somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইউক্যালিপ্টাস আর আমার ছায়া

১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১১ রাত ১:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইউক্যালিপ্টাস গাছটা নিশ্চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল যেন সে কোন অপরাধ করেছে...শুধু মৃদু বাতাসে তিরতির করে কাঁপছিলো তার পাতাগুলো। রোদটা হাল্কা করে একটু পড়ে যায় আর ঝুপ করে মাটিতে কেমন যেন একটা লম্বা ছায়ার আভির্বাব ঘটে। ইউক্যালিপ্টাস গাছটার নিচে অনেকগুলো লজ্জাবতী গাছ, নির্লজ্জের মত তাদের ছুঁয়ে দিলেই ওরা কুকঁড়ে যায়। এরপর দু হাতের তালু দিয়ে ওদের গায়ে হাত বুলিয়ে দিলে... ওরা আরো লজ্জা পায়। চোখ চলে যায় লজ্জাবতী গাছের পাতায় সেটার রঙ কেমন জানি গাঢ় মেহেদীর পাতার মত। মনে হয় যেন কতটা আপন হলে সবুজ মেহেদী পাতা রাঙ্গা হয়? ক’ফোটা চোঁখের জল নিয়ে দু চোঁখের পাতায় নীল মেঘ এসে জমা হয়?
পেঁজা তুলোর মত মেঘগুলো ঢেউ হয়ে ভেসে যায়। শেষ বিকেলের তারাটা একটু মিটমিট করে জানান দেয় আমি আছি তো! বেঁকে যাওয়া সাদা পথটা কোথায় গিয়ে যেন মিশে, খুঁজে পাওয়া ভার এর শেষ সীমানা, এর পাশ দিয়ে চলে গেছে রেল-লাইন। রেল-লাইনটা যেনো কোন নদী, যে নদীর পানি শুকিয়ে গিয়েছে কিন্তু দাগ পরে আছে...ঝুম বৃষ্টির মাঝে ছুটে চলা ট্রেন দেখলে কোথায় যেন এক ধরণের শূণ্যতা গ্রাস করে। যেন বহু দূরে কোথাও যাবার কথা ছিল কিন্তু ট্রেনটা একা ফেলে চলে যাচ্ছে। নিশ্চুপ হয়ে যায় এরপর সব কিছু যেন, ট্রেন চলে যাওয়ার পর সব কিছুর মৃত্যু ঘটে। বিকেলের আলো ফুরিয়ে যায়, ইউক্যালিপ্টাস এর লম্বা ছায়াও আস্তে আস্তে গাঢ় হয়ে মিলিয়ে যেতে থাকে। আমি হাটতে শুরু করি...পিছনে আর তাকাই না আলোটুকু মিলিয়ে যেতে থাকে আমি আরো দ্রুত পা চালাই...আমি দেখতে চাই না অন্ধকারের জন্ম...আমার অনেক মন খারাপ হয়।

আমি জানি আমার ছায়া ও ইউক্যালিপ্টাসের সেই লম্বা ছায়ার মত অন্ধকারে মিশে গেছে।

“My shadow's the only one that walks beside me
My shallow heart's the only thing that's beating
Sometimes I wish someone out there will find me
' Til then I walk alone”
২৭টি মন্তব্য ২৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×