গত ১৭ জুলাই ২০১০-এ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় দেখলাম বাংলাদেশ-নেপালের মধ্যে দুইদিনের বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের বৈঠক শেষে "অপারেটিং মডালিটিজ ফর দ্য ক্যারিজ অব ট্রানজিট" শীর্ষক চুক্তি চূড়ান্ত করা হয়। এটা অবশ্য নেপালী পণ্যবাহী ট্রাক আমাদের দেশে প্রবেশ সংক্রান্ত।
সেই চুক্তির বিভিন্ন ব্যাপারগুলো যতটুকু পত্রিকায় এসেছে, তার মধ্যে নির্ধারিত রুট (বাংলা বান্ধা থেকে মংলা) এবং মংলা বন্দরকে কাজে লাগানোর ব্যাপারটি আমার কাছে ভাল লেগেছে। ঐ বন্দরটি নিয়মিত ব্যবহার হলে খুলনা অঞ্চলে কিছু কর্মসংস্থানের সুযোগসহ যোগাযোগ ব্যবস্থা ও আরো নানা রকম উন্নতির সম্ভাবনা আছে, সে সাথে বন্দরটিও ধীরে ধীরে আরো উন্নত করা সম্ভব হবে। যেরকমটা চট্টগ্রামে বন্দর থাকা ও তার বহুল ব্যবহারের ফলে হয়েছে।
কিন্তু অন্যান্য সাংবাদিকদের মতো আমারও প্রশ্ন কোন ট্রানজিট ফি কেন নেয়া হবে না? সচিব সাহেব বলেছেন ১৯৭৬ সালে এরকম চুক্তি হয়েছিল তাই। আমার প্রশ্ন ওই সময়ে যে চুক্তি হয়েছিল তখনকার সময়ে আমাদের মতো নতুন একটি দেশের পরিস্থিতি আর এখনকার পরিস্থিতি কি এক? আর একটা চুক্তি কতবছরের জন্য করা হয়েছে? সেটা কি বাতিল বা সংশোধনের কোন সুযোগ নেই?
আবার মংলা বন্দরে সার্ভিস চার্জও নেয়া হবে অর্ধেক, ২০০৫-এ করা আরেক চুক্তি অনুযায়ী। আমি বুঝলাম না যে প্রয়োজনটা কার বেশি। চারিদিকে স্থলভাগ দিয়ে বেষ্টিত নেপালের সমুদ্র বন্দর ব্যবহারের দরকার বেশি না আমাদের বন্দর আর কেউ কোন রকম ব্যবহার করতে দিলেই আমরা ধন্য হই।
যদি নেপালকে কোলকাতা বন্দর ব্যবহার করতে হয়, তাহলে কি আরো কম খরচে তারা সেটা করতে পারবে? তাই কি আমাদের নেপালকে ভাগিয়ে নেয়ার জন্য এতো ছাড় দেয়া? এ ব্যাপারে পত্রিকায় কোন তথ্য দেখলাম না।
আবার এ চুক্তিতে শুধু নেপালের পণ্যবাহী ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ সংক্রান্ত। বাংলাদেশের ট্রাক নেপালে যাবার ব্যাপারে কোন কথা নেই এতে। এর জন্য আমাদের আবার আগে ভারতের অনুমতি নিতে হবে। জানি না নেপালের পণ্য ভারতের ভিতর দিয়ে আসতে কোন অনুমতি নিতে হয় না? নাকি ইতিমধ্যেই তারা সে অনুমতি নিয়ে নিয়েছে। তাহলে আমাদের বাংলাদেশ পক্ষের এতো ঢিলেমি কেন?
এদিকে পত্রিকায় দেখলাম ওইটুকুন একটা দেশ নেপালের সাথেও আমাদের বাণিজ্য ঘাটতি কম না। নেপাল থেকে আমদানী হয় ছয় কোটি ৯০ লাখ ডলার মূল্যমানের পণ্য, বাংলাদেশ থেকে যায় মাত্র ৮০ লাখ ডলারের। আমরা এতো আমদানীপ্রিয় জাতি কেন??!!
শুল্কমুক্ত পণ্যের তালিকায় বাংলাদেশ থেকে ১৮৪টি এবং নেপাল থেকে ১৪৬টি পণ্য লিস্ট করা হয়েছে, এগুলো নিয়ে নানা রকম বিশ্লেষণ হবে। তবে কোন পক্ষের পণ্যের বানিজ্যমূল্য কত ডলারের সেটা নিয়ে কোন তথ্য দেখলাম না।
নেপালীদের জন্য অন-এরাইভেল ভিসার সুযোগ দেয়া হবে বলে দেখলাম। বাংলাদেশিদের জন্য তদ্রূপ কোন ব্যবস্থা আছে কিনা বা করা হবে কিনা সেরকম কোন তথ্য দেখলাম না।
সচিব সাহেব বলেছেন, লাভ ক্ষতির চাইতে বন্ধুত্ব বেশি বড় ব্যাপার!!!! এটা কি শুধু আমাদের সচিব সাহেব বা সরকার পক্ষেরই ভাবনা নাকি নেপালের পক্ষ থেকেও এরকম ভাবা হয়? তারা কি তাদের লাভ-ক্ষতির চেয়ে আমাদের সাথে বন্ধুত্ব পাততে দুই হাত বাড়িয়ে এগিয়ে আসতে আগ্রহী? বন্ধুত্বের খাতিরে কোন কোন ক্ষেত্রে তারা লস গুণতে আগ্রহী সেরকম কোন তালিকাও পত্রিকার পাতায় দেখলাম না।
এ কেমন বন্ধুত্ব?? আমাদের নিজেদের স্বার্থ কেন এতোটা বিলিয়ে দিতে হবে?
প্রথম আলো
সমকাল
নয়াদিগন্ত
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই অক্টোবর, ২০১০ রাত ৯:১৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


