অনেক দূরে একটা পাহাড় ছিল। মাথাটা ছিল গাছগাছালি দিয়ে ঢাকা।
২।
আমার জানালা দিয়ে সকালবেলা পাহাড়টা একেবারেই স্পষ্ট দেখা যেত। ভাবতাম, অন্তত একদিন আমি ওই পাহাড়টার পাদদেশে যাবো। তারপরে......
৩।
দিন যায়, মাস যায়। বছরটা ঘুরে আসে।
পাহাড়ের রঙ বদলায়। দুপুরের রোদে পাহাড়টা পুড়ে যায়, শেষ বিকেলের বৃষ্টিতে পাহাড়টা ভিজে একাকার হয়। সন্ধ্যায় পাহাড়টার ছায়া বেড়ে বেড়ে আমার ঘরে চলে আসে।
তাও আমার পাহাড়টার কাছে যাওয়াটা আর হয়না।
৪।
পাহাড়টা ঠিক যেন আমার ফেলে আসা শৈশবের মত।
অনেক দূরের......
আমি তাকে কখনো ছুঁতে পারিনা, অথচ প্রতি সন্ধ্যায় সে আমায় ছুঁয়ে যায়।
৫।
আমার ব্যলকনীর কার্নিশটা দিনে দিনে জ্বলে যায়, আর আমিও একা হতে থাকি।
সব থেকে আরো দূরে সরে যাই।
দূরে থাকাটা খুব ভালোভাবে বুঝে যাই, প্রতি সন্ধ্যাবেলায়।
৬।
সন্ধ্যা নামে।
রাতের আকশে তারাগুলো জ্বলে উঠে।
ঠিক এভাবেই হারিয়ে যায় প্রতিদিন, প্রতিরাত...
আমার স্বপ্নগুলো হারিয়ে যায়, রাতের নিস্তব্দতায়।
৭।
ঠিক এভাবেই কেটে যায়...
দিনের পর দিন...
মাসের পর মাস...
বছরের পর বছর...
৮।
তারপরে...
সবাই চলে যায়, বৃষ্টিতে ভিজিয়ে,
শুধু থেকে যায় স্মৃতিটা...
আমার সাঁঝবেলায়, আমার রূপকথায়।
আমার মাঝে মাঝে মনে হয়;
আমরা সবাই একটা চক্রে আটকে গেছি।
জীবনের এই গতিপথ;
পূর্ব-পশ্চিমে যেন এক নিছক অন্বেষণ...
সাদা-কালো এই পৃথিবী
কত মিথ্যে আয়োজন...
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে আগস্ট, ২০১০ বিকাল ৪:২২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


