বন্ধু শিল্পির সাথে লাঞ্চ ডেট ছিল সেদিন। শহরে কোথাও বসে চুটিয়ে কিছুক্ষন আড্ডা দেয়ার পরিকল্পনা। সকাল থেকেই মন উরু উরু তাই....প্লান করি এই কাপড় পরি নাকি সেই কাপড় পরি! খুজে পেতে বছর তিনেক আগের কেনা আমার একটা প্রিয় কাপড় সিলেক্ট করলাম। কাপড়টা গত ১ বছরে পরা হয়নি তাই মন খুশি...কারন পুরোনো কাপড় অনেক দিন পর পরতে আমার ভাল লাগে। তাছারা কাপড়টার সাথে অনেক আনন্দের স্মৃতিও রয়েছে। ঠিক যাবার আগে কাপড়টা পড়তে গিয়ে দেখলাম এর ভেতর নিজেকে ঢোকানো এক দুরহ ব্যপার। কোন মতে যদিও ঢোকান গেল, তবে তাতে আয়নার সামনে নিজেকে দেখতে উৎকট লাগল, এই কাপড়ের ভেতরে ঢুকে স্টাচু হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া আর কিছু করা যাবে বলে মনে হলো না। বরং খোলাটাই হয়ে উঠল কঠিন ব্যপার
পর পর কয়েকটা প্রিয় কাপড় এর পর ট্রায় করতে গিয়ে ব্যর্থ হলাম পরতে
যেই ভাবা সেই কাজ....দুজন মিলে সকালে সন্ধ্যায় হন্টন চালাতে থাকলাম তার সাথে প্রচুর সব্জি ঢুকে গেল খাদ্য তালিকায় আর সময় মেনে কার্ব হাইড্রেট খাওয়া। আমরা থাকি উডিপয়েন্ট জেটিতে, সেখান থেকে সামনের ব্রিজটা ৩কিমি লম্বা। আমরা হেটে ব্রিজ পর্যন্ত যাই আর ফিরে আসি। তাতে ৩+৩= ৬কিমি হাটা হয় এক দফায়। আর বাড়ির পেছন দিকে গেলেও হাটা পথের মার্কিং দেখে ৩কিমি হেটে গিয়ে আবার ফিরে আসা। এই ৬কিমি হাটতে আমাদের ১ ঘন্টা সময় লাগে। কখনও সকালে বিকেলে দুবার হাটি আবার কখনও শুধু বিকেলে হাটা হয় ডিনারের পরে।
এক ছুটির দিনে সময় বেশি থাকায় বাড়ির পেছনে হাটতে গিয়ে সকালে হেটে আসা হয়েছে ১০কিমি। বেশ ক্লান্ত হলাম সেদিন, ব্যাথায় পা টনটন করছে, তবে দুপুরের আবার একটু সতেজ হয়ে উঠতেই ভাবলাম সন্ধ্যায় শুধু হালকা করে ব্রীজ পর্যন্ত ৬কিমি আস্তে আস্তে হেটে আসব কারন সকালের হাটা থেকে এখনও কিছুটা টায়ার্ড। যাই হোক, হাটতে হাটতে ব্রীজে পৌছে ক্লিফকে জিঙ্গেস করলাম ব্রীজ পার হতে চায় কিনা। সে আমাকে ব্রীজ কত লম্বা জিঙ্গেস করল। আন্দাজে বললাম কত আর হবে মাইল খানেক! এই শুনে সে রাজি হয়ে গেল ব্রীজ পারি দিতে। হিসেব মতে বাড়ি ফেরা পর্যন্ত ৭ থেকে ৭.৫কিমি হাটা হবে।
আধা ঘন্টা হাটবার পরেও যখন ব্রীজের মাঝখানে পৌছাতে পারলাম না তখন ক্লিফ আমার দিকে সন্দেহের চোখে তাকিয়ে বলে, "Ar you sure this bridge is 1k long??"। আমি অন্য দিকে তাকিয়ে মিন মিন করি, "That's what i though, do you want to go back from here? We can go back if you want to"! সে বলল, "Nah let's do it..we crossover"। "পদ্মা নদির মাঝি" ছবিতে রুপা গাংঙুলি বলেছিলেন, "হায়রে পুরুষ"! সে হয়তো অন্য কারনে বলেছিলেন কথাটা তবে আমার এই সময় মনে হলো সেই কথাটাই, "হায়রে পুরুষ জীবন যাবে যাক তবু হার মানতে রাজি নয়"। ব্রীজের ওপাড়ে পৌছে উদ্ধার করলাম ব্রীজটা ৩কিমি+ লম্বা।
এবার আসল কথায় আসি....তো এই হাটা হাটি আজ অবদি চালিয়ে যাচ্ছি। ফল ও পেয়েছি ৩ সপ্তা'র ভেতরই। আমি সহজেই ঢুকতে শুরু করেছি আমার পুরোনো কাপড়ে আর সেটা পড়ে স্টাচু হবার সম্ভবনাও দুর হয়েছে। তো এই রোজ রোজ হাটা হাটি করতে গিয়ে পথে অনেক হন্টন প্রেমিকদের সাথে দেখা হয়। একটু পর পরই হাই হ্যালো করতে করতে প্রানাতিপাত আরকি। মাঝে মাঝে ভোরে ঘুম চোখে মেজাজ খারাপ নিয়ে হাটতে গেলে হাই হ্যালো করার মতন মুড থাকে না
একটা ব্যপার চোখে পরে যারা রোজ হন্টনে আসেন তারা সাথে তাদের কুকুরদেরও নিয়ে আসেন....কুকুরের শরীর চর্চা আর হাগু/মুতু সারিয়ে নেন এই ফাকে....এক ঢিলে দুই পাখি মারা আরকি
এই লেখাটিও পরতে পারেন
Dogs Really Do Look Like Their Owners
কিছু দিন আগে আবার রিসেন্টলি রিলিজ পাওয়া একটা মুভি দেখলাম নাম "Red Dog"। সেটা দেখে হাপুস হুপুস কান্না করলাম হলের অন্ধকারে বসে। তো এখন ব্যপার হচ্ছে গত কিছু দিন হলো আমি নিজেও কুকুর প্রেমি হয়েছি আর পেট হিসেবে একটা কুকুর নেবার কথা সিরিয়াসলি ভাবছিলাম। মনে মনে প্রমাদ গুনি আমি তাহলে কোন কুকুরের মতন দেখতে? কুকুর আমাকে চিনে নেবে নাকি আমি আমার চেহারার কুকুর চিনে নেব???
একটা অপ্রাসঙ্গিক কথা বলি সব শেষে। আমি কিছু দিন থেকে বেশ কিছুটা অসুস্থ। তো সেই কারনে হাসপাতালেও থাকতে হলো এক রাত। সেখানে সেদিন চারজন মানুষ হসপিটালে একই সময় অনেকটা একই ধরনের কমপ্লেইন নিয়ে ভর্তি হয়েছিল। তাদের মাঝে আমি একজন। দুজনের ছিল হাই ব্লাডপ্রেশারের কারনে হার্ট এ্যাটাক, আমার হাই ব্লাডপ্রেশার ও বুকে ব্যথা আর চতুর্থ জনের ছিল ড্রাগ ওভার ডোজ। আমরা চারজনই একই ঘরে পাশাপাশি বিছানায় ছিলাম। দুজন হার্টএ্যাটাকের পেশেন্টকে সতেজ হয়ে উঠতে দেখলাম আমার পাশেই। রাতে ঘুমোতে যাবার আগে স্বাভাবিক ভাবে কথা বলতে দেখলাম তাদের প্রিয়জনের সাথে....আমাকেই হাই বলল হেসে। পরদিন সকালে আমি একাই বাড়ি ফিরে এলাম.......ওদের তিনজনের বাড়ি ফেরা হলো না। রাতে মৃত্যু আমার এত কাছ দিয়ে হেটে গেছে আমি জানতেও পারলাম না..........। যারা বেঁচে আছেন প্রাণ ভরে স্বাস নিন আর আনন্দে বঁাচুন। মনের সব ইচ্ছা গুলোকে পূরণ করুন, যদিও সেটা শুধু মাত্র, আকাশে ঘুড়ি ওড়ানো বা লাটিম নিয়ে খেলা আথবা পুতুলের বিয়ে দেবার মতন যত Silly ই হোকনা কেন....বড় হয়েছেন বলে সেই শখ গুলোকে দুরে সরিয়ে না রেখে শখ গুলো পূরণ করুন......জীবন একটাই আর সেটা খুবই ছোট, শখ আল্লাদ বলে একটা কথা আছেনা??
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জানুয়ারি, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:২৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



