somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভটুগল্প

২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১১ সকাল ৮:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হাসপাতাল থেকে আমি হন্তদন্ত করে বের হলাম,ক্লাশের জন্যে দেরী হয়ে যাচ্ছে।এক্ষুনি আমাকে সি,এন,জি নিয়ে কোনক্রমে ক্লাশ ধরতেই হবে।এক অসুস্থ বন্ধুকে দেখতে এসে নিজেই ফ্যাসাদে পরে গেছি।আমার পেছনে ছিল দুই জুনিয়র ভাই,এদের সাথে দুই একবার কথা হয়েছে,ভালো করে চিনিওনা।একপাশে পাঁচ ছয়টা সি,এন,জি দাঁড়িয়ে আছে।আমি সময় বাঁচানোর চেষ্টা করে প্রত্যেক কে না বলে,সবার সামনে এসে হাঁক দিলাম্‌-শঙ্কর কে যাবেন???৫০ টাকা ৫০ টাকা...জুনিয়র ছেলে দুইটাই হাসছে।সি,এন,জি ওয়ালারা মুখ চাওয়া চাওয়ি করছে।এরমাঝে একজন এসে বলল-চলেন আফা।আমি দৌড়ে গিয়ে একলাফে চলে গেলাম সি,এন,জির কাছে।

দিন দুয়েক পরে খোমাবইতে একটা এড রিকোয়েষ্ট আসল,সাদাকালো একটা ছবিতে মোটকা করে একটা ছেলে কে,এফ,সির জিঞ্জার বার্গারে বিশাল এক কামড় বসাচ্ছে।আমি বার কয়েক মনে করেও ছেলেটা কে চিনতে পারলাম না।অতএব ইগনোর করলাম।পরের দিন আবারো রিকোয়েষ্ট আসল,বিরক্ত হয়ে আবারও ইগনোর করলাম।তৃতীয় বার এড আসার সাথে এল একটা ছোট্ট মেসেজ,তাতে লেখা-“খবরদার আপু ইগনোর করবেন না। X( আমি অমিত।মনে নাই সেদিন হাসপাতালে দেখা হইসিলো!আপনে ৫০টাকার সি,এন,জি খুঁজতেছিলেন?” আমি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে সাথে সাথে তাকে এড করে ফেলি।সেই থেকে অমিতের সাথে আমার পরিচয়।

এরপর থেকে সে মেসেঞ্জারে এসে আমাকে অনলাইনে দেখলেই গল্প করতে শুরু করে।একদিন তার আকার আকৃতির জন্যে আমি তাকে মটুরাম বলার সাথে সাথেই সে ব্যাপক উত্তেজিত হয়ে বলে-প্লিজ আপু আমাকে কখোনো মটুরাম বলবেন না।আমি থতমত খেয়ে বললাম-সরি ভাইয়া,আমি তো ফান করে বলেছি।আর কখোনো বলব না।এবার সে আগে চেয়েও বেশি উত্তেজিত হয়ে বলে-আহহা!মটুরাম নামটা তো কমন,আপনি আমাকে ভটু বা ভটুরাম বলেন প্লিজ...আমি ঢোক গিলে বলি-উকে।মাঝে মাঝে ভটুকে ফেবু কমেণ্টে কখনোও বা ভটু লিখলে সে বলে-আস্তে আপু সবাই জেনে ফেলবে।এই নামে আমাকে শুধু আপনি আর অনন্যা ডাকেন।আমি বললাম-অনন্যা কে?ভটু তখন মহা মহা টাইপের উত্তেজিত হয়ে বলতে শুরু করল অনন্যার কথা।তার ভালোবাসার মানুষ।আমি মাথা চুলকাই।আর সব কাহিনী শুনে আমার অনন্যাকে দেখার আগ্রহ বেড়ে যায়।মাঝে মাঝে ভটু আমাকে কোল্ড প্লে,সিস্টেম অফ এ ডাউনের গান পাঠায়...মেসেঞ্জারে এলে কমপক্ষে বিশ কি পঁচিশটা Buzzz দিয়ে চেক করে যে আমি ইনভিজিবল হয়ে আছি কিনা। খোমাবইতে ফেস বুকে গুষ্টি কিলাই টাইপের ষ্ট্যাটাস দেয় আর আমার ষ্ট্যাটাসে একই কথা বার তিনেক না লিখলে তা ভালই লাগেনা।যেমন_ “আপু কেমন আছেন?কেমন আছেন?কেমন আছেন?আমি কিন্তু ভালো আছি, ভালো আছি, ভালো আছি” আমিও ওর মত করে লিখতাম-দিব্যি আছি...দিব্যি আছি...দিব্যি আছি...দিন কে দিন চমৎকার একটা বন্ধুত্ব হয়ে যায় আমাদের।

একদিন জানতে পারি ভটুর মন খুব খারাপ কারন,অনন্যা তার ফ্যামিলি সহ লন্ডনে চলে যাচ্ছে।সেদিনই আমার কথা হয় অনন্যার সাথে।আমি কথা বলা শুরু করার আগেই সে একগাদা কথার ডালি খুলে বসে,আর সব কথাই হয় ভটুকে নিয়ে।সে ভটুকে নিয়ে সারাক্ষন ত্যক্ত ও টেনসিত থাকে,না জানি কখন ভটু কি না কি উদ্ভুট্টি কাজ করে বসে।অনন্যার সাথে কথা বলে আমার মনে হয় আমি ওকে অনেক দিন থেকে চিনি।আমিও যেন ওর খুব চেনা।পাগলাটে ভটু সেদিন অনেক খুশি হয়ে যায় তার প্রিয় দুইটি মানুষের গল্প হচ্ছে জেনে।এরপর অনন্যা লন্ডন চলে যাওয়ার মাসখানেক পর গত ডিসেম্বারের কনকনে শীতের এক রাতে ঘুম আসছে না বলে রাত প্রায় তিনটার দিকে মেসেঞ্জারে এসে দেখি তারা দুইজনেই অনলাইন।আমাকে দেখা মাত্রই তারা দুইজন কমপক্ষে বিশ,ত্রিশটা Buzz দিয়ে দিল।আর দুইজনের আমার সাথে গল্প করতে থাকল।অনন্যার কাছ থেকে জানা গেলো,রাত ৩টায় এই শীতের মাঝে ভটু শুধু একটা হাফ প্যান্ট পরে ছাদের রেলিং এ বসে অনন্যার সাথে চ্যাট করছে।অনন্যা এদিকে হা হূতাশ করছে।আমাকে বলল-প্লিজ আপু কিছু করেন।অমিত আপনার কথা শুনবে।আমার কোন কথাই সে শুনে না।আমি সাথে সাথেই ভটুকে ফোন দিয়ে বললাম-ভটু তুমি নাকি জন্মদিনের হাফ পোষাকে ছাদের রেলিং এ বসে আছ!কাহিনীকি?লাফটাফ দেওয়ার ইচ্ছে থাকলে দিয়ে ফেলো আর এমন কোন ইচ্ছে না থাকলে এক্ষুনি ঘরে যাও নইলে মাথা ভেঙ্গে ফেলব।ভটু দুঃখ দুঃখ গলায় বলে-আপনারে অনন্যা বলে দিসে তাই না?আর শান্তিতে থাকা গেল না।ভটুর দুঃখ ভাব আরও বেড়ে যায়।আর আমি অনন্যার অবস্থা চিন্তা করে হাসি।

মাঝে মাঝে হুট করে যদি কখনো ইনভিসিবল হয়ে অনেক রাতে ওনলাইনে আসি,তখন দেখি ওদের নাম দুইটা জ্বজ্বল করছে।আমি জানি আমাকে দেখলেই ওরা ২জন মিলে অনেকগুলো Buzz হয়ে বসবে আর একসাথে লিখবে আপুউউউউউউউউউউ কেমন আছেন?কেমন আছেন?কেমন আছেন?আমার কেন যেন এই বাচ্চা দুইটাকে ঘাটাতে ইচ্ছে করেনা।পৃথিবীতে মাঝে মাঝে অনেক অদ্ভুত সুন্দর সম্পর্ক দেখা যায়। :) ভটুর পাগলামি আর আর অনন্যা দুশ্চিন্তায় ভরা এই ভালোবাসা দেখতে আমার ভালো লাগে।গত মাসে ভটুর সাথে আমার পরিচয়ের ১বছর হল।গত পরশু এক জন্মদিনের পার্টিতে তার সাথে আমার দেখা।আমাকে দেখা মাত্রই তার চেহারা ১০০০ ওয়াটের বাল্বের মত করে ঝলসে উঠলো।এক ভাইয়া কে ডেকে বলল-ভাই প্লিজ আপুর সাথে আমার একটা পিক তুলে দেন না।ক্লিক ক্লিক করে সেই মুহূর্ত্বটি ফ্রেমে বন্দি হয়ে গেলো।আজ সকালে সেই পিক দেখে আমার মনে হল-মায়া খুব অদ্ভুত একটা জিনিষ,কে,কখন,কাকে,কেন,কি জন্য ভালোবাসবে,পছন্দ করবে তার আসলে কোন ঠিক নেই।মানুষের অনুভূতিগুলো সব সময় আমার মনে দাগ কেটে যায়।আজ আবারো তাই আরেকটি ছবি আমার সেই সাদামাটা মনের রংচঙ্গে বাক্সে বন্দি হল।

“I've learned that people will forget what you said, people will forget what you did, but people will never forget how you made them feel.”
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১২:৩১
২৯টি মন্তব্য ২৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×