উইঘুর জাতির ইতিহাস প্রায় ৪০০০ বছর আগের। মূলত এরা স্বাধীন পূর্ব তুর্কিস্থানের অধিবাসী। পূর্ব তুর্কিস্থান প্রাচীন সিল্ক রোডের পাশে অবস্থিত মধ্য এশিয়ার একটি দেশ, যার চারপাশে চীন, ভারত, পাকিস্তান, কাজাখিস্তান, মঙ্গোলিয়া ও রাশিয়া ।এদের ভাষা উইঘুর। প্রাচীনকালে এ ভাষার বর্ণমালা উইঘুর হরফে লেখা হতো। নবম শতকের আগ পর্যন্ত পূর্ব তুর্কিস্থান বৌদ্ধদের এক বড় মিলনকেন্দ্র ছিল। এরপর আস্তে আস্তে তারা মুসলমানদের সংস্পর্শে এসে মুসলিম হতে থাকে। বর্তমানে প্রায় নব্বই লাখ মুসলিম উইঘুর পূর্ব তুর্কিস্থানের সংখ্যাগরিষ্ঠ জাতিতে পরিণত হয়েছে। মুসলিম হবার পর ১৩শ শতাব্দী থেকে বিংশ শতাব্দী পর্যন্ত উইঘুর বর্ণমালা আরবী হরফে লেখা হতো। এরপর কিছুদিন অন্য হরফে লেখা হলেও ১৯৮৫ সাল থেকে আবারো সরকারীভাবে আরবী হরফ চালু হয়েছে।
১৯১১ সালে মাঙ্কু সাম্রাজ্য উৎখাতের মাধ্যমে পূর্ব তুর্কিস্থানে চীনা শাসন চালু হয়েছে। কিন্তু এই বৈদেশিক শাসন এ অঞ্চলের অধিবাসীরা মেনে নেয়নি। তাই তো ১৯৩৩ এবং ১৯৪৪ সালে দুই দুইবার তারা চীনাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে স্বাধীনতা অর্জন করে। কিন্তু বিধি বাম। ১৯৪৯ সালে আবারো তারা চীনা কমিউনিস্ট শাসকদের হাতে দখলকৃত হয় আর জিনজিয়াং উইঘুর স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রদেশ গড়ে উঠে। তখন অনেক চীনা এথনিক এখানে অবৈধভাবে বসতি স্থাপন করে। এই কমিউনিস্ট শাসনামল তাদের কাছে এক ধরণের অন্ধকার যুগ। বিভিন্নভাবে চীন সরকার তাদের উপর দমন-নিপীড়ন চালাচ্ছে, তাদের অস্তিত্ব মুছে দিতে চাইছে। তারা এখন নিজেদের ভূমিতে আগুন্তকের মতো। তাদের ভাষা-সংস্কৃতির উপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। চীনা সরকার উইঘুর ভাষাকে চাইনীজ ভাষা দিয়ে প্রতিস্থাপন করতে চাচ্ছে। আরো বিস্তারিত জানতে,
তুর্কিস্থানের ইতিহাস
Click This Link
আরেকটি তথ্যঃ পূর্ব তুর্কিস্থান চীনের গ্রেট ওয়ালের বাইরে অবস্থিত, তার মানে চীনের লজিক্যাল সীমার ভিতরে পড়ে না।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই অক্টোবর, ২০১০ রাত ১০:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


