somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভারত,বাংলাদেশের বন্ধু না শুত্রু ?

২১ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

স্বাধীনতার ৩৮বছরে ভারত বাংলাদেশ সম্পর্ক বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরণের মোড় নিয়েছে। কখনো ভারতকে আমাদের বন্ধু আবার কখনো শূত্রু হিসেবে রাজিনিতক দলগুলো জনগণের সামনে উপস্পাপন করার চেষ্টা করা হয়। এতে জনগণও তাদের নাচে। কিন্তু কেন ভারত বিরোধীতা কিংবা ভারতকে বন্ধু হিসেবে দেখবো,এটা কেউ বুঝানোর চেষ্টা করে না। অর্থাৎ সস্তাভাবে যেমন ভারত বিরুধিতা করা হচ্ছে,ঠিক একই ভাবে ভরতকে বন্ধু ভাবছি আমরা।
ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক বৈচিত্র্যমুখী এবং নানা বৈশিষ্ট্যে ভরা। ভৌগোলিক বিবেচনায় বাংলাদেশ ভারতবেষ্টিত। প্রায় ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার লম্বা ভারত-বাংলাদেশের সীমান্ত। কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে এবং তা বিদ্যুতায়িত করে পুরো সীমানাকে সুরক্ষিত করার কাজে ভারত অনেকটা এগিয়েছে। বাংলাদেশের তুলনায় ভৌগোলিক, আর্থিক, সামরিক বিবেচনায় ভারত অনেক বড়। একটি বড় প্রতিবেশীর পাশে বাংলাদেশ একটি ক্ষুদ্র রাষ্ট্র। এই রাষ্ট্রের স্বাধীনতা সংগ্রামে ভারত প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করেছে। আবার বাংলাদেশ স্বাধীন হবার স্বল্পতম সময়ে বাংলাদেশ থেকে তার সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করেছে। বাংলাদেশের মধ্যে প্রবাহিত ৫৪টি নদীর উৎসমুখ ভারতে। ৫৪টি নদী নিয়ে ভারতের সঙ্গে দেন দরবার থাকার কথা থাকলেও শুধু একটি নদীর বিষয়েই উভয় দেশের চুক্তি হয়েছে। ভারত বাংলাদেশের উজানে ফারাক্কা বাঁধ দিয়েছে। পরিবেশ ও প্রতিবেশগত দিক থেকে তাতে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফারাক্কা বাঁধের কারণে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে দারুণ ক্ষুব্ধতা রয়েছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে মওলানা ভাসানী একটি যৌক্তিক রাজনৈতিক প্রতিবাদ হিসেবে ঐতিহাসিক ফারাক্কা মিছিল করেছিলেন। পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়া ফারাক্কা বিরোধী লং মার্চ করে বিএনপির ভারত বিরোধিতার রাজনীতিকে সুস্পষ্ট করেছেন। তবে ভারত বাংলাদেশের আন্দোলনে কখনো কর্ণপাত করেনি। তারা তাদের কাজ করেগেছে। এতে বাংলাদেশের ক্ষতি কিংবা লাভ কখনো ভাবেনি ভারত। এজন্য বাংলাদেশের জনগণের ক্ষোভও সবসময় বিরাজমান।

ভারতে গণতান্ত্রিক শাসন ধারাবাহিকতা পেয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশে সামরিক শাসন গণতন্ত্রকে ব্যাহত করেছে। তবে, বাংলাদেশের সকল সামরিক শাসন ভারতকে তুষ্ট করেই চলেছে। বাংলাদেশে সামরিক শাসনসহ সকল অগণতান্ত্রিক শাসনের দিকেই ভারত অঙ্কের হিসেবে বাণিজ্যিকভাবে অধিকতর লাভবান হয়েছে। ২০০৭-০৮ সালে সেনানিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য ঘাটতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, সেনাপ্রধান ওই শাসনামলেই বাংলাদেশে উপর্যুপরি সফর করেছেন। কাজেই গণতান্ত্রিক ভারত তার প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে অগণতান্ত্রিক শাসনামলে খুব রুষ্ট থেকেছে বাণিজ্য বিষয়ক তথ্য তার প্রমাণ দেয় না। তারা মনে করে ভারত পন্থী কোন সরকার বাংলাদেশে থাকলে তাদের জন্য সুবিধা হয়। সামরিক সরকার থাকলেও তাদের ক্ষমতা কম থাকায়
ব্যাবসা-বাণিজ্য ভারতের জন্য অসুবিদা হয়।

অন্যদিকে, ভারত গণতান্ত্রিক বিধিব্যবস্থা বজায় রাখলেও এর এক-তৃতীয়াংশ এখন সামরিক বাহিনী দ্বারা পরিচালিত। বাংলাদেশের সীমান্তজুড়ে ভারতের বড় অংশে মাওবাদী গেরিলাদেরসহ স্বাধীনতাকামী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দমন করছে সেনাবাহিনী। ভারতের অভিযোগ, ভারতের বিবেচনায় বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সংগ্রামীদের বরাবরই আশ্রয় দিয়ে এসেছে বাংলাদেশ। ভারতের মিডিয়া এবং সরকারি মহল সব সময় খুব সুস্পষ্টভাবে ইঙ্গিত করছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতীয় সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী ও জঙ্গি গোষ্ঠীর প্রশিক্ষণ, অর্থায়ন এবং পৃষ্ঠপোষকতা করা হয় পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইর মদদে। সাম্প্রতিক আমেরিকার ‘টেরর অন ওয়ার’ যুদ্ধের বড় কৌশলগত মিত্র ভারত নিজের দেশেও ‘সন্ত্রাসী বা জঙ্গিবাদ’ কর্মকা-কে সবচেয়ে বড় বিপদ বলে গণ্য করছে। ভারতের এই নব্য দৃষ্টিভঙ্গি, বাংলাদেশের প্রতি তাদের মনোযোগী করেছে। অন্যদিকে ভারত তাদের আঞ্চলিক দ্বন্দ সংঘাত বাংলাদেশের উপর চাপিয়ে দিয়ে সব সময় ঠান্ডা যুদ্ধ লাগিয়ে চায় ভারত। সম্প্রতি ভারতীয় বিচ্ছন্নতাবাদী বা স্বধীনতাকামী সংগঠন উলফার নেতা গ্রেফতার এবং তাদেরকে ভারতের তুলে দেয়া নিয়ে ভারত-বাংলাদেশ পরস্পর বিরোধী বক্তব্য। সবমিলিয়ে ভারত-বাংলাদেশ ভূরাজনীতি নিয়ে বাংলাদেশ সব সময়ে পিছিয়ে আছে।

বাংলাদেশে ক্ষমতায় এসেছে শেখ হাসিনার সরকার। ভারতে ক্ষমতায় এসেছে কংগ্রেস। কংগ্রেস এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মিত্রতার একটি সুদীর্ঘ ইতিহাস আছে। বঙ্গবন্ধু এবং ইন্দিরা গান্ধীর মৈত্রী ইতিহাসের অংশ। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাসন জীবনের বড় অংশ কেটেছে ভারতে। তার রাজনৈতিক জীবনের উত্থান পর্বে বাংলাদেশে তাকে আসতে হয়েছে ভারত থেকেই। কাজেই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক বিবেচনায় নিতে গেলে দুই দেশের সরকারে কারা আছেন সেটা খুব বিবেচ্য বিষয়।
গঙ্গার পানি চুক্তি, মৈত্রী চুক্তি, বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তিÑভারত ও বাংলাদেশের সুসম্পর্কের ইঙ্গিতবহ কাজগুলো হয়েছে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ও ভারতে কংগ্রেস যখন ক্ষমতায় থেকেছে তখন।
অন্যদিকে বিএনপি ভারত বিরোধিতার রাজনীতির কারণে সুবিদিত। বিএনপির শাসনামলে দুই সরকার পারস্পরিক আস্থা খুব সুদৃঢ় করেছে বলা যায় না। যদিও সরকারে থাকা অবস্থায় বিএনপির ভারত বিরোধিতা কখনোই খুব সক্রিয় থাকেনি। বরং ক্ষমতার বাইরে গেলেই ভারত বিরোধিতাকে ইস্যু বানিয়ে রাজনৈতিক লাভালাভ খুঁজতেই সক্রিয় থেকেছে বিএনপি। অন্যদিকে ভারতীয় মিডিয়া এবং কখনো কখনো সে দেশের সরকার ভারতবিরোধী কর্মকা-ে বাংলাদেশের মাটি ব্যবহৃত হচ্ছে এবং বিএনপি এতে উৎসাহ যোগায় এই অভিযোগ করেছে।
ভারতীয় মিডিয়া এবং সরকারের চোখে বেগম জিয়ার দলকে পাকিস্তানি ভাবাপন্নÑভারতবিরোধী মনোভাবের দল হিসেবে চিহ্নিত করার একটা চেষ্টা চলেছে। সেদিকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ভারতের স্বাভাবিক মিত্র এটা দেখানোর একটা চেষ্টাও আছে ভারতের সামরিক বেসামরিক আমলাতন্ত্রসহ মিডিয়ার।
কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বিএনপিÑজামায়াত জোট সরকারের শাসনামলে বাংলাদেশে ভারতের সামগ্রিক বাণিজ্য ১০৬২ মিলিয়ন আমেরিকান ডলার থেকে বেড়ে ২১০৬ মিলিয়ন আমেরিকান ডলার দাঁড়িয়েছে। বিএনপির শাসনামলে এই হচ্ছে ভারত বিরোধিতার চিত্র। আধিপত্যবাদী শক্তি হিসেবে বাংলাদেশে ভারত বিরোধী গোষ্ঠি থাকবে। তবে বিএনপির বিরোধীতা ঠিক কোন জায়গা থেতে করছে,তা জনগণকে বুঝাতে তার ব্যার্থ হয়েছে।

বাণিজ্য বিবেচনা
২০০৭-২০০৮ সালে বাংলাদেশের মোট রপ্তানির পরিমাণ ১৪,১১১ মিলিয়ন আমেরিকান ডলার। সেখানে ঐ বছরে শুধুমাত্র ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ মাত্র ৩৫৮ মিলিয়ন আমেরিকান ডলার। অর্থাৎ ২০০৭Ñ০৮ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট রপ্তানির ২.৫৩ শতাংশ এসেছে ভারত থেকে।
ঠিক একই সময় বাংলাদেশ ভারত থেকে পণ্য আমদানি করেছে ৩২৭৩ মিলিয়ন আমেরিকান ডলারের। যা বাংলাদেশের মোট আমদানি (২১,৬০০ মিলিয়ন ডলার)-এর ১৫.১৫ শতাংশ।
অর্থাৎ ২০০৭-০৮ অর্থবছরে বাংলাদেশ তার মোট আমদানির ১৫.১৫ শতাংশ করেছে ভারত থেকে, যেখানে রপ্তানির করেছে মাত্র ২.৫৩ শতাংশ।
অন্যদিকে ওই একই বছরে ভারত তার রপ্তানির ১.৭৯ শতাংশ এবং আমদানির ০.১০ শতাংশ করেছে বাংলাদেশ থেকে।
সুতরাং এ হিসেব থেকে একটা জিনিস পরিষ্কার যে, ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য একটি অসহনীয় অসম অবস্থায় রয়েছে। বৈধ পথেই ২০০৭-০৮ সালে বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্য ঘাটতি ভারতের বৈদেশিক মন্ত্রণালয়ের সূত্র মোতাবেক ২৯১৫ মিলিয়ন আমেরিকান ডলার।
শুধু আর্থিক বিবেচনাই নয়, বড় অর্থনীতির ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য নির্ভরতারও একটা বড় ব্যবধান আছে। বাংলাদেশ তার আমদানির ১৫ শতাংশের জন্য ভারতের ওপর নির্ভর করলেও ওই একই বছরে ভারত বাংলাদেশের ওপর নির্ভর করেছে তার আমদানির ০.১০ শতাংশ। অঙ্কের হিসেবে বাংলাদেশ ভারতের আমদানি নির্ভরতার শক্তির তারতম্য প্রায় ১৫০ গুণ।

(সূত্র : ফ্যাক্টশিট বাংলাদেশ ॥ বৈদেশিক মন্ত্রণালয়, ভারত, ওয়েবসাইট)

৬.
পৃথিবীর উদাহরণ
বাণিজ্যিক প্রয়োজনে প্রতিবেশী বৈরীভাবাপন্ন দেশগুলোর কূটনীতি বদলাচ্ছে পৃথিবীব্যাপীই। অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও বিকাশের আয়োজনেই ঘটছে এই বদল। চীনÑআমেরিকা, চীনÑভারত তার বড় উদাহরণ। চীন ও আমেরিকা নিরাপত্তা এবং প্রতিযোগিতার প্রশ্নে পরস্পরের বৈরিতার মুখোমুখি হচ্ছে কিন্তু দুই দেশ দুই দেশে ব্যবসায়িক বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে। চীনÑভারতের ক্ষেত্রেও সে কথা প্রযোজ্য। অন্যদিকে প্রতিবেশী কানাডা, আমেরিকা, মেক্সিকো পরস্পরের মধ্যে নানা সমস্যা সত্ত্বেও সুসম্পর্ক তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নানাভাষী নানা অর্থনীতির প্রতিবেশী দেশের মধ্যে একক মুদ্রা, একক বাজার চালু সম্ভব হয়েছে বহুদিনের বৈরিতা সত্ত্বেও। ইউরোপে শত শত বছর যুদ্ধ হয়েছে কিন্তু ফ্রান্স-জার্মানি সীমান্তে আজ কাস্টম ইমিগ্রেশন পর্যন্ত নেই। সাম্প্রতিক দুনিয়ায় এসব নজির আছে।
তবে, ভারতÑবাংলাদেশের অর্থনীতি ও ভূগোলের যে বৈশিষ্ট্য তা মাথায় রাখতে হবে।
বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত ভারতের বড় বাজার এবং ভোক্তা হিসেবেও বাংলাদেশ শক্তিশালী। কাজে ঐক্য এবং সম্পর্কের ভিত্তি দ্বিপাক্ষিক হতে হবে। ভারতের ভিন্ন ভিন্ন রাজ্যের সঙ্গেও লেনদেন চলতে পারে। সম্পর্ক ও বিনিয়োগের বহু দিগন্ত এখনো উদ্ঘাটিত হতে পারে। প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে ৫০ লাখ লোক ভারত ভ্রমণ করে। ভারতের সেসব বিষয়ও বিবেচনায় রাখতে হবে।

আস্থা ও অনাস্থার সম্পর্ক
দুই দেশের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় থাকলেও দুই দেশের রাজনীতিবিদরা নিজস্ব স্বার্থে জটিল করেছে। একটা উত্তেজনা সব সময় বজায় রেখেছে। বাংলাদেশে বছরের পর বছর সরকার বদলেছে, কিন্তু ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর ব্যাপারে বাংলাদেশের নীতি বদলায়নি।

ভারতের অভিযোগ পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার মদদে আমাদের সামরিক আমলাতন্ত্র উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে উত্তেজনা বজায় রাখতে সহায়তা করেছে। এবারই শেখ হাসিনার সরকার এ ক্ষেত্রে সরকারি নীতি বদলেছে। বাংলাদেশের মাটিতে কোনো দেশের বিরুদ্ধে সশস্ত্র কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেয়া হবে না এই নীতি গ্রহণ করেছে। ফলাফল হিসেবে বাংলাদেশে আশ্রয় পাওয়া উলফা নেতাদের ভারতের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে।
শেখ হাসিনা ভারতকে আস্থায় নেয়ার ক্ষেত্রে তাদের উদ্বিগ্নতার বিষয়ে খোলামেলা পদক্ষেপ নিয়েছেন। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এর নানারকম বিপদের দিক থাকলেও শেখ হাসিনা সেই বিপত্তি মাথায় নিয়ে এগিয়ে যাবার পরিকল্পনা নিয়েছেন। শেখ হাসিনার এই পররাষ্ট্রনীতিই ভারতÑবাংলাদেশ দুই সরকারকে অনেক নিকটে এনেছে। অনাস্থা, আস্থায় পরিণত হয়েছে। সুতরাং সেই পথে শেখ হাসিনার ভারত সফর এতদিনের শীতলতা ভাঙতে খুবই কার্যকর পদক্ষেপ রাখবে।

ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে সমস্যাগুলো দীর্ঘদিনের এবং জটিল। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন সমস্যা তাকে আরো জটিলতর করছে। এ ক্ষেত্রে দুই দেশের বরফ শীতল সম্পর্ক স্বাভাবিক না হলে, আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি না হলে, দুই অসম ক্ষমতাসম্পন্ন প্রতিবেশী দেশের সমস্যাগুলোর সমাধান সহজ হবে না।
দুই দেশের দীর্ঘ সীমান্তে সীমান্ত সংঘর্ষ এবং গোলাগুলি ঘটছে। তথ্য মতে, গত ১১ মাসে ৯১ জন বাংলাদেশি বিএসএফের গুলিতে নিহত হয়েছে। এ সংখ্যা উদ্বেগজনক। অন্যদিকে বাংলাদেশে সংঘটিত বিডিআর বিদ্রোহের সময় অরক্ষিত সীমান্ত জুড়ে বিএসএফের যে ভূমিকা সেটিও বিবেচনাও নিতে হবে।
বাংলাদেশের জনগণের বড় ভাবনা ভারত কর্তৃক টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ। ভাটির দেশ হিসেবে বাংলাদেশের মধ্যে ভারত থেকে আসা নদীগুলোর ন্যায্য পানির হিস্যা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ভারতকে অধিকতর উদার এবং বন্ধুসুলভ ভূমিকা নিতে হবে। উজানে বাঁধ নির্মিত হলে ভাটির দেশের অধিকার ক্ষুণœ হয় স্বাভাবিকভাবে। এ ক্ষেত্রে ভারতের এবং ন্যায্য কূটনীতি বাংলাদেশের প্রাপ্য। বাংলাদেশের শুল্কমুক্ত পণ্য ভারতের বাজারে যেতে নানারকম বিধি নিষেধ আছে। সীমান্ত, পানি, বিদ্যুৎ করিডর, ছিটমহল, নিরাপত্তা, সন্ত্রাস দমন, নৌ-সড়ক ট্রানজিট, নেপাল ও ভুটানে যাবার জন্য ভারতের ট্রানজিট, অচিহ্নিত সীমানা চিহ্নিতকরণ, সমুদ্র সীমা নির্ধারণ, বাণিজ্য বৈষম্য এ রকম অজস্র সমস্যা রয়েছে। ভারতের সঙ্গে রাজনৈতিক পর্যায়ে আস্থা ছাড়া এ ক্ষেত্রে অগ্রসর হওয়া খুবই কঠিন।
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর যদি এ আস্থা অর্জনে ভূমিকা রাখে তবে আলোচনার মাধ্যমে অনেক সমস্যা সমাধানের বিষয়ে অগ্রসর হওয়া যাবে।

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনীতিও উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে। বেগম জিয়া বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী ভারত থেকে দেশের জন্য সাফল্য বয়ে আনলে ফুলের মালা দিয়ে তাকে বরণ করবেন। অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে নতজানু হয়ে দেশবিরোধী চুক্তি করে এলে পথে কাঁটা বিছিয়ে দেয়া হবে। আন্দোলন শুরু হবে। শেখ হাসিনা এর প্রত্যুত্তরে বলেছেন, বেগম জিয়ার বিছানো কাঁটা তুলতেই তার দিন যাচ্ছে।
কথা এ পর্যন্ত থাকলেই হতো। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অভিযোগ করেছেন জোট সরকারের আমলে পাকিস্তানি প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফ বাংলাদেশ সফরে এলে সরকারের উদ্যোগে জেলে আটক ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র আন্দোলনকারী সংগঠন উলফা’র নেতা অনুপ চেটিয়ার বৈঠক আয়োজন করা হয় শেরাটন হোটেলে। সৈয়দ আশরাফ যে অভিযোগ করলেন এতদিন ভারত সরকারও এত বড় অভিযোগ করে নাই।

সৈয়দ আশরাফের অভিযোগটি গুরুতর। কেননা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিঘিœত হয় এ রকম গোপন তথ্য বাজারে ছেড়ে দেয়ার মধ্যে প্রতিপক্ষ রাজনীতিকে আঘাত করার প্রবণতা যেমন আছে, তেমনি আত্মবিধ্বংসী ঘটনাকে আমন্ত্রণ জানানোর বিপদটাও উপস্থিত আছে। হঠাৎ দায়িত্বশীল মন্ত্রী এবং সরকার দলীয় নেতা সৈয়দ আশরাফ এ রকম বোমা ছাড়লেন কেন বলা মুশকিল। বিএনপিকে কাবু করতে গিয়ে ভারতীয় সরকার বা মিডিয়ার হাতে এ রকম আত্মঘাতী অস্ত্র তুলে দেয়া কতটা রাষ্ট্রাচার সম্মত হলো সেটাও বিবেচ্য।
সৈয়দ আশরাফের বক্তব্য খ-ন করে বিএনপি মহাসচিব একে মিথ্যাচার বলেছেন। তথ্য প্রমাণ থাকলে তা দেখতে বলেছেন। সৈয়দ আশরাফ তথ্য প্রমাণ হাতে নিয়েই কথা বলছেন এই প্রত্যুত্তরও দিয়েছেন। বোঝা যাচ্ছে এই ইস্যুতে দুই প্রধান দল যৌক্তিকতার পথ ছেড়ে ক্রমশ সংঘাতের দিকে এগুচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে গিয়ে দু-তিনটে চুক্তি করবেন। বোঝা যাচ্ছে সন্ত্রাস দমন, বন্দি বিনিময় এসব বিষয় প্রাধান্য পাবে চুক্তিতে। কথা হবে বিদ্যুৎ ও রেল যোগাযোগ বিষয়ে। ট্রানজিট বিষয় সহজতর করতে উদ্যোগী হয়ে ভারত বাংলাদেশকে নেপাল ও ভুটানে যাবার পথ করে দিতে পারে। বিনিময়ে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাষ্ট্রগুলোতে যাবার ট্রানজিট চাইবে ভারত। মংলাবন্দর ব্যবহারের ক্ষেত্রে নেপাল ও ভুটানকে প্রাধান্য দেবে বাংলাদেশ। সে ক্ষেত্রে ভারতের মধ্য দিয়ে রাস্তা চাইবে বাংলাদেশ। ভারতের এই ক্ষেত্রে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত ট্রানজিট বিষয়ক দীর্ঘদিনের বদ্ধ দুয়ার খুলে দিতে পারে। শেখ হাসিনা যদি এ বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেন তাহলে তার জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ সামনে আসবে। দেশের মধ্যে বিএনপিসহ সকল দক্ষিণপন্থি দল এই ইস্যুতে ভারত বিরোধিতার ঝড় তুলতে চাইবে। ইতোমধ্যে বেগম জিয়া সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন, বাংলাদেশের নিরাপত্তা বিঘিœত হতে পারে এ রকম কোনো চুক্তি যেন সরকার পরিহার করে।

সৈয়দ আশরাফ যে বিষয়টি উল্লেখ করে বিএনপিকে কাবু করতে চেয়েছেন, বেগম জিয়া সেই বিষয়কে লক্ষ্য করেই পরিষ্কার করে বলেছেন ভারতের বিভিন্ন জাতিগত বিদ্রোহের ঘটনায় বাংলাদেশের নিরাপত্তা বিঘিœত হয় এমন কোনো ঘটনা পরিহার করতে হবে। সার্বভৌমত্ব স্বাধীনতা, সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
ট্রানজিট কিংবা করিডর বিষয়ে মধ্যবিত্ত ও শিক্ষিত সমাজের ইতিবাচক মতামত জনসমাজ গ্রহণ করবে কি না সেটিও ভাবনার বিষয়। কাজেই খুব দ্রুত শেখ হাসিনা এসব বিষয়ে বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললে তার পথে কাঁটা বাড়বে, ফুল কমবে।

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় যেমন রচিত হবার সম্ভাবনা আছে এ সফরে, তেমনি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে, ‘ভারত-বিরোধিতা’র এবং ক্ষমতাসীন দলকে ‘ভারতমুখীন দল’ হিসেবে চিহ্নিত করার নতুন রাজনীতির সূচনা হবার সম্ভাবনাও রয়েছে। ভারতকে নৌ বা সড়ক পথে ট্রানজিট দেয়ার ব্যবস্থা হলে বিএনপিসহ সমমনা দল তাতে ক্ষুব্ধ হতে পারে। কেননা বেগম জিয়ার ভাষায়, যারা ভারতকে করিডর দেয়ার বিষয়কে নিছক অর্থনৈতিক বিষয় বলে ভাবেন তাদের রাজনৈতিক সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন আছে।
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যে পাহাড় প্রমাণ সমস্যা আছে তা একদিনে কিংবা এক সফরে সমাধান হওয়ার নয়। আবার, এসব সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে দুই পক্ষের যে রাজনৈতিক সদিচ্ছা দরকার তার পরিবেশটাও নিশ্চিত হওয়া দরকার। সে জন্য দুই পক্ষেরই দেয়া-নেয়ার, মেলবার-মিলবার বিষয় আছে।

অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন কি কি বিষয় ছাড় দেয়া হবে সে বিষয়ে সংসদ, বিরোধী দলের সঙ্গে সমঝোতাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সে বিষয়টি এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে গেছেন। বিরোধী দলের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনার চাইতে উত্তেজনা সৃষ্টির প্রবণতা রয়েছে সরকারের। সংসদেও এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের সুযোগটাকে কাজে লাগানোর জন্য সরকার এবং বিরোধী দলের আলোচনা এবং কথা বলাও দরকার। নইলে ফুল ও কাঁটার লড়াই অব্যাহত থাকবে। আর এরই ফাঁক গলে অন্যরা সুযোগ নেবে। ভারত বিষয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে ফারাক যত বাড়বে আমাদের রাজনীতি, অর্থনীতি, নিরাপত্তা তত বেশি হুমকির মুখে পড়বে।

ভারতের মোট রপ্তানি/আমদানির কত শতাংশ
বাংলাদেশের সঙ্গে হয়েছে (%)
২০০৩-০৪ ০৪-০৫ ২০০৫-০৬ ০৬-০৭ ০৭-২০০৮
রপ্তানি ২.৭৩ ১.৯৫ ১.৬১ ১.২৯ ১.৭৯
আমদানি ০.১০ ০.০৫ ০.০৯ ০.১২ ০.১০
মোট বাণিজ্য ১.২৮ ০.৮৭ ০.৭১ ০.৫৯ ০.৭৭

(সূত্র : ডিপার্টমেন্ট অব কমার্স, এক্সপোর্টÑইমপোর্ট ডাটা ব্যাংক)

বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যচিত্র
(মিলিয়ন ইউএস ডলার)
২০০১-০২ ০২-০৩ ০৩-০৪ ০৪-০৫ ০৫-০৬ ০৬-০৭ ০৭-০৮
ভারতে ৫০.২৮ ৮৪.০৮ ৮৯.২৭ ১৪৪.২০ ২৪১.৯৬ ২৮৯.৪২ ৩৫৮.০৮
বাংলাদেশের
রপ্তানি

ভারত থেকে ১,০১১.৮ ১,৩৫৪.৯ ১,৫৯৯.৪ ২,০৩০.০০ ১৮৬৪.৭ ২২৬৮.০ ৩২৭৩.৭০
বাংলাদেশের
আমদানি

মোট বাণিজ্য ১,০৬২.০৮ ১,৪৩৮.৯৮ ১৬৮৮.৭ ২১৭৪.২ ২১০৬.৭ ২৫০৬.৭ ৩৬৩১.৭৮

[সূত্র : ফ্যাক্টশিট বাংলাদেশ, বৈদেশিক বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট, ভারত]

ভারতের মোট রপ্তানি/আমদানির কত শতাংশ
বাংলাদেশের সঙ্গে হয়েছে (%)
২০০৩-০৪ ০৪-০৫ ২০০৫-০৬ ০৬-০৭ ০৭-২০০৮
রপ্তানি ২.৭৩ ১.৯৫ ১.৬১ ১.২৯ ১.৭৯
আমদানি ০.১০ ০.০৫ ০.০৯ ০.১২ ০.১০
মোট বাণিজ্য ১.২৮ ০.৮৭ ০.৭১ ০.৫৯ ০.৭৭

(সূত্র : ডিপার্টমেন্ট অব কমার্স, এক্সপোর্টÑইমপোর্ট ডাটা ব্যাংক)

সপ্তাহিক অবলম্বনে
শুভকিবরিয়া ভাইয়ের কাছে কৃত্ক্ষ
৭টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×