আমরা ২০৫০ সালের ডিসেম্বরের ১৬ তারিখ দিবাগত রাতে একটা ডিজিটাল ম্যাসেজ পাবো। গ্লোবাল এশিয়ান মহাকাশযান ক্লাস্টার এম ৭১ থেকে এই আরকিবো মেজেসটি আমাদের মুঠোফোনে চলে আসবে। মেসেজটি পাঠাবে ইউ এ এফ এর সদস্যরা। ম্যাসেজেটি অনেকটা এরকম :
h2o > lotus >(1971-666) :-).
মানে খুব সহজ, টুফোর কোডের দেশটি ( বি এবং ডি, এলফাবেটের সিরিয়াল অনুযায়ী) ২.৩৫ সেকেন্ডের মাথায় ৩৬ হাজার ফুট পানির নিচে তলিয়ে যাবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে। এক্সট্রাটেরিস্ট্রিয়াল লাইফে আপনাকে স্বাগতম!
কিন্তু আমরা অনেকেই ব্যাপারটাতে খুব বেশি হতাশ হবো না, কারণ আমরা যুক্তরাস্ট্রের কাছ থেকে একটা ও মিডল ইস্ট থেকে একটা, মোট দুইটা সাবমেরিন কিনে ফেলবো। আমাদের গ্যাস, কয়লাখনি ও মানবসম্পদ তাদের কাছে বিক্রি করে আমাদের উচ্চমধ্যবিত্ত ও যুদ্ধাপরাধী ও ৭১ বিমুখ শ্রেণী ঢুকে যাবে এই সাবমেরিনের ভেতরে। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষজনই মারা যাবে। লাশগুলো গিয়ে জমা হবে প্যাসিফিক ওশানের গভীর মারিয়ানা ট্রেঞ্চ অঞ্চলে।
নিউক্লিয়ার এই সাবমেরিনটির নাম থাকবে স্বপ্ন ও জেহাদী সাবমেরিনটির নাম থাকবে পাকমেরিন। দুটোই কন্ট্রোল করবে গ্লোবাল এশিয়ান কর্তৃপক্ষ। নিউক্লিয়ারটির দ্বায়িত্বে থাকবেন একজন আওয়ামী নেতা। যিনি হবেন টুফোর কোডের একমাত্র হাইটেক মেরিন নেতা। আর পাকমেরিনে থাকবে একজন আধ্যাত্মিক মেরিন নেতার নিয়ন্ত্রণে।
সাবমেরিনের ভিতরে থাকবেন মোট ২০০ জন। এর মধ্যে বিদেশী কয়েকজন টেকনিশিয়ান ছাড়াও থাকবেন ব্যবসায়ী, নেতা, আমলা, শিল্পপতি, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, ডাক্তার এবং কিছু রেডিও আর জে। সব মিলিয়ে এদের সংখ্যা প্রায় ৫০! আর বাকি ১৫০ জনের মধ্যে থাকবে ডুব সাতারু ( যার মধ্যে শেফ এবং শিকারী থাকবে) ও কিছু প্রহরী। আর পাকমেরিনের মধ্যে থাকবেন ওয়াজ মেহফিলের বক্তাবৃন্দ, জামায়াত নেতারা এবং সাফারি কোট পড়া কিছু আধুনিক রাজাকারগণ। তাদের ক্রুর সংখ্যা ৩০০ জন। সেখানে গান-বাজনা , শিল্পকলা নেই আছে শুধু নিজস্ব ধর্মীয় আদর্শ!
কিন্তু প্রবলেম অন্য জায়গায়। গভীর সমুদ্রতলে কোনো রাষ্ট্র সীমানা নেই, জনগণ নেই, রাজনীতি নেই, তণ্ত্র নেই, আইনের শাসন নেই, আদালত নেই আছে, Esperanza গ্রহের এক্সট্রাটেরিস্ট্রিয়াল জায়ান্ট ইউ এফ ও "ইবিলি-জিবিলি"! ইবিলি জিবিলির ক্রু এলিয়ানরা সমুদ্রতলে অবস্থান নিয়েই স্বপ্ন ও পাকমেরিনের রাডারকে জানিয়ে দিয়েছে তাদের অবস্থান। জানিয়ে দিয়েছে nuclear, biological, chemical (NBC), atomic, biological, and chemical warfare (ABC) এবং chemical, biological, radiological, and nuclear (CBRN) warfare ছাড়াও তাদের কাছে আছে উইপন অফ ইউনিভার্স ডেস্ট্রাকশন এক্সাট্রাটেরিস্ট্রিয়াল সায়ানায়েড বোমা! যেকারণে, ব্রাজিলের বিখ্যাত ইউ এফ ও ম্যাগাজিনের সম্পাদক ও বিজ্ঞানী এ জে গেভার্ড মিডিয়ায় ইবিলি-জিবিলির ক্ষমতার কথা জানান ও বিশ্বের ক্ষমতাশীল অস্ত্র প্রস্তুতকারী দেশগুলোকে তাদের প্রতি আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন।
স্বপ্ন ও পাকমেরিনের রেষারেষির কথা এলিয়েনরা শোনে এবং নিউক্লিয়ার সাবমেরিন স্বপ্নকে আইন নিজের হাতে না তুলে নেয়ার জন্য বলে ইবিলি জিবিলির এক্সট্রাটেরিস্টিয়াল কিছু এলিয়েন কাঁচপোকা এবং ইউনাইটেড এলিয়েন ফোর্সের মহাপরিচালক ইবিলি। এদের আরকিবো সাইনের বাইনারি ম্যাসেজটি উভয় সাবমেরিনের ক্রুরা বুঝতে পারে।
হিসাব করে তারা দেখে, যুদ্ধাপরাধী ইস্যুতে পাকমেরিনকে ধ্বংস করে ফেললে কারো একার আদর্শ প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে এটা ইউ এ এফ (ইউনাইটেড এলিয়েন ফোর্স) চাইবেনা। তাই স্বপ্নমেরিন তার নিউক্লিয়ার বিধ্বংসী অস্ত্র দিয়ে পাকমেরিনকে মারতে পারবেনা আর তাতে সমুদ্রসম্পদ বিনষ্ট হবে। এদিকে স্বপ্নমেরিনকেও অক্ষত রাখতে হবে ভয়ংকর অঞ্চলে সমুদ্র সম্পদ আহরণের চৌকষ শিকারী দলটিকে টিকিয়ে রাখার জন্য! ইউ এ এফ এর এই ডিপ্লোমেসির সাথে অতিউন্নত বিশ্বের অসহায় নেতারাও একমত। কারণ সমুদ্র সম্পদ!
এলিয়েন বিচারক জুপিটার অনাগ্রহ বোধ করবেন। প্যাসিফিক ওশানের মারিয়ানা ট্রেঞ্চে যে লাশগুলো জলজ গুবরে পোকাদের খাবার হয়েছে, সেখানেই তো বেশিরভাগ সাক্ষী, মুক্তিযোদ্ধার পরিবার পরিজন! মৃত মানুষগুলো আর কি প্রমাণ দিবে? আর বিচারেই বা কি শাস্তি হবে! কে কাকে শাস্তি দিবে? এলিয়ানদের তো এস্ট্রোবায়োলজিকাল ব্যাপার স্যাপার, কজমিক বিচার বিবেচনায় মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা, বাংলাদেশ, যুদ্ধাপরাধী ইস্যুগুলো এরা বুঝবে না।
তাহলে, মহাকাশযান ক্লাস্টার এম ৭১ থেকে আরকিবো মেজেসটি কে পাঠিয়েছিল আমাদের ? টুফোর কোডের একমাত্র হাইটেক মিলিটারি নেতা? প্রয়াত রাষ্ট্র ব্যবস্থায় নির্বাচিত সরকার থাকাকালীন ইস্যুটিকে নিয়ে তারা অনেক খেলেছে, তারা ইস্যুটিকে কখনই মরতে দেয়নি। বহির্বিশ্বের অন্যান্য ইন্টিলিজেন্সদের ডেকে , জাতিসংঘের কাছে যুদ্ধাপরাধের বিচার চেয়ে তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যক্রম নিয়ে অনেক সফল নাটক মঞ্চস্থ করেছে। এখনো তারা নাটক করতে চায়! ন্যায়ের পক্ষের নাটক। ন্যায়বান হওয়ার নাটক।
কিন্তু এক্সট্রাটেরিস্ট্রিয়াল লাইফে নাটক, ন্যায়-নীতি-দুর্নীতি বলে কিছু নাই। মানুষের ব্রেইনটাকে কাজে লাগিয়ে পৃথিবীটাকে কবজা করাই তাদের প্রধান লক্ষ! তবে, আশ্চর্য জনক হলেও সত্য, মারিয়ানা ট্রেঞ্চ এর লাশগুলোর মধ্যে একটি মৃত শিশুর হাতের শক্তমুঠির মধ্যে লাল সবুজ কাপড়টা মহাপরিচালক ইবিলিকে সত্যি অবাক করে! শিশুটিকে দেখে ইবিলি শুধু মাথার সামনে অবস্থিত কজমিক ম্যাটারে একটু ব্যথা অনুভব করে!
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জুন, ২০০৯ দুপুর ১২:৩৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



