ক¤িপউটার ভিশন সিনড্রোম ও তার প্রতিকার
আতাউর রহমান কাবুল
জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে এখন কম্পিউটার ছাড়া অচল। যেমন বাড়ছে কম্পিউটারের ব্যবহার তেমনি বেড়ে চলেছে কম্পিউটারজনিত রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা। আক্রান্ত হচ্ছে তারাই যারা নিয়মিত দীর্ঘ সময় ধরে কম্পিউটার ব্যবহার করে। বিশেষ করে যাদের দৈনিক কাজ কম্পিউটারভিত্তিক এবং যারা কম্পিউটারের প্রতি আসক্ত। অনেকের ধারণা কম্পিউটার ব্যবহারে শুধু চোখের ক্ষতি হয় এ উপলব্ধি নি:সন্দেহে সত্য। কিন্তু দীর্ঘ সময় কম্পিউটার ব্যবহার শুধু চোখের ক্ষতি হয় না বরং সমস্ত শরীরের ক্ষতি হতে পারে। মার্কিন বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় কম্পিউটার ব্যবহারে আমাদের চোখে যে সমস্যাগুলো দেখা দিতে পারে একে বলা হয় ঈঠঝ বা কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোম। এ রোগের উপসর্গগুলোকে দু’ভাবে উপস্থাপন করা যায়। প্রথমে ক্ষণস্থায়ী উপসর্গÑএতে রয়েছে মাথা ব্যথা, চোখ থেকে পানি পড়া, চোখ জলা, লাল হয়ে যাওয়া ও চুলকানো। এছাড়াও রয়েছে চোখ ডান-বামে নাড়ালে চোখের কোণায় ব্যথা অনুভব হওয়া, চোখ দুর্বল লাগা, চোখের পিছনে ব্যথা, ঝাপসা দেখা, বমি বমি ভাব ও অতিরিক্ত ক্ষুধা লাগা, ধীরে ধীরে চোখের জ্যোতি কমে আসা, লেখাপড়ার সময় দুর্বল লাগা, পড়ার গতি কমে যাওয়া, পড়ার সময় বিষয়বস্তু হারিয়ে ফেলা, স্মরণশক্তি কমে যাওয়া, সারাক্ষণ অসস্থি অনুভব করা। ™ি^তীয়ত দীর্ঘস্থায়ী উপসর্গÑবিষন্নতা, অনিদ্রা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে লক্ষ্মণগুলো বড়দের থেকে কিছুটা ভিন্ন এর অন্যতম কারণ হচ্ছে তাদের চোখের ক্রমে ক্রমে উন্নতি। বাচ্চাদের চোখ উনিশ বছর বয়স পর্যন্ত ডেভেলপ হতে পারে।
যদি বাচ্চারা অনেক সময় ধরে ক¤িপউটার অথবা অন্যান্য ভিজুয়্যাল ডিভাইস টার্মিনাল সংক্ষেপে ভিডিটি ব্যবহার করে, বিশেষ করে ভিডিও গেম। তাহলে তাদের এসব ভিডিটি ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক বিশেষ করে কম্পিউটার ভিশন সিনড্রম সম্পর্কে ব্যাপকভাবে জানতে হবে। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে সচরাচর যেসব উপসর্গ দেখা যায় তা হলোÑবিষন্নতা, অসামাজিক আচরণ, কম্পিউটারের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি, স্কুুলে ও পড়ালেখায় অমনোযোগী হওয়া, মাথা ব্যথা, খাবারের প্রতি অনীহা এবং অনিদ্রা। মার্কিন বিশেষজ্ঞরা সিভিএস স¤পর্কে বলেছেন, প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম পথ। তাই যদি আমরা এ রোগকে প্রতিরোধ করতে চাই, তাহলে প্রথমে ঠিক করতে হবে আমাদের কর্মস্থল।
চোখের চাপ কমানোর কিছু উপায়
আপনার চোখে মাংসপেশি আছে। এই মাংসপেশির বিশ্রাম প্রয়োজন। বিশ্রামের জন্য প্রতি বিশ মিনিট পর মনিটর থেকে দুরে তাকান এবং বিশ সেকেন্ড নিয়মটি মেনে চলুন। চোখের উপর চাপ কমানোর আরো উপায় হলোÑ কম্পিউটারে ফন্ট সাইজ বাড়ানো, রেজুলেশন কমানো এবং রিফ্রেশ রেট বাড়ানো, কম্পিউটারের স্ক্রিন সাইজ যত বাড়ে তত ভালো, পরিবেশের আলোর সঙ্গে মনিটরের ব্র্রাইটনেস মিলিয়ে নেয়া, কারো যদি উজ্জ্বল কালারের প্রতি সমস্যা থাকে তাহলে তার সুবিধামতো ব্যাকগ্রাউন্ড কালার মিলিয়ে নিতে পারে। এতে চোখের উপর চাপ কমবে। তাতেও যদি অসুবিধা হয়, তাহলে কম্পিউটারে আই প্রটেকশন গ্লাস ব্যবহার করা যেতে পারে।
চোখের ব্যায়াম সম্পর্কে কিছু কথা
Ñ চোখের দৃষ্টিসীমার চার পাশে ঘুরানো, ডান থেকে চারবার এবং বাম থেকে চার বার। ডান বা বাম হাতের দুরÍে^ একটি কলম ধরে আস্তে আস্তে সেটি নাকের মাথা পর্যন্ত আবার উল্টোভাবে হাতে দুরÍে^ নিয়ে যেতে হবে চার বার। একইভাবে চোখের চারপাশ থেকে নাক পর্যন্ত এবং উল্টোভাবে চারবার। এতে আপনার চোখের প্রতি মাংসপেশির শক্তি ও কার্যক্ষমতা বাড়বে এবং ব্যথা থেকে মুক্তি পাবেন।
Ñ দুই চোখ বন্ধ করুন। দুই হাত দিয়ে ঢেকে ফেলুন দুই চোখ। এবার তিন-চারবার গভীরভাবে শ^াস নিন। হাতের মধ্যেই চোখ ধীরে ধীরে খুলুন এবং হাতের অন্ধকারে রাখুন ১০-১৫ সেকেন্ড। এখন চোখের উপর হাত সরিয়ে ফেলুন। এভাবে দুই তিনবার করুন। দেখবেন অনেক উপকার পাচ্ছেন।
ক¤িপউটার ব্যবহারে আরও কিছু সতর্কতা
আমরা যারা কম্পিউটারে একটানা কাজ করি তারা কিন্তু জানি না যে, আমাদের শরীর কম্পিউটারের সামনে দিনে একটানা আট ঘণ্টা বসে থাকার উপযোগী নয়। এরকম করলে শরীর কিন্তুু এক সময় বিদ্রোহ করে বসতে পারে। বিভিন্ন ধরনের শারীরিক অস্বস্থিতে ভুগতে পারেন। অনেকের কম্পিউটারে কাজ করতে গিয়ে পিঠে ও মাথায় ব্যথা হতে পারে। ক্রনিক ব্যথা হতে পারে বাহুতে। দেখা দিতে পারে মানসিক অস্বস্থি এবং সৃষ্ঠি করতে পারে মনোযোগে বিঘœ।
এ রকম অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে আমরা কিছু নিয়ম মেনে চলতে পারি। যেমনÑ
Ñ চেয়ারকে এমন উচ্চতায় এডজাস্ট করে নেয়া যাতে স্বস্থিবোধ হয়।
Ñ স্ক্র্রিন যেন থাকে কেন্দ্রস্থলে, চোখের লেভেলের সামান্য নিচে এবং সামান্য উপরের দিকে ঘোরানো।
Ñ কি বোর্ডকে কনুইয়ের সমতলের ঠিক নিচে রাখা ভালো। কম্পিউটারের যে কিগুলো দূরে থাকে সেগুলোতে পৌঁছাতে হবে গোটা বাহুকে নাড়িয়েÑ কব্জি বাঁকিয়ে বা আঙুলগুলোর ওপর চাপ না দিয়ে।
Ñ পা দুটিকে মেঝেতে রাখবেন সমতলে। প্রয়োজন হতে পারে একটু বিশ্রামেরও।
Ñ ঘাড়ের ওপর মাথা সোজা করে বসবেন। গলাকে সামনের দিকে ঝোঁকানো বা পেছনের দিকে নোয়ানো উচিত নয়। মাথা সব সময় স্টিŒন থেকে এক হাত দহৃরে রাখা ভালো।
Ñ গলা লম্বা ও শিথিল করে বসুন। ঘাড় মাঝে মাঝে নিচের দিকে বাঁকানো উচিত। এতে রক্ত সঞ্চালনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।
Ñ পিঠ সোজা রেখে নিতম্ব থেকে সামনের দিকে ঝুঁকে বসবেন। শিরদাঁড়ার স্বাভাবিক আকৃতি বজায় রাখবেন।
Ñ কি বোর্ড ব্যবহার করার সময় পুরো বাহুকে আনুভূমিক রাখবেন।
Ñ হাতের কব্জিকে যতটা সম্ভব শিথিল এবং নিরপেক্ষ অবস্থানে রাখবেন।
Ñ মাঝে মাঝে বিরতি দিন, দেহভঙ্গি মাঝে মাঝে বদলান।
Ñ নিয়মিত আলতো করে হাত ও ঘাড়কে টেনে ছড়িয়ে দিন।
আতাউর রহমান কাবুল
ইমেইল: [email protected]

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

