চলচিচত্রকার জহির রায়হান যিনি নিখোজ হন ৩০ শে জানু ১৯৭২ সালে।
বুদ্ধিজীবী হত্যা ও জহির রায়হান নিখোজ রহস্য জানা গেছে, ’৭১- এর ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জিত হওয়ার পর বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড তদন্তের প্রথম উদ্যোগ নেন জহির রায়হান।
১৯৭১ সালের ডিসেম্বরের ১৮ ,মতান্তরে ২৯ তারিখে বেসরকারীভাবে গঠিত "বুদ্ধিজীবী নিধন তদন্ত কমিশন" এর রিপোর্ট ও আলোর মুখ দেখেনি । ঐ কমিটির ছিলেন জহির রায়হান।
কমিটিতে আরও ছিলেন সৈয়দ হাসান ইমাম, এহতেশাম হায়দার চৌধুরী, এনায়েতুলাহ খান, ডঃ সিরাজুল ইসলাম, বাশরাত আলী প্রমুখ। ডঃ আলাউদ্দিন আল আজাদ কমিটিতে প্রথমে থাকলেও পরবর্তীতে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নেন। ২২ ডিসেম্বর জাতীয় প্রেসকাবে একটি অস্থায়ী অফিসে কমিটি তার কাজ শুরু করে নেন।
সংশিষ্ট সকলের কাছে এ বিষয়ে তথ্যাবলী চেয়ে গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেয়া হয়। প্রচুর সাড়া পাওয়া যায়। বুদ্ধিজীবীদের কাছে ঘাতকদের সবুজ কালিতে স্বারিত চিঠির কপি, বদর বাহিনীর কমান্ডারের ডায়েরি, প্রত্যদর্শীর স্যা এ ধরনের প্রচুর তথ্য জমা হতে থাকে। জহির রায়হানের অন্তর্ধানের পর কমিটির অন্য সদস্যরা প্রাপ্ত সব তথ্য নিয়ে বঙ্গবন্ধুর কাছে যান। বঙ্গবন্ধু সব তথ্য এন.এস.আই- এর তৎকালীন প্রধান নূরুল মোমেন খান মিহিরের কাছে দিতে বলেন। সে অনুযায়ী জমা দেয়া হয়। সর্বশেষ সেগুনবাগিচায় একটি সরকারি অফিসে তিন ট্রাঙ্ক ভর্তি সেইসব দলিলপত্র জমা ছিল। কিন্তু এখন আর বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ড অনুসন্ধানে দেশের প্রথম এবং শেষ তদন্ত কমিটির সেইসব দলিলের কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।
অন্যদিকে জানা গেছে, জহির রায়হান নিখোজ হয়ে যান ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি। তিনি মিরপুর ক্যান্টনমেন্টে তার ভাই শহিদুলাহ কায়সারের খুনের ব্যাপারে খোঁজ করতে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে যান। এরপর তার হদিস সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কিছুই জানা যায় নি। তবে ১৯৯২ সালের ১ মে বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায় ও বিশিষ্ট সাংবাদিক বুদ্ধিজীবী শাহরিয়ার কবিরের এক সাাৎকার থেকে জানা যায়, ১৯৭২ সালের ৩০ শে জানুয়ারি দুর্ঘটনায় জিহির রায়হান হয়তো মারা যাননি। তারপরও দীর্ঘদিন তাকে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছিল। মিরপুরে দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হলে গভীর ষড়যন্ত্র মনে করার কোন কারণ ছিল না।
বুদ্ধিজীবীদের হত্যার তদন্ত করতে গিয়ে তিনি এমন কিছু তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন যা অনেক রথী মহারথীর জন্যই বিপজ্জনক ছিল। যে জন্য তাকে সরিয়ে ফেলার প্রয়োজন হয়েছিল।’ একমাত্র মামলা ঝুলে আছে ৫ বছর আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আইনে শহীদ বুদ্ধিজীবী হত্যা মামলা দায়েরের বিষয়টি ৫ বছর ধরে ঝুলে রয়েছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট প্রস্তাবনা দিলেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সে আলোকে মামলা দায়েরের অনুমতি দেয়নি।
অথচ বুদ্ধিজীবী হত্যা মামলাটির চূড়ান্ত রিপোর্ট দেওয়া হয়েছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে। পরে মামলার নথিটিও উধাও করে দিয়েছে তৎকালীন সরকার।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


