somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার বিসিএস পরীক্ষা প্রদান

২৭ শে মে, ২০১১ দুপুর ১:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভোর সকালে মোবাইলে মায়ের কল শুনে ঘুম ভেঙ্গে গেল-অনেক কস্টে মোবাইল স্ক্রিনে দেখি মাত্র ৫.৩০। আমি আবার তলিয়ে গেলাম ঘুমের অতলে-তারপর আবার মায়ের ফোন- রিংটোনের ঝঞ্ঝনানি-আমার সুখের ঘুমের সমাপ্তি।মোবাইলে দেখি সকাল আটটা। আমি তড়িঘড়ি করে ঘুম থেকে উঠলাম। তারাতারি করে মুখে পানি দিয়ে প্রাতঃকর্ম সেরে এসে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি সকাল ৮-৩০। বুকের ভেতর আজন্ম ভয়ে ধুকপুক ধুকপুক শুরু হয়ে গেল।তাড়াহুড়া করে বাসা থেকে বের হলাম।বাসা থেকে বের হয়েই খেয়াল হল আমি নাস্তা করিনাই।

কি আর করা। বাসা থেকে বের হয়ে বিশ্ববিখ্যাত লেগুনায় ৬ জনের সাইট ৮জন আটাআটি করে বসলাম। ঊদ্দেশ্য ঢাকা কলেজ।কারণ সেখানেই আমার সিট পড়েছে।আটো সাটো করে বসার পরপরই লেগুনার লিটলমাস্টার ভাড়া চেয়ে বসল-যেন এখানে উঠাটাই একটা পাপ-সারা দেশে গ্যাসের দামের সাথে সাথে তেলে চলা টেমপো টেক্সির ও যে দাম বেড়ে গেছে সেটা আগে শুধু শুনেছিলাম-এখন হাড়ে হাড়ে টের পেলাম-কারন ফার্মগেট থেকে ঢাকা কলেজের ভাড়া আমাকে গুনে গুনে ১০ টাকা দিতে হল।
পরীক্ষার দিন তাই লেগুনা মাস্টার এর সাথে বতসা করলাম না। পকেট থেকে ভুক্তভুগিদের দলের সর্দার হিসেবে বের করে দিলাম ১০ টি মহামুল্যবান টাকা।
তারপর ........ ঢাকা কলেজের সামনে এসে নেমে পরলাম-গেইটে আমার রুমমেটের থাকার ক্তহা-তাকে দেখা যায়না- কি আর করা-সিট প্লান জেনে আমি ৫ নং গ্যালারিতে আস্লাম-তখন বন্ধু তার বোনের সাথে আসল। বন্ধুর বড় বোন ও বিসিএস দেবেন- ঊনি আমাকে সাথে নিয়ে গেলেন গ্যালারিতে-ঊনার ২য় বিসিএস-তাই অনেক পড়াশুনা করে এসেছেন-আমি তো কিছুই পড়ে আসিনাই।
পরীক্ষা হলে ঢুকে এবার সিট খুজার পালা।দিদি { বন্ধুর বড় বোন} সহসা ঊনার সিট খুজে পেলেও আমি কিন্তু আমার সিট খুজেই পেলাম না-তারপর এই রো ওই রো খুজে শেষে পেলাম-দিদি থেকে অনেক দুরে-আহারে কোন কিছুই দেখা যাবেনা।মন তা প্রচন্ড খারাপ হয়ে গেল।
আমি মন খারাপ করে বসে আছি-এমন সময় সামনে এসে বসল এক বিদ্যার জাহাজ- হাতে মোটা মোটা বই- চোখে বিরাট এক চশমা-আমি যেখানে কোন বই আনিনাই-সে সেখানে পরীক্ষার ২০ মিনিট আগে পড়ে উল্টায়া ফালাইতেসে-আমি মনে মনে জাহাজ টার জন্য আফসোস করলাম-আহা জন্ম তার আমার সামনে বসেই সার্থাক হল।
এর কিছুক্ষন পরেই রুমে এসে ঢুকল এক নীলপরী-পরীক্ষা নয় যেন তিনি এসেছেন বিয়া বাড়িতে- অবশ্য উনাকে নীল সাজে খারাপ লাগছেনা-কিন্তু সমস্যা হল-দিদির জন্য সুন্দরীর দিকে তাকাতে পারছিনা।
মনের ভেতর উথাল পাথাল-বাইরে ততক্ষনে বৃষ্টি- আহা কি পরিবেশ- এমন সময় তারে বলা যায়-এমন ঘন ঘোর বরিষায়
কিন্তু শেষ পর্যন্ত বলা হলনা- মনে প্রচন্ড ব্যাথা নিয়ে বসে আছি এমন সময়-পাশে এসে বসল এক কাদম্বিনী- আহা মনটা ভরিয়া উঠিল
উনি এসেই আমাকে বলল যাতে আমি তাকে প্রশ্ন গুলা দেখাই- আমি তাকে ও দেখাতে বলে দুজনে পরিচিত হলাম।
তারপর পরীক্ষা শুরু হল-দয়া করে কেউ একজন ঘন্টা বাজানোর সাথে সাথে-আমি মনযোগের সাথে প্রশ্ন দাগাতে লাগলাম- কিন্তু কিছুক্ষন পরেই মনযোগ ভন্গ- কারণ কাদম্বিনী আমাকে জিজ্বেস করছেন একটা প্রশ্নের উত্তর কি হবে- আমি জানতাম - যা জানতাম তাই বলে দিলাম- কিন্তু বলেই বোধহয় ভুল করলাম।একটার পর একটা প্রশ্নবান আসতে লাগল- আমি আসলে বুঝতে পারিনাই যে কাদম্বিনীর মুখমন্ডলে যতটা সৌন্দর্য তার মাথায় ততটাই গোবর ভরা।
যাই হোক আমি আপন মনে কাদম্বিনীকে প্রশ্নের উত্তর বলে গেলাম-আর নিজেও জিজ্বাসা করলাম কয়েকটা-যদিও বা সদুত্তর পেলাম- জানিনা ভাইয়া-
আমি ও কি আর করা মনে করে- উত্তর দিচ্চি এমন সময় হটাৎ দল বল নিয়ে মশককুল আক্রমন করল আমাদের- দূর্ভাগ্য ক্রমে আমি বসেছিলাম জানালার পাশে- তাই কামড় খাইতে খাইতে পায়ের চামড়া উঠে গেল- দেখি কাদম্বিনী ও অস্থির মশার কামড়ে- এমব সময় ক্লাসে র স্যার বলল- সময় মা্ত্র ৫ মিনিট- ততক্ষনে আমার মাত্র ৫০ টা দাগানো হয়েছে- আমি আর কি করা যা হয়েছে তা দিয়েই রুম থেকে বের হয়ে আসলাম-

কিন্তু -পরীক্ষা শেষে হাসতে হাসতে কাদম্বিনী রুম থেকে এক রাজপুত্রের হাত ধরে বের হতে হতে আমার দিকে তাকিয়ে বলল-
থ্যানইউ ভাইয়া-
তারপর সেই রাজপুত্রকে দেখায়া বলল-
এই জানো এই ভাইয়া না আমাকে সব প্রশ্ন দেখাইসে-কি ভাল না উনি----
আমি আর কি করব- রনে ভন্গ দিয়ে ধীরে ধীরে পরীক্ষার হল ত্যাগ করলাম...../:)/:)/:)


পুনশ্চ- ঐ কাদম্বিনীকে বলা আমার সকল উ্ত্তরই ছিলো ভুল;);)B-)B-)B-)
বিসিএস বইলা কথা
আপনাদের পরীক্ষা কেমন হইসে????:):):)
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১২ দুপুর ১২:৫৮
২৬টি মন্তব্য ২৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×