অনুপচেটিয়াকে ফেরত পাচ্ছে ভারত। মূলত ঢাকা-দিল্লী বন্দি বিনিময় চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে অনুপচেটিয়াকে ফেরত চায় ভারত। অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু হত্যার মামলার শাজা প্রাপ্ত আসামীসহ বাংলাদেশের শীর্ষ সন্ত্রাসী,হরকাতুল জিহাদ নেতা মুত্তাকিন ও মুরসালিনসহ আত্মগোপনে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসীদের ফিরে পাওয়া বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য। এ ছাড়াও সাজাপ্রাপ্ত আসামি নাকি আটক বন্দি বিনিময় হবে কি না সে বিষয়টি আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে নিশ্চিত হওয়া যাবে। বাংলাদেশের সঙ্গে সন্ত্রাস দমন চুক্তিতে ভারতের প্রধান টার্গেট অনুপ চেটিয়াকে ফিরে পাওয়া।
তবে উলফা চেয়ারম্যান অরবিন্দু রাজখোয়া ও ডেপুটি কমান্ডার রাজা বড়ুয়াকে কোন প্রকার চুক্তি ছাড়াই ভারতের হাতে তুলে দেয়ে বাংলাদেশ।
গত পহেলা ডিসেম্বর উলফার চেয়ারম্যান অরবিন্দু রাজখোয়া ও ডেপুটি কমান্ডার রাজা বড়ুয়া মেঘালয় রাজ্যের বাংলাদেশ সংলগ্ন ডাউকি সীমান্ত পয়েন্টে বিএসএফের হাতে ধরা পড়েন। উলফার সামরিক শাখার কমান্ডার পরেশ বড়ুয়া দাবি করেছেন, এই দুইজনকে বাংলাদেশের ঢাকা থেকে গ্রেফতার করে ভারতীয় বিএসএফের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ভারতে সফরশেষে দিল্লীতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে দুই দেশের মধ্যে বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি হবে কি না।।ভারতীয় এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন,‘আমি মনে করি, সন্ত্রাসবাদ দমনে যেসব চুক্তি হয়েছে তা পর্যাপ্ত। এ চুক্তির আওতায় যদি আমরা কাজ করতে চাই, আমি মনে করি আমাদের একসঙ্গে কাজ করা সম্ভব। বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।’ এ চুক্তির আওতায় ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী উলফা নেতা অনুপ চেটিয়াকে বাংলাদেশ ফেরত দেবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি কোন একজনের নাম নিয়ে এখানে আলোচনা করতে আসিনি। ভারতেও বাংলাদেশের অপরাধী রয়েছে। এটা দুই দেশের অভিন্ন সমস্যা’।
অনুপ চেটিয়া ১৯৯৭ সালের ২১ ডিসেম্বর ঢাকার মোহাম্মপুরের তাজমহল রোডের একটি বাসা থেকে গ্রেফতার হন। অনুপ চেটিয়া বর্তমানে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি আছেন।
ঐ সময় তার কাছ থেকে বাংলাদেশী পাসপোর্ট, স্যাটেলাইট টেলিফোন ও ১৬টি দেশের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা উদ্ধার করা হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে পুলিশ বাদি হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় বৈদেশিক মুদ্রা আইনে একটি মামলা দায়ের করে। পরে পাসপোর্ট আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে তার বিরুদ্ধে আরো তিনটি মামলা হয়। এসব মামলায় আদালত তার বিরুদ্ধে জরিমানাসহ বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়। অনুপ চেটিয়ার প্রথম পর্যায়ের কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ হয় ২০০৩ সালের ২৫ আগস্ট।
চারটি মামলায় ১১ হাজার টাকা জরিমানা পরিশোধ না করায় আরো দেড় বছর কারাদণ্ড ভোগ করেন তিনি। সে হিসাবে তার কারাদণ্ডের মেয়াদ ছিল ২০০৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। সাজার মেয়াদ শেষ হলেও অনুপ চেটিয়াকে মুক্তি না দেয়ায় ২০০৩ সালের আগস্ট মাসে তার পক্ষে হাইকোর্টে রিট করে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা। পরে অনুপ চেটিয়ার রাজনৈতিক আশ্রয় লাভের বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়ায় তাকে কারাগার থেকে ছেড়ে দেয়া যাবে না মর্মে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।
২০০৮ সালের ৭ ডিসেম্বর অনুপ চেটিয়া কারাগারের মাধ্যমে জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচআর) কাছে তাকে শরণার্থী এবং বাংলাদেশে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রদানের আবেদন করেন। গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে অনুপ চেটিয়াকে ময়মনসিংহ কারাগার থেকে রাজশাহী কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। অনুপ চেটিয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশে ভারতের প্রায় সাড়ে ৩শ’ বন্দি রয়েছে। এদের কারো কারো সাজার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। সন্ত্রাস দমন চুক্তির আওতায় এরাও দেশে ফিরতে পারবেন।
এদিকে ভারতে বাংলাদেশের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার হরকাতুল জিহাদের দুই নেতা মুত্তাকিন ও মুরসালিন গ্রেফতার রয়েছে। এছাড়া ঢাকার ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর বেশিরভাগই পশ্চিমবঙ্গে আত্মগোপন করে আছে। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ঐ দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরর কাছে ২০ শীর্ষ সন্ত্রাসীর একটি তালিকা দেয়া হয়েছে। এই তালিকার মধ্যে মাত্র দুই জন ভারতের জেলে বন্দি রয়েছে। বাকি ১৮ সদস্য হলো তানভীরুল ইসলাম জয়, তানভীরুজ্জামান, নাসির উদ্দিন, খোরশেদ, তৌফিকুল আলম, শাহীন সিকদার, নব উত্তম সাহা, মফিজুর রহমান, গোলাম ফারুক কচি, শাহাজাদা, এমটি বাবু, নবীর হোসেন, শাহাদত, ডাকাত শহীদ, জিসান, মকবুল হোসেন ও ইমাম হোসেন ভারতে আত্মগোপন করে আছে।
ভরতের স্বাধীনতাকামী সংগঠন উলফার নেতাদের ভারতের হাতে তুলে দিয়ে বাংলাদেশ নিজ দেশেই যুদ্ধ টেনে আনছে। কেননা ভারতের ভাষায় উলফা সন্ত্রাসী গোষ্টি। তবে বাংলাদেশ তাদের সন্ত্রাসী গোষ্ঠি বলতে পারে না। আমরা যেমন ৭১সালে পাকিস্তান স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করে ছিলাম,তেমনি উলফারাও ভারত থেকে স্বাধীন হওয়ার জন্য লড়াই-সংগ্রাম করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের ৭১চেতনার জায়গায় দাড়িয়ে উলফার স্বাধীনতার দাবিকে বিরোধিতা বা তাদেরকে সন্ত্রাসী বলতে পরি না। আর যদি বাংলাদেশ ভারতের সাথে কন্ঠ মিলিয়ে তাদেরকে দমন করার চেষ্টা করে,তাহলে বাংলাদেশকে উলফারা তাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের কাটা মনে করবে। এ কারনে বাধ্য হয়ে উলফা বাংলাদেশ ও ভারতের বিরুদ্ধে এক সাথে যুদ্ধে নামবে। এতে করে বাংলাদেশ উলফা আর ভারতের মধ্যকার যুদ্ধের মাঠে হিসেবে পরিণিত হবে। সম্প্রতি ভারতকে চট্রগ্রাম বন্দর ব্যাবহারে অনুমতি দেয়ায় আরো ঝুকিতে পড়েছে বাংলাদেশ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


