পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা তদন্তে গঠিত বিভিন্ন কমিটি গতকাল পর্যন্ত যেসব তথ্য পেয়েছে সেসবের সাথে সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিবিশেষের বক্তব্যের কোনো মিল নেই। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় জেএমবি কিংবা আন্তর্জাতিক কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার কোনো তথ্য আটককৃত কোনো বিডিআর’র কাছ থেকে পাওয়া যায়নি। তবে বিডিআর বিদ্রোহের পেছনে বাইরের মহলের উসকানি এবং এ নিয়ে একাধিক মিটিং করার তথ্য পাওয়া গেছে। বিডিআরে মাদ্রাসা ব্যাকগ্রাউন্ডের যেসব সৈনিক আছেন তাদের মাধ্যমে জেএমবি কানেকশনের চেষ্টা চালানো হলেও এখনো পর্যন্ত এর সাথে যোগসূত্র মেলানো যায়নি। আটককৃতদের কয়েকজনের পিতার অতীত ভূমিকাও অনুসìধান করা হয়েছে। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে তদন্তে সেখান থেকেও জেএমবি কিংবা জঙ্গি কানেকশনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানিয়েছে, কয়েকটি প্রশ্ন সামনে রেখে বিডিআর বিদ্রোহের তদন্ত করা হচ্ছে। এর প্রাথমিক বিষয় ছিল বিদ্রোহের সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করা এবং তাদের সাথে বাইরের যোগসূত্র আছে কি না তা খুঁজে বের করা। সেনাবাহিনীর বিশেষ তদন্ত টিম, সিআইডি ও সরকারের উচ্চ পর্যায়ে গঠিত তদন্তকারীরা পিলখানায় হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন ও লুটপাটসহ অন্যান্য অপরাধের সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছে। ৫ শতাধিক বিডিআর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এ ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত বলে তাদের কাছে তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। কিন্তু জেএমবি কিংবা জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর সেদিনের ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততার অকাট্য কোনো প্রমাণ এখনো মেলেনি। তবে ঘটনার পূর্বাপর বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা নিশ্চিত হয়েছে যে, সেনা অভিযান কিংবা ত্বরিত পদক্ষেপ নিলে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ক্ষয়ক্ষতি কমানো যেত। কেননা বিডিআর জওয়ানরা সকাল ৯টার পরে বিশৃৃঙ্খলা শুরু করলেও হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বেলা ১১টার আগে। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সিদ্ধান্ত না আসায় অবরুদ্ধ সেনাকর্মকর্তাদের উদ্ধারের জন্য কেউ এগিয়ে যেতে পারেনি। এ ছাড়া আটক সেনাকর্মকর্তাদের অনেক পরিবারের ওপর দিনভর নির্যাতন ও পরে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বেশ ক’জন বিডিআর জওয়ান। ২৫ জনের মতো বিডিআর সদস্য হত্যাকাণ্ডে সরাসরি নিজেদের সম্পৃক্ত থাকার কথা জানিয়েছেন।
সূত্র জানিয়েছে, বিডিআর’র সাবেক সুবেদার তোরাব আলীর বাড়িতে হত্যাকাণ্ডের আগে পরে যে বৈঠক হয়েছে এবং ঘটনার দিন তাদের ছত্রছায়ায় ধানমন্ডি এলাকায় মিছিল হয়েছে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি তা স্বীকার করেছেন। সুবেদার তোরাব আলীর ছেলে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী লেদার লিটনের সম্পৃক্ততা রয়েছে পিলখানার ঘটনাপ্রবাহে। তার জামাতা পিলখানার কন্ট্রাক্টর রেজার সাথে বিদ্রোহী বিডিআর’র যোগাযোগের সত্যতাও মিলেছে।
সূত্র জানিয়েছে, জেএমবি’র সাথে পিলখানা ট্র্যাজেডির সম্পৃক্ততা প্রমাণে মহলবিশেষের চেষ্টা প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার জন্য কি না সে প্রশ্ন উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র্যাবের একজন কর্মকর্তা জানান, জেএমবি’র মূল নেতৃত্ব এখন পঙ্গু। এই জঙ্গি সংগঠনের বড় ধরনের নাশকতা ঘটানোর মতো সামর্থ্য আর নেই। তাদের তাত্ত্বিক নেতৃত্বও শূন্য। এ অবস্খায় পিলখানা ট্র্যাজেডি ঘটানোর মতো সামর্থ্য তারা কতটুকু রাখে সেটি নতুন করে তদন্তের বিষয়। তবে তাদের নাম আসছে কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেটি সংশ্লিষ্টরাই বলতে পারবেন। জেএমবি’র হয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে পারবেন না এ কথা মনে রেখেই এই প্রচারণা হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




