Click This Link
শেফালি ছালিয়া একজন চা-শ্রমিক। তার বয়ানে, ‘সকাল নয়টায় কাজ়ে আসি৷ পাঁচটা পর্যন্ত কাজ করি৷'
দিন শুরু হয় সেই সাতসকালে৷ ঘুম থেকে উঠে চুলায় আগুন জ্বালানো, গরু-বাছুরের গোবর পরিষ্কার করা, ঘর-উঠোন ঝাঁড় দেয়া, রান্না-বান্না করে বাচ্চা-কাচ্চা, স্বামী ও অন্যদের খাওয়ানো, তারপর নিজে চারটা খেয়ে নয়টার মধ্যে বাগানে এসে কাজে যোগদান৷
৩২ টাকা বেতন পাই৷ এতে ভালো করে বাচ্চারে লিকাপড়া করাইতে পারি না৷পেটের ভাতই জোগাড় করেত পারি না৷ কলম দিলে খাতা দিতে পারি না৷ যদি ভাগ্যে থাকে সপ্তাহে একবার ছোট মাছ কিনি৷ মাছের গন্ধ পাই৷
নারীরা পুরুষদের নির্যাতনের প্রতিবাদ করেন কিনা জান্তে চাইলে অনেকটা অবাক হয়ে যান তিনি৷ ‘এটা কী বলেন৷ স্বামী নির্যাতন করলে তার আবার প্রতিবাদ কেমনে করে!’ যদিও তার স্বামী নির্যাতন করে না।
‘নারী দিবস! এটা আবার কি! আমরা এ রকম কথাতো কোনদিন শুনিনি!’
......।
......।
যার নুন আনতে পান্তা ফুরায়, তার আবার নারী দিবস.........!!!!!!!!
কাজের সর্দারের বয়ান,
‘আপনারা যে তাদের অধিকারের কথা বলছেন৷ অধিকার জানলে তো তারা সব চাইব৷ পুরুষরা তা দিব কেমনে! তার দিবার তো ক্ষমতা লাগব! আর আমরা তো কাজ আদায় করতে পারব না৷’
তাই তো!!!! পুরুষরা তা কেমনে দিবে? ঐ চা-শ্রমিক পুরুষরাও তো দরিদ্র।
সর্দার ভাই, আপনাকে এবং ঐ শ্রমিক পুরুষ ভাইদের বলি, আপনাদেরকে নারীর সব আর্থিক চাহিদা মেটাতে তো কেউ বলেনি, শ্রমিক নারীরা তো আপনাদের পাশাপাশি কাজ করছেই--- তা সংসারের মৌলিক চাহিদা মেটানোর জন্যই হোক বা বাড়তি একটু স্বাচ্ছন্দ্য আনার জন্যই হোক।
প্রয়োজন হলো ঐ নারীদের শ্রমের সঠিক মুজুরী পাওয়া, সংসারের কাজে পুরুষদের একটু সহযোগিতা, একটু নিরাপত্তা, স্বামীর ভালোবাসাপূর্ণ-সৌহার্দ্যমূলক আচরণ, পরিবারের অন্যান্যদের একটু সহযোগিতা,......এর বেশী কিছু না।
তাদের বেশী টাকা দামের শাড়ীর প্রয়োজন নেই, দামী বাড়ি-গাড়ির প্রয়োজন নেই, বাচ্চাদের অনেক নামী-দামী স্কুলে পড়ানোর প্রয়োজন নেই।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই অক্টোবর, ২০১০ রাত ১০:৩১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



