somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আবার রাজাদা (৩০ তম কাহিনী)

১৫ ই জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আপনাদের পাড়ার রাজাদা ।
এই রাজাদাকে হঠাৎই দেখলাম রাজভবনের সামনে পুলিশের সাথে কাজিয়া করতে। তুমুল কাজিয়া। বহু লোক জরো করে ফেলেছেন । আমি সাধারণতঃ ভীড় দেখলেই এড়িয়ে যাই। সেদিন কি জানি কি মনে হোলো এগিয়ে গেলাম । ভীড় ঠেলে এগিয়ে গিয়ে দেখি ওমা এতো আমাদের পাড়ার রাজাদা ।
আমি ভাবছি রাজাদা পুলিশের খপ্পরে আবার কেন পড়লেন। তাও এই ভড় সন্ধ্যে বেলায়। রাস্তায় ভীষণ ভীড়। একটু আগেই ময়দানে কোলকাতার বড় দুটো দলের খেলা শেষ হয়েছে । পুলিশের তৎপড়তা বেড়ে গেছে । কারন বড় দলের খেলা থাকলেই কোলকাতায় গন্ডগোলের সম্ভাবনা থাকে। আর এতো রাজভবনের সামনে । পুলিশের বাড়াবাড়ি তো একটু থাকবেই।
আমি ভীড় ঠেলেঠুলে রাজাদার সামনে গিয়ে যেতেই রাজাদা আমাকে আড় চোখে দেখে নিয়েই ভীষণ জোর পেয়ে গেলেন মনে হোলো। আমি কিছু বোঝার আগেই আমাকে রাজাদার পেছনে দাঁড়াতে ইশারা করেই আরো জোরে জোরে চীৎকার শুরু করলেন।
- আমি অন্ধকারে বুঝতে পারিনি তাই রাজভবনের দেওয়ালে ‘ইয়ে’ করে দিয়েছি । আমি অন্যায়তো করেইছি । তাই বলে দু’ভাঁড় চা আর দু’টো সিগারেটেই আমি মাপ পেয়ে যাবো তাই হয় নাকি ! আরে আমি অন্যায় করেছি তার সাঁজা পাবোনা তা হয় নাকি? চলো তোমাদের বড় অফিসার কে এখন ডিউটিতে আছেন তার সাথে আমি দেখা করে মাপ চেয়ে নেবো।
রাজাদার চীৎকারে পুলিশদু’টো কেমন ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে মিইয়ে গেছে। সমানে রাজাদাকে বলে যাচ্ছে,
- আরে যা হবার হয়েছে ভাই, দাদা চলে যান না ভাই, কেন মিছি মিছি ঝামেলা করছেন ভাই, যান না ভাই, আপনাকে ছেড়েই দেওয়া হয়েছে তো। যান না ভাই।
খেলা শেষে কোলকাতার পাব্লিক রাজভবনের সামনে মজার খোড়াক পেয়ে গেছে, সহজে ভীড় নড়ছেনা।
- আরে ভাই, অন্ধকারে আমি কিছু বুঝতে পারিনি ভাই, আমাদের লাঠসাহেব তো সন্ধ্যেবেলায় দু’ঘন্টা করে স্ব-লোডশেডিং করে রাখছেন আজকাল, তাই ভাই অন্ধকারে আমি বুঝতে পারিনি, আমি তাই রাজভবনের দেওয়ালে ‘ইয়ে’ করে দিয়েছি। আমি ভাই ভীষণ অন্যায় করেছি। আমার শাস্তি পাওয়া উচিৎ। চলো তোমাদের বড় সাহেবের কাছে আমাকে নিয়ে চলো ভাই, আমি শাস্তি পেতে চাই। মাত্র দু’ভাঁড় চা আর দু’টো সিগারেটে হবেনা ভাই – রাজাদা চেচিয়েই যাচ্ছেন। আমাকে শাস্তি পেতে হবে ভাই।
পুলিশ দু’টো আস্তে আস্তে উল্টো দিকে চলতে শুরু করে দিলো। রাজাদাও এগিয়ে গিয়ে ওই একই ভাবে চীৎকার করে জনতা জড়ো করে যাচ্ছেন। পাব্লিকও মজা পেয়ে নানা রকম টিপ্পনি টিটকিরি দিতে শুরু করে দিলো । রাজাদাও মনে হোলো যেন আরো জোড় পেয়ে দ্বিগুন উৎসাহে চীৎকার করে একই ভাঙ্গা রেকর্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। পেছনে পেছনে কোলকাতার হুজুগে পাব্লিক।
আমি দেখলাম এতো মহা বিপদ, রাজাদাকে থামানো দরকার।
- কি হচ্ছে কি রাজা দা, থামবে তুমি।
ইশারা করে পুলিশ দু’জনকে চলে যেতে বললাম।
- আরে দেখনা, আমার টিমতো হেরে গেছে,
- আমি থামিয়ে দিয়ে বললাম, তুমি মাঠে গিয়েছেলে নাকি?
- আরে একটা পাশ পেয়ে গেলাম, তাই বুঝলি না।
- তারপর, আমি বললাম। আমি রাজাদাকে নিয়ে হাটতে শুরু করলাম। পেছনে তখনও কিছু হুজুগে ।
- আমি ভাবলাম, রাজাদা বলে চলছে, - বুঝলি, সর্টকার্ট মেরে সোজা রাজভবনের পাশ দিয়ে সিধু-কানু-ডহর -এ উঠে শিয়ালদার বাস ধরবো। অন্ধকারতো, বুঝতে পারিনি, খুব ‘ইয়ে’ চেপেছিলো। কেউ নেই দেখে সামনের দেওয়ালে জাষ্ট মানে ‘ইয়ে’টা সেরেছি, মাটি ফুঁড়ে দু’টো পুলিশ এসে – বুঝলি, রাজাদা বলে চলছে – তুমি রাজভবনের গায়ে ‘ইয়ে’ করেছ, পাঁচ আইনে তোমাকে চালান করবো, চলো।
- বুঝলি, আমি ভয় পেয়ে গেলাম, রাজভবনের গায়ে ‘ইয়ে’ করে ফেলেছি, মানে বুঝলিতো ?
আমি বললাম – হ্যাঁ শুনছি, তুমি বলো, পেছনে ভীড় তখন অনেক পাতলা। রাজাদাকে উস্কে যাচ্ছে, আরে দাদা, পুলিশ দুটোকে ছেড়ে দিলেন কেন, ইত্যাদি ইত্যাদি।
- আমি ভাবলাম ভারি অন্যায় করে ফেলেছি। অন্ধকারতো, কি করে বুঝি বল? আমাদের এই লাটসাহেব সন্ধ্যেবেলরাজভবন অন্ধকার করে রাখলে আমি কি করে বুঝি বল? রাজাদা আমাকে বোঝাতে চাইছে।
- আমাদের এই লাটসাহেব বিদ্যুৎ বাঁচাবার জন্যে সন্ধ্যেবেলায় দু’ঘন্টার জন্য স্বেচ্ছায় লোডশেডিং করছেন - আমি বললাম।
- সে তিনি করুন, বিদ্যুৎ বাঁচাবেন না সরকারকে বাঁশ দেবেন সেটা তার ব্যাপার, তাই বলে তিনিতো আর আমাকে বাঁশ দিতে পারেন না, রাজাদা আমাকে বোঝাতে চাইছেন।
আমি বললাম – তোমাকে কেন তিনি বাঁশ দেবেন?
- আরে বুঝলি না, সন্ধ্যেবেলায় দু’ঘন্টার জন্য স্বেচ্ছায় লোডশেডিং করছেন, রাজভবনের কোনায় কোনায় পুলিশদের পাহাড়া দিতে হচ্ছে, বুঝলিনা, কোথা থেকে কি হয়ে যায়, তখনতো সব পুলিশের চাকরি যাবে । তাই পুলিশ দু’টো ঘাপটি মেরে রাজভবনের শেষ ধারে বসে ছিলো।
- ব্যস, আমার ‘ইয়ে’ সাড়া হয়েছে কি হয়নি, পুলিশ দু’টো মাটি ফুঁড়ে হাজির। বলে কিন পাঁচ আইনে চালান দেবে।
- তারপরতো তুই সব দেখলি।
আমি বুঝলাম, রাজাদা আজ ইয়ে চড়িয়ে আছেন।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×