সামুতে অনেকে সুনীলের এই কবিতাটি অনেক বার পুষ্টাইছেন।
অনেকে আবার এই কবিতার ছায়া অবলম¡নে বিভি›ন রূপক কবিতাও পুষ্টাইছেন।
আজ আমিও তেমনই একটি ব্যঙ্গ কবিতা পুষ্টাইলাম।
আশা করি বহুত ফাইদা........ ও থুক্কু মজা পাইবেন।
কেউ কথা রাখেনি
কেউ কথা রাখেনি, তেত্রিশ (x চার = এক শ বত্রিশ) দিন কাটল,
কেউ কথা রাখেনি
ডে-লাইট সেভিংয়ে ঘড়ির কাঁটা এক ঘন্টা এগিয়ে দিয়ে বলেছিল
একদিন আবার তা ঠিক করে দেবে।
তারপর কত লোডশেডিংয়ের রাত চলে গেল,
কিন্তু সেই কাঁটা আজও এল না
এক শ বত্রিশ দিন ধরে প্রতীক্ষায় আছি।
ছোট খোকাকে তারা বলেছিল, ভোরে ভোরে স্কুলে যাও
তাতে বিকেলে লোডশেডিং হবে না।
দেখবে টিভিতে টম আর জেরি খেলা করে!
আমি আর কত ভোরে উঠব?
সূর্য ওঠার আগে স্কুলে গেলে তারপর তুমি আমায়
কারেন্ট এনে দেবে?
একসঙ্গে নাশতা করতে পারিনি আমরা।
আরাম করে ঘুমিয়েছে নেতা আর আমলারা
আর আমরা আলাদা আলাদা সময়ে গিয়েছি
সরকারি আর বেসরকারি অফিসে,
বাবার অফিস নয়টায়, বড় ভাইয়ের ১০ টায়
আর খোকার সেই ভোরে।
বাবা খোকার সেই ভোরে।
বাবা খোকার কাঁধ ছুঁয়ে বলেছিলেন, দেখিস, একদিন তুইও....
কিন্তু বদলায় না ঘড়ির সময় অথবা কিছুই।
সেই দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা, সেই বাড়ির সবার একসময়ে বাইরে যাওয়া
আমায় কেউ ফিরিয়ে দেবে না।
বুকের মধ্যে অনেক কষ্ট রেখে ভেবেছিলাম,
যেদিন আবার ঘড়ির কাঁটা ফেরত যাবে আগের সময়ে
সেদিন আবারও সব আগের মতো হবে!
বিদ্যুতের জন্য আমি হাতের ঘড়ির সময় বদলেছি
দুরন্ত বাসে চড়ে একেক সময় গিয়েছি অফিসে
আলমারি তন্ন তন্ন করে খুঁজে এনেছি আমার একটা হাফহাতা শার্ট
তবু কথা রাখেনি কেউ, এখন আমার শার্টে শুধুই ঘামের গন্ধ
এখনো যে বিদ্যুৎ আসেনি।
কেউ কথা রাখেনি, তেত্রিশ (x চার = এক শ বত্রিশ) দিন কাটল,
কেউ কথা রাখেনি।
সূত্রঃ সংগ্রহিত
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:৩১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


