হক্সবেরী তে যখন থাকতাম তখন এই শহরটাকে আমার আপন মনে হতো না । মনে হতো ছবির শহর । কি নিরিবিলি । আচ্ছা আমিও কি পর্যটক ছিলাম ? সাবওয়েতে তে যখন কাজ করতাম,তখন কতো ঘুরেছি আনাচে কানাচে । এক সময় ঢাকা শহরকে কতো বিশাল মনে হতো । মনে হতো রিক্সাঅলা পথ ভুল করলে আমি শেষ,নিখোঁজ । আজ আর বাড়ি ফেরা হবে না । এখন এই বিশাল শহরে কি গপগপ করে হাঁটি । সবকিছু একা একা করতে হয় । সঅব ।
খুকখুক কাশিতে মধ্যরাতে ঘুম ভেঙ্গে গেলে দেখি বিছানায় আমি একা নই,বিল্লিটা পায়ের কাছে গুটিশুটি । গলা ব্যাথা আর টেলিফোনটা একা । আমার বোনের ছেলেটা প্রথম যখন বিল্লি ছানাটা নিয়ে এলো বাড়িতে,বিরক্ত হয়েছিলাম । ছোটবেলায় আমাদের একটা পুষি বিড়াল ছিলো,খুব জ্বালাতো । প্রতিবেশীরা খুব নালিশ জানাতে শুরু করলে আমার বড় ভাইয়া ওটাকে কুমিল্লার বাসে তুলে দিয়েছিলো । আজকাল মনে হয় সেই হারানো বিল্লিটা ফিরে এসেছে । কাশির প্রতিধ্বনিতে মনে হয় , শুনি কেউ বলছে : থাক কাল ক্লাসে যাবার দরকার নেই,গরম পানিতে মধু মিশিয়ে খাও । তোমার বদলে আমি প্রক্সি দেব ।
ও তো রাতে একাকি হেসে ফেলি,হেসে ফেলি ।
আমার ফেনী তে চলে যেতে ইচ্ছে করে । একটা ছোট রিক্সায় চড়ে ঘুরে ঘুরে আমরা দুজন । ও কে পাশে বসিয়ে রিক্সাঅলাকে বলব : ভাইজান জোরসে ।
ও খুশিতে চিৎকার করে বলবে : হুর রে হো । ও বলবে : জানো এই শহরে আমরা নাটক করতে এসেছিলাম জহির রায়হান মিলনায়তনে । সেই স্মৃতির দিঘি কই ? আমি ওকে নিয়ে আমাদের কলেজের সামনে দাঁড়াতে দেখি,কী ভিড় ! আমার সাথে এরকম ডাকাবুকো কবি রিক্সায়,তবু কেউ শিস দিয়ে ওঠে । তবু আমি হেসে ফেলি । কি যে ভালো লাগে । রৌদ্রগুলো ঝুপঝাপ করে লুকোয়,অবেলায় ।
আমার আর টরন্টো যেতে ইচ্ছে করছে না । অথচ কী সুন্দর শহর । আমাদের বাড়িটাকে লাল ইটের দূর্গের মতো মনে হয় । সারি সারি ম্যাপল গাছগুলো মধ্যরাতে একাকী দাঁড়িয়ে থাকে । সাদা জলের মতো মানুষের ভাবলেশ মুখগুলো । চারিদিকে রাতের আলোতে দুধ শাদা স্তুপ তুষার । জানালার কার্ণিশেও । জানালার পর্দা সরালেই অস্পষ্ট তোমার ছবি,হাঁটছো মন্ট্রিয়লে নাকি রাঙামাটিতে ? এই তুমি কই?
কবে আসবে আমাদের শহরে ?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


