বর্তমান সরকারের তিন গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারক ২৫ ফেব্রুয়ারির আগেই জানতে পেরেছিলেন বিডিআর বিদ্রোহের কথা। বিডিআর বিদ্রোহের প্রধান প্রধান খলনায়ক এর আগেই একাধিক দফায় তাদের সাথে দেখা করে সব জানিয়েছিলেন এবং আভাস-ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন। এসব বৈঠক হয়েছে পূর্বে উল্লেখিত গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারক বাসা ও ব্যক্তিগত অফিসে। পিলখানা ট্র্যাজেডির পর তদন্তকারীদের কাছে এ বিষয়ে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য ও স্বীকারোক্তি আসতে শুরু করলেও ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারকরা কেন এ বিদ্রোহ দমনের কোনো পদক্ষেপ নিলেন না, কার বা কাদের ইশারায় তারা গোটা বিষয়টি চেপে গেলেন সেসব অনেক বিষয় এখনো অস্পষ্ট রয়েছে। এদের একজনকে বিগত নির্বাচনে জেতাতে বিডিআর বিদ্রোহের হোতারা (জওয়ান) সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিল বলেও জানা গেছে। এর বিনিময়ে ওই ব্যক্তি তাদের কিছু দাবি-দাওয়া আদায় করে দেবেন বলেও আলোচনা হয়েছিল। এর পর থেকেই উভয় পক্ষের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি পায়।
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানায়, স্পর্শকাতর এ বিষয়গুলো নিয়ে এরই মধ্যে চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি দিয়েছে বিদ্রোহের অন্যতম নায়ক সিপাহি কাজল, সিপাহি সেলিম ও টপটেরর লেদার লিটনের সহযোগী ও নায়েক সুবেদার কাঞ্চনের পুত্র জাকির। স্বীকারোক্তিতে ৪৪ রাইফেল ব্যাটালিয়নের সিপাহি সেলিম, কাজল ও জাকির জানিয়েছেন, ওই নীতিনির্ধারকের সাথে লিয়াজোঁর মূল ব্যক্তি ছিলেন সিপাহি সেলিম ও জাকির। তার সাথে বিডিআর সদস্যদের প্রথম বৈঠক হয় গত বছর ২৮ ডিসেম্বর সìধ্যায় পিলখানায় দরবার হলের মাঠে। সেখানে উপস্খিত ছিলেন সিপাহি কাজল, সিপাহি মঈন, সিপাহি সেলিম রেজা, সিপাহি রেজাউল (সেন্ট্রাল আরপি), জাকির ও অন্য এক বহিরাগত। বৈঠকে যেকোনো মূল্যে ওই ব্যক্তিকে নির্বাচনে বিজয়ী করার ঘোষণা দেয়া হয়। উল্লেখ্য, বিডিআর কম্পাউন্ডের ভেতরে একজন রাজনৈতিক নেতা ও কিছু বহিরাগতকে নিয়ে এ ধরনের বৈঠকের বিষয়টি বিডিআর’র গোয়েন্দা বিভাগ আরএসইউ’র অগোচরেই রয়ে গিয়েছিল। স্বীকারোক্তিতে আরো বলা হয়, নির্বাচনের তিন দিন পর সিপাহি কাজল, মঈন ও সেলিম ঝিগাতলার একটি অফিসে গিয়ে ওই ব্যক্তির সাথে দেখা করে। সিপাহি সেলিম প্রথমে কক্ষে ঢোকেন। এর বেশ কিছুক্ষণ পর বাকি দু’জনকে ডেকে পাঠানো হয়। সেখানে তাদের দাবি-দাওয়া ও বিডিআর বিদ্রোহসহ বেশ কিছু বিষয় নিয়ে কিছু আলোচনা হয় বলে সেলিম তদন্তকারীদের জানান।
ডিএডি জলিল, ডিএডি হাবিব, সিপাহি সেলিম ও সিপাহি কাজল জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানিয়েছেন, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টায় বনানী চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকার একজন প্রভাবশালী নীতিনির্ধারকের বাসায় তারা ক’জন বৈঠক করেন। এ সময় তাদের সাথে ছিলেন ল্যান্স নায়েক রেজাউল, হাবিলদার মনির, সিপাহি শাহাবুদ্দিন, সিপাহি একরাম, সিপাহি আইয়ুব, সিপাহি মঈন, সিপাহি রুবেল, সিপাহি মাসুদ, সিপাহি শাহাদাত, ডিএডি জলিল, ডিএডি হাবিব ও জাকির। ওই নীতিনির্ধারককে তারা তাদের দাবি, ক্ষোভ ও পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। রাত ১০টার পর তারা পিলখানায় ফেরত আসেন। নিয়মানুযায়ী এত রাতে তাদের বাইরে অবস্খান দণ্ডনীয় হলেও ফ্যামিলিম্যান দেখিয়ে তাদের পিলখানার গেট দিয়ে প্রবেশ করতে দেয়া হয়।
এই দলটিই তিনবার বেইলী রোডে একজন প্রভাবশালী নীতিনির্ধারকের বাসায় যায়। সর্বশেষ তারা ২২ ফেব্রুয়ারি সেই বাসায় যায়। সিপাহি সেলিম জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, তাদের বিষয়টি ওই নীতিনির্ধারক জানলেও শেষ দিন তারা তার সাথে দেখা করতে পারেননি। তবে তার এপিএসকে তারা একটি কাগজ দিয়ে আসেন।
এ ছাড়াও সদর রাইফেল আরপি সিপাহি রেজাউল আরো কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারকের সাথে ফোনে কথা বলেছিলেন বলেও সেলিমের স্বীকারোক্তিতে জানা গেছে।
জেসিও-২৪২৫ অবসরপ্রাপ্ত সুবেদার হাজী মো: তোরাব আলী (লেদার লিটনের পিতা) তার স্বীকারোক্তিতে জানিয়েছেন, ২৪ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টায় জাকির তার স’ মিলে এসে ২৫ ফেব্রুয়ারি বিডিআর বিদ্রোহ ও তাদের পরিকল্পনার বিষয়ে আলোচনা করেন। তারা এ নিয়ে একজন নীতিনির্ধারকের সাথে আলোচনা করেন।
সূত্র জানিয়েছে, তদন্তকারী সংস্খাগুলোর তীক্ষî নজর এখন জাকিরের দিকে। কেননা বিডিআর’র কোনো সদস্য না হওয়া সত্ত্বেও বিদ্রোহের আগে কয়েকজন নীতিনির্ধারকের সাথে বিদ্রোহীদের প্রতিটি বৈঠকে তার উপস্খিতি ছিল লক্ষণীয়। কোন ক্রাইটেরিয়ায় সে বিডিআর জওয়ানদের সাথে এসব নীতিনির্ধারকদের বাসায় যেতেন, তাদের সাথে বৈঠক করতেন, নীতিনির্ধারকরাও কী কারণে তাকে সে সুযোগ দিয়েছেন তাও খুঁজে দেখা হচ্ছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



