। ভিয়েতনামে অনেকদিন ধরে বসবাস করা এই লোকটি মনে করে বুশনীতি বা ওবামানীতি নয়...আমেরিকান জাতিটাই একটা লোভী জাতি। পরে সে আমার পাশের ইন্ডিয়ান বন্ধুটিকে জিজ্ঞেস করলো সে কোথায় থাকে। ইন্ডিয়ান ঐ বন্ধুটি উত্তর দিলো, আমেরিকা! তারপর ঐ নর্থ আমেরিকান লোকটি ইন্ডিয়ান বন্ধুর মুখের সামনে যা তা বলে গালাগালি করলো। যাবার সময় ইন্ডিয়ান বন্ধুটি শুধু বললো, আপনি অনেক ড্রাংক, খেতে এসেছেন ম্যাকডোনাল্ড-এ, আমেরিকাকে গালাগালি করছেন কেন? বাসায় গিয়ে রেস্ট নিন নয়তো বা গো গো বার-এ গিয়ে স্ট্রিপদের ড্যান্স দেখুন।
লোকটিকে আসলে অস্বাভাবিক লাগলেও তার আমেরিকা বিদ্বেষী মনোকষ্টগুলো অস্বাভাবিক লাগেনি। ভিয়েতনামের এখানে সেখানে মাটির নিচে রয়েছে অসংখ্য ল্যান্ডমাইন। পরাজিত ও রণাঙ্গণ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া আমেরিকা এগুলো পুতে রেখে গিয়েছিল...এই কথাগুলো ক্ষোভের সঙ্গে বলতে বলতে লোকটির মুখ রক্তিম হয়ে উঠছিল। সত্যি!!
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ৮:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




