somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অবশেষে ঘুম পাওয়া-১

২৭ শে এপ্রিল, ২০১১ সকাল ৯:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শ্রাবন কে এয়ার পোর্টে নামিয়ে দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে আমার গা রিনরিন করে ঘুম পেল। ব্রেনের চেনা আচরন। ব্রেন নিতে চায় না কোন মন খারাপ করা বা না ভাল লাগা মুহুর্ত। এমনই হয় সব সময়। যখনই মন খারাপ করে বা টেনশনে থাকি আমার গা কঁাপিয়ে ঘুম পায়। মনের সাথে ব্রেন আর শরীরের একটা যুদ্ধ হয় কিছুক্ষন তার পর মনের পরাজয় হয় আর ব্রেনের জয়...আমার জন্য অবশ্য সেটাই ভাল ;)

গাড়ি থেকে নেমে উপরে উঠে কোন কথা না বলে সোজা বিছানায়। ক্লিফ কিছু বলে না আমাকে। এসে ব্লাইন্ডটা টেনে ঘর অন্ধকার করে এয়ারকন ছেড়ে দিয়ে দরজা বন্ধ করে বাইরে গিয়ে হয়তো বসে। আমার আর কোন কিছু জানতে ইচ্ছে করেনা। ঘড়িতে দেখলাম দুপুর ২.৩০। ভাবলাম শ্রাবন এতক্ষনে নিশ্চই চেক ইন করেছে...তারপরেই আর কিছু মনে নেই।

অসাধারন এক অন্যরকম স্বপ্ন দেখলাম। কেমন যেন অশরীরি-শরীরে রোদের সাথে দেখা করতে গেছি। সব যেন এত বাস্তব যে যখন নিজের অবস্থানে ফিরে এলাম স্বপ্নে, বাস্তবেও তাই হলো.....। এ কিছুটা বর্ননার অতিত- শব্দটাকি ঠিক হলো?

মোবাইলের শব্দে পুরোটা ধরায় ফিরে এলাম একটু বিরক্ত হয়েই। ফোনটা ক্লিফকে ধরিয়ে দিয়ে আবারও বিছানায়, দেখি বিকেল ৫.৩০। মনে পরে গত দু সপ্তাহর সময় গুলো। এত তাড়াতাড়ি কি করে চলে গেল? মনে হলো এইতো সেদিন .....

সন্ধে ৭.৩৫, এখনও প্লেনের ভেতর ঝুলে আছি। ঝুলেই তো আছি! ল্যান্ড করার কথা সন্ধ্যে ৭.৩০শে আর এখনও প্লেন আকশে চক্কর দিয়েই চলছে ব্রিসবেনের আকাশে। ওয়েদ্যার খারাপ জন্য ল্যান্ড করতে পারছেনা, অনেকটা নিচে নেমে গিয়েও আচমকা সঁাই সাঁই করে উপরে উঠে গেল। উপরে ওঠার পথে আমাদের বাড়িটা চোখে পরল। ভাবলাম শ্রাবন নিশ্চই এতক্ষনে ব্যালকনিতে বসে রিল্যাক্স করছে আর ভাবছে আমার এত দেরি হচ্ছে কেন, হয়তো এই প্লেনটাকেই চোখের সামনে দেখছে কিন্তু জানছেনা ওতেই আমি আছি ;)। মন ছট ফট করতে থাকলো নিচে নামবার জন্য। প্লেনটা আরো কয়েকবার ল্যান্ড করার ব্যর্থ চেষ্টা চালালো।

আমাদের বাসাটা এয়ারোর্টের খুব কাছে সাগরের বেয়ের এক কোনায় বলে খেয়াল করলে প্লেন থেকেও চোখে পরে। আমি দেখছি আমাদের বাড়িটা যেখানে একজন আমার ফেরার অপেক্ষায়....। আর আমি গত আধা ঘন্টা আকাশে ঝুলে বেরাচ্ছি X((

৮টা বেজে কিছুটা হলে তবে আবারও প্লেন নিচে নামার চেষ্টা শুরু করল। ৮.৪৫শে মাটিতে পা দিয়ে আর আমার তর সয়না :#) । ইমিগ্রেশন আর কাস্টম সেরে ট্যাক্সিতে উঠেই মোবাইল অন করে শ্রাবন কে ফোন করে জানালাম ল্যান্ড করেছি দেরিতে আর এখন অন দ্যা ওয়ে হোম। উত্তেজনায় দু'জনই অস্থির B-)) । ক্লিফকে ফোন করে জানালাম ল্যান্ড করেছি। এ আমাদের এক ধরনের নিয়মের মত যখনই কোথাও আমার ফ্লাই করি ল্যান্ড করার সাথে সাথে একজন আরেক জনকে ফোন করে জানাই ঠিক মত ল্যান্ড করলাম কিনা :)

ঘরে ঢুকতেই শ্রাবন আমাকে Warm hug দিয়ে রিসিভ করল!! ভাল লাগায় মন ভরে গেল :)। দু'জন মিলে কত প্লান করেছি গত এক মাস ধরে!!! অপেক্ষার সময় যেন আর শেষ হচ্ছিল না....অবশেষে আমরা সেখানেই ;)



রান্না সেরে, ডিনার সেরে দু'জন ব্যালকনিতে মোম জ্বালিয়ে সাগরকে সামনে



রেখে আড্ডা শুরু করলাম আর একটু পর পর ছবি তুলে ফেসবুকে দেই নতুন নতুন স্ট্াটাস দিয়ে ;)



ফোন করে দিদি ( সুরঞ্জনা ) ও পারভিন আপুকেও সংগে নিলাম আড্ডায়। আমরা দুজন যেন দিদির কোলে মাথা রেখে আকাশের তারা দেখে আর সাগরের শব্দ শুনে পারভিন আপুর মিষ্টি মিষ্টি মজার কথায় হেসে কুটিপাঠি ;)



এমনই সময় নাআমির হিংসিত কথা ভেসে এল ফেসবুক...অবশেষে ফোনে। বেচারা যেন আর পারছেনা আমাদের ছেড়ে থাকতে। পারলে তখনই সে উড়ে আসে আমাদের এই সাগর পাড়ে। ওর আবার পরিক্ষা কাল। ঠিক হলো কাল পরিক্ষার পর সে সোজা চলে আসবে এখানে...আহ জম্পেস আড্ডা হবে কাল ;)

তা বলে আজও আমরা থেমে নেই। আড্ডা চলল রাতের গভিরতা কে উপেক্ষা করেই তার সাথে চমৎকার সব গান আমার কালেকশন থেকে



neil diamond red red wine

অথবা
Michael Bublé - Home

বা একেবারে সালসা ও সাম্বায় দু'জন মাইকেল বুবলের সাথে তাল মেলাই

Michael Bublé - Save The Last Dance For Me

নিচে নেমে সাগরের পাড়ে দৌড়াই দুজন আলো আঁধারিতে। প্রচন্ড বাতাস সেদিন আর তার সাথে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি নেমে আসতে আবার ঘরে ফিরে আসা দু'জনের।

আবার কালকের জন্যও প্লান করি দু'জন বসে। কোথায় কোথায় যাব কি করব সারাদিন। আমাদের লিষ্টটা লম্বাই হতে থাকে শুধু উমমমম.......স্কার্ব্রা তে ফিশ এন্ড চিপস খাওয়া, মাছ কেনা, রেডক্লিফে পপ বায়, সিটিতে যাওয়া..... আহ আরো কত কিছু ...

.......................এত তাড়াতাড়ি চলে গেল কেন দিন গুলো? :(

চলবে......
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে এপ্রিল, ২০১১ সকাল ৯:৫৫
৩৩টি মন্তব্য ৩২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×