আমার প্রিয় পোস্ট
- লালনের গানের অর্থ: আসল লালনকে ধরতে - ভূপর্যটক
- দাড়ি কামাবার জন্য শুভক্ষণ - মানস চৌধুরী
- Search Engine Optimization – এ হাতেখড়ি (পর্ব ১) - হাসান
- নেপালের মাওবাদী আন্দোলন এবং ভারতীয় আধিপত্য - জামীর রাসেল
- ধর্ম যার যার কিন্তু রাষ্ট্র হোক সবার - নুরুজ্জামান মানিক
- হৈমন্তী (মানুষের ছোট গল্প) - মানুষ
- যেকোন Webpage থেকে বিজ্ঞাপন অপসারন করুন, বিজ্ঞাপনহীন ওয়েবের জগতে আপনাকে স্বাগতম! (রিপোস্ট)
- নাফিস ইফতেখার
- *মুভি গাইড* ৫০টি মুভির রেটিং - সাইফ সামির
- ধর্মনিরপেক্ষতা বিষয়েঃ দ্য ডেন্স অব দ্য পেন, দ্য প্লে অব দ্য সাইন - ননাই
- বাংলাদেশের সমুদ্রসীমাঃ "দিন বদল" না হলেও দিন কিন্তু বয়ে যায় ...... - দিনমজুর
- বাংলা উইকিপিডিয়া-তে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় সব সফটঅয়্যার এক পাতায়। তবুও দয়া করে বাংলা উইকি তে কাজ করুন। - সাদাচোখ
- জিএম শস্যের ভালো মন্দ - দিনমজুর
- হাইব্রীড বীজ নিয়ে আশঙ্কা সত্যি হলো এবার 'সত্যিরা' ভয়াবহ আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ! - মনজুরুল হক
- ধর্মনিপেক্ষতা বিষয়ে তালাল আসাদের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নার্মিন শেখ - ননাই
শিল্পচর্চা । গুয়ানতানামো’র সংগীত-হাতিয়ার
১৯ শে জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:৫৮
দুনিয়াজোড়া জনপ্রিয় যুক্তরাষ্ট্রের ভারি বাজনাওয়ালা (হেভি মেটাল) গায়কদল ‘মেটালিকা’র গায়ক জেমস হেটফিল্ড- এই গায়ক জানিয়েছেন ‘জুলুমের হাতিয়ার হিসাবে তার গান ব্যবহৃত হওয়ায় তিনি গর্বিত।’
-------------------------------------------------------------
আধুনিক দুনিয়াদারির নেতৃত্বে থাকা যুক্তরাষ্ট্র প্রমাণ করেছে যে, সংগীত শুধু জীবনের ভাষা-ই নয়, একই সাথে মরন-যন্ত্রনার ও স্বাদ দিতে পারে সংগীত।
মে, ২০০৩; সেদিন গুয়ানতানামোর ডেল্টা বন্দিশালায় আটক রুহাল আহমেদকে জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষে নেয়া হয়েছিলো গান শোনানোর জন্য! একজন সামরিক পুলিশ এসে আহমেদকে তুলে নিয়ে গেলেন জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষে, তখনো আহমেদের জানা ছিল না যে ওই কক্ষে আজ তার জন্য অপেক্ষা করছে সংগীতায়োজন- নিত্যকার নির্যাতনের নির্ঘন্টে আজ নতুন মাত্রা পাবে। জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষের মেঝেতে লাগানো লোহার রিং এর সাথে তার পা আটকে দেয়া হলো, হাত দুটো একসাথে পিছমোড়া করে বেধে মেঝেতে লাগানো রিং এর সাথে জুড়ে দেয়া হলো। ওই অবস্থায় দাড়িয়ে থাকা সম্ভব না, আবার বসে পড়াও অসম্ভব এবং হাটু মুড়ে থাকাও সম্ভব না। আর এভাবে কিছুক্ষন থাকলে পরেই খিচুনি শুরু হয়ে যায়। এরকম নির্যাতনের সাথে ভালোই পরিচয় ছিলো তার, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহীনির জিজ্ঞাসাবাদের ‘মানসম্মত পরিচালন প্রক্রিয়ার’ অংশ এটা, বন্দি অবস্থায় প্রতিদিনের একটা বড় অংশ আহমেদদের এভাবেই কাটতো। এভাবে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে তাকে একটা প্রশ্নই বারবার করা হয়েছিল- তিনি এবং তার বন্ধু ২০০১ এর শরতে আফগানিস্তানে কি করছিলেন?
সেদিনও একই প্রশ্ন অপেক্ষা করছে সেটা জানতেন তিনি। কিন্তু যা জানতেন না তা হলো- ছিয়াশি বর্গফুটের কক্ষটিতে সেদিন একটা দশাসই আকারের সাউন্ড বক্স ছিলো, ওপরে একটা সিডি প্লেয়ার। একজন সৈনিক ঢুকে প্লেয়ারে একটা সিডি ঢুকালো, প্লেয়ার চালু করে সর্বোচ্চ স্বরে উঠালো, এবং দরজা বন্ধ করে চলে গেলো। সিডিটা ছিলো যুক্তরাষ্ট্রে র্যানপ গায়ক এমিনেম-এর। আহমদ বলছেন, ‘আমি বুঝতে পারছিলাম না যে কি হচ্ছে। ভাবলাম, ওরা সাউন্ড বক্সের কথা ভুলে গেছে।’ সৈনিকটি যখন আবার ফিরলো আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, সে তাকালো ঠিকই আমার দিকে কিন্তু কিছু বললো না।
এরপর থেকে যতদিন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষে নেয়া হতো, বারবারই নির্যাতনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতো সংগীত। প্রতিদিন নিশ্চয় এমিনেম নয়। কোনোদিন রেইজ এগেইনস্ট দ্য মেশিনের রক গান আবার কখনো অন্য কোনো গায়কদলের ভারী বাজনাওয়ালা (হেভি মেটাল) গান ইত্যাদি। স্বরের মাত্রা ছিলো কানফাটানো, এভাবে তাকে ঘন্টার পর ঘন্টা গান শুনতে বাধ্য করা হতো, ওই ছিয়াশি বর্গফুটের কক্ষে- না দাড়ানো না বসা অবস্থায়। কখনো এক নাগাড়ে কয়েক দিন ওভাবে রাখা হতো। প্রায়ই তার মুখের ঠিক সামনে ফ্লাশলাইট জ্বালিয়ে রাখা হতো। বাদবাকি অন্ধকার। তিনি কিছু দেখতে পাচ্ছেন না, এবং কানের ঠিক কাছে চরম উচ্চস্বরে বাজছে ভারী বাজনাওয়ালা গান। আবার কখনো কক্ষের তাপমাত্রা একেবারেই কমিয়ে দেয়া হতো শীতাতপ নিয়ন্ত্রন করে। কনকনে বরফ ঠান্ডা, অন্ধকার, চোখের সামনে উজ্জ্বল বাতি, কানের কাছে কানফাটানো রক এন রোল! অসহ্য যন্ত্রনায় খিচুনি খেতে খেতে এভাবে আর কাদের কবে সংগীত উপভোগ করতে হয়েছে? গুয়ানতানামো ছাড়া?
অবশ্যে এরকম চরম সংগীতায়োজন না হলেও সংগীত হামলার আরো কিছু দৃষ্টান্ত আছে, যুক্তরাষ্ট্রের তরফেই। পানামার শাসন ম্যানুয়েল নরিগো যখন ১৯৮৯ সালে পানামাস্থ ভ্যাটিক্যান দূতাবাসে আশ্রয় নিয়েছিলেন, তখন যুক্তরাষ্ট্রের বাহীনি দূতাবাসে কয়েক দিন ধরে বোমা হামলার পাশাপাশি আরেক ধরনের হামলা চালিয়েছিল। রাস্তায় সাজোয়া গাড়ি ও আকাশে কপ্টার থেকে উচ্চস্বরে রক এন রোল হামলা করেছিল দূতাবাস লক্ষ্য করে। আবার যেমন ১৯৯৩ সালে টেক্সাসে একটি খামার বাড়ীতে আশ্রয় নেয়া একটা গোষ্ঠীকে বের করে আনার জন্য লাউড স্পিকারে সংগীত হামলা করেছিল। ন্যান্সি সিনাত্রা’র বাজার পাওয়া গান- দিজ বুটস ওয়ার মেইড ফর ওয়াকিং বাজিয়েছিল এফবআই এজেন্টরা। উদ্দেশ্য পরিস্কার- খামারবাড়ী থেকে বেরুবে না বলে পন করা ওই ভিন্নমতালম্বি নাগরিক গোষ্ঠীটিকে নৈতিকভাবে দুর্বল করে তোলা।
পাঠক! জানাচ্ছিলাম গুয়ানতানামোর সংগীত আয়োজনের কথা। রুহাল আহমেদ- সংগীত নির্যাতনের শিকার অগুনতি বন্দিদের একজন মাত্র। আহমেদের পরিবার মূলত বাংলাদেশ থেকে অভিবাসী হয়ে যুক্তরাজ্যে যায়। এখন তাদের বাস দেশটির বার্মিংহামের কাছের ছোট্ট শহরে- টিপটন। তিন বন্ধু ছিলেন গুয়ানতানামোয়। ছাড়া পাবার পর সংবাদ মাধ্যমে পরিচিত হয়েছেন টিপটন থ্রি নামে। ২০০১ এর সেপ্টেম্বরে কুড়ি বছর বয়সী আহমেদ আর দুই বন্ধু পাকিস্তানে গিয়েছিলেন এক বিয়েতে। ততদিনে ওদিকে আফগানিস্তানে শুরু হয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের দখলদারি। রোমান্ঞের তালাশে তিনি বন্ধু সীমান্ত পার হয়ে ঢুকে পড়েছিলেন আফগানিস্তানে। পাকিস্তানে ফেরার সময় যুক্তরাষ্ট্রের দালাল উত্তরাঞ্চলীয় জোট তাদের আটকে দেয়। তারা তিনজন ইংরেজিভাষী এবং মুসলিম, অথচ যুক্তরাষ্ট্র কিংবা তার মিত্র কিংবা তাদের দালালদের কারো হয়ে আসেন নি ২০০১ এর আফগানিস্তান; সুতরাং আল কায়দা না হয়ে উপায় নাই! তাদের দখলদার বাহিনীর হাতে তুলে দেয়া হয়। ২০০২ এর শুরুতে তাদের ডেল্টা বন্দিশালায় ঢোকানো হয়। ছাড়া পান ২০০৪ এর মার্চে। আহমদের বয়স এখন আটাশ।
টিপটনের নিম্নশ্রেনীর আবাসিক এলাকায় নিজের বাড়ির আঙিনায় দাড়িয়ে তিনি জার্মানির বিখ্যাত ম্যাগাজিন ডার স্পিগেলের প্রতিবেদককে বলছিলেন, ‘আমি যখন লোকজনকে বলি সংগীতও জুলুম হতে পারে তখন তারা ভাবে আমার স্ক্রু ঢিলা হয়ে গেছে। লোকজনকে এতো আনন্দ দেয় যে শিল্প সেটা আবার কিভাবে জুলুম হয়? কিন্তু আমার কথা সত্য। আপনি স্বাভাবিক জুলুম সামলে নিতে পারেন, কিন্তু সংগীতের জুলুম সহ্য করা সম্ভব না। জিজ্ঞাসাবাদকারীরা যা শুনতে চেয়েছে তার সবই আমি তাদের বলেছি; যে আমি বিন লাদেন ও মোল্লা ওমরের সাথে দেখা করেছি, আমি তাদের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানি। আমি শুধু তাদের বলছিলাম গান থামাতে।’ শুধু গুয়ানতানামোয় না, আফগানিস্তান ইরাক সহ সারা দুনিয়াজুড়ে সিআইএ’র গোপন বন্দিশালাগুলোতে এমন সব শিল্প-অস্ত্র ব্যবহার করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। পানিতে চুবিয়ে রেখে, ঘুমাতে না দিয়ে, কাঠের ছোট্ট বাক্সে ঢুকিয়ে, কানে ইয়ারফোন লাগিয়ে সর্বোচ্চ স্বরে রক এন রোল এবং হেভি মেটাল গান শুনতে বাধ্য করা হয়েছে বন্দিদের; যেমন বি গিজ গায়কদলের গান ‘স্যাটারডে নাইট ফিভার’।
যেসব গায়ক বা গায়কদলের গান জুলুমের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে তাদের খুব কমই এযাবত আপত্তি জানিয়েছেন। সবমিলিয়ে বিষয়টি জানাজানি হবার পর অবশ্য দেশটির ওইসব রক গায়কদের মোটেই বিচলিত মনে হয়নি। বরং অনেককেই মনে হয়েছে যে তারা বিষয়টি গুরুত্ব দেয়ার মতো কিছু মনে করেন না। শুধু একটা গায়কদল- রক গোষ্ঠী রেইজ এগেইনস্ট দ্য মেশিন এর পক্ষে গায়ক টম মোরেলো তাদের তীব্র প্রতিবাদের কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে রক গায়ক ট্রেন্ট রেজনর ও কান্ট্রি সং গায়ক রোজানে ক্যাশ আপত্তি জানিয়েছেন এবং জানতে চেয়েছেন ঠিক কিভাবে তাদের গানকে নির্যাতনের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে। অনেকেই আবার তাদের গর্বের কথা জানিয়েছেন। যেমন দুনিয়াজোড়া জনপ্রিয় যুক্তরাষ্ট্রের ভারি বাজনাওয়ালা (হেভি মেটাল) গায়কদল ‘মেটালিকা’র গায়ক জেমস হেটফিল্ড- এই গায়ক জানিয়েছেন ‘জুলুমের হাতিয়ার হিসাবে তার গান ব্যবহৃত হওয়ায় তিনি গর্বিত।’ তবে আরো যাদের গান ব্যবহৃত হয়েছে তাদের অধিকাংশ গায়ক এবং গায়কদল এখনো চুপচাপ। যেমন; এসি/ডিসি, ব্রিটনি স্পিয়ার্স ও নেইল ডায়মন্ড সহ অনেকে।
--------------------------------------------------------------------------------
শিল্পচর্চায় আরো আগ্রহ যাদের আছে
তারা এইখানে ক্লিক করতে পারেন
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই নভেম্বর, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:১২ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র বলেছেন:
+
লেখক বলেছেন: ঠিকাছে
লেখক বলেছেন:
ঘোর-কলিযুগ বলেছেন:
লেখাটা ভালা হইছে।
লেখক বলেছেন: জ্বি সার্টিফিকেট পাইলাম!
ঘোর-কলিযুগ বলেছেন:
আরেকটু বিশদ কইরা পাঠাইতে পারবেন?
লেখক বলেছেন: জ্বি। আপনে যখন বলছেন। কাইল দুপুরে পাঠামুনে
সাকীব বলেছেন:
জেইমস হ্যাটফিল্ড এইকথা বলতেই পারেনা। আমি নিশ্চিত বলেনাই। যদি বলে থাকে তাহলে দুঃখ মিশ্রিত বিদ্রুপ এর স্বরে বলেছেন। আমরা যেমন বলি বাংলাদেশ আবার দূর্ণীতিতে ১ম হয়ে আমাদের গর্বিত করেছে। যদি আপনি প্রমান করতে পারেন এ কথা সে বলেছে তাহলে আমি আপনাকে ৫০০ টাকা দিব, ক্যাশ। this is a promise.
লেখক বলেছেন: দেখেন ভাই- আমরা গরিব গায়ের মানুষ পয়সাপাতি কম, সন্দেহ নাই। কিন্তু আপাতত পাঁচশটাকা না হইলেও চলবো।
হ্যাটফিল্ড এর উপর আপনের ইমান মজবুত বোঝা যায়। সুতরাং আপনে তার হেভি বাজনাওয়ালা গানের কারনে কানে আর কিছু শুনতে পান না, দেখতেও না। আমি তো লিংক দিলাম ঘুইরা আসেন।
লেখক বলেছেন: ঠিকাছে।
ডলুপূত্র বলেছেন:
চোখ দুটো জ্বলে উঠছে আর কান দিয়ে পানি বার হতে যাচ্ছে..........
লেখক বলেছেন: সেইটাই। হয় আপনে হেভি মেটাল কিংবা রক এন রোল শুনবেন ঢাকায় বইসা নয়তো আপনেরে নিয়া ধইরা বাইন্ধা আহমেদের মতো শোনানো হবে।
লেখক বলেছেন: জ্বি । দেখেছি। কথা হবে।
সাকীব বলেছেন:
আরজু ভাই, আমি টাকা দেয়ার কথা বলেছি আমি কতখানি নিশ্চিত তা বোঝাতে। আপনাকে অপ্রস্তুত করতে নয়। আমি দেখলাম আপনার দেয়া লেখাটা পড়ে। কিন্তু সেই লেখাটাতেও কোন source cite করা হয়নি।যাই হোক, আমি সেই বিখ্যাত সাক্ষাতকার খুঁজে বের করেছি।
Click This Link
আপনি পুরো সাক্ষাতকারটা শুনলে বুঝবেন যে হ্যাটফিল্ড সরাসরি কোন রাজনৈতিক মন্তব্য করতে চাননি। আপনি ভুলে যাচ্ছেন এ্যামেরিকায় আপনি যদি যুদ্ধের পক্ষে কথা বলেন সাথে সাথে আপনাকে রিপাবলিকান সীল মারা হবে, আর বিপক্ষে বললে লিবারাল। উনি এই রাজনৈতিক বিভাজনের মধ্যে জড়াতে চাচ্ছিলেননা। তা স্পষ্ট করে বলেছেনও সাক্ষাতকারে। হ্যা, উনি বলেছেন 'আমি এক দিক থেকে ভাল বোধ করি।' সেই দিকটা পুরোপুরি শৈল্পিক। আমি আপনাকে একটা উদাহরন দেই। আপনি যদি একটা কবিতা লেখেন, আর পরবর্তীতে জানা যায় যে সেই কবিতা পড়ে কোন টেরোরিস্ট দল প্রেরনা গ্রহন করে এবং উদ্বুদ্ধ হয় তাহলে আপনি কিন্তু মনে মনে একটা শৈল্পিক আনন্দ পাবেন। কারন আপনি বুঝতে পারছেন আপনার কবিতা শক্তিশালী। হ্যা, আপনার শিল্প ভূল ভাবে ব্যাবহার হচ্ছে। আপনি তা বোঝেন। আপনি কোনদিনো চাবেননা, যে অন্যায় ওই চরমপন্থীরা করছে তা সংঘটিত হোক। কিন্তু আপনার রচিত কোন কিছুর যে এই প্রেরনাদায়ী ক্ষমতাটা আছে তা অনুধাবন করে আপনি খানিকটা হলেও পুলকিত বোধ করবেন। জানিনা বোঝাতে পারলাম কিনা আমার কথা।
সবচেয়ে বড় কথা, আপনি যেই লিংকটা দিয়েছেন সেখানেই আছে যে The National Security Archive নামে একটি এ্যামেরিকান নাগরিক অধিকার সংস্থা পিটিশন করেছে এ্যামেরিকার গোপন কারাগারগুলোতে সংগীতকে কিভাবে অস্ত্র হিসাবে ব্যাবহার করা হয় তার নথিপত্র 'declassified' বা সাধারন জনগনের সামনে প্রকাশের জন্য। এই পিটিশনে যারা স্বাক্ষর করেছে সেসব শিল্পির নামের মধ্যে মেটালিকা অন্যতম।
টাকার কথা বলার জন্য লজ্জিত।
লেখক বলেছেন: আপনে খুবই অযথার্থ তথ্য নিয়া কথা বলতেছেন।
Metallica Singer: 'I Take It as an Honor'
The American band Metallica, founded in Los Angeles in 1981 and still one of the world's best metal bands, doesn't side with the activists, either. In interviews, lead singer James Hetfield has even said that he was pleased to hear that his music was being used to torture prisoners.
"People assume we should be offended that somebody in the military thinks our song is annoying enough that, played over and over, it can psychologically break someone down," he says. "I take it as an honor to think that perhaps our song could be used to quell another 9/11 attack or something like that."
There is probably a dose of patriotism behind his remarks. Hetfield sees himself as someone who is helping American troops defeat the enemy. But they also reflect a peculiar form of pride in his craft. "We've been punishing our parents, our wives, our loved ones with this music forever. Why should the Iraqis be any different?" he said. "Part of me is proud because they chose Metallica!"
এসবই তিনি বলছেন স্পিগেল অনলাইনকে!
লেখক বলেছেন: খুব সহজে যার বাংলা সারকথা দাড়ায় এরকম:
জেমস হ্যাটফিল্ড বলেছেন যে, বন্দিদের ওপর জুলুমে তার গান ব্যবহৃত হয় শুনে তার খুশি লাগছে। তিনি বলছেন ‘আরেকটা নাইন-ইলেভেন অথবা ওরকম কিছু রুখে দিতে আমাদের গান কাজে লাগতে পারে, এটাকে আমরা আমাদের প্রতি সম্মান হিসেবে জ্ঞান করি।’ দুশমনকে হারিয়ে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের একজন সাহায্যকারী মনে করেন হ্যাটফিল্ড। এর পেছনে শ্রোতাদের দেশপ্রেমের ডোজ দেয়ার লক্ষ্য আছে নিশ্চয়।
লেখক বলেছেন: আর আপনে লজ্জিত ক্যানো? লজ্জিত হওয়া একদমই জরুরি না।
তয় যদি আপনের লজ্জিত হইতেই হয়, সেক্ষেত্রে আপনের জন্য সুযোগ আছে। যেক্ষেত্রে আপনার লজ্জিত হওয়ার সুযোগ আছে সেইটা হইলো-
এই পিটিশনে যারা স্বাক্ষর করেছে সেসব শিল্পির নামের মধ্যে মেটালিকা অন্যতম।
এ ভুল তথ্যের উপ্রে দাড়ায়া কথা বলার জন্য আপনে লজ্জিতবোধ করতে চাইলে আমার আপত্তি নাই। ইংরাজিটা আর একটু খেয়াল কইরা দেখেন।
যারা পিটিশন করছেন তারা হইলেন-
Tom Morello, Billy Bragg, Michelle Branch, Jackson Browne, T-Bone Burnett, David Byrne, Rosanne Cash, Marc Cohn, Steve Earle, the Entrance Band, Joe Henry, Pearl Jam, Bonnie Raitt, R.E.M., Trent Reznor, Rise Against, The Roots
লেখক বলেছেন: এবং আপনের লজ্জিত হওয়ার আরো একটা সুযোগ আছে।
সেইটা হইলো- আপনের মন্তব্যে আপনে যা বলছেন তার আলোকে বুঝতে হচ্ছে আপনে ইউটিউবের সাক্ষাতকারটার ইংরাজি শুনছেন ঠিকই, তয় বোঝেন নাই।
যিশু আপনারে মাফ করুক- তার ভিডিও সাক্ষাতকারটা আপনে আমারে শুনতে বাধ্য করছেন।
যেইখানে সে দুই পাটি দাত বাইর কইরা চরম শভিনিস্ট আর বর্নবাদী সব মত প্রকাশ করছে। স্পিন ম্যাগাজিন এবং স্পিগেল অনলাইনকে দেয়া বক্তব্যের ভিজুয়ালাইজেশন করছে চমতকার ভাবে।
আপনে চাইলে আমি সেইটার টেক্টট কইরা দিতে পারি।
সদাপ্রভূ যিশু আমাদের ক্ষমা করুক!
সাকীব বলেছেন:
আমার মূল বক্তব্য পিটিশনের তথ্যের উপর নির্ভরশীল নয়। আমি স্বীকার করতে রাজি আছি সাক্ষাতকারটা শুনে এটা মনে হতে পারে যে তিনি আসলে নির্যাতনকে সমর্থন করছেন। কিন্তু মেটালিকার গান, গানের বিষয়বস্তু এবং ব্যান্ডের সদস্যদের সম্পর্কে জানেন এমন যে কারো পক্ষেই এটা কল্পনা করা মুশকিল যে তারা কেউ এধরনের অন্যায়কে সমর্থন করবেন। এবং আমি আগের কথাতে এখনো অবস্থান করছি। তার বক্তব্যটি ছিল নিছকই শৈল্পিক মন্তব্য। রাজনৈতিক লেবেল এড়ানোর জন্য সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি। আর অনেকগুলো কথা যে বিদ্রুপ করে বলা তা বুঝতে কী কারো কষ্ট হওয়ার কথা? আপনি এবং আমি উভয়ই একমত যে বন্দিদের উপর নির্যাতন মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, সংগীত দিয়েই হোক আর অসংগীতের মাধ্যমে হোক। যে বিষয়ে একমত নই তা হলো কথিত ব্যাক্তির কথায় নির্যাতনের পক্ষে সমর্থন পাওয়া যায় কিনা। এটা খুব বড় পার্থক্য না এবং আমি আপনার শত্রু নই।
কেউ লজ্জা প্রকাশ করার পর তাকে ব্যাঙ্গ করা ও উপুর্যুপরি আরো লজ্জিত এবং হেয় করার চেষ্টা করা বন্ধুত্বপূর্ণ মনভাবের পরিচয় নয়।
লেখক বলেছেন: ২০ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৫১
লেখক বলেছেন: দেখেন, সবচেয়ে আগের কথা-
আমি বন্ধুত্ব করার জন্য ব্লগে আসি না। সুতরাং আপনের সাথে বন্ধুত্বপূর্ন মনোভাবের পরিচয় দেয়ার কোনো জরুরত আমার নাই।
ব্লগের অধিকাংশ লেখকরেই আমি আমি চিনি না, জানি না, জানার কোনো তাগিদও নাই। কেউই আমার বন্ধু না। নানা বিষয়ে চিন্তা আর তৎপরতা জানান দেয়া আর জানার জন্যই ব্লগ করি।
তারমানে এই না যে আমি আপনের শত্রু । বন্ধু না হইলেই মানুষ শত্রু হয় না। সুতরাং কাজেই আপনে আমার শত্রু না, অবশ্যই শত্রু না।
আপনে খুব জরুরি মানুষ আমার জন্য, আমার লেখার সম্মানিত পাঠক। আপনার সাথে আমার জরুরি কাজের কথা আছে।
১. আপনে টেক্সটের মানে করতে গিয়া বাংলায় ভুল করছেন। যেই টেক্সট বলছে ব্যবহৃত গানের 'গায়ক ও গায়কদলের নাম', আপনে সেইটারে বুঝছেন 'গান ব্যবহার করার বিরুদ্ধে আবেদনকারীদের নাম'; এবং আবেদনকারীদের মধ্যে আপনের জানপ্রান প্রিয় গায়ক মেটালিকার হ্যাটফিল্ডরে ঢুকাইছেন।
২. আমি দেখাইলাম যে, সেই গায়ক আসলে প্রতিবাদ করে নাই। তারপর আপনে কইলেন 'আমার মূল বক্তব্য পিটিশনের তথ্যের উপর নির্ভরশীল নয়'। মানলাম। আপনি কইলেন 'যে কারো পক্ষেই এটা কল্পনা করা মুশকিল যে তারা কেউ এধরনের অন্যায়কে সমর্থন করবেন।' কল্পনা করার অভ্যাস নাই। সুতরাং আমাদের মুশকিলও নাই। আমি আপনারে মেটালিকার-গান-শিল্প-রাজনীতি সব ধইরা দেখাইয়া দিতে পারবো; এরা আপনার মতো আমার মতো যা কিছু অ-পশ্চিম যা কিছু অ-সাদা যা কিছু আমার মতো অ-আধুনিক (আপনে যে আধুনিক এ বিষয়ে সন্দেহ করলে যিশু বেজার হইবেন) ; এমন সব কিছুকে মানুষই মনে করে না। সুতরাং তাদের 'মানবিকতা' আর 'মানবাধিকার'-এর মধ্যে আমি বা আমরা যে অন্তর্ভুক্ত না- এ ব্যাপারে আমি আপনাকে নিশ্চয়তা দিচ্ছি।
৩. আপনে বলতেছেন এসব বক্তব্য টেক্টট ধরে শুনলে অন্যায়ের জুলুমের পক্ষে মনে হইতে পারে। কিন্তু এসব আসলে শৈল্পিক বক্তব্য। রাজনীতিক না। ভাইরে! সাকীব ভাই!
খোদাবন্দ যিশুর দোহাই, (সাক্ষাতকারে যেমন কইলেন হ্যাটফিল্ড- `আমরা মানুষকে অ্যাপলিটিকাল করতে চাই' মানে 'আমরা মানুষকে রাজনীতিশুন্য করতে চাই'), বাংলাদেশেও এমন একটা প্রজন্ম গড়ে উঠছে যারা 'অ্যাপলিটিকাল' থাকাটারে উত্তম মনে করে। সুতরাং এরা রাজনীতি আর শিল্পের মধ্যে মৌলিক ফারাক করার মতো গুনাহের কাজ করে। আশা করি আপনে এই দুর্ভাগা প্রজন্মের একজন হবেন না।
৪. আপনে কি আমারে দিয়া এই কষ্টটা করাইবেন যে, (আমি আপনের দেয়া লিংক থেকে যে ইন্টারভিউটা ডাউনলোড কইরা এযাবত তিন তিনবার দেখলাম) সেই ইন্টাভিউটার বাংলা এবং ইংরাজি টেক্সট এখানে দিয়া পরে- একজন মেটাল গায়কের 'যা কিছু অ-আমেরিকান যা কিছু অ-নাসারা মানে অ-আধুনিক তার সব কিছুর বিরুদ্ধে নির্যাতন দমন জুলুমে কোনো আপত্তি নাই।' বলেন করবো কি না?
হাতে প্রচুর প্রচুর কাজ, অনেক কাজ। তারপরও করবো। কারন আপনের সাথে কথা বলারে আমি খুব জরুরি মনে করি। এত বিশাল বিশাল সব মন্তব্য দেইখা নিশ্চয় বুঝতে পারছেন।
------------------------------------------------------------------------
যে রাজনৈতিক সেই মানুষ, অর্থাত প্রানবান প্রানীদের ভেতর থেকে যে রাজনৈতিক হয়ে ওঠে সেই মানুষ।
------------------------------------------------------------------------
আপনে যদি অ্যাপলিটিকাল মানে রাজনিতীশূন্য হন তবে আমার সব কথাই বিফলে গেল। সদাপ্রভূ আমাদের ক্ষমা করুন
সাকীব বলেছেন:
'যে কারো' পক্ষে কল্পনা করা মুশকিল বলিনি। 'কল্পনা' বা অকল্পনা বিষয়ক সমস্যা নেই এখানে। প্রধান প্রস্তাবনা ছিল যারা আলোচ্য শিল্পীর সংগীত এবং প্রাসঙ্গিক কার্যাবলীর সাথে ঘনিষ্টভাবে পরিচিত তাদের পক্ষে কল্পনা করা মুশকিল। কেন? কারন উক্ত পরিচিতিসূত্রে তারা ইতোমধ্যেই জ্ঞাত যে আলোচিত ব্যাক্তিবর্গ বর্ণবাদী বা বৈষম্যবাদী নন। আপনাকে কষ্ট করে সাক্ষাতকারের টেক্সট দিতে হবেনা। আমি খুব ভালো ইংরেজি বুঝি, প্রায় মাতৃভাষার মতো। আসুন ভিন্নমত পোষনের ব্যাপারে একমত হই এবং আপনার সময় বাঁচুক।
ভিন্নপ্রসংগে বলছি, আপনি যদি ধর্ম পালনকারী মুসলিম হয়ে থাকেন তাহলে ঈসা (আ) কে নিয়ে ব্যাঙ্গ না করার অনুরোধ থাকলো। আর যদি 'কালচারাল মুসলিম' মনে করেন নিজেকে, অথবা ইসলামের সাথে ব্যাক্তিগত বিশ্বাসের কোন সম্পর্ক না থাকে সেক্ষেত্রে এধরনের কোন আবেদন নেই।
লেখক বলেছেন: কারন উক্ত পরিচিতিসূত্রে তারা ইতোমধ্যেই জ্ঞাত যে আলোচিত ব্যাক্তিবর্গ বর্ণবাদী বা বৈষম্যবাদী নন।
আগেই বলেছি- এই প্রজন্ম বুঝের মধ্যে ধরতে পারে নাই যে তাদের প্রিয় পারফরমার বা সেই পারফরমারদের সমাজের অপ্রিয় রাজনীতিকেরা আপনাকে আপনাদের মানুষই মনে করে না।
সুতরাং বর্নফারাক বা বৈষম্যের প্রশ্নই আসে না।
লেখক বলেছেন: আর সাকীব ভাই,
আমি ইসা (আ) বলে কাউকে নিয়া কথা বলছি এইখানে? মনে পরে না তো!
আমি বলছি-
যিশুকে নিয়ে, যিনি খোদাবন্দ সদাপ্রভূ। আরো বড়ো কথা- যিনি আল্লার পুত্র এবং নিজেই আল্লা। যিনি তামাম জাহানের আগত অনাগত পাপী তাপী বান্দাদের পাপ নিজের কাধে বহন করে ক্রুশবিদ্ধ হয়েছেন।
আপনার ইসার কি এইসব বৈশিষ্ট্য আছে? নাই। আপনার কোরআনের কথা মনে নাই? ওয়া ইজ ক্বলা ইসা ইবনুল্লাহ . . . যালিকা ক্বওলুহুম আফওয়াহিহিম . . .।
তাছাড়া আমি কিন্তু যিশুকে ব্যঙ্গ করিও নাই। প্রাচীন য়ুরোপীয় সাম্রাজ্য যেই যীশুরে নির্মান করছে খোদাবন্দ হিসাবে, যে যিশুর নাসারা ধর্ম আধুনিকতার মা বাপ, আমি আধুনিক সঙ্গীতের আলোচনায় সঙ্গত কারনেই তার নাম নিছি।
খোদাবন্দ আমাদের কৃপা করুন!
অলস ছেলে বলেছেন:
হ্যাটফিল্ড মিয়ারে বস্তার ভিত্রে ঢুকাই ড্রাই ওয়াশ করা দরকার। প্রস্তাবনা।
লেখক বলেছেন: দেখেন আইলসা,
সে কিন্তু আদতে বলছে কালচারাল প্রিফারেন্সের কথা, সাংস্কৃতিক শ্রেষ্টত্বের। আপনের নন মেটাল বাংলা বা অন্য কারো আরবী গান শুনলে সে নিজেরে অত্যাচারিত বোধ করে- তো আপনেও তার হেভি মেটাল বাজনা আর শভিনিস্ট কথার গান শুইনা অত্যাচারিত বোধ করতেই পারেন। মুটামুটি তার কথা এরমই।
এবং সে আপনেরে অত্যাচার করতে আগ্রহী । কারন সে ও তারা আপনেরে ফ্রিডম দিতে চায়, সামওয়ান মে কল ইট আগ্রাসন!
------------------------------------
তয় আপনে যদি মেটাল মিউজিক নিয়া কিছু আলোচনা করতেন। খুশি হইতাম।
ধরনে এই মিউজিক যে আধুনিক যুবকের নিদারুন যন্ত্রনাক্লিষ্টতার প্রকাশ, আধুনিক জীবন-নরকের তৈয়ার- সেই সূত্র ধইরা।
অলস ছেলে বলেছেন:
স্যার। এককেন্দ্রীক বিশ্বব্যাবস্থায় আভ্যন্তরীণ সামাজিক টানাপোড়নের ফসল হতে উদ্ভুত আধুনিক যুবকের নিদারুণ যন্ত্রণাক্লিষ্টতায় বিভিন্ন যন্ত্রের সমাহারে কতিপয় কপিবরের গগনবিদারী শব্দউৎপাদনের ভুমিকা নিয়া আমি বিশেষভাবে মুর্খ। রক, মেটাল, অল্টারনেটিভ রক ইত্যাদি ইত্যাদি নাম দূর থেকে ভেসে আসলেই আমি পগারপাড় হয়ে যাই, কেবল গুয়ান্তানামো প্রসঙ্গেই আমার আগ্রহ ছিলো তার এই মত না থাকলেও আমার মত হয়তো হেরফের হতো না।
লেখক বলেছেন: থ্যাংকিউ স্যার।
কনকনে বরফ ঠান্ডা, অন্ধকার, চোখের সামনে উজ্জ্বল বাতি, কানের কাছে কানফাটানো রক এন রোল! অসহ্য যন্ত্রণায় খিচুনি খেতে খেতে এভাবে আর কাদের কবে সংগীত উপভোগ করতে হয়েছে? গুয়ানতানামো ছাড়া?
আমরাও আদতে গুয়ানতানামো বিষয়ে কথা বলতে চাই। গুয়ানতানামোর সংগীত অস্ত্র বিষয়ে। আধুনিক ভারী বাজনা ও সভ্যতার কথাওয়ালা সংগীত এবং গুয়ানতানামোর মধ্যকার খায় খাতির বিষয়ে কথা বলতে চাই।
--------------------------------------------------------------------------
সিআইএ’র ম্যানুয়ালে উপায়টি সর্ম্পকে বলা হয়েছে, সংগীতের প্লাবনে বন্দির বোধ শক্তি ডুবিয়ে দেয়া অথবা তাকে বোধ শক্তির অনুভব থেকে বঞ্চিত করার উপায় এটি। . . .এমনতরো জুলুমে কেন সংগীতকে ব্যবহার করা হচ্ছে? কেন শুধু উচু আওয়াজ ব্যবহার করা হচ্ছে না। এই প্রশ্নের জবাবে নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুজানে চসিক জানিয়েছেন যে, কখনো কখনো শুধু আওয়াজও ব্যবহার করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ‘জুলুমের হাতিয়ার হিসাবে সংগীতের ব্যবহার’ বিষয়ে গবেষণা করছেন সুজানে, তিনি বলছেন ‘সংগীত সহজলভ্য, আওয়াজ ততটা না। তার ওপর কথা হচ্ছে; ইসলামের অনুসারীদের মধ্যে অনেক গোষ্ঠীর কাছে সংগীত শোনা পাপের কাজ, বিশেষ শর্ত ছাড়া। শর্তটি হচ্ছে, সংগীত অবশ্যই শুধু মানুষের কন্ঠের থেকে হবে। বাজনা সহ সংগীত কখনোই নয়। যে কন্ঠ সংগীতে খোদায়ী নৈকট্য অনুভূত হয়। তাদের এই বাজনা সহ সংগীত শোনানোর মানে হলো- সাংস্কৃতিকভাবে উপহাস করা। দেখা যাচ্ছে, (এই ভারি বাজনাওয়ালা সংগীত) নিজেই আমাদেরকে আমেরিকান সেনাদের শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়ে অনেক কথা জানান দিচ্ছে।
-------------------------------------------------------------------------
এ বিষয়ে যদি কিছু বল্তেন স্যার!
লেখক বলেছেন: আর আপনের ড্রাই ওয়াশ ইন বস্তা সংক্রান্ত প্রস্তাব বিবেচনায় রইলো।
চুড়ান্ত বিবেচনার আগে আমারা সিআইএর 'ইন্টারোগেশন ম্যানুয়াল'টা একবার দেখে নিয়ে নিশ্চিত হতে চাই যে, ড্রাই ওয়াশ ইন বস্তা কি 'স্টান্ডার্ড ইন্টারোগেশন মেথড' এর আওতাভূক্ত কি না।
প্রিয়তমেষু বলেছেন:
বিষয় টি দুঃখজনক~ যদি সত্যিই হয় , তাহলে হেটফিল্ডের প্রতি আমার যে শ্রদ্ধা ছিল তা সিংহ ভাগ কমে গেল। তার মত আইকন [নিসন্দেহে তিনি বিশ্বের কোটি মানুষের আইকন] এ ধরনের মন্তব্য যদি করেন-তা সত্যিই অপ্রত্যাশিত!! আরজু ভাই,যদি পারেন সাক্ষাতকারের ইউট্যুব লিঙ্ক টি দিয়েন-দেখতে চাচ্ছিলাম [আসলে না দেখা পর্যন্ত বিশ্বাস করা কষ্ট যে]
লেখক বলেছেন: উপরের মন্তব্যে দেখেন। সাকীব ভাই লিংকটা দিছেন অলরেডি। কিন্তু জানায়া রাখি এই দুই পর্বের নিবন্ধে যা লেখা হইছে, এইখানে হ্যাটফিল্ড স্পিন এবং স্পিগেল অনলাইনের সাথে কথা বলছেন, সেইখান থেইকা লেখা। ইউটিউবের ভিডিও থেকে আমি লেখি নাই। যদিও ভিডিও ইন্টারভিউটা আরো জঘন্য।
-------------------
তবে প্রিয়তমেষু!
প্রিয় পাঠক আমার!
আপনাকে জানাই-
আধুনিক সমাজের নিদারুন যন্ত্রনাক্লিষ্ট যুবক তরুনদের, এক দুর্ভাগা প্রজন্মের একজন গায়করে নিয়া আমি চিন্তিত নই। সেই বিষয়ে আমি লেখি নাই।
খোদাবন্দ যিশু আমাদের মাফ করুন! আমরা রক এন রোল-মেটাল সংগীত কিভাবে কিকারনে কোথায় 'আাধা-মানুষ'দের ওপর জুলুমের কাজে লাগানো হয় সেইটার চেয়ে একজন মেটাল সিঙ্গার কি কিছু একটা বলতে পারেন কি না, সেইটা নিয়া তর্ক করতাছি!
প্রিয়তমেষু!
আপনে বরং নিচের বিষয়ে কিছু একটা বলেন-
সিআইএ’র ম্যানুয়ালে উপায়টি সর্ম্পকে বলা হয়েছে, সংগীতের প্লাবনে বন্দির বোধ শক্তি ডুবিয়ে দেয়া অথবা তাকে বোধ শক্তির অনুভব থেকে বঞ্চিত করার উপায় এটি। . . .এমনতরো জুলুমে কেন সংগীতকে ব্যবহার করা হচ্ছে? কেন শুধু উচু আওয়াজ ব্যবহার করা হচ্ছে না। এই প্রশ্নের জবাবে নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুজানে চসিক জানিয়েছেন যে, কখনো কখনো শুধু আওয়াজও ব্যবহার করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ‘জুলুমের হাতিয়ার হিসাবে সংগীতের ব্যবহার’ বিষয়ে গবেষণা করছেন সুজানে, তিনি বলছেন ‘সংগীত সহজলভ্য, আওয়াজ ততটা না। তার ওপর কথা হচ্ছে; ইসলামের অনুসারীদের মধ্যে অনেক গোষ্ঠীর কাছে সংগীত শোনা পাপের কাজ, বিশেষ শর্ত ছাড়া। শর্তটি হচ্ছে, সংগীত অবশ্যই শুধু মানুষের কন্ঠের থেকে হবে। বাজনা সহ সংগীত কখনোই নয়। যে কন্ঠ সংগীতে খোদায়ী নৈকট্য অনুভূত হয়। তাদের এই বাজনা সহ সংগীত শোনানোর মানে হলো- সাংস্কৃতিকভাবে উপহাস করা। দেখা যাচ্ছে, (এই ভারি বাজনাওয়ালা সংগীত) নিজেই আমাদেরকে আমেরিকান সেনাদের শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়ে অনেক কথা জানান দিচ্ছে।
--------------
সদাপ্রভূ আমাদের তৌফিক দিন, যাতে আমরা তার আধুনিক দুনিয়াদারির ভেতরবাড়ী বুঝতে পারি।
প্রিয়তমেষু বলেছেন:
জানি 'তর্ক/আলোচনা' আপনার লেখার বিষয় বস্তু থেকে কিছুটা লাইনচ্যুত হয়ে পড়ছে-কিন্তু বিষয়টা গুয়ানতানামো এ সীমাবদ্ধ থাকতে পারছে না কারন শিরোনামে আপনি 'শিল্পচর্চা' কথা টি উল্ল্যেখ করেছেন-হেটফিল্ডের কথা কিংবা যাদের গান ব্যবহার হছছে তাদের কথা প্রসঙ্গত আসতেই পারে~প্রথমে হেটফিল্ড সংক্রান্ত আরো কিছু বলে নি--
ভাই রে , সাদা চামড়া সব এক- কি একটু বর্নবাদ মুলক কথা হয়ে গেল,কিন্তু মিথ্যে নয় একফোটাও।মেটাল সিঙ্গার / রক সিঙ্গার রা আর যাই হোন দেবতা নন~ অনেক অনেক আছেন যারা স্যাটানিসমের অনুসারী,অনেকে আছেন বিভিন্ন যৌন কেলেঙ্কারী'র সাথে জড়িত-আমি তাদের তখনি রোল মডেল হিসেবে ধরে নিতে পারি যখন তারা কোন ভালো কিছু করছে-যেমন,দুর্গতের জন্য অর্থ জোগানে হয়ত কন্সার্ট করছে, বিদ্রোহে গনমানুষের সাথে রাস্তায় নেমে শোষ্ক দের বিরুদ্ধে তুলছে প্রতিবাদী গান। আর যখন এই সব দেব-তুল্য রোল মডেল (অনেকের চোখে) সাদা চামড়া'র , এদের বিশ্বাস করাই বোকামী- এরা যেকোন সময় এমন কথাও বলে বসতে পারে যা হয়ত তার কোটি ভক্তের চোখে পানি এনে দিবে-তবে সে খুশি থাকবে,নিজের কুতসিত আত্মপরিচয় টা দিতে পেরে।
যাই হোক,
সংগীত কে অস্ত্র হিসেবে ব্যাবহার------ একটা বুলেট একদম মাথা বরাবর বিধিয়ে দিলে হয়ত ক্ষনিকের যন্ত্রনা-তারপর সব নিস্তব্ধ। কিন্তু এভাবে এই পরিবেশে এই ধরনের উচ্চস্বরের গান শুনিয়ে নির্যাতন-সভ্যতার চরম কালো রূপ কি তাহলে এই ই????একজন পাড় মেটাল ভক্ত কেও ওই ভয়ানক পরিবেশে এ ধরনের গান শুনাতে থাকলে সেও বেশীক্ষন হয়ত সহ্য করতেই পারবে না। মার্কিনীরা মুলত ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ভাবে গুয়ান্তানামো'র বন্দী দের মুল্যবোধ কে আঘাত করতে চাইছে-কিন্তু এর পরিনাম তো ভয়াবহ হতে পারে। খালি উচ্চস্বর নিচ্ছে না, নিচ্ছে কিন্তু তারা মেটাল টাইপ গান-তারমানে তারা অবিরাম উচ্চ এবং তীব্র সুর ও লিরিক দ্বারা বিষিয়ে তুলতে চাইছে বন্দীর মন ও মনন কে।এভাবে বন্দীরা ডিপ্রেশন এ ভুগে আত্মহত্যা'র পথে পা বাড়াতেই পারে। ভাবতেই পারিনা এমন পরিস্থিতির কথা।
যাই হোক,আপনার পোস্ট পড়ে নেট এ ঘাটাঘাটি করে বুঝলাম- যে সংগীত কে এত দিন ভালোবাসার ভাষা বলে চেচিয়ে বেড়াতাম-সবাইকে বলতাম সংগীত ই পারবে দুনিয়া কে এক করে বেধে রাখতে,তার আজকে দুসরা রূপ ও দেখে নিলাম।ভাষা নাই বলার মত। তবে মনে করি সচেতন শিল্পীরা যদি প্রয়াস নেন,তাহলে অন্তত অত্যাচারের এই মাধ্যম টা বন্ধ হএ[মনে হয়]! তবে মার্কিনীরা শিঘ্রী আবার অত্যাচারের নতুন মাত্রা বের করে নেবে!! স্রষ্টার কাছে সেই দুর্ভাগা বন্দী ভাই দের জন্য দুয়া করা ছাড়া আর কি ই বা করার আছে???
ভালো কথা,আপনার পোস্টের পরেও কমেন্ট গুলার বিশ্লেষন ভালো লেগেছে।নিয়মিত লিখবেন আশা করি।
লেখক বলেছেন: বিশদ মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
একদিকে গনমাধ্যমের সুবাদে মনোগঠন এবং অন্যদিকে নিষ্ঠুরতা আর নির্যাতনের মাধ্যমেই মুলত আধুনিক - সেকুলার রাষ্ট্র টিকে থাকে। দুইটা থাকে জড়াজড়ি কইরা। কখনো মনোগঠন জোরদার হয় আবার কখনো নিষ্ঠুরতা ও নির্যাতন। দুজনের পক্ষে আবার দুজন ন্যায্যতা দেয়।
----------------------
নিয়মিত লেখালেখি আর হইলো কই ?
বাংলাদেশ আধুনিক কইরা তুলতনের জবর চেষ্টা জোরদার করা হইতাছে, টের পাইতাছি। ব্যক্তি স্বাধীন মানে বিচ্ছিন্ন এবং আলাদা সুনির্দিষ্ট নজরদারির আওতায়।
ব্লগ ও নজরদারির বাইরে না। টের পাচ্ছি।
লেখক বলেছেন: নাহ। এ যাবত উন্মুক্ত করা তালিকায় তো দেখলাম না।
সাইফ শিশির বলেছেন:
'ওনাদের' চোখে 'অসভ্য' মুসলিমদের এট্টু 'সভ্য' করার চেষ্টা, এই আর কি। মেনে নিলেই হয়..... এই যা......
লেখক বলেছেন: হ। 'অমান্য' না করলে তো কার্যত মান্য করাই হয় !
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

















