মরার বৃষ্টি- শিশুগুলো যখন আগুনমুখো মায়ের বুকে শেষবারের মতো মাথা গুঁজছিলো, কোথায় ছিলি তুই?
ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি তখনও আসেনি। বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে! আমি ভীড় ঠেলে চাচার একতলা বাড়ির ভিতর ঠুকে পড়ি। চাচা বারান্দায় দাঁড়িয়ে বাড়ির দিকে ধেয়ে আসা আগুনের দিকে তাকিয়ে আল্লাহকে ডাকছেন আর চাচার ছোট্ট মেয়েটি ঘরের টুকটাক জিনিসপত্র ঘরের বাইরে এনে রাখছে। ঘরে আর কেউ নেই যে তাকে হেল্প করবে! এদিকে চাচা হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে মাটিতে বসে পড়েছেন আর আল্লাহর নাম জপছেন।
আমি ছোট্টমেয়েটার সাথে ঘর বাঁচানোর কাজে নেমে পড়ি। আগুন তেড়ে আসছে, আমরাও গৃহস্থ জিনিসপত্র সরিয়ে যাচ্ছি। বীভৎস আর্তনাদ এবং চিৎকারে বাতাস ভারী হয়ে আসছিল। আমার মনে তখন চট করে একটা চিন্তা ঢুকলো! আগুন তখন বাড়ি ছূঁই ছূঁই! ভাবলাম, জিনিসপত্রতো এভাবে আর বাঁচানো যাবেনা, চাচা আর ছোট্টমেয়েটিকে নিয়ে বরং সরে পড়াই ভালো!
কিন্তু চাচা যাবেননা। আমাকে হাত উঁচিয়ে থামতে বললেন। বাড়ির কাছে এসে আগুন থেমে গেলো আচমকা। অবিশ্বাস্যভাবে বেঁচে গেলাম আমরা!
আমি পুরান ঢাকার ছেলে। ঘিঞ্জি এই শহরে কোনো দূর্যোগ ঘটলে ব্যাপারটা কি ভয়াবহ হবে সবসময়ই সেটা নিয়ে আতংকে থাকতাম। গতকালের নিমতলীর ঘটনাটায় বুঝতে পারলাম, ভয়াবহতার সেই স্বরূপটি! মূহুর্তে পোকামাকড়ের মতো মানুষ মরে গেলো, আগুন থেকে রক্ষা পেতে একটি পরিবার বাড়ির ছাদে আশ্রয় নিয়েছিলো- ১১ জন মূহুর্তে পুড়ে ছাই! ফায়ার সার্ভিসের গাড়িও ঢুকতে পারছিলো ঐ সংকীর্ণ গলিতে।আমি পুরো ঘটনার মর্মান্তিকতায় বাকরুদ্ধ!
পুরান ঢাকার কয়েকশত বাড়ি আছে অপরিকল্পতি নগরায়নের শিকার।বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভয়াবহ ঝুঁকিপূর্ণ! বাড়ির সাথেই লাগোয়া বৈদ্যুতিক তার, ট্রান্সফর্মার।এর মধ্যেই মানুষ থাকছে, অস্বাস্থ্যকর-আলো-বাতাসহীন পরিবেশে।কোনো সরকারই একটা যথার্থ উদ্যোগ নিয়ে এই সমস্যার সুরাহা করতে পারেনি বা করেনি।এই সব দুর্ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষভাবেই দুর্নীতি সম্পর্কযুক্ত! ডেসা, ওয়াসা, হাউজিং, সিটি কর্পোরেশন, রাজউক সবাই এ ব্যাপারে উদাসীন।এদের আকাশচুম্বি দুর্নীতির কারণে এ ধরনের দুর্যোগ-বিপর্যয়-দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে গেছে।গতকাল বেগুনবাড়ি, আজ নিমতলী এবং ভবিষ্যতে আপনি ও আমি - আমাদের পরিবার যে কেউ এ ধরনের বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে পারে।পোকামাকড়ের মতো নিমিষেই মিশে যেত পারি ধূলিতে!
এই কিছুক্ষণ আগেই এক পষলা বৃষ্টি ধুয়ে দিলো নগরীকে।গতকাল রাতেও আকাশ মেঘলা ছিল কিন্তু বৃষ্টি ছিলো না।জানালার বাইরে ঝাপসা শহরের দিকে তাকিয়ে মন শুধু বলছিলো, মরার বৃষ্টি- গতকাল রাতে নিমতলীর আগুন যখন বাড়ছিল, শিশুগুলো যখন আগুনমুখো মায়ের বুকে শেষবারের মতো মাথা গুঁজছিলো, তুই কোথায় ছিলি?
দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল
দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন
দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল
আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬
[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]
আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন
কবিতাঃ শরৎ বন্দনা

শরৎ এলেই আকাশ জুড়ে সাদা মেঘের ভেলা
দিনমণি আর মেঘমালার লুকোচুরি খেলা।
রুম ঝুমঝুম নূপুর পায়ে ছুটছে নদীর ঢেউ
ভাটিয়ালি গাইছে গান অচিন সুরে কেউ।
বিলে ঝিলে শাপলা পদ্ম... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।