এই মাত্র আমি বাসায় ফিরে এলাম - গিয়েছিলাম এক বড় ভাই এর বিয়েতে- চট্টগ্রাম। ফেরার সময় যথারীতি বাসে করে ফিরছি। বাসএর সামনের দিকের এক কোনায় আমার সিট পড়েছিল-তাই আমি বেশ আরামেই ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে আসছিলাম। আমার পাশে এক ভদ্র লোক বসেছিলেন প্রায় ৪০-৪২ বছর বয়স হবে।
যথারীতি আমি কুমিল্লা বাস থামার সময় নামিনি। কারন সেই আলসেমি। এই সময় টা আমি ঘুমিয়ে কাটাই। সেদিনের সেই বোতলের ঘটনার পরে ও আমার শিক্ষা হয়নি।
আজ বাস ২০ মিনিটের যায়গায় ১৫ মিনিটে ছেড়ে দিল- কারন ভোর হতেই হরতাল। এজন্য বাস ড্রাইভার ও বেশ জোরে সোরে চালাচ্ছিল।
কিন্তু এর মাঝে এক সময় আমার ঘুম ভেংগে যায় এবং দেখি আমার পাশের ভদ্রলোক বুকে হাত দিয়ে গোঙাচ্ছে এবং এক দৃষ্টে সামনে বাসের কোনায় তাকিয়ে আছে। আমি ঊনার চোখ লক্ষ করে তাকিয়ে পুরো পুরি জমে গেলাম।
দেখলাম- বাস ড্রাইভার ঘুমাচ্ছে-স্টিয়ারিং এ মাথা রেখে। বাসের হেল্পার ঘুম, সাথে সুপারভাইজার ও ঘুম-বাস একা একা চলছে- এবং বাসের দুই কোনায় দুটো আগুনের হলকা। যেন বাসটাকে ওই আগুন দুটো টেনে নিয়ে যাচ্ছে।
আগুন যদি জ্বলে ও থাকে তাহলে সেটা যাবে সামনে থাকে পেছনে-কখনোই সেটা পেছন থেকে সামনে র দিকে এগিয়ে যাবেনা-কারন বাতাসের বেগ।
আমি যথেষ্ট ভয় পেয়ে যাই- পাশের লোকটা আরো অসুস্থ হয়ে পড়ে। আমি আর থাকতে না পেরে উঠেগেলাম সিট থেকে। চিৎকার করতে চাইলাম- কিন্তু কেন যেন গলা দিয়ে কোন শব্দ বে হচ্ছিলো না। শেষে কিছু করতে না পেরে-সামনে যাত্রিদের কে যে গ্রিল দিয়ে আটকানো থাকে সেই গ্রিল এ লাথি মারলাম তিনচার টা। সাথে সাথে সেই আগুন দুটো অদৃশ্য হয়ে গেল।
আরো তিনচার টা লাথি মারার পর-বাস ড্রাইভারের ঘুম ভাংলো। তারপর একে একে সুপারভাইজার ও উঠে বসল-বাস অনেক কষ্টে ড্রাইভার কন্ট্রোল করে নিয়ে এসে থামাল।ঐ ভদ্রলোক কে সামান্য প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হল বাসের মাঝেই। ভাগ্য ভাল যে বাসে এক ডাক্তারের কম্পাউন্ডার ছিলো যাত্রি হিসাবে। উনি সব করলেন।তারপর- সবাই মুখ হাত ধুয়ে আমার চালানো শুরু করল বাস।
ভালোয় ভালোয় আমরা পৌছালাম ঢাকা।
ভদ্রলোক কিছুটা সুস্থ বোধ করাতে উনাকে বাস থেকে নামিয়ে একটা রিকসা ঠিক করে দিয়ে আমি বাসায় ফিরে আসি।
সবকিছু ঠিক ছিলো শুধু ঐ আগুনের ব্যাপারটা আমাদের যাত্রি দুজন ছাড়া কেউ দেখেনি- এবং আমরা ভুল ও দেখিনি। তাহলে ব্যাপারটা কি ঘটেছিল?
ব্যাখা দিতে পারেন?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

