somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সমুদ্রতীরবর্তী "পাতায়্যা" : লাভজনক যৌনতা, আনন্দ ও পর্যটন সেবায় সমৃদ্ধ শহর আর অন্য একটি গল্প!

২১ শে মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৩:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি আছি পাতায়্যার কোজি বিচ হোটেলে। বিচের কাছাকাছি। থাইল্যান্ডের পূর্বে অবস্থিত এই সমূদ্রতীরবর্তী ও পাহাড়ি এলাকাটি অনেকটা রাঙ্গামাটির মতো। কিন্তু আরো একটু গোছানো। আসলে রাঙ্গামাটির মতো বললাম জিওগ্রাফিক বিচার বিবেচনায়। কিন্তু এখানকার বিশ্বখ্যাত "নাইটলাইফ", পর্যটনসেবা রাঙ্গামাটিতে পাওয়া যাবেনা।

আমি এখানে অফিশিয়াল একটা ট্যুরে এসেছি বিধায় নিজের মতো সময় করে ঘুরতে পারছিনা। ক্যামেরা নিয়ে ঘুরছি কিন্তু স্বাধীন ভাবে ছবি তুলতে পারছিনা। ১৩তম এশিয়া এ্যাড ফেস্টিবল২০০৯-এ বাংলাদেশ থেকে এবার বেশি লোকজন আসেনি। এসেছে ১২ জনের মতো। আমরা অ্যাডকম থেকে এসেছি ৪জন। ১৯ থেকে ২১ টানা এই তিনদিনের ফেস্টিবল-এ বৃহত্তম এশিয়ার যতো সব সৃজনশীল বিজ্ঞাপন ও বিজ্ঞাপন সংশ্লিষ্ট কাজগুলোকে মূল্যায়ন করা হয় এবং তরুণ ক্রিয়েটিভগুলোকে পুরস্কৃত করা হয়।

সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত স্থানীয় রয়াল ক্লিফ রিসর্ট (পিচ এক্সিবিশান ও কনভেনশান হল) -এ চলে নানান আয়োজন। দুনিয়ার বড় বড় সব বিজ্ঞাপনী মাথাগণ এখানে নানান খুটি নাটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে।তিন দিনের এই সেশনের আজ শেষ দিন। আজ একটু রিল্যাক্সড বিধায়, চট করে ব্লগার বন্ধুদের টানে সা হোতে একটু ঢু মারলাম।

গতকাল গিয়েছিলাম নাইটলাইফের জন্য বিশ্বখ্যাত পাতায়্যার "ওয়াকিং স্ট্রিট"-এ। হাজার হাজার পর্যটক এ স্ট্রিট টাকে ঘিরে রেখেছে। আমার মূল আগ্রহ ছিল, পাতায়্যা বিচে ৩দিনের " ইন্টারন্যাশনাল মিউজিক ফেস্টিবল ২০০৯"-এ অ্যাটেন্ড করা । হংকং, জাপান, ফিলিপিনস, থাইল্যান্ড, মালয়শিয়াসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের জনপ্রিয় শিল্পীরা অংশগ্রহণ করেছে এই "ইন্টারন্যাশনাল মিউজিক ফেস্টিবল ২০০৯" এ। স্থানীয় "ভি" চ্যানেল অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করেছে। গানে গানে বিভিন্ন দেশের পর্যটক ও এশীয় তরুণ-তরুণীদের উচ্ছ্বাসে ভেসে যাচ্ছিল প‌াতায়্যা বিচ। আমি ওদের ভাষার কিছু বুঝিনা কিন্তু সুরের তালে তালে, শিল্পীর জমকালো পারফরমেন্স দারুণ এনজয় করছিলাম।

গল্প আপাতত বেশি বড় করছিনা। গতকালের একটা ঘটনা দিয়ে ইতি টানবো। হাঁটতে হাঁটতে ক্ষুধায় যখন আমি এবং আমার বন্ধু / কলিগ রাসেল কাতর, দুজনেই ঢুকে গেলাম ম্যাকডোনাল্ডস-এ। সেখানে পরিচয় হলো একজন তরুণ ইন্ডিয়ান বিজ্ঞপনকর্মীর সাথে। আমরা কথা বলছি , এমন সময় একজন লোক আমাকে বলছে " আই হেট আমেরিকা, ডু ইউ?"। আমি কিছু বুঝলাম না! সে জানতে চাইলো আমি আমেরিকায় থাকি কিনা, আমি বললাম, না! তখন ঐ নর্থ আমেরিকান লোকটি একনাগারে আমেরিকার চৌদ্দগোষ্ঠি উদ্ধার করলো। ভিয়েতনামে অনেকদিন ধরে বসবাস করা এই লোকটি মনে করে বুশনীতি বা ওবামানীতি নয়...আমেরিকান জাতিটাই একটা লোভী জাতি। পরে সে আমার পাশের ইন্ডিয়ান বন্ধুটিকে জিজ্ঞেস করলো সে কোথায় থাকে। ইন্ডিয়ান ঐ বন্ধুটি উত্তর দিলো, আমেরিকা! তারপর ঐ নর্থ আমেরিকান লোকটি ইন্ডিয়ান বন্ধুর মুখের সামনে যা তা বলে গালাগালি করলো। যাবার সময় ইন্ডিয়ান বন্ধুটি শুধু বললো, আপনি অনেক ড্রাংক, খেতে এসেছেন ম্যাকডোনাল্ড-এ, আমেরিকাকে গালাগালি করছেন কেন? বাসায় গিয়ে রেস্ট নিন নয়তো বা গো গো বার-এ গিয়ে স্ট্রিপদের ড্যান্স দেখুন।

লোকটিকে আসলে অস্বাভাবিক লাগলেও তার আমেরিকা বিদ্বেষী মনোকষ্টগুলো অস্বাভাবিক লাগেনি। ভিয়েতনামের এখানে সেখানে মাটির নিচে রয়েছে অসংখ্য ল্যান্ডমাইন। পরাজিত ও রণাঙ্গণ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া আমেরিকা এগুলো পুতে রেখে গিয়েছিল...এই কথাগুলো ক্ষোভের সঙ্গে বলতে বলতে লোকটির মুখ রক্তিম হয়ে উঠছিল। সত্যি!!



সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ৮:১০
৭টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাখি মন

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×