ফেব্রুয়ারী থেকে ভাবছি কি দেব ওকে ওর জন্মদিনে। ভেবে ভেবে সাড়া। কিছুই আমার পছন্দ হয় না। দোকানে যাই জন্মদিনের কার্ড দেখি, সুন্দর সুন্দর কথা লেখা তাতে। কিন্তু আমার মনে হয় ওতো আমার কথা নয়। বিশেষ মানুষটার জন্য ধার করা কোন কথা আমার নিতে ইচ্ছে হলোনা।
জীবনে প্রথম প্লান করলাম কিছু করব বলে!!!! কিন্তু বুঝতে দেয়া যাবেনা আমি কি করছি ২৪ শে মার্চ সকাল ১২.০১মিনিটের আগে। এই ছিল আমার চ্যালেন্জ!!
মার্চের শুরুতে কোন এক উইক এন্ডে আমরা বেরুলাম সারাদিনের জন্য আউটিং এ। সাথে থাকলো আমার ক্যমেরা আর লেন্সেস !!!
সবুজাভ ধুসর চোখে ক্লিফ প্রশ্ন করল ক্যমেরা কেন? বললাম প্রাকটিস হবে।
চার পাশের যা খুশি তাই ক্যমেরার ফ্রেমে ধরতে থাকলাম। এর সাথে নিলাম ক্লিফের প্রচুর ছবি...কিছু বলে কিছু না বলে।
দুপুরের পরে গেলাম বীচে। প্রচুর মজার ছবি তোলার সুযোগ পেলাম।
গেলাম একটা আর্ট গ্যলারিতেও। খুবই অন্য রকম কিছু পেন্টিং দেখলাম। ক্লিফ অভিভুত হয়ে গেল পেন্টিং গুলো দেখে। আর্টিস্ট মানুষের মুখের উপর কিছু ইফেক্ট ইউজ করেছে যা ক্লিফ খুব পছন্দ করল।
বাড়ি ফিরলাম খুবই টায়ার্ড হয়ে। ঘুমতে যাবার আগে ওকে জিঙ্গেস করলাম আজ সারাদিন ঘুড়ে তোমার সবচাইতে কোন জিনিসটা মনে ভাল লাগার দাগ কেটেছে?
সরল সবুজাভ ধুসর চোখে তাকিয়ে বলল "তোমার সাথে ঘুরে বেড়ান আর সেই পেন্টিংটা।"
পরের দিন ও আফিসের কাজে চলে গেল জাপান ১৫ দিনের জন্য। ওকে বললাম উকেন্ডে যখন ফ্রি থাকবে একটা লেখা লিখ তোমার নিজের জীবনের উপর। সে একটু অবাকই হলো শুনে....সাথে সাথে প্রশ্ন "কেন?" বললাম "তাতো বলা যাবেনা" ও আর কিছু জিঙ্গেস করল না, কারন সে জানে আমি অকারনে কিছু করিনা। তবে একটু অবাক কারন আমি কখনো প্লান করে কিছু করিনা।
সপ্তাহ খানেক পর সে লেখাটা পাঠাল ইমেল করে। দেখলাম সে চমৎকার লেখে!!
আর আমি এই সুযোগে ওর ছবি গুলো আর লেখাটা দিয়ে ওর জীবনের উপর একটা ছোট্টো ৮ পাতার বই আকারে ব্রোসিয়ারের মত বানালাম। তা প্রিন্ট করলাম, হাতে বাইন্ডিং করে মখমলের কাভার দিয়ে তা মুড়ে দিলাম। আর তাতে লিখে দিলাম আমার নিজের কথা দিয়ে লেখা বার্থডে উইশ !!! আর ব্রোসিয়ারের ডিজাইনের থীম ছিল সেই আর্ট গ্যলারিতে দেখা পান্টিং এর ইফেক্ট!!
২৩ তারিখ রাতে ক্যন্ডেল লাইট ডিনরা বানালাম বাড়িতে সাথে ছিল ৮ বছরের পুরোন রেড ওয়াইন!!! রাত ১১টা বাজে ক্লিফ ঘুমুতে গেল পরের দিন ওর অফিস আছে। আমি উত্তেজনায় ঘুমাতে পারছিনা। ঠিক রাত ১২ টার ৫ মিনিট আগে চুপি চুপি উঠে আমার দুপুরে কেনা ক্যনালের ছোট্টো কেকটায় মোম জ্বলালাম। ক্লিফ একটা এ্যন্টিক গীটার কিনেছিলো কিছুদিন আগে তাতে পার্লের কাজ করা "নীল", ওটার জন্য একটা স্ট্র্াপ দরকার ছিল ওর। কিনেছিলাম কালো লেদারের উপর নীল রুপালি কাজ করা একটা স্ট্র্াপ!! সেটা কাগজে মোড়ানোই ছিল।
মোম জ্বালানো কেক, আমার ডিজাইন করা ব্রোসিয়ার আর গীটারের স্ট্র্প টা নিয়ে যখন অন্ধকারের ভেতর গান গাইতে শুরু করলাম " হ্যপি বার্থডে টু ইউ....." ও চমকে ঘুম ভেঙ্গে উঠে বসল। রঙিন স্ট্রাপ ছিড়ে ো যখন ব্রোসিয়ার টা খুলল...... প্রচন্ড বিশ্বয় নিয়ে ওর সবুজ চোখে হতবাক হয়ে গেল।
এর পর প্রায় সারা রাত সে ঠিক মত ঘুমাতে পারল না। উপহার টা তার এতই পছন্দ হয়েছে যে বার বার বলতে থাকল .."আই কান্ট বিলিভ সামওয়ান ক্যন পুট সো মাচ এফোর্ট টু মেক মি ফিল সো স্পেসাল। আই ডোন্ট নো হোয়াট এলস টু সে ... থ্যংক্স এন্ড আই লাভ ইউ সো মাচ!!!"
আর আমি প্রুভ করাম নিজের কাছে আমিও চাইলে আর সবার মত প্লান করে কাজ করতে পারি হা হা হা!!! আপনাদের সাথে ভাল লাগাটা শেয়ার করলাম। ব্রোসিয়ারের কাভার পেজটা দিলাম এখানে।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে মার্চ, ২০০৯ সকাল ১১:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


