somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নিজভূমে পরবাসী, পরভূমে অধিবাসী

২৩ শে নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সিংগাপুর ফেরার সময় ঢাকা বিমানবন্দরে এক মহা সমস্যায় পড়েছিলাম। আমাকে পাসপোর্টের ভেতর ভিসা দেয়া হয় নি। তার বদলে সিংগাপুর মিনিস্ট্রি অফ ম্যানপাওয়ারথেকে একটা চিঠি দেয়া হয়েছিল। তাতে লেখা ছিল তারা আমার কোম্পানির রেজিস্ট্রেশনের আবেদন মঞ্জুর করেছে এবং সিংগাপুর ইমিগ্রেশন আমাকে একটা সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা দিয়েছে যাতে আমি ঐ দেশে গিয়ে কোম্পানির মালিক হিসেবে আমার স্থায়ী ভিসার প্রসেসিং শুরু করতে পারি। আমাদের দেশের ইমিগ্রেশনের লোকেরা ইংলিশ পড়তেই পারেনা! তারা ঐ চিঠিটা পড়তে না পেরে আমাকে বলল তারা আমাকে যেতে দিতে পারবে না কারণ আমার কোন ভিসা নেই! আমি বললাম আমি পড়ে দেই, কিন্তু তারা আমাকেও পড়তে দেবে না! তাদের হাতে পায়ে ধরা বাঁকিরেখে অনুরোধ করলাম তাদের উচ্চতর কর্মকর্তার সাথে আমাকে দেখা করিয়ে দেবার জন্য। সেটাও তারা করবে না! তারচেয়ে আমার চেহারা দেখার ব্যাপারেই তাদের বেশি আগ্রহ দেখলাম! শেষে তারা আমাকে তাদের উচ্চতর কর্মকর্তার কাছে নিয়ে গেল। দেখলাম কর্মকর্তা নন কর্মকর্তৃ। তিনি চিঠিটা পড়ে বুঝলেন এবং তাদেরকে বললেন আমাকে ছেড়ে দিতে। তিনি তাদের কে বললেন, আমার যদি সিংগাপুরে ঢোকার অনুমতি নাই থাকে তাহলে সিংগাপুরথেকেই আমাকে ফিরিয়ে দেয়া হবে, তাহলে তাদের সমস্যাটা কোথায়? তারপরও ওরা আমার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানান প্রশ্ন করে আমার আরও ২০ মিনিট সময় নষ্ট করে। শেষ পর্যন্ত ১ ঘন্টা পরে আমি বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন পার হলাম। এই লোকগুলোর সাথে আমাকে হাসি হাসি মুখ নিয়ে কথা বলতে হয়েছিল নইলে হয়তো আমার জন্য অন্য কোন সমস্যা তৈরী করত। এমনও হতে পারে তারা হয়তো টাকা চাচ্ছিল আর আমি বুঝিনি! অথচ সিংগাপুরে আমাকে কোন সমস্যা ছাড়াই ঢুকতে দেয়া হয়! এখন ভাবি আমার নিজের দেশের মানুষেরা আমাকে এভাবে হেনেস্থা করল আর বিদেশিরা আমাকে কত সহজেই তাদের দেশে আপন করে নিল!
৯টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×