আমার প্রিয় পোস্ট

...

উইঘুরঃ চীনের কাছে পরাজিত পূর্ব তুর্কিস্থানের এক মুসলিম জাতি

১১ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ১০:১৫

শেয়ারঃ
0 1 0

ইদানীং সংবাদপত্রগুলোতে চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুরদের উপর নির্যাতন চালানোর ঘটনা প্রকাশিত হচ্ছে। ইতিমধ্যে ওআইসিসহ বিভিন্ন দেশ চীনের এ ধরণের দমন-পীড়নের নিন্দা জানাচ্ছে। আমি নিজে এই জাতি সম্মন্ধ্যে তেমন কিছু জানতাম না। শুধু পত্রিকাগুলোতে দেখছি তারা মুসলমান, জুমার নামাজ নিষিদ্ধ করা হয়েছে সহিংসতার আশংকায়.........।তাই তাদের ব্যাপারে জানতে ইন্টারনেটে সার্চ দিলাম। যা জানলাম, তাই একটু লিখতে চাচ্ছি।





উইঘুর জাতির ইতিহাস প্রায় ৪০০০ বছর আগের। মূলত এরা স্বাধীন পূর্ব তুর্কিস্থানের অধিবাসী। পূর্ব তুর্কিস্থান প্রাচীন সিল্ক রোডের পাশে অবস্থিত মধ্য এশিয়ার একটি দেশ, যার চারপাশে চীন, ভারত, পাকিস্তান, কাজাখিস্তান, মঙ্গোলিয়া ও রাশিয়া ।এদের ভাষা উইঘুর। প্রাচীনকালে এ ভাষার বর্ণমালা উইঘুর হরফে লেখা হতো। নবম শতকের আগ পর্যন্ত পূর্ব তুর্কিস্থান বৌদ্ধদের এক বড় মিলনকেন্দ্র ছিল। এরপর আস্তে আস্তে তারা মুসলমানদের সংস্পর্শে এসে মুসলিম হতে থাকে। বর্তমানে প্রায় নব্বই লাখ মুসলিম উইঘুর পূর্ব তুর্কিস্থানের সংখ্যাগরিষ্ঠ জাতিতে পরিণত হয়েছে। মুসলিম হবার পর ১৩শ শতাব্দী থেকে বিংশ শতাব্দী পর্যন্ত উইঘুর বর্ণমালা আরবী হরফে লেখা হতো। এরপর কিছুদিন অন্য হরফে লেখা হলেও ১৯৮৫ সাল থেকে আবারো সরকারীভাবে আরবী হরফ চালু হয়েছে।

১৯১১ সালে মাঙ্কু সাম্রাজ্য উৎখাতের মাধ্যমে পূর্ব তুর্কিস্থানে চীনা শাসন চালু হয়েছে। কিন্তু এই বৈদেশিক শাসন এ অঞ্চলের অধিবাসীরা মেনে নেয়নি। তাই তো ১৯৩৩ এবং ১৯৪৪ সালে দুই দুইবার তারা চীনাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে স্বাধীনতা অর্জন করে। কিন্তু বিধি বাম। ১৯৪৯ সালে আবারো তারা চীনা কমিউনিস্ট শাসকদের হাতে দখলকৃত হয় আর জিনজিয়াং উইঘুর স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রদেশ গড়ে উঠে। তখন অনেক চীনা এথনিক এখানে অবৈধভাবে বসতি স্থাপন করে। এই কমিউনিস্ট শাসনামল তাদের কাছে এক ধরণের অন্ধকার যুগ। বিভিন্নভাবে চীন সরকার তাদের উপর দমন-নিপীড়ন চালাচ্ছে, তাদের অস্তিত্ব মুছে দিতে চাইছে। তারা এখন নিজেদের ভূমিতে আগুন্তকের মতো। তাদের ভাষা-সংস্কৃতির উপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। চীনা সরকার উইঘুর ভাষাকে চাইনীজ ভাষা দিয়ে প্রতিস্থাপন করতে চাচ্ছে। আরো বিস্তারিত জানতে,

তুর্কিস্থানের ইতিহাস





Click This Link

আরেকটি তথ্যঃ পূর্ব তুর্কিস্থান চীনের গ্রেট ওয়ালের বাইরে অবস্থিত, তার মানে চীনের লজিক্যাল সীমার ভিতরে পড়ে না।


 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): উইঘুরপূর্ব তুর্কিস্থানচীন ;
প্রকাশ করা হয়েছে: বিশ্বরাজনীতি  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই অক্টোবর, ২০১০ রাত ১০:০৯ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১১ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ১০:১৯

লেখক বলেছেন: হ্যাঁ আপু, জানার আছে অনেক কিছু। :)

১১ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ১০:২৩

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ। :)

৩. ১১ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ১০:৩২
নাজনীন১ বলেছেন: মাইনাসদানকৃত ভাইরা যদি একটু কিছু বলে যেতেন......
৪. ১১ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ১০:৫৭
ইমন জুবায়ের বলেছেন: এই লেখায় মাইনাস কেন পড়ছে বুঝতে পারছি না।
আশ্চর্য!
১১ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ১১:২০

লেখক বলেছেন: আমিও অবাক হচ্ছি, কাদের সমস্যা হচ্ছে? চীনাপন্থী কারো , নাকি মুসলিম বিরোধী কারো?

৫. ১১ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ১০:৫৮
আবদুর রহমান (রোমাস) বলেছেন: অজানা তথ্য জানলাম, আপু আপনাকে ধন্যবাদ........ সেয়ার করার জন্য।

+++++++
১১ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ১১:২১

লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ। :)

৬. ১১ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ১০:৫৯
এ্যাশপরী বলেছেন: আপনি সম্ভবত গুয়ানতানামো সম্পর্কে জানেন না, বা উইঘুর সম্পর্কে আপনার জানা-শুনা স্পষ্ট নয়। উইঘুর কিভাবে beyond guantanamo হয়???
মাথায় যা আসে লিখলেই হইলো!!!
- - -
১১ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ১১:২৬

লেখক বলেছেন: লেখক বলেছেন: শুনুন ইউটিউবের ভিডিওগুলো তো আমার তৈরী না, আমি আপলোডও করিনি, শুধু শেয়ার করেছি। আপনি যদি হেডিং না দেখে ভিতরের অংশগুলো দেখতেন, তাহলে বুঝতে পারতেন আমি যে চারটা লিঙ্ক দিয়েছি সবগুলোতে একই কথা বলছে।

আর গুয়ানতানামোর চেয়ে কম না বেশী, সেটা এই চারটা লিঙ্কের কোথাও কোন আলোচনা নেই।

আমার মাথার ভিতর থেকে নিজে কিছু উদ্ভব করিনি এই পোস্টে। আশা করি ভাল করে পোস্ট দেখে তারপর মন্তব্য করবেন।

৭. ১১ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ১০:৫৯
প্রবাসী মন বলেছেন: কত অজানারে! নতুন করে আবারো কিছু জানলাম। ধন্যবাদ।
১১ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ১১:২৮

লেখক বলেছেন: হুমম, আমাদের জানার বাইরে অনেক কিছু ঘটছে। এদের সম্মন্ধ্যে পড়ে আমার কাছে ফিলিস্তিনীদের মতো কিছুটা মনে হয়েছে, নিজ ভূমে পরবাস। আর বাকীটা আমাদের মতো, ভাষার উপর হস্তক্ষেপ।

৮. ১২ ই জুলাই, ২০০৯ সকাল ৮:২২
দ্বিতীয়নাম বলেছেন: কমেন্ট মুছলেন ক্যান? গালাগালি তো দেই নাই।

আমি কইছিলাম, "এটাও মার্কিন সম্রাজ্যবাদী ষড়যন্ত্র মহাচীনের বিরুদ্ধে, ইরানের মোসাভী দিয়া শুরু হইয়া চীনে আইসা ঠেকছে।"
আমাগো ইসলামী আর বুর্জোয়া নাপছন্দ আতেলগোর মোসাভী ফর্মুলা অনুযায়ী তো তাইই।
১৩ ই জুলাই, ২০০৯ দুপুর ২:৫৬

লেখক বলেছেন: ভাই, আমি কোন কমেন্ট মুছিনি। মাঝে মাঝে সামুর প্রব্লেম হয়। বিশাল কমেন্ট লেখার পর দেখি হাওয়া হয়ে যায়।

কোনটা ষড়যন্ত্র? ঠিক বুঝলাম না।

৯. ১২ ই জুলাই, ২০০৯ দুপুর ১:০৪
নুভান বলেছেন: মহান মাইনাস প্রদানকারীরা এই লিঙ্কগুলো দেখুনঃ
http://www.youtube.com/watch?v=iBnv-bKUbe8
http://www.youtube.com/watch?v=mxfawfkyg8I
http://www.youtube.com/watch?v=_GnAgPVGlvw

যারা চায়না চায়না করে লাফা-লাফি করে তারা কি ভেবে দেখেছে, বিশ্বে চায়নার উত্থান হলে তৃতীয় বিশ্বের দেশ গুলোর অর্থনীতি ধ্বংশের মুখে থাকবে। মার্কিনীরা সম্রাজ্যবাদী হোক আর যাই হোক, আমাদের পোশাক শিল্পের প্রধান খরিদ্দার কিন্তু তারাই। এইসব তথাকথিত চায়না প্রেমিকগ্ণ কি মাথায় বুদ্ধি আদৌ রাখেন?
১৩ ই জুলাই, ২০০৯ বিকাল ৩:১৮

লেখক বলেছেন: Click This Link

আরেকটা লিঙ্ক দেখলাম।

ভাই, চীন বলেন আর মার্কিন বলেন, খবরদারীর বেলায় কেউ কিন্তু কম নয়, কম হবেও না। সবার সাথেই আমাদের সম্পর্ক রাখতে হবে, তবে আমাদের নিজেদের পরিচয়ও ভুলে গেলে চলবে না।

মুসলমানরা আজ পদে পদে নিগৃহীত হচ্ছে। আমাদের নিজেদেরকেই সচেতন হতে হবে।

১০. ১২ ই জুলাই, ২০০৯ দুপুর ২:৫৬
তায়েফ আহমাদ বলেছেন: ধন্যবাদ লেখার জন্য।
প্রকৃতপক্ষে, চীনা আগ্রাসনের মুখে তিব্বত যেভাবে মিডিয়াতে প্রচার পেয়ে থাকে, সিংকিয়াং প্রদেশ ও উইঘুর জনগোষ্ঠী তার সিকিভাগও পায় না। মুসলিম পরিচয়ই বোধ করি এ অবহেলার স্বীকার হওয়ার মূল কারন!
১৩ ই জুলাই, ২০০৯ বিকাল ৩:২০

লেখক বলেছেন: হ্যাঁ, ঠিক বলেছেন। উইঘুরের ব্যাপারে তেমন কোন আলোচনাই শুনিনি কখনো। অথচ তারা কত প্রাচীন জাতি!!

১১. ১২ ই জুলাই, ২০০৯ বিকাল ৩:৪৪
কাঙ্গাল মুরশিদ বলেছেন: মুসলমানদের ব্যাপারে আমেরিকা ইউরোপ চিন রাশিয়া সবাই সমান। কারণ তারা সবাই জড়বাদী, ভোগবাদী, অর্থসম্পদের পুজারী আর ইসলাম হচ্ছে তাদের থেকে সম্পুর্ণ ভিন্ন এক ভারসাম্যপুর্ণ জীবনাদর্শ যা তাদের ক্ষমতাসীনদের পক্ষে সহ্য করা অসম্ভব।
১৩ ই জুলাই, ২০০৯ বিকাল ৩:২৩

লেখক বলেছেন: হ্যাঁ, সেটাই হয়েছে বিপদ। আমাদের কালচারের সাথে তাদের সাথে একদম মিলে না। আমরা শূকর খাই না, মদ খাই না, এটা ওদের খুবই অপছন্দ। এই কোরিয়াতেও আমি সেটা দেখি। তবে কেউ কেউ আমাদের পোশাক-পরিচ্ছদ পছন্দ করে।

১৬ ই আগস্ট, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:২৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

১৩. ১৯ শে জুলাই, ২০০৯ ভোর ৬:৫৯
তারিক রিদওয়ান বলেছেন: কত কিছুই তো জানিনা। আজকে একটু জানলাম। :)

ধন্যবাদ আপু, +
১৬ ই আগস্ট, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৩১

লেখক বলেছেন: :)। আসলেই অনেক কিছু জানি না।

১৪. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:০৭
শাওন৩৫০৪ বলেছেন: অনেকদিন পোষ্ট দ্যান না যে? আছেন কেমন?
১৭ ই আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৩:৩৫

লেখক বলেছেন: দেশে গিয়েছিলাম এক মাসের জন্য। আছি ভালই, যদিও মন খারাপ লাগছে দেশের সবার জন্য। আপনি কেমন আছেন?

১৫. ২০ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:৫৫
সাজিদ. বলেছেন: যেইসব চান্দু মাইনাস দিসে তাগো মাইনাস, না জাইনাই ফাল পারে। মাইনাস দিবার আগে ইতিহাস পড়ে আসা উচিৎ।

পোস্টে ++
২১ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:৩৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে অনেক পুরোনো পোস্ট পড়ার জন্য।

১৬. ২১ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:৫৯
সাঈফ শেরিফ বলেছেন: অনেকেই মনে করেন চীনারা বৌদ্ধ ধর্মালম্বী, আসলে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ লোক কোন প্রকার ধর্মে বিশ্বাসী নয়। এমনকি পরধর্মের উপস্থিতি ও অধিক্যের ব্যাপারেও তারা সহনশীল নয়। ওদের ধর্ম হল পশুর মত ব্যক্তি জীবন-সুখ-শান্তি বিসর্জন দিয়ে কাজ করো আর টাকা জমাও।টাকা আর কাজের ব্যাপারে পাগলামি দেখে মনে হয় নিজেদের কবর গুলো ওরা সোনার খনি বানাবে। টাকার জন্য জাত-পাত-সংস্কৃতি-দেশ-ধর্ম এমনকি নিজের পিতৃপ্রদত্ত নামও এরা বদলে ফেলে, উপরওয়ালার চরম চাটুকারীতা আর অধনস্তদের সাথে কৃতদাস সুলভ ব্যবহার করার ব্যাপারে এ জাতির জুড়ি মেলা ভার।
২৫ শে জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:৫৪

লেখক বলেছেন: হ্যাঁ, ওদের নাম পাল্টে ফেলা দেখে আমারো অবাক লাগে।

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৯৪৫ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আমি বাংলাদেশি নারী।...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ