somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিশেষ দিন!!

২৪ শে মার্চ, ২০০৯ সকাল ৯:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ ক্লিফের জন্মদিন। এমন একটা দিনে লিখতে ইচ্ছে করল। আমি কখনও কোনো কিছু প্লান করে করিনা। সব সময় শেষ মর্হুতে ডিসিশান নেই। :P

ফেব্রুয়ারী থেকে ভাবছি কি দেব ওকে ওর জন্মদিনে। ভেবে ভেবে সাড়া। কিছুই আমার পছন্দ হয় না। দোকানে যাই জন্মদিনের কার্ড দেখি, সুন্দর সুন্দর কথা লেখা তাতে। কিন্তু আমার মনে হয় ওতো আমার কথা নয়। বিশেষ মানুষটার জন্য ধার করা কোন কথা আমার নিতে ইচ্ছে হলোনা। /:)

জীবনে প্রথম প্লান করলাম কিছু করব বলে!!!! কিন্তু বুঝতে দেয়া যাবেনা আমি কি করছি ২৪ শে মার্চ সকাল ১২.০১মিনিটের আগে। এই ছিল আমার চ্যালেন্জ!! :)

মার্চের শুরুতে কোন এক উইক এন্ডে আমরা বেরুলাম সারাদিনের জন্য আউটিং এ। সাথে থাকলো আমার ক্যমেরা আর লেন্সেস !!!

সবুজাভ ধুসর চোখে ক্লিফ প্রশ্ন করল ক্যমেরা কেন? বললাম প্রাকটিস হবে। ;)

চার পাশের যা খুশি তাই ক্যমেরার ফ্রেমে ধরতে থাকলাম। এর সাথে নিলাম ক্লিফের প্রচুর ছবি...কিছু বলে কিছু না বলে। :P

দুপুরের পরে গেলাম বীচে। প্রচুর মজার ছবি তোলার সুযোগ পেলাম।

গেলাম একটা আর্ট গ্যলারিতেও। খুবই অন্য রকম কিছু পেন্টিং দেখলাম। ক্লিফ অভিভুত হয়ে গেল পেন্টিং গুলো দেখে। আর্টিস্ট মানুষের মুখের উপর কিছু ইফেক্ট ইউজ করেছে যা ক্লিফ খুব পছন্দ করল।

বাড়ি ফিরলাম খুবই টায়ার্ড হয়ে। ঘুমতে যাবার আগে ওকে জিঙ্গেস করলাম আজ সারাদিন ঘুড়ে তোমার সবচাইতে কোন জিনিসটা মনে ভাল লাগার দাগ কেটেছে?

সরল সবুজাভ ধুসর চোখে তাকিয়ে বলল "তোমার সাথে ঘুরে বেড়ান আর সেই পেন্টিংটা।"

পরের দিন ও আফিসের কাজে চলে গেল জাপান ১৫ দিনের জন্য। ওকে বললাম উকেন্ডে যখন ফ্রি থাকবে একটা লেখা লিখ তোমার নিজের জীবনের উপর। সে একটু অবাকই হলো শুনে....সাথে সাথে প্রশ্ন "কেন?" বললাম "তাতো বলা যাবেনা" ও আর কিছু জিঙ্গেস করল না, কারন সে জানে আমি অকারনে কিছু করিনা। তবে একটু অবাক কারন আমি কখনো প্লান করে কিছু করিনা।

সপ্তাহ খানেক পর সে লেখাটা পাঠাল ইমেল করে। দেখলাম সে চমৎকার লেখে!!:)

আর আমি এই সুযোগে ওর ছবি গুলো আর লেখাটা দিয়ে ওর জীবনের উপর একটা ছোট্টো ৮ পাতার বই আকারে ব্রোসিয়ারের মত বানালাম। তা প্রিন্ট করলাম, হাতে বাইন্ডিং করে মখমলের কাভার দিয়ে তা মুড়ে দিলাম। আর তাতে লিখে দিলাম আমার নিজের কথা দিয়ে লেখা বার্থডে উইশ !!! আর ব্রোসিয়ারের ডিজাইনের থীম ছিল সেই আর্ট গ্যলারিতে দেখা পান্টিং এর ইফেক্ট!!

২৩ তারিখ রাতে ক্যন্ডেল লাইট ডিনরা বানালাম বাড়িতে সাথে ছিল ৮ বছরের পুরোন রেড ওয়াইন!!! রাত ১১টা বাজে ক্লিফ ঘুমুতে গেল পরের দিন ওর অফিস আছে। আমি উত্তেজনায় ঘুমাতে পারছিনা। ঠিক রাত ১২ টার ৫ মিনিট আগে চুপি চুপি উঠে আমার দুপুরে কেনা ক্যনালের ছোট্টো কেকটায় মোম জ্বলালাম। ক্লিফ একটা এ্যন্টিক গীটার কিনেছিলো কিছুদিন আগে তাতে পার্লের কাজ করা "নীল", ওটার জন্য একটা স্ট্র‌্াপ দরকার ছিল ওর। কিনেছিলাম কালো লেদারের উপর নীল রুপালি কাজ করা একটা স্ট্র‌্াপ!! সেটা কাগজে মোড়ানোই ছিল।

মোম জ্বালানো কেক, আমার ডিজাইন করা ব্রোসিয়ার আর গীটারের স্ট্র‌্প টা নিয়ে যখন অন্ধকারের ভেতর গান গাইতে শুরু করলাম " হ্যপি বার্থডে টু ইউ....." ও চমকে ঘুম ভেঙ্গে উঠে বসল। রঙিন স্ট্রাপ ছিড়ে ো যখন ব্রোসিয়ার টা খুলল...... প্রচন্ড বিশ্বয় নিয়ে ওর সবুজ চোখে হতবাক হয়ে গেল।

এর পর প্রায় সারা রাত সে ঠিক মত ঘুমাতে পারল না। উপহার টা তার এতই পছন্দ হয়েছে যে বার বার বলতে থাকল .."আই কান্ট বিলিভ সামওয়ান ক্যন পুট সো মাচ এফোর্ট টু মেক মি ফিল সো স্পেসাল। আই ডোন্ট নো হোয়াট এলস টু সে ... থ্যংক্স এন্ড আই লাভ ইউ সো মাচ!!!"

আর আমি প্রুভ করাম নিজের কাছে আমিও চাইলে আর সবার মত প্লান করে কাজ করতে পারি হা হা হা!!! আপনাদের সাথে ভাল লাগাটা শেয়ার করলাম। ব্রোসিয়ারের কাভার পেজটা দিলাম এখানে।


সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে মার্চ, ২০০৯ সকাল ১১:১৮
৩৭টি মন্তব্য ৩৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×