somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পরবর্তী লড়াই নির্বাচন ২০০৮ { শেষ কিস্তি } ========= মাহমুদুর রহমান

২৮ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৯:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নির্বাচন ২০০৮ নিয়ে লেখা প্রথম দুই কিস্তিতে ১১৯টি আসনের ভোট প্রদানের অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল প্রণয়নে সেনাবাহিনী সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বন্দোবস্তের বিষয়টি সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করার চেষ্টা করেছি। সেই প্রচেষ্টা গ্রহণের অপরাধে কয়েকজন বিরোধী মতের পাঠক যথেষ্ট গালমন্দ করে ইতোমধ্যে আমাকে ই-মেইলও পাঠিয়েছেন। তাদের অভিযোগ হলো, আমি নাকি অঙ্কের মারপ্যাঁচে একটি ইতিহাস সৃষ্টিকারী সুষ্ঠু নির্ব�াচনকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা করেছি। বিলম্বে হলেও ঘটনার পর্দা একটু একটু করে সরতে শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত ফলাফল অনুযায়ী নওগাঁ-৬ আসনের পহেলাপুর উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট ভোটারের চেয়ে ৭৭টি বেশি ভোট পড়েছে। নির্বাচন কমিশনের কর্তাব্যক্তিরা এবং তাদের ভক্তকুল প্রত্যাশিতভাবেই এটিকে একটি বিচ্ছিন্ন যোগফলের ভুল বলে উড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছেন। বলেছেন, এক-আধটা কেন্দ্রে এমন ভুল হতেই পারে। এই সামান্য ভুল উল্লেখ করে এত চমৎকার একটা নির্বাচনকে কালিমালিপ্ত করা শুধু এই কলাম লেখকের মতো একজন দলবাজ, সঙ্কীর্ণমনা লোকের পক্ষেই সম্ভব। তার পরও নাছোর বান্দার মতোই একটা প্রশ্ন করা যাক। ছবিযুক্ত ভোটার লিস্ট, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স, দেশী-বিদেশী নির্বাচন পর্যবেক্ষক, এত আয়োজনের পরও যদি উল্লিখিত কেন্দ্রে মোট ভোটারের চেয়েও অতিরিক্ত ভোটার ভোট প্রদান সম্ভব হয়ে থাকে তাহলে দেশের বাকি কেন্দ্রগুলোতেও এ জাতীয় ভোজবাজির ঘটনা যে ঘটেনি তার নিশ্চয়তা কোথায়? তদুপরি পত্রপত্রিকায় অন্যান্য কেন্দ্রেও শতাংশের অধিক ভোট পড়ার খবর তো ধীরে ধীরে প্রকাশিত হচ্ছে। এর অর্থ হলো বিভিন্ন মহল কর্তৃক নির্বাচনকে সুষ্ঠু দেখানোর যতই চেষ্টা করা হোক না কেন বাস্তবে যথাসম্ভব মুন্সিয়ানার সাথে প্রশাসনিক বন্দোবস্তের প্রয়োগটি করা হয়েছে। নির্বাচনের দিন চারদলীয় জোট তাদের সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণেই আড়ালের ক্রিয়াশীল প্রশাসনিক হাতখানি বের করে জনসমক্ষে দেখাতে সক্ষম হয়নি। নির্বাচনের সাথে সংশ্লিষ্ট সামরিক এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দক্ষতাকেও খাটো করে দেখা নিতান্তই অনুচিত হবে। তাদের নিশ্ছিদ্র এবং বহুমুখী পরিকল্পনা এমনই সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে যে দুই যুগ পর আমরা ১৯৭৩ সালের সংসদটিকে ফিরে পেয়েছি। তা ছাড়া পূণর্বার ইতিহাস সৃষ্টিকারী উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠানের পর ‘স্বাধীন’ নির্বাচন কমিশনের করিৎকর্মা ত্রিমূর্তির দক্ষতা নিয়ে আর কোনো রকম সন্দেহ পোষণ করার কারণ দেখি না। সারাদিন ধরে ভোট কেন্দ্রে ভোটার খুঁজে পাওয়া না গেলেও সব উপজেলার ফলাফল যোগ করে দেখা যাচ্ছে মাছি তাড়ানো নির্বাচনেও নাকি সত্তর শতাংশের ওপরে ভোট প্রদান করা হয়েছে। অবশ্য দেশে সব উপজেলাকে টেক্কা মেরেছে টাঙ্গাইল জেলার সখীপুর। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে টাঙানো ফলাফল অনুযায়ী ওই উপজেলায় ১ লাখ ৫ হাজার ৫৬৬ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২১ জন!

অনেক দিন আগে ভারতের জনপ্রিয় নায়ক শাহরুখ খান অভিনীত একটি হিন্দি ছবি দেখেছিলাম। ছবির নায়ক গানবাজনায় বিশেষ পারদর্শী হলেও লেখাপড়ায় অশ্বডিম্ব। ফলে বছরের পর বছর ফেল করে এবং পিতার গালমন্দ শোনে। ঘটনাচক্রে মহাপ্রতাপশালী এক আন্ডারওয়ার্ল্ড মাফিয়া ডনের সাথে তার বেজায় বন্ধুত্ব হয়ে গেল। ডন সাহেব বন্ধুর দুর্দশা আর সইতে না পেরে একখানা জাল নম্বরপত্র জোগাড় করে আনল, যেখানে ইংরেজি সাহিত্যেও প্রাপ্ত নম্বর এক শ’র মধ্যে মাত্র ৯৫। নায়ক এই বিস্ময়কর মার্কশিট দেখে চোখ কপালে তুলে ফেললে সেই অতি সরল বন্ধুবৎসল মাফিয়া ডন বিচলিত হয়ে জানতে চাইল, ইংরেজিতে নম্বর কম হয়ে গেছে কি না। না বুঝে উপকার করার চেষ্টা করলে কখনো কখনো ইংরেজিতে ৯৫ পাওয়ার মতোই কেন্দ্রে মোট ভোটারের চেয়ে বেশি ভোট পড়েও যেতে পারে। তবে অনেক ঢাকঢোল পেটানো ‘স্বচ্ছ’ নির্বাচনের বিষয়ে পরিসংখ্যান যে অবশেষে সত্য কথাটি বলতে শুরু করেছে তাতে জ্ঞানপাপীরা চাইলে উপকৃত হতে পারেন। একটি দেশে গণতান্ত্রিক কাঠামো মজবুত করার জন্য নির্বাচনে জনগণের রায় সঠিকভাবে প্রতিফলিত হওয়া অত্যাবশ্যকীয়। ১৯৯১ সালে বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ একটি অসাধারণ মানের নির্বাচন অনুষ্ঠান করে কালের বিচারে নিজেকে একজন সৎ ও দক্ষ প্রশাসকের পাশাপাশি পরম শ্রদ্ধেয় ব্যক্তির পর্যায়ে উন্নীত করেছেন। ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালের নির্বাচনে পরাজিতরা বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি অনুযায়ী মৃদু আপত্তি তুললেও স্বীকার করতে হবে তৎকালীন সামরিক এবং বেসামরিক প্রশাসন সামগ্রিকভাবে তাদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে পেরেছিল। এবারের নির্বাচন দুর্ভাগ্যজনকভাবে জাতিকে পুনর্বার জেনারেল এরশাদের ১৯৮৬ এবং ১৯৮৮ সালের নির্বাচনের জমানায় ফিরিয়ে নিয়ে গেছে। দেশের জন্য অশনি সঙ্কেত হলো নবম জাতীয় সংসদ এবং উপজেলা নির্বাচন অনভিপ্রেতভাবে এ দেশের সেনাবাহিনীকেও বিতর্কের মুখে ঠেলে দিয়েছে। জাতীয় সংসদ এবং উপজেলা নির্বাচনের দুই দিনে কথিত স্ট্রাইকিং ফোর্সের নামে আমাদের সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঠিক কী বিশেষ কাজটি করছিলেন তা বোঝা আমজনতার বুদ্ধির অগম্য। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করা সহজ কাজ হবে না। নির্বাচন নিয়ে এজাতীয় বিতর্ক যাতে উত্থাপিত না হয় সেই উদ্দেশ্যেই ১৯৯৬ সালে আমাদের সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রথা আমদানি করা হয়েছিল। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর তারিখে যে দিন রাষ্ট্রপতি ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ তার দায়িত্বের অতিরিক্ত প্রধান উপদেষ্টার পদটি গ্রহণ করেছিলেন সে দিনই প্রকৃতপক্ষে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বারোটা বেজে গেছে। পরবর্তী সময়ে ড. ফখরুদ্দীন আহমদের জরুরি সরকার কেবল নির্বাচন পরিচালনার জন্য ৯০ দিনের সরকার গঠনের বিশেষ বাংলাদেশী প্রথাকে একেবারে তামাশায় পর্যবসিত করেছে। পক্ষপাতমূলক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এই তামাশা থেকে জাতিকে মুক্তি পেতে হলে দেশের বিবেকসম্পন্ন ও নিষ্ঠাবান মানুষের প্রভূত চিন্তাভাবনা, তর্কবিতর্ক করা আবশ্যক। পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ পাঠ করে আনন্দিত হয়েছি, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং সংসদ সদস্য ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর সংবিধান লঙ্ঘনের অপরাধে সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিচার দাবি করেছেন।

এবার প্রসঙ্গান্তরে যাই। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে পাঁচ কিস্তির লেখাটি আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের মতো জনবহুল অথচ সামরিক শক্তিতে দুর্বল দেশের স্বাধীন সত্তা নিয়ে টিকে থাকার লড়াইয়ের কৌশল নিয়ে আলোচনা করেই সমাপ্ত করতে চাচ্ছি। পাঠকদের স্মরণে থাকার কথা, ২০০৮ সালের নভেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তার কারাগার এড়ানো দীর্ঘ স্বেচ্ছা নির্বাচন শেষ করে দেশে ফেরার আগে বুশ সরকারের উপ-সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিচার্ড বাউচারের সাথে দীর্ঘ সময় ধরে আলাপ-আলোচনা করেছিলেন। তাদের সেই একান্ত আলাপচারিতার সব বিষয় আমার মতো ক্ষুদ্র ব্যক্তির জানার কোনো উপায় নেই। তবে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল, সেই সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের নিকৃষ্টতম প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ জুনিয়রের ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ-এর সাথে একাত্মতা জানিয়ে সেখানে জবান দিয়ে এসেছিলেন যে তার নেতৃত্বাধীন সরকার সমগ্র বিশ্বের মুসলিম নিধনের এই ঘৃণ্য পরিকল্পনায় সাম্রাজ্যবাদী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একান্ত অনুগত ভৃত্য হয়েই থাকবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বুশের জায়গায় এখন ওবামা এসেছেন। সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের বিষয়ে তার মনোভাব এখনো পরিষ্কার না হলেও অপর সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্র এবং সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠতম সহযোগী যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিলিব্যান্ড ইতোমধ্যে এই যুদ্ধকে বিশাল ভুল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েই বাংলাদেশের কথিত সন্ত্রাস এবং জঙ্গি সমস্যা সমাধানে উদগ্রীব হয়ে উঠেছেন। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিশ্রুত দক্ষিণ এশীয় টাস্কফোর্স অতিসত্বর গঠনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তাদের দলের অঙ্গীকার ঘনঘন স্মরণ করছেন। সরকারের মনোভাব দেখে যেকোনো নাগরিকেরই এমন ধারণা হওয়া স্বাভাবিক যে বাংলাদেশে ইসলামি মৌলবাদী সন্ত্রাসীদের রীতিমতো তাণ্ডব চলছে এবং এটি আমাদের দেশের জন্য একেবারে জীবন-মরণ সমস্যা। অথচ বাস্তবতা হলো বিশ্বব্যাপী সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন এবং চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের ফলে সৃষ্ট অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশকে এখনো তুলনামূলক একটি ধর্মীয় সন্ত্রাসমুক্ত দেশ হিসেবে অভিহিত করা উচিত। এরকম পরিস্থিতিতে সরকারপ্রধানের সাম্রাজ্যবাদী অপশক্তির সাথে গাঁটছড়া বাঁধার উদগ্র বাসনা দেখে জনমনে সন্দেহের সৃষ্টি হওয়াই স্বাভাবিক। ইতোমধ্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন রাখঢাক না করে জানিয়ে দিয়েছেন, দক্ষিণ এশীয় টাস্কফোর্সের ছদ্মাবরণে প্রকৃতপক্ষে ভারত এবং বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে একটি দ্বিপক্ষীয় সামরিক কমান্ড গঠিত হতে চলেছে। এর সরল অর্থ হলো, বাংলাদেশ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন অবস্থায় প্রত্যাবর্তন করছে। পার্থক্য হচ্ছে, সেই সময় যৌথ বাহিনী পাকিস্তানের দখলদার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করেছিল, আর এবার দ্বিপক্ষীয় টাস্কফোর্স ব্যবহৃত হবে বাংলাদেশের নাগরিকদের হত্যা করার কাজে। কথিত ইসলামি জঙ্গি মোকাবেলার নামে ভারতীয় আধিপত্যবাদ এবং মার্কিন সাম্রাজ্যবাদবিরোধী দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী এবং ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী জনগোষ্ঠীকে নির্মূল করার জন্যই মহাজোট সরকারের এই মহৎ পরিকল্পনা। এক-এগারোর পর থেকেই ক্রমাগত বলে এসেছি, দেশের জনগণ জেগে না উঠলে বাংলাদেশ অবধারিতভাবে ইরাক ও আফগানিস্তানের ভাগ্য বরণ করতে যাচ্ছে। জনপ্রিয় কবি ও কলামিস্ট ফরহাদ মজহার বর্ণিত ব্লু হেলমেটের নেতৃত্বেই হোক কিংবা টাস্কফোর্সের ছদ্মাবরণে ভারতীয় সেনাবাহিনীর নেতৃত্বেই হোক, অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে বাংলাদেশে বিদেশী দখলদার সৈন্যের উপস্থিতি এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। পরিতাপের বিষয় হলো, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাসমৃদ্ধ জাতির ঘুম ভাঙার কোনো লক্ষণই নেই।
পরবর্তী যে কাজটি করে বর্তমান সরকার যথাসম্ভব দ্রুত তাদের বিদেশী বন্ধুদের ঋণ পরিশোধ করতে চায় তা হলো বাংলাদেশকে ভৌগোলিকভাবে খণ্ডিত করে আধিপত্যবাদী ভারতকে ট্রানজিটের নামে করিডর প্রদান। দীর্ঘ দিন ধরেই আওয়ামী লীগ প্রতিবেশী বৃহৎ রাষ্ট্রকে এই সুবিধা দেয়ার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যে ভারত বাংলাদেশকে শক্ররাষ্ট্র বিবেচনা করে আমাদের সীমান্তে লোহার বেষ্টনী নির্মাণ করছে তারাই আবার নিজেদের স্বার্থে আমাদের ভূখণ্ডের মধ্য দিয়ে করিডর দাবি করছে, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এর চেয়ে নির্লজ্জ সুবিধাবাদিতা এবং ভণ্ডামির নজির আর হতে পারে না। লোহার খাঁচার মধ্যে বাংলাদেশকে আবদ্ধ করার প্রচেষ্টা এবং ইসরাইল কর্তৃক প্যালেস্টাইনকে কংক্রিটের প্রাচীর দ্বারা পরিবেষ্টিত করার মধ্যে যে মৌলিক কোনো পার্থক্য নেই এ বিষয়টি দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাংলাদেশের জনগণ এখনো বুঝে উঠতে পারেনি বলেই আমার কাছে অন্তত মনে হয়েছে। ভারতকে ট্রানজিট দেয়ার সপক্ষে বাংলাদেশের নাগরিক হয়েও যারা ওকালতি করছেন তাদের স্বাধীনতাবিরোধী বলা হলে আশা করি অপরাধ হবে না। অধিকতর দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, যারা নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষ শক্তি হিসেবে দাবি করেন, সমাজের স্তরে স্তরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রতিষ্ঠার জন্য দিবারাত্র চিৎকার করে আপন স্বরযন্ত্রের ক্ষতিসাধন করে চলেছেন তারাই এখন বৃহৎ প্রতিবেশীর পদতলে দেশের স্বাধীনতা বিসর্জন দেয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে উঠেছেন। এই শ্রেণীভুক্তদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার একমাত্র অর্থ হলো মুসলিম বিশ্বের বিরোধিতা এবং মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের দোসর ভারতের কাছে সপ্রেম আত্মসমর্পণ। তত্ত্বগতভাবে তারা মনে করেন ১৯৭১-এর মহান বিজয় শুধু পাকিস্তানি দখলদার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধেই ছিল না, সেই বিজয় ছিল পবিত্র ধর্ম ইসলামের বিরুদ্ধেও।

চিরাচরিত অভ্যাস অনুযায়ী আমাদের জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশেরই এত দিনে ভুলে যাওয়ার কথা যে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত সময়কালীন শেখ হাসিনার প্রথমবারের শাসনামলেও ভারতকে ট্রানজিটের নামে করিডর দেয়ার জন্য তদানীন্তন বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে চেষ্টা কিংবা আগ্রহের কোনো অভাব ছিল না। বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক বুদ্ধিজীবী মহল সেই সময় জনগণের মধ্যে ট্রানজিট দেয়ার বিপদ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করতে সমর্থ হওয়ায় ট্রানজিটবিরোধী জনমত প্রবল হয়ে উঠেছিল। তদুপরি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্বে সপ্তম সংসদে একটি বৃহৎ বিরোধী দল ছিল যারা ট্রানজিট প্রদানের বিপক্ষে শক্ত এবং কার্যকর অবস্থান গ্রহণ করেছিল। আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটও তখন ছিল যথেষ্ট ভিন্ন। চরমভাবে ইসলামবিরোধী এবং মৌলবাদী খ্রিষ্টান প্রেসিডেন্ট বুশ তখনো ক্ষমতাসীন হননি এবং ভারতের আণবিক বোমা বিস্ফোরণের ফলে অন্তত কিছু দিনের জন্য হলেও ভারত-মার্কিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছুটা শীতল আবহ তৈরি হয়েছিল। বাস্তবতা হলো এখনকার পরিস্থিতি এ দেশের ভারতপ্রেমীদের বিশেষ অনুকূলে। ২৯ ডিসেম্বর, ২০০৮ সালের রহস্যময় নির্বাচনের ফলে সংসদে প্রকৃতপক্ষে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে। বিশ্বায়ন এবং আকাশ সংস্কৃতির কল্যাণে বাংলাদেশের ঘরে ঘরে অধিকতর শক্তিশালী ভারতীয় সংস্কৃতির আগ্রাসন সাফল্যজনকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে ভারত এখন এক চোখ ধাঁধানো দেশের নাম যেখানে বেশুমার প্রাচুর্য এবং অন্তহীন আনন্দফুর্তি। অন্তত ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেলের সোপ অপেরাগুলো তো তা-ই প্রচার করে চলেছে। ভারতে কোনো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা নেই, সেখানে ধর্মযাজকদের জ্যান্ত পুড়িয়ে হত্যা করা হয় না, বড় বড় শহরের বস্তিগুলোতে সে দেশের প্রান্তিক নাগরিকরা মানবেতর জীবনযাপন করে না, দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের অনৈতিক ও বিভীষিকাময় ব্যবসা চলে না, ডিজিটাল ভারতের বিখ্যাত আইটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ‘সত্যম’-এর মতো বিশালকায় করপোরেটগুলোয় হাজার হাজার কোটি টাকার জালিয়াতির ঘটনা ঘটে না, ঋণ পরিশোধ করতে না পেরে প্রতি বছর সহস্রেরও অধিক কৃষক আত্মহত্যা করে না, কন্যাশিশুদের আঁতুড়েই হত্যা কিংবা পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে দেয়া হয় না ইত্যাদি। শাইনিং ইন্ডিয়ার অন্ধকারের গল্প নিয়ে যুক্তরাজ্য-ভারতের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত সাম্প্রতিক ছবি ্লামডগ মিলিওনেয়ার (Slumdog Millionaire) চার দিকে হইচই ফেলে দিয়েছে। ভারতের চলচ্চিত্র জগতের আইকন অমিতাভ বচ্চন অবশ্য ছবিটি নির্মিত হওয়ায় খুবই ক্ষুব্ধ হয়েছেন। রঙের পলেস্তরা খসে পড়ে স্বদেশের ভেতরের বিবর্ণ চেহারা বের হয়ে যাওয়ার বিষয়টি তার ভালো লাগেনি। বাংলাদেশের সমস্যা হলো সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের প্রকৃত রূপটি না বোঝার কারণে মোকাবেলার ভাষা অথবা কৌশল কোনোটাই আমরা আয়ত্ত করতে পারিনি। সচরাচর এই প্রকৃতির আগ্রাসন ধীরে ধীরে সম্পন্ন হওয়ার ফলে জাতির যখন ঘুম ভাঙে তখন দেখা যায় বড় বিলম্ব হয়ে গেছে। আর বাংলাদেশের জনগণ তো এখনো ঘুমিয়েই আছে।
এক-এগারো বাংলাদেশের অধিকাংশ নাগরিককে কিছু সময়ের জন্য একধরনের অবাস্তব রোমান্টিকতায় আক্রান্ত করেছিল। আমরা মাত্র গোটাকয়েক কাঠখোট্টা নিন্দুক বলার চেষ্টা করেছিলাম যে সাম্রাজ্যবাদীরা বাংলাদেশকে প্রকৃতপক্ষে গিনিপিগের মতো ব্যবহার করছে। স্রোতের উল্টো দিকে সাঁতার দেয়ার চেষ্টার পরিণামে ভাগ্যে নিন্দা-মন্দের অভাব হয়নি, প্রশাসনযন্ত্রের হাতে হেনস্তাও কম হতে হয়নি। এতটুকু না দমে তার পরও বলে গেছি বিশ্বব্যাপী ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ’-এর অংশ হিসেবেই বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ছিনতাই করে এক-এগারো ঘটানো হয়েছে। ড. ফখরুদ্দীন আহমদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন, বিদেশী আনুকূল্যে বিচার বিভাগসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে তথাকথিত সংস্কার এবং ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচন এসবই এক সুতোতেই গাঁথা হয়েছে। পরিণামে এসব ঘটনার সুবিধাভোগী হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার নেতৃত্বাধীন মহাজোট। দেয়া-নেয়ার পৃথিবীর স্বাভাবিক নিয়মেই বন্ধুদের কাছ থেকে নেয়ার পালা শেষ হয়ে এবার প্রতিদানের পালা আরম্ভ হয়েছে। প্রণব কাকা বাংলাদেশ ভ্রমণে এলে তাকে গুরুদক্ষিণা হিসেবে করিডর এবং টাস্কফোর্স দান না করে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর বাঁচার উপায় কোথায়? স্বাধীনতার অতন্দ্র প্রহরী, বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী ভারতীয় সেনাপতিদের হুকুমে আপন দেশবাসীকে হত্যা করতে কতটা আনন্দবোধ করবেন তা ভবিষ্যৎই বলে দেবে। একমাত্র পরাশক্তি নিয়ন্ত্রিত বিশ্বব্যবস্থায় ইরাক ও আফগানিস্তানে বিদেশী দখলদারদের অধীনে কর্মরত তথাকথিত জাতীয় সেনাবাহিনীর সদস্যদের আপনজনদের বিরুদ্ধে বন্দুক ব্যবহার করতে হরহামেশাই দেখা যাচ্ছে। বন্ধুত্বের নিদর্শনস্বরূপ ভারতীয় সেনাবাহিনী এত দিন কেবল সীমান্তের মাত্র দু-চার কিলোমিটার ভেতরে ঢুকে পালাক্রমে আমাদের দরিদ্র কৃষক ও জেলেদের হত্যা করে তাদের নিশানা পরখ করেছে। এখন টাস্কফোর্সের ছদ্মাবরণে করিডর দিয়ে ধেয়ে এসে যখন-তখন প্যালেস্টাইনের মতো হত্যালীলা চালাবে। এজাতীয় হত্যাকাণ্ডকে জায়েজ করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ইসরাইল জাতিসঙ্ঘে যেভাবে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তাদের আত্মরক্ষার অধিকারের বয়ান করে, ভারতের কাছ থেকেও একই ধরনের বক্তব্য শোনার জন্য বাংলাদেশের জনগণও এখন থেকেই মানসিক প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারে। মানসিকভাবে পূর্বপ্রস্তুতি থাকলে পরে আশাভঙ্গের বেদনা হয়তো কিছুটা কম হতেও পারে।

বর্তমান সরকার শপথ গ্রহণ করেছে ৬ জানুয়ারি এবং আজ একই মাসের ২৮ তারিখ। ক্ষমতার প্রথম তিন সপ্তাহের মধ্যেই স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তথাকথিত দক্ষিণ এশীয় টাস্কফোর্স গঠন এবং ভারতকে ট্রানজিট প্রদানের জন্য যে প্রায় ক্ষেপে উঠেছেন তা দেশবাসী নিশ্চয়ই লক্ষ করছে। দেশের প্রধান বিরোধী দলগুলো দেশের স্বাধীনতা হরণকারী এই অপকর্ম রোখার জন্য জোরালোভাবে এখন পর্যন্ত মাঠে নামার সাহস সঞ্চয় করে উঠতে পারেনি। সম্ভবত ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিস্ময়কর পরাজয়ের ধাক্কা আত্মস্থ করা হয়ে ওঠেনি। সাম্রাজ্যবাদী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং আধিপত্যবাদী ভারতের প্রত্যক্ষ সমর্থনপুষ্ট সরকারবিরোধী দলের এই সিদ্ধান্তহীনতার সুযোগে যত দ্রুত সম্ভব বিদেশী প্রভুদের চাহিদা পূরণের চেষ্টা করবে বলেই আমার ধারণা। কাজেই বাংলাদেশের স্বাধীনতায় প্রকৃত বিশ্বাসীদের আর সময়ক্ষেপণ না করে লড়াইয়ের প্রস্তুতি গ্রহণ ছাড়া উপায় নেই। পরবর্তী সংসদ নির্বাচনে জয় লাভ করে ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন কিংবা প্রকৃত দেশপ্রেমিকদের রাজনৈতিক বিশ্বাস এখানে বিবেচ্য বিষয় নয়। দেশের জনগোষ্ঠীর যে সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ এখনো বৃহৎ ভারতের সাথে মৈত্রীর নামে সিকিমের মতো দেশের স্বাধীন অস্তিত্ব বিলীনে সম্মত নয় তারা একতাবদ্ধ হলে অবশ্যই দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করা সম্ভব। ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী এবং ইসলামি মূল্যবোধে বিশ্বাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে নানারকম রাজনৈতিক ভুলের কারণে যে বিভাজনের সৃষ্টি হয়েছে তাকে জিইয়ে না রেখে সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াইকে মুখ্য বিবেচনা করে ঐক্যবদ্ধভাবে ময়দানে অবতীর্ণ হলেই কেবল সাম্রাজ্যবাদী শক্তির আগ্রাসনকে মোকাবেলা করা যাবে। আমাদের সবারই আত্মশুদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে। বাংলাদেশের মতো দুর্বল সামরিক শক্তির অধিকারী দেশের জন্য অত্যন্ত বৈরী আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার সোপান হিসেবে ব্যবহারের পরিবর্তে সর্বক্ষেত্রে রাষ্ট্রের স্বার্থ সমুন্নত রাখা অপরিহার্য। নামমাত্র স্বাধীন দেশের সরকারপ্রধান হওয়ার প্রতিযোগিতার তামাশা অব্যাহত রাখার কোনো অর্থ হয় না। পরিশুদ্ধ এবং দেশের স্বাধীনতার স্বার্থে সর্বোচ্চ ত্যাগের রাজনীতি চর্চা করা হলে সরকারপ্রধান না হওয়া গেলেও রাষ্ট্রনায়কে উন্নীত হওয়া সম্ভব। একটি জাতির ইতিহাসে গণ্ডা গণ্ডা প্রধানমন্ত্রী এলেও রাষ্ট্রনায়করা সংখ্যায় দু-একজনই থাকেন। আর পৃথিবীর ইতিহাস প্রধানমন্ত্রীদের স্মরণে রাখে না, স্মরণে রাখে রাষ্ট্রনায়কদের।
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×