somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এবার ঘুরে আসুন মহাকাশে

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

২০১১ সাল থেকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মহাকাশ ভ্রমণের সুযোগ করে দিতে চলেছে স্যার রিচার্ড ব্র্যানসনের ‘ভার্জিন গ্যালাকটিক স্পেসলাইনার’। ‘আগামী ছুটিতে কোথায় বেড়াতে যেতে চান? ইউরোপ-আমেরিকা নাকি থাইল্যান্ড বা সিঙ্গাপুর?’ আর মোটামুটি ১৭ মাস অপেক্ষা করলে কিন্তু আরও একটা নতুন প্রশ্ন করতে পারবেন—‘কি, এবার কি পৃথিবীতেই থাকছেন, নাকি মহাকাশে ছুটি কাটাতে যাচ্ছেন?’ হ্যাঁ! ব্রিটেনের শিল্পপতি স্যার রিচার্ড ব্র্যানসন কর্তৃক মহাকাশ পর্যটকদের জন্য উদ্যোগ নেয়া এমন এক সম্ভাবনার কথা জানাচ্ছেন—
আতাউর রহমান কাবুল

মহাকাশ যাত্রার ইতিহাসে গত ৭ ডিসেম্বর তারিখটি হয়তো স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এদিন ব্রিটেনের শিল্পপতি স্যার রিচার্ড ব্র্যানসন মহাকাশ পর্যটকদের জন্য এমন এক সম্ভাবনার দরজা খুলে দিলেন, যা অদূর ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক আকারে চালু হতে চলেছে। এর আগে বিশেষ করে আমেরিকার মহাকাশফেরি অথবা রাশিয়ার সইয়ুজ মহাকাশযানে চেপে মহাকাশ ঘুরে এসেছেন হাতেগোনা কয়েকজন পর্যটক। তবে তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করতে হয়েছে।

বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মহাকাশ যাত্রা
টিকিট কেটে, রকেটে চেপে মহাকাশ ঘুরে আসার কোনো ব্যবস্থা এতদিন ছিল না। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে ‘ভার্জিন গ্যালাকটিক স্পেসলাইনার’ নামের কোম্পানি ২০১১ সাল নাগাদ বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পর্যটকদের জন্য মহাকাশ যাত্রার সুযোগ সৃষ্টি করতে চলেছে। স্যার ব্র্যানসন এই প্রকল্পে ইতোমধ্যে প্রায় ২৫ থেকে ৪০ কোটি ডলার ব্যয় করছেন বলে জানা গেছে।

বসতে পারবেন দু’জন পাইলট ও ৬ জন যাত্রী
কিছুদিন আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের মৌহাভি মরু এলাকায় চোখ-ধাঁধানো প্রথম বাণিজ্যিক মহাকাশযানের সঙ্গে উপস্থিত সবার পরিচয় করিয়ে দিলেন। এই যানটি আসলে দুটি যানের সমন্বয়ে তৈরি। স্বাভাবিক অবস্থায় ‘স্পেস শিপ টু’ এবং ‘হোয়াইট নাইট টু’ নামের দুটি যান পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত থাকে। দেখলে মনে হবে, ঠিক যেন তিনটি ছোট বিমান পাশাপাশি পরস্পরের সঙ্গে লাগানো আছে এবং তাদের যেন একটাই পাখনা রয়েছে। এর মধ্যে মাঝের বিমানটি অর্থাত্ হোয়াইট নাইটের কোনো চাকা দেখা যায়নি। মনে হচ্ছে, দুই পাশের বাকি দুটি বিমানের ভরসায় সেটিও মাঝখানে ঝুলে রয়েছে। এটিই আসল মহাকাশযান। এতে দু’জন পাইলট ও ৬ জন যাত্রী বসতে পারবেন বলে জানা গেছে।

ঘণ্টায় চলবে শূন্য থেকে ২৫০০ মাইল বেগে
‘স্পেস শিপ টু’ পৃথিবী থেকে প্রায় ৬০ হাজার ফুট উচ্চতায় গিয়ে ‘হোয়াইট নাইট’কে শূন্যে ছেড়ে দেবে। মাত্র ১০ সেকেন্ডের মধ্যে ঘণ্টায় শূন্য থেকে ২ হাজার ৫শ’ মাইল পর্যন্ত গতিবেগে ধেয়ে যাবে এই যান। তারপর ‘হোয়াইট নাইট’ নিজস্ব ইঞ্জিন চালু করে বাকি পথ অতিক্রম করে মহাকাশে পৌঁছে যাবে। আগামী ১৭ মাস ধরে একাধিক পরীক্ষামূলক উড়ানের পর সাধারণ যাত্রীরা এই যানে চেপে মহাকাশ যেতে পারবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।

টিকিটের মূল্য কত?
মহাকাশ যাত্রার এই স্বপ্ন পূরণ করতে হলে যে টিকিট কাটতে হবে, তার মূল্য আপাতত ২ লাখ ডলার ধরা হয়েছে। অংক শুনে আঁেক উঠছেন হয়তো অনেকে। কিন্তু এর আগে যারা পর্যটক হিসেবে মহাকাশে গিয়েছেন, তারা এর কয়েক গুণ বেশি অর্থ ব্যয় করেছেন। যেমন রাশিয়ার মহাকাশ সংস্থা পর্যটকদের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে চার কোটি ডলার আদায় করে থাকে। তাই ব্র্যানসন মনে করেন, টিকিটের জন্য এটা অত্যন্ত ন্যায্যমূল্য। যারা এরই মধ্যে টিকিট বুক করেছেন, তাদের ২০ হাজার ডলার জমা দিতে হয়েছে। এমন প্রায় ৩০০ ভবিষ্যত্ মহাকাশ যাত্রী কিছুদিন আগে এমন একটা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিতও ছিলেন। এই ‘স্পেস শিপ টু’ অভিজ্ঞতা কেমন হবে? সাধারণ যাত্রীবাহী বিমানে সিট-বেল্ট বেঁধে মানুষ নির্দিষ্ট আসনে বসে থাকেন। গন্তব্যে পৌঁছনোর পর তারা বিমান থেকে নেমে যান।

শূন্যে ভেসে পৃথিবীকে দেখা যাবে
‘হোয়াইট নাইট’-এর যাত্রীরাও সিট-বেল্ট বেঁধে উেক্ষপণের সময় নির্দিষ্ট আসনে বসে থাকবেন। নির্দিষ্ট উচ্চতায় পৌঁছার পর তারা সিট-বেল্ট খুলে শূন্যে ভেসে বেড়াতে পারবেন। মধ্যাকর্ষণ শক্তির আওতা থেকে বেরিয়ে এলে সত্যি কেমন লাগে, সেই দুর্লভ অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন তারা। তাদের চারদিকে অসংখ্য ছোট ছোট জানালা থাকবে। সেখান থেকে মহাকাশের অসাধারণ দৃশ্য ও পৃথিবী দেখতে পারবেন যাত্রীরা।

দুর্ঘটনার সম্ভাবনা কম
স্যার ব্র্যানসন জানিয়েছেন, মহাকাশযানটি দেখতে ছোট মনে হলেও শূন্যে ভেসে বেড়ানোর জন্য যথেষ্ট জায়গা তার মধ্যে রয়েছে। যাত্রা শুরু করার আগে শুধু দুই পাইলটেরই মহাকাশচারী হিসেবে পূর্বঅভিজ্ঞতা থাকবে। যাত্রার পর বাকিদেরও মহাকাশচারী বলা যাবে।
‘হোয়াইট নাইট’-এর মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে ফেরার পদ্ধতিও অভিনব। ব্যাডমিন্টন খেলার সময় শাটল কর্ক যেভাবে শূন্য থেকে মাটিতে এসে পড়ে, অনেকটা সেভাবেই পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করবে ওই যানটি। বিশেষ ডিজাইনের কারণেই এটি সম্ভব হবে বলে জানা গেছে। সাধারণত কোনো মহাকাশযান বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করার সময় যে তীব্র উত্তাপের সৃষ্টি হয়, এক্ষেত্রে তা ঘটবে না— এমন আশ্বাস শোনা গেছে।

কবে হবে যাত্রা শুরু...
পরিকল্পনার গোটা প্রকল্পের কাজ এখনও শেষ হয়নি। আগামী ১৭ মাস ধরে প্রযুক্তির উন্নতি, পরীক্ষামূলক উড়ান, পরিকাঠামো প্রস্তুত করা ইত্যাদি অনেক কাজ শেষ করতে হবে বলে জানা গেছে। নিউ মেক্সিকো রাজ্যে মহাকাশ যাত্রার জন্য একটি বিশেষ বন্দর নির্মাণের কাজ চলছে, যেখানে প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এক রানওয়ে থাকবে। ২০১০ সালে এই বন্দর প্রস্তুত হয়ে যাওয়ার কথা। এবার শুধু অপেক্ষার পালা।

http://www.arkabul.com
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাসূলের (সা.) অনুসারি হবেন শুধুমাত্র সাহাবা (রা.), অন্যরা এবং ওলামা ওলামার অনুসারি হবেন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:৪০




সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ২৮ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৮। এভাবে রং বেরং- এর মানুষ, জন্তু ও আন’আম রয়েছে। নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে (ওলামা) আলেমরাই তাঁকে ভয় করে।নিশ্চয়্ই আল্লাহ পরাক্রমশালী ক্ষমাশীল।

সূরা:... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×