আমার প্রিয় পোস্ট
- বিনামূল্যে আনলিমিটেড SMS করুন কম্পিউটার থেকে - মহসিন০৮
- স্বাধীনতার ঘোষণা সম্পর্কে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তাদের লেখা ও স্মৃতিচারণ - চিন্তিত দার্শনিক
- প্রমিত বাংলা বানান রীতিঃ সচরাচর সমস্যা করে এমন শব্দের একটি সম্ভার! - ম্যাভেরিক
- জয়ের বিপক্ষে দূর্নীতির আভিযোগ, ফরহাদ মজহারের মন্তব্য প্রতিক্রিয়া আর প্রগতিশীলদের সতিত্ব - হাসিব মীর
- আমার পরিচিত আগাচৌ : এ ব নে গো লা ম সা মা দ - রাজনীতিক
- দিন যায় কথা থাকে... - এম এস রানা
ফ্যাসিবাদের দিকে ধাবমান সরকার
০৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৭:২৪
প্রখ্যাত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড.লরেস ব্রিট জার্মানির হিটলার, ইতালির মুসোলিনি, স্পেনের ফ্রাঙ্কো, ইন্দোনেশিয়ার সুহার্তো এবং চিলির পিনোশে’র শাসন পদ্ধতি বিশ্লেষণ করে ফ্যাসিজমের ১৪টি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে ২০০৩ সালে শিরোনামে একটি অসাধারণ প্রবন্ধ রচনা করেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই লেখাটি এমন এক সময় প্রকাশিত হয়, যখন বুশ প্রশাসন মানবাধিকারের প্রতি চরম অবজ্ঞা প্রদর্শন করে ইরাক ও আফগানিস্তানে আগ্রাসন চালিয়ে নির্বিচারে সেদেশের নাগরিকদের হত্যা এবং রাষ্ট্রযন্ত্রের দানবীয় ও আইনবহির্ভুত ব্যবহারের মাধ্যমে নিও-কনদের বিকৃত রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে। স্বাভাবিকভাবেই বুদ্ধিজীবী মহলে লেখাটি যথেষ্ট উৎসাহের সঙ্গে গৃহীত হয় এবং সেদেশের বিদগ্ধ, বিবেকবান ব্যক্তিবর্গ ব্রিট বর্ণিত ফ্যাসিবাদের ১৪ বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে বুশ প্রশাসনের কর্মকান্ডের তুলনামুলক বিশ্লেষণ করতে আরম্ভ করেন। সে সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শাসক শ্রেণী ফ্যাসিবাদের দিকে কি পরিমাণ ঝুঁকে পড়েছিল, সে বিষয়ে প্রচুর লেখালেখি হয়। সেসব লেখা থেকে কয়েকটি উদাহরণ এখানে উদ্ধৃত করছি, যাতে পাঠকরা বুশ প্রশাসনের ফ্যাসিবাদী মানসিকতার স্বরুপ কিছুটা অনুধাবন করতে পারেন।
১. জর্জ বুশের দল রিপাবলিকান পার্টির নেতা কংগ্রেসে ঘোষণা করেন যে, তারা নাকি ইরাক আক্রমণের মাধ্যমে তাদের দৌহিত্রদের সর্বাধিক মুল্যবান উপহার দিয়ে যাচ্ছেন।
২. জঙ্গিবাদ প্রতিরোধের নামে জর্জ বুশ নতুন যে আইন প্রণয়ন করেন, তার ফলে জঙ্গিবাদের অভিযোগে আটক ব্যক্তিদের ওপর দৈহিক কিংবা মানসিক নির্যাতন করা হলে তার বিরুদ্ধে আদালতের আশ্রয় গ্রহণের পথ রুদ্ধ হয়। এই আইনে সরকারকে অপ্রমাণিত তথ্য এবং স্রেফ গুজবকেও আদালতের কাছে সাক্ষ্য বা প্রামাণিক তথ্য হিসেবে উপস্হাপনের সুযোগ করে দেয়া হয়। আটক অভিযুক্তদের ওপর কতখানি নির্যাতন গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে, তা নির্ধারণের একক ক্ষমতা প্রেসিডেন্ট বুশ নিজে গ্রহণ করেন।
৩. গুয়ান্তানামো কারাগার সংক্রান্ত এক মামলায় স্বয়ং বিচারক মন্তব্য করেন, আমি আন্তর্জাতিক আইনের পরোয়া করি না, এমনকি ‘আন্তর্জাতিক আইন’ এই শব্দটিই ভবিষ্যতে আর শুনতে চাই না। আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই।
৪. জর্জ বুশের সমর্থক এক কংগ্রেসম্যান মন্তব্য করেন যে, মুসলমানরা মার্কিনিদের অভ্যন্তরীণ শত্রু।
৫. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফক্স রেডিও’র এক ভাষ্যকার ইরাক যুদ্ধবিরোধী বুদ্ধিজীবী এবং আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন সময়ে হিটলারের পথ অনুসরণ করে বন্দিশিবিরে পাঠানোর প্রস্তাব করেন।
৬. বুশ প্রশাসন কৌশল গ্রহণ করে যে, ইরাক এবং আফগানিস্তানে অন্যায় যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থন ধরে রাখতে হলে জঙ্গিবাদের মিথ্যা প্রচার চালিয়ে জনমনে সর্বদা ভীতি জাগিয়ে রাখতে হবে। ইসলামী জঙ্গি হামলার আশঙ্কা সরকারিভাবে উচ্চে ধরে রাখার যৌক্তিকতা প্রমাণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে ইসলামী জঙ্গিদের আসন্ন আক্রমণের বানোয়াট তথ্য প্রচার করা হয়। হোমল্যান্ড নিরাপত্তা প্রধান টম রিজের প্রতিবাদ উপেক্ষা করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জঙ্গি হামলার লক্ষ্য হিসেবে প্রচার করে দেশব্যাপী হাই এলার্ট জারি করা হয়।
৭. ইরাকে মার্কিন দখলদার বাহিনী কতৃꦣ2453; ৬ হাজার কোটি টাকা তসরুফ এবং অন্যান্য দুর্নীতির ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ তার প্রেসিডেন্ট পদের ক্ষমতা প্রয়োগ করেন।
৮. যেসব মার্কিন নাগরিক প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করেছে, তাদের বিভিন্ন সময় বিদেশে ভ্রমণ করতে দেয়া হয়নি। বিমানবন্দরে হয়রানি করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা তল্লাশির নামে সেখানে তারা নিগৃহীত হয়েছেন।
৯. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সেসময় সুপ্রিমকোর্টের এক রায়ে বলা হয়, কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতারের সময় পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেফতারের কোনো কারণ জানাতে হবে না। যে কোনো মানদন্ডেই এই রায় চরমভাবে মানবাধিকারবিরোধী।
১০. যে কোনো শিল্পোন্নত দেশের তুলনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের কারাগারে প্রেরণের সংখ্যা ৫ থেকে ৮ গুণ বেশি।
ইতালির দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন ফ্যাসিস্ট নেতা বেনিটো মুসোলিনি ফ্যাসিবাদকে সংজ্ঞায়িত করে বলেছিলেন, কর্পোরেট জগত এবং সরকারের মধ্যে ক্ষমতার সমন্বয়ই ফ্যাসিবাদ। মুসোলিনির এই সংজ্ঞা অনুযায়ী বর্তমান বিশ্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই যে এক নম্বর ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র-এ নিয়ে বিতর্কের তেমন কোনো সুযোগ আর অবশিষ্ট থাকে না।
পাঠক হয়তো এতক্ষণে ভাবতে শুরু করেছেন, আমি ধান ভানতে শিবের গীত গাইছি। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্হিতি পর্যালোচনার পরিবর্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গল্প ফেঁদে যাচ্ছি। আমার বিবেচনায় তিনটি কারণে আজকের মন্তব্য-প্রতিবেদনের বিষয়ের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা প্রাসঙ্গিক। প্রথমত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সমগ্র পৃথিবীকে মানবাধিকারের বিষয়ে কেবল যে দিবারাত্র জ্ঞান দিয়ে বেড়ায় তাই নয়, সেদেশের স্টেট ডিপার্টমেন্ট প্রতিবছর ঘটা করে বিশ্ব মানবাধিকারের ওপর একটি প্রতিবেদনও প্রকাশ করে। দ্বিতীয়ত. এক-এগার’র পর থেকে ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রীতিমত প্রকাশ্যেই সর্বতোভাবে বাংলাদেশকে নিয়ন্ত্রণ করছে। আর তৃতীয়ত, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গত বছর নভেম্বরে তার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বেচ্ছা-নির্বাসন শেষে দেশে প্রত্যাবর্তনের পুর্বে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েই ইসলামবিরোধী যুদ্ধে জর্জ বুশের ভাবশিষ্যত্ব গ্রহণ করে এসেছেন। মার্কিনিদের সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের ঘোষিত এবং ঘনিষ্ঠ মিত্র শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান মহাজোট সরকার। জর্জ বুশের ফ্যাসিবাদী জমানার দশটি উদাহরণ ইতোমধ্যে উল্লেখ করেছি। এবার ফ্যাসিবাদের মানদন্ডে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতের বিশেষ আশীর্বাদধন্য বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারের ৮৫ দিনের শাসন পদ্ধতি পর্যালোচনা করা যাক।
১. বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার অব্যবহিত পর থেকে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হল দখলের যে অভিযান আরম্ভ হয়েছিল, তা অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে কেবল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরকর্মীদের প্রতিরোধের কারণে সেখানে হল দখল পর্বটি সম্পন্ন করা যায়নি। তবে শিবিরের এই ‘ঔদ্ধত্যের’ শাস্তি হিসেবে ছাত্র সংগঠনটির বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক নোমানীকে পুলিশের ছত্রছায়ায় কুপিয়ে এবং পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। অবশ্য ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর থেকেই মুসলমানপ্রধান বাংলাদেশে টুপি মাথায়, শ্মশ্রুমন্ডিত তরুণদের টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে লাঠি-বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে মারাটা একপ্রকার রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। আমি শহুরে মধ্যবিত্ত সেক্যুলারদের এমন মন্তব্যও করতে শুনেছি যে, যারা শিবির করে, তাদের ওভাবেই পিটিয়ে হত্যা করা উচিত। কারণ ওরা নাকি মানুষ নয়। তার অর্থ হলো, প্রেসিডেন্ট বুশ যে কৌশলে বিশ্বব্যাপী মুসলমান নিধনের জন্যে প্রধানত ইহুদিনিয়ন্ত্রিত সংবাদ মাধ্যমের সহায়তায় ইসলাম ধর্মকে একটি দানবীয় ধর্ম হিসেবে চিত্রিত করার অপচেষ্টা করেছে, ঠিক একইভাবে বাংলাদেশেও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন একটি গোষ্ঠীর বর্বরতার প্রসঙ্গ তুলে এদেশেরই নাগরিকদের একাংশকে ডিমোনাইজ করার সংস্কৃতি চালু হয়েছে। এদের প্রত্যেকের জন্ম ১৯৭১ সালের পর হলেও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন অপরাধের জন্য এই তরুণদের দায়ী করাটাকে আমাদের অনেক বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিবিদ জায়েজ মনে করেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এদেশের সংবাদ মাধ্যমের যে অংশটি নিজেদেরকে প্রগতিশীল, মানবতাবাদী হিসেবে প্রচার করে বেড়ায়, তারাই আবার দিবারাত্র মানব চরিত্রের এই নৃশংসতাকে একটি আদর্শের মোড়কে আবৃত করে মহিমান্বিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ১৯৩০ সালে জার্মানিতে ফ্যাসিবাদ একই কৌশল প্রয়োগ করেই জনপ্রিয়তা অর্জনে সক্ষম হয়েছিল। তারপরের বিশ্ব ইতিহাসের ট্র্যাজেডি আমরা সবাই জানি।
২. আমাদের দেশে বিমানবন্দরে বিদেশগামী নাগরিকদের হেনস্তা করার বর্বর পদ্ধতি চালু হয়েছিল ড. ফখরুদ্দীন আহমদ এবং জেনারেল মইন উ আহমেদের যৌথ নেতৃত্বের অসাংবিধানিক সরকারের আমলে। শেখ হাসিনার নির্বাচিত সরকারও বিরুদ্ধবাদীদের হয়রানি করার মন্দ উদ্দেশ্যে এই আইনবহির্ভুত কর্মকান্ড অব্যাহত রেখেছে। আইনমন্ত্রী জনাব শফিক আহমেদ সরকারের সাফাই গেয়ে সংবাদ মাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন, সরকার নাকি প্রয়োজন বোধ করলে যে কোনো নাগরিককেই বিদেশ ভ্রমণে বাধা দিতে পারে। জনাব শফিক আহমেদকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাচ্ছি, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ২০০৭ সালের ১৮ এপ্রিল আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেছিল। তৎকালীন সরকার শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন রোধ করার জন্য সব দেশি-বিদেশি বিমান কোম্পানিকে নির্দেশ দিয়েছিল, তারা যেন কোনো অবস্হাতেই আওয়ামী লীগ সভানেত্রীকে বহন না করে। আইনমন্ত্রীর বর্তমান ব্যাখ্যা মেনে নিলে সেনাসমর্থিত বিগত সরকারের সেই ইতরসুলভ আচরণকেও বৈধতা দিতে হয়। দেশের একজন প্রখ্যাত আইনজীবী হিসেবে আমাদের সংবিধানের ৩৬ নম্বর ধারাটি ব্যারিস্টার শফিক আহমেদের স্মরণে থাকার কথা। সেখানে বলা হয়েছে, ‘জনস্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ সাপেক্ষে বাংলাদেশের সর্বত্র চলাফেরার অবাধ স্বাধীনতা, ইহার যে কোন স্হানে বসবাস ও বসতি স্হাপন এবং বাংলাদেশ ত্যাগ ও পুনঃপ্রবেশ করিবার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকিবে।’ সংবিধান মান্য করলে দেখা যাচ্ছে যথাযথ এবং যুক্তিসঙ্গত আইন প্রণয়ন ব্যতীত দেশের কোনো নাগরিককেই তার চলাফেরার স্বাধীনতা থেকে বারিত রাখা যাবে না। অথচ আইনমন্ত্রী নিজে আইন পেশার একজন পুরনো লোক হয়েও অ্লানবদনে সংবিধান লঙ্ঘন করে বক্তব্য দিচ্ছেন। এটাই ফ্যাসিবাদের প্রাথমিক লক্ষণ।
৩. মহাজোট সরকার ক্ষমতা লাভ করেই দেশের সর্বত্র জঙ্গি খুঁজে বেড়াচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন মাটির তল থেকে জঙ্গিদের খুঁড়ে বের করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। এর আগে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আকাশ এবং নৌপথে বিচরণকারী জঙ্গিদের ধরে ফেলার ঘোষণা দিয়েছিলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক এবং দুই নম্বর ক্ষমতাধর ব্যক্তির বক্তব্য অনুযায়ী জলে, স্হলে এবং অন্তরীক্ষের পাশাপাশি পাতালেও সরকারের ইসলামী জঙ্গি পাকড়ানোর সাঁড়াশি অভিযান চলবে। যদি ভুল করে না থাকি, তাহলে শেখ হাসিনার আগের প্রধানমন্ত্রিত্বের কালে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব নাসিম বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতোই মাটির তল থেকে সন্ত্রাসী ধরার অঙ্গীকার করেছিলেন। সম্ভবত মন্ত্রীদের হুঙ্কারকে ন্যায্যতা দেয়ার জন্যই বিএনপি জমানায় প্রতিষ্ঠিত ‘র?্যাব’ ভোলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে এতিমদের জন্য প্রতিষ্ঠিত এক দৃষ্টিনন্দন মাদ্রাসা থেকে সময়মত আধুনিক অস্ত্রের সম্ভার ‘উদ্ধার’ করে দেশবাসীকে একেবারে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। এই উদ্ধার কার্যক্রমে র?্যাবের অননুকরণীয় ‘স্বচ্ছতার’ প্রশংসা না করে পারছি না। মামলার এজাহার অনুযায়ী দুপুর ২টা ১০ মিনিটে অভিযান আরম্ভ হলে কী হবে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সংবাদ মাধ্যমকে তিন ঘণ্টা আগেই সকাল ১১টায় অস্ত্র উদ্ধারের গল্প শুনিয়ে দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, সাংবাদিকদের সকালবেলাতেই র?্যাবের স্পিডবোটে করে অকুস্হলে নিয়ে গিয়ে প্রমাণ করা হয়েছে বর্তমান সরকারের আমলে তারা কতখানি করিৎকর্মা। ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রে জনগণের ওপর প্রশাসনের আইনবহির্ভুত সব ধরনের নির্যাতনের যৌক্তিকতা প্রমাণের জন্য একটি নির্দিষ্ট শত্রুর প্রয়োজন পড়ে। জর্জ বুশ এবং তার আদর্শের অনুসারী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শত্রু তো অভিন্নই হওয়ার কথা। আইনমন্ত্রী নিজেও সম্ভবত তার নেত্রীকে প্রসন্ন করার জন্যই একদল বিদেশির সামনে ঘোষণা করেছেন যে, বাংলাদেশের কওমী মাদ্রাসাগুলো এক একটা জঙ্গি বানানোর কারখানা।
৪. বুশের কৌশল অবলম্বন করেই সুপরিকল্পিতভাবে আমাদের দেশেও জঙ্গি আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর বর্তমান আবাসস্হলের সামনে বালির বস্তা সাজিয়ে মেশিনগান পোস্ট তো তৈরি করা হয়েছেই, এমনকি তার পরিত্যক্ত বাড়ি সুধা সদনও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে নিয়ে আসা হয়েছে। শুনলাম, ক্যান্টনমেন্ট এলাকাতেও নাকি অ্যাম্বার এলার্ট জারি করা হয়েছে, যদিও এই বিশেষণের অর্থ একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমার জানা নেই। ঢাকার মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সাহেব তো আরেক কাঠি সরেস। তিনি শহরের ইংরেজি স্কুলগুলোর প্রধান শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আনুষ্ঠানিকভাবে তার কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে বায়বীয় জঙ্গি আতঙ্কের গল্প ছড়িয়ে দিয়ে কোমলমতি শিশুদের পর্যন্ত ভীত-সন্ত্রস্ত করে তুলেছেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বারিধারার আমেরিকান স্কুলের সুপারিনটেনডেন্ট ওয়াল্টার প্লটকিনের লিখিত একটি পত্র আমার কাছে একজন অভিভাবক পাঠিয়েছেন। সেই পত্রে মি. প্লটকিন বেশ জোরের সঙ্গেই বলেছেন, তাদের স্কুলে জঙ্গি আক্রমণের কোনো রকম আশঙ্কার কথা মার্কিন গোয়েন্দারা তাকে জানায়নি। আমেরিকান স্কুল কর্তৃপক্ষের চিঠির ভাষা থেকে পরিষ্কার ধরা পড়ে যে, বাংলাদেশ সরকারের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত জঙ্গি সংক্রান্ত গাল-গল্প তারা উড়িয়ে দিয়েছেন। সরকার কথিত এত ভয়ানক জঙ্গি আতঙ্কের মধ্যে একজন ব্যক্তির নিরাপত্তা নিয়ে অবশ্য প্রশাসনের কোনো মাথাব্যথা নেই। তিনি হলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বর্তমানে বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে কোনো বিরোধীদলীয় নেতা এত স্বল্প রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার মধ্যে কখনো বসবাস করেননি। সরকারের আচরণ থেকে এটাই প্রমাণিত হচ্ছে যে, হয় তারা অবগত আছে যে দেশে এমন কোনো জঙ্গি হামলার আশঙ্কা নেই, যার জন্য বেগম খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা আদৌ প্রয়োজন। অথবা সরকারি মহল ইচ্ছাকৃতভাবে বিরোধীদলীয় নেত্রীর নিরাপত্তা হ্রাস করে তার জীবনাশঙ্কা তৈরি করছে। সব আমলের ফ্যাসিবাদী শক্তির লক্ষ্যই থাকে যে কোনো কৌশলে বিরুদ্ধ মতকে নির্মুল করা। এক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি।
৫. বাংলাদেশে প্রকৃত অর্থেই একটি ফ্যাসিবাদী সরকারের অধীনে বসবাস করার অভিজ্ঞতা আমাদের সত্তর দশকে বাকশালী আমলে হয়েছে। ব্রেট বয়ানস্কি নামে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের একজন বিশেষজ্ঞ ফ্যাসিবাদকে সংজ্ঞায়িত করতে গিয়ে বলেছেন, (ফ্যাসিবাদ সব অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং সামরিক ক্ষমতা একটি জাতি অথবা একজন প্রতাপশালী নেতার অধীনস্হ প্রশাসনের কাছে ন্যস্ত করার দর্শন। ফ্যাসিবাদ মুলত সমাজতন্ত্র, পুঁজিবাদ এবং গণতন্ত্রকে প্রত্যাখ্যান করে। সন্ত্রাস এবং কঠোর পুুলিশি নজরদারির একদলীয় স্বৈরতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্হা চাপিয়ে দেয়ার নামই ফ্যাসিবাদ।)
মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালে এমনই এক একদলীয় শাসন ব্যবস্হার নিগড়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রমনস্ক জনগণকে আটকানোর চেষ্টা করে ইতিহাসের অমোঘ নিয়মে ব্যর্থ হয়েছিলেন। তার কন্যা অবশ্যই সেই নিস্ফল প্রচেষ্টা থেকে প্রয়োজনীয় শিক্ষালাভ করেছেন। বর্তমান সরকার প্রথাগত একদলীয় শাসনব্যবস্হা প্রণয়নের পথ অনুসরণ না করে অধিকতর বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে রাষ্ট্রের প্রতিটি গুরুত্বপুর্ণ স্হানে তাদের অন্ধ স্তাবকদের বসিয়েছেন। বিরুদ্ধবাদী তো দুরের কথা, যেসব ন্যায়নিষ্ঠ কর্মকর্তা প্রজাতন্ত্রের আইন-কানুন রক্ষা করে সততার সঙ্গে প্রশাসন পরিচালনা করার জন্য পরিচিত,তাদের হয় চাকরিচ্যুত অথবা দায়িত্ব থেকে সরিয়ে ওএসডি অথবা কম গুরুত্বপুর্ণ স্হানে বদলি করা হয়েছে। মাত্র ৮৫ দিনের মধ্যে গণতন্ত্রের মুখোশে একটি কার্যকর ফ্যাসিবাদী সরকার প্রতিষ্ঠায় সাফল্যের জন্য মহাজোট সরকারকে অভিনন্দন না জানিয়ে উপায় নেই।
কয়েক মাস আগে ‘আমার দেশ’ পত্রিকাতেই নবরুপে বাকশাল শিরোনামে এক মন্তব্য প্রতিবেদনে লিখেছিলাম-মরহুম শেখ মুজিবের একদলীয় শাসন স্বল্পস্হায়ী হলেও পরিবর্তিত আন্তর্জাতিক পরিস্হিতিতে তার কন্যার শাসন দীর্ঘায়িত হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ উপস্হিত হয়েছে। আমার বিবেচনায় বিশ্বব্যাপী মন্দার ব্যাপ্তি এবং সাম্রাজ্যবাদী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সম্প্রসারণবাদী ভারতের মধ্যকার কৌশলগত মৈত্রীর স্হায়িত্বের সম্মিলিত প্রভাবেই সম্ভবত বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হতে যাচ্ছে। দুর্বল এবং দিশাহীন বিরোধী রাজনৈতিক শিবির অথবা হতবিহ্বল জনগণের কাছ থেকে এ মুহুর্তে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিরোধের সম্ভাবনা আমি অন্তত দেখতে পাচ্ছি না। এপ্রিলের ২ তারিখে আমার দেশ পত্রিকাতেই জনাব ফরহাদ মজহার ফ্যাসিবাদ এবং সাম্রাজ্যবাদ নিয়ে একটি উপসম্পাদকীয় লিখেছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের জনগণ এই দুই অপশক্তির স্বরুপটিও যদি অন্তত চিনতে পারে, তাহলেও মুল লড়াইয়ের ক্ষেত্রে এক কদম অগ্রগতি সাধিত হবে। দেখা যাক, বর্তমান সময়ের অতি জনপ্রিয় এই কবি এবং কলামিস্টের আশাবাদ কতটা বাস্তবে রুপ লাভ করে।
লেখক - মাহমুদুর রহমান
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
বাঙ্গাল বলেছেন:
আমেরিকান সরকারের অর্থনীতিও ফ্যাসিবাদি...আপ্নে দেখেন একটা ডকুমেন্ট্রী--
----------------
America: Freedom to Fasism
Click This Link
---------------------
ব্যানানা বাংলাদেশ-১ (ইকোনমিক হিটম্যান)
Click This Link
ত্রিভুজ বলেছেন:
আওয়ামী সরকারকে নতুন করে ফ্যাসিবাদী হতে হয় না। তাদের অতীত ইতিহাসের দিকে তাকালেই বুঝতে পারবেন। একাত্তর পরবর্তী আওয়ামী শাসন এই অভাগা জাতি ভুলতে বসেছে। একবিংশ শতাব্দিতেও আরেকবার তারা দু:শাসনের নজীর স্থাপন করেছিলো। এবার আবার করবে... (এবং করছেও....)...জঙ্গি জঙ্গি বলে তারা দেশের ভাবমূর্তির যে ক্ষতিটা করছে সেটা ঠিক হতে কতদিন লাগবে তা একমাত্র স্রষ্ট্রাই জানেন। অথচ তথাকথিত এইসব জঙ্গীবাদকে একটু ভালভাবে পর্যবেক্ষন করলেই আসল চিত্র বের হয়ে আসে। এই বিষয়ে কয়েকদিন আগে একটা লেখা দিয়েছিলাম-
Click This Link
জাতী এই ফ্যাসিবাদী ও দেশের জন্য ক্ষতিকর অপশক্তি থেকে নিস্তার চায়।
কামাল উদ্দিন ফারুকী জুয়েল বলেছেন:
এত কম মন্তব্য কেন?
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















ধন্যবাদ, চমৎকার লেখাটি হাজির করার জন্য।
আমরা শত্রু মিত্র জ্ঞানে একই ভুলের পুনরাবৃত্তিতে বার বার সংকটকে উসকে দিচ্ছি।